রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

টিভি-ফ্রিজসহ ভারী পণ্য পরিবহনে রেকর্ড গড়লো ডাক বিভাগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
টিভি-ফ্রিজসহ ভারী পণ্য পরিবহনে রেকর্ড গড়লো ডাক বিভাগ

শুধু চিঠি কিংবা প্যাকেট নয়; ডাকযোগে এখন গ্রাহকের কাছে যাচ্ছে ফ্রিজ, মোটরসাইকেলের মতো ভারী পণ্যও। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবায় গত দুই মাসে পরিবহন হয়েছে প্রায় ৪০০ টন পণ্য। প্রথম কেজিতে ১০ টাকা, এরপর প্রতি কেজিতে আরও ৫ টাকা-এই মাশুলেই চলছে স্পিড পোস্ট।রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা-বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।

মহাপরিচালক বলেন, দেশের আইনে অবৈধ নয়, এমন যেকোনও পণ্যই এখন ডাকের গাড়িতে তোলা, নামানো এবং পোস্টম্যানের মাধ্যমে বিলি করা যায়। সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলও ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। সঙ্গে গেছে ফ্রিজ, আলমারি ও ওয়ারড্রবের মতো বড় আসবাবপত্র। শিক্ষার্থীদের কাঁথা-বালিশ ও বিছানাপত্রও পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া রান্নাঘরের দা-বঁটি-ছুরি, হাঁড়ি-পাতিল, প্রেসার কুকার, ইন্ডাকশন চুলা থেকে শুরু করে এলইডি টিভি, এয়ার কন্ডিশনার, বাইসাইকেল এমনকি কীটনাশক স্প্রে মেশিনও এখন ডাকযোগে পাঠানো যাচ্ছে।

তিনি বলেন, মৌসুমি ফলসহ স্পিড পোস্টের মাধ্যমে গত দুই মাসে মোট প্রায় ৪০০ টন পণ্য পরিবহন হয়েছে, যা এর আগে ডাক বিভাগের মাধ্যমে কখনো পরিবহন হয়নি। এসব পণ্য যেন সহজে ও সুন্দরভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য সেবাটিকে গ্রাহকবান্ধব করতে বাড়তি কিছু ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহকদের সুবিধার জন্য চালু হয়েছে অনলাইন মাশুল ক্যালকুলেটর। এর মাধ্যমে আগে থেকেই পণ্য পরিবহনের খরচ জেনে নেওয়া যায়।

বর্তমানে রাজধানীর জিপিওসহ গুলশান, বনানী, মিরপুর ও উত্তরার মতো বেশ কয়েকটি সাব-পোস্ট অফিস থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে। দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পার্সেলের জন্য রয়েছে বৈদেশিক ইএমএস সেবাও।

তিনি বলেন, সেবাটি যেন সুশৃঙ্খলভাবে চলে, সেজন্য এর কার্যপ্রণালী সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে ডাক অধিদপ্তর। স্পিড পোস্টে ইস্যুকৃত পণ্য জেলা শহর থেকে ঢাকায় সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা আর প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে বিলির জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসকে। তবে, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু দ্রব্য এই সেবার আওতার বাইরেও রাখা হয়েছে। বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থ, ক্ষতিকর বা বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্য, মাদকদ্রব্য, জীবন্ত প্রাণী, আগ্নেয়াস্ত্র এবং ভরা বা খালি গ্যাস সিলিন্ডার স্পিড পোস্টে পাঠানো যাবে না।

এত কম মূল্যে সেবা দেওয়ার বিষয়ে কাজী আসাদুল বলেন, টাকার অঙ্কের চেয়ে মানুষে-মানুষে সংযোগ স্থাপনকে আমি বড় অর্জন বলে মনে করি। একজন মা যেমন কষ্ট করে সন্তান লালন-পালন করেন, বিনিময়ে কিছুই চান না; সন্তানের ভালো থাকাতেই যার তৃপ্তি- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাক বিভাগও তেমনি জনগণকে সেবা দিতে পারার মধ্যেই সার্থকতা খুঁজে পায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডাক বিভাগের এ সেবার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ভোট দিতে নিবন্ধন করেন। এরপর ভোট দেওয়া থেকে শুরু করে সেই ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে মুহূর্তে মুহূর্তে বার্তা পেয়ে ভোটের অগ্রগতি জানতে পেরেছেন প্রবাসীরা। এতে করে ডাক বিভাগের প্রতি তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে।

ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, এই অভিজ্ঞতাই পরে বিনা প্রচারণায় মুখে মুখে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররাই এই সেবা থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন। তারাই নিজ উদ্যোগে তারা সেবাটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছেন।

এই জনপ্রিয়তা ডাক বিভাগের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি একজন গ্রাহক বদলি হয়ে অন্য জেলায় বাসা পরিবর্তনের সময় পুরো বাসার আসবাবপত্রই ডাকযোগে নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। বিশ্বের অনেক দেশের ডাক বিভাগ এমন আন্তঃজেলা বাসাবদল সেবা দিয়ে থাকে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এমন সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সে লক্ষ্যে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সক্ষমতা গড়ে তোলা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব একটি প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে ৫০টি বৈদ্যুতিক বাইক, যা চলবে গ্রিন এনার্জিতে।

সক্ষমতা বাড়ানোর এই ধারাবাহিকতায় বদলেছে ডাক বিভাগের অভ্যন্তরীণ কর্মপরিকল্পনাও। মহাপরিচালক বলেন, সহকর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী এক কর্মশালার পর সম্প্রতি সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকার তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মেইল প্রসেসিং সেন্টারকে শতভাগ কাজে লাগানো হবে। এর মধ্য দিয়ে সারা দেশ থেকে ঢাকামুখী মেইল, ঢাকা থেকে সারা দেশে যাওয়া মেইল আর ঢাকা শহরের ভেতরকার মেইল- সবই প্রক্রিয়াজাত হবে একটি জায়গা থেকে। এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে কার্যকরও হয়েছে বলে জানান তিনি।

কমলাপুরের রেলওয়ে মেইল সার্ভিসের বর্তমান সক্ষমতা এখন সীমিত হয়ে পড়েছে জানিয়ে আসাদুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার খাতা কিংবা গাছের চারার মতো নানা রকম পণ্য একসঙ্গে সামলানো ক্রমেই তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। তাই ঢাকা জিপিও ক্যাম্পাসকে সম্প্রসারিত করে সেখানে শুধু বিদেশগামী ও বিদেশ থেকে আসা রফতানি-আমদানি পার্সেলের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এভাবে তেজগাঁও ও কমলাপুরসহ মোট তিনটি হাব মিলিয়ে সমন্বিতভাবে চলবে ডাক বিভাগের মেইল ব্যবস্থাপনা।

মহাপরিচালক বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাভের অঙ্ক আমাদের কাছে মুখ্য নয়। সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ সেবা দিয়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষকে একসূত্রে যুক্ত করাই হবে স্পিড পোস্টের প্রকৃত সাফল্য।

উল্লেখ্য, বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে চালু হয় স্পিড পোস্ট সেবা। প্রথমে মৌসুমি ফল পরিবহনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই সেবা এখন সম্প্রসারিত হয়েছে নিত্যব্যবহার্য বড় বড় পণ্যসামগ্রী পরিবহনেও। খবর: বাসস

Ads small one

সাতক্ষীরার আবাদেরহাটে জমি দখল-পাল্টা দখলের প্রতিযোগিতা, থানায় অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার আবাদেরহাটে জমি দখল-পাল্টা দখলের প্রতিযোগিতা, থানায় অভিযোগ

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা সদরের আবাদেরহাট বাজারের পাশে ১৭ শতক জমি দখল ও পাল্টা দখল নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। রবিবার ভোর তিনটার দিকে সদ্য দখলে নেওয়া জমিতে নির্মাণাধীন বেড়া ও ঘর ভাংচুর করাসহ আমেনা খাতুন দম্পতিকে মারপিটের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদরের বাঁশদহ গ্রামের আব্দুল হামিদের স্ত্রী আমেনা খাতুন জানান, তার বাবা আবাদেরহাটের ইসমাইল হোসেন পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৫৮ শতক জমি মা রউফুৃন্নেছার নামে লিখে দেন। বর্তমানে তার মা রউফুন্নেছার নামে হাল ৩৫ দাগে ১৭ শতক জমি রয়েছে। ওই জমি নামজারি করে নিয়মিত খাজনা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। ওই জমির বড় অংশ জালজালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে শিয়ালডাঙা গ্রামের শওকত হোসেন, তার ভাই মাহাবুর রহমান পটল, শাজাহান আলী, কওছার আলী, মুজিবর রহমান, মাহাবুবর রহমানের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা তার মায়ের জমি জবরদখল করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলো।

