প্রতাপনগরের দুর্ভোগ: ছয় বছরেও কাটেনি ভাসমান সেতু ও বাঁশের সাঁকোর জীবন
ভাসমান মসজিদে নামাজ, নৌকা-সাঁকোয় যাতায়াতÑস্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় ৬ গ্রামের ২৮ হাজার মানুষ
বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ছয় বছর পার হলেও স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা ফেরেনি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নে। ভেঙে যাওয়া সড়ক ও সেতু পুনর্র্নিমাণ না হওয়ায় এখনো নৌকা, বাঁশের সাঁকো ও ভাসমান সেতুর ওপর ভরসা করে যাতায়াত করছেন ছয়টি গ্রামের প্রায় ২৮ হাজার মানুষ।
২০২০ সালের ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। পরের বছর ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তা-বে এলাকার বসতভিটা, সড়ক ও কালভার্ট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও দুটি প্রধান সড়কের প্রায় চার কিলোমিটার অংশ পুনর্র্নিমাণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে শিক্ষার্থী, রোগী ও প্রবীণদের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
দুর্যোগের পর হাওলাদার বাড়ি বায়তুন্নাজাত জামে মসজিদটি পানিবন্দী হয়ে পড়ায় নৌকার ওপর তৈরি করা হয় ৫২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থের একটি ভাসমান মসজিদ, যেখানে একসঙ্গে ৫০ জন নামাজ আদায় করতে পারেন। এ ছাড়া যাতায়াতের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় ৩৫০ ফুট দীর্ঘ একটি ভাসমান সেতু তৈরি করা হলেও তা অপ্রতুল।
প্রতাপনগরের উপাধ্যক্ষ মাওলানা অহিদুজ্জামান বলেন, চরম ঝুঁকির মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো ও নৌকার ব্যবস্থা করে চলাচল করছেন।
প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ ঢালী জানান, যোগাযোগের সমস্যার কারণে এলাকার মানুষ বাজার, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালে যেতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তিনি দ্রুত সড়ক ও সেতু নির্মাণের দাবি জানান।
আশাশুনি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী অনিন্দ্যদেব সরকার জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) পাওয়ার পর সড়ক ও সেতু পুনর্র্নিমাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।