 

একপর্যায়ে ফারাজি অংশে ঘর ও দোকান বানিয়ে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে ছিলেন। ২০১৩ সালের শেষের দিকে দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে শওকত হোসেন, মাহাবুবর রহমন, রাজিয়া সুলতানা দলীয় ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তার মা রউফুন্নেছাকে বাড়ি থেকে বের করে চুল দিয়ে গাছের ডালে বেঁধে নির্যাতন করে দোকান ও বাড়ি ভাংচুর করে জমি দখলে নেন। এ ঘটনায় তিনি মামলা করতে সাহস পাননি।

আমেনা খাতুন আরো জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর তিনি তার তিনটি দোকানঘরসহ জমি দখলে নেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে কয়েকবার শালিসি সভা বসে। মাহাবুবর রহমান ও তার ভাইয়েরা কাগজপত্র দেখানোর জন্য সময় নিয়ে আর আসেন না।

 

সর্বশেষ তারা(আমেনা) ওই জমি মাপ জরিপ করে মাহাবুবর রহমান ও তার শরীকদের চলাচলের জন্য রাস্তা ছেড়ে দিয়ে জমিতে সিমেন্টের পিলার দিয়ে বেড়া দেন। গত ২ সেপ্টেম্বর ওই ঘেরা ও বেড়া ভেঙে দেয় মাহাবুবর রহমান ও তার লোকজন। পরবর্তীতে শনিবার তারা আবারো ঘেরা-বেড়া দিয়ে টিনের চাল নির্মাণ করে বসবাস করা শুরু করলে রবিবার ভোর তিনটার দিকে মাহাবুবর ও তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা ওই ঘর ও বেড়া ভেঙে দেন। ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় তাদের দোকান। লুটপাট করা হয় দোকানের মালামাল। ভাংচুর ও লুটপাটে বাধা দেওয়ায় তাকে (আমেনা) ও স্বামী আব্দুল হামিদকে পিটিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ব্যাপারে মুজিবর রহমান জানান, বিহারীপুর মৌজায় ইসমাইল হোসেন ও তার ভাই ইসহাক যাদের কাছে জমি বিক্রি করেছেন তাদের কাছ থেকে ২০০৯ সালে তিনটি দলিল মূলে এবং ২০১৪ সালে ও ২০২০ সালে দুটি দলিল মূলে তারা হাল ৩৫. ৩৬ ও ৩০৫ দাগে প্রায় ৫৮ শতক জমি কিনেছেন। বর্তমানে রউফউন্নেছার নামে ১৭ শতক জমি বর্তমান মাপে রেকর্ড হলেও তিনি তার বড় জামাতা মনিরুলের সঙ্গে তালাক হওয়া বড় মেয়ের নতুন করে বিয়ে দিতে কাছে সোয়া আট শতক জমি দিয়েছেন।

 

পরবর্তীতে ওই জমি ফেরৎ নিতে আদালতে মামলা করলে রায় রউফউন্নেছার বিপক্ষে যায়। বর্তমানে রফিউন্নেছার পৌনে চার শতক জমি থাকলেও তিনি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের ব্যবহার করে রেকর্ড অনুযায়ি ১৭ শতক জমি জবরদখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা(মুজিবর) জবরদখলকে প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে তারা রেকর্ড সংশোধনের জন্য দেওয়ানী মামলা করেছেন আদালতে।

তবে মুজিবর রহমানের কাছে শনিবার বিকেলে তাদের জমির সমর্থনে দলিল ও নামজারি সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চাইলে রবিবার দেখাবার কথা বলে চলে যান। পরে তারা আর যোগাযোগ করেননি।

সরেজমিনে শনিবার ও রবিবার সকালে আবাদেরহাট এলাকায় যেয়ে দেখা গেছে দখল ও পাল্টা দখলকে ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাহামুদুর রহমান জানান, রবিবার ভোরে বাড়ি, বেড়া ও দোকানঘর ভাংচুরের অভিযোগে বাঁশদহা গ্রামের আব্দুল হামিদের স্ত্রী আমেনা খাতুন বাদি হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেবহাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রচারাভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
দেবহাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রচারাভিযান

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার দেবহাটা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচারাভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর থেকে এ প্রচারাভিযানের উদ্বোধন করা হয়। দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে এবং সুশীলন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুল, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর.কে. বাপ্পা, সাংগঠনিক সম্পাদক কে.এম. রেজাউল করিম, ইউপি সদস্য আজগার আলী, ইউপি সদস্যা রেহেনা পারভিন, সুশীলনের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার মিজানুর রহমান, গ্রাম কমিটির সভাপতি ফিরোজ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

পরে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ, টাউনশ্রীপুর বাজারসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে প্রচারাভিযান পরিচালনা করা হয়।

এসময় আয়োজকরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে জনসাধারণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাজার ও জনসমাগমস্থলে ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং নিজ নিজ এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রাচীর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রাচীর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

মো. জাবের হোসেন: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রাচীর নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক পরিবেশ উন্নয়নের কথা বলে এই প্রকল্পে ২৪ লক্ষাধিক টাকার প্রাক্কলন তৈরি করা হলেও কাজের মান ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এই কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ লাখ ৭০ হাজার ৮৯৬ টাকা।

প্রদত্ত তথ্যাবলী ও প্রকল্পের বিবরণ থেকে জানা যায়, নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ দিন ধরে পর্যাপ্ত সীমানা প্রাচীর না থাকায় অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। অফিসটির চারপাশ উন্মুক্ত থাকায় নানা ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি লেগেই থাকে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সুষ্ঠু পরিবেশে সেবা প্রদান করতে পারেন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ করছেন। স্থানীয় প্রভাষক মেজর মো. এছাহক আলী জানান, নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সীমানা প্রাচীরের যে কাজ ঠিকাদার করছেন, তাতে ব্যাপক অনিয়ম চলছে। শুক্রবারে তারা এক দফায় অনিয়মের জন্য কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ঢালাইয়ে যে বালু ব্যবহার করা হচ্ছে সেটি একেবারে নিম্নমানের। প্রাচীরের পাকা কলাম বা পিলার ঢালাই দেওয়ার পরপরই ১২ ঘণ্টার মধ্যে কাঠের ফ্রেম বা বক্স খুলে ফেলা হচ্ছে, তাতে আবার পানি ধরে রাখার জন্য কোনো পাটের বস্তাও ব্যবহার করা হচ্ছে না। এছাড়া অনেক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, তারা গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেন, যাতে সাধারণ মানুষ তা দেখতে না পায়।

এদিকে এসব প্রশ্নের জবাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাব-কন্টাক্টর মাসুম বিল্লাহ বলেন, “আমার এখানে কোনো স্বার্থ নেই। ঠিকাদার মনিরুল সাহেব যেভাবে কাজ করতে বলছেন, আমি সেভাবে কাজ করছি।” কেন তারা একদিনে সব কলাম ঢালাই দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং কেন ছালার চট দেওয়া হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা ঢালাই মেশিনটা ভাড়া করে এনেছি বলে একদিনে ঢালাই করার চেষ্টা করছিলাম। আর ছালার চট ঠিকাদার দিতে দিচ্ছেন না।”
অন্যদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো. এজাজ রহমান বলেন, আর কোন অনিয়ম হবে না।

সাংবাদিক দেখে তারা প্রাচীর ঢালাই পাঁকা পিলারে চটের বস্তা দেয়া কাজ শুরু করেন শনিবার সকালে। যদিও তার কয়েকদিন আগে পিলারগুলো ঢালাই দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, তালা সহকারী কমিশনার (ভূমি), তালা উপজেলা প্রকৌশলী অফিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট স্থানীয় সচেতন মহল সঠিকভাবে যাতে কাজটি হয় সে ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।