সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্য যাচাই নিয়ে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্য যাচাই নিয়ে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা
বদিউজ্জামান: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীল যোগাযোগ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে পাওয়া তথ্য বোঝা ও যাচাইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা। বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন ও ব্লাষ্টের উদ্যোগে এবং ইউরোপীয় কমিশনের অর্থায়নে পরিচালিত FREED (Freedom of Expression for Effective Democracy in Bangladesh) প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।
‘Enabling through Communication: Building Skills for Responsible Engagement and Digital Literacy’ শীর্ষক কর্মশালাটি ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সাতক্ষীরার মুজাফফর গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রশিক্ষণ চলবে।
কর্মশালায় সিভিল সোসাইটি সংগঠনের কর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও মানবাধিকার রক্ষাকারীদের নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে যোগাযোগ এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করার প্রয়োজনীয় দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রথম দিনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, অধিকার ও দায়িত্ব, যোগাযোগের গুরুত্ব ও প্রভাব, বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কাছে কীভাবে তথ্য ও বার্তা পৌঁছানো যায় এবং নিরাপদ যোগাযোগের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে।
দ্বিতীয় দিনে ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্য বোঝা ও যাচাইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত ও মোকাবিলা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ও নিরাপদ ব্যবহার এবং গণমাধ্যম, মানবাধিকারকর্মী ও সিভিল সোসাইটির মধ্যে সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হবে।
আয়োজকরা জানান, বর্তমানে মানুষ প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য পাচ্ছেন। এসব তথ্যের মধ্যে সঠিক তথ্যের পাশাপাশি ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও থাকতে পারে। তাই তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়িত্বশীলভাবে তা ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মশালায় এ বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রয়োজনীয় ধারণা ও ব্যবহারিক দক্ষতা দেওয়া হবে।
এছাড়া আইনগত বিষয়, নিরাপদ যোগাযোগ এবং মানুষের কাছে সঠিক ও প্রয়োজনীয় তথ্য সহজভাবে তুলে ধরার বিভিন্ন কৌশল নিয়েও মতবিনিময় হবে।
কর্মশালাটি মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্যভিত্তিক জনপরিসর গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
কর্মশালায় সাতক্ষীরার বিভিন্ন পর্যায়ের গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করবেন।

Ads small one

ভাঙে বেড়িবাঁধ, দায় কার?/সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
ভাঙে বেড়িবাঁধ, দায় কার?/সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বেড়িবাঁধ ভাঙার আগে সতর্কবার্তা থাকে। কোথাও মাটি সরে যায়, কোথাও ফাটল ধরে, কোথাও নদীর স্রোত বাঁধের পাড় কামড়ে ধরে। স্থানীয় মানুষ বিষয়টি জানান, জনপ্রতিনিধিরা অবহিত হন, সংবাদও প্রকাশিত হয়। কিন্তু সংস্কারের কাজ শুরু হয় না। তারপর একদিন জোয়ার আসে, বাঁধ ভাঙে, পানি ঢোকে। শুরু হয় প্রশাসনের দৌড়ঝাঁপ। এটাই কি আমাদের উপকূল ব্যবস্থাপনার নিয়ম? সাতক্ষীরার আশাশুনিতে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বেশি দূর যেতে হয় না। বুধহাটা বাজার, শ্মশানঘাট তেঁতুলতলা, প্রতাপনগর, বড়দল, আনুলিয়া কিংবা খাজরার বাঁধের দিকে তাকালেই চিত্রটি স্পষ্ট হয়। বুধহাটা শুধু একটি বাজার নয়। দীর্ঘদিনের এই বাণিজ্যকেন্দ্রের সঙ্গে আশপাশের বহু গ্রামের মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। অথচ বেতনা নদীর ভাঙন এখন বাজারটির অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে বুধহাটা বাজার সংলগ্ন বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। কয়েক দিনে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাত বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নদীখননের কারণে স্রোতের চাপ বাজারমুখী হয়েছে।

 

জুলাইয়ে বুধহাটা ও নওয়াপাড়া এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার খবর আসে। সেখানে ২০০ থেকে ৩০০ হাত বাঁধের নিচের অংশ নদীতে চলে যাওয়ার পাশাপাশি প্রায় ১০০ হাত মূল বাঁধে বড় ফাটল দেখা দেয়। এতে বুধহাটা, ফিংড়ী, ব্রহ্মরাজপুর ও ধুলিহরসহ আশপাশের বহু গ্রাম, ফসলি জমি ও মৎস্যঘের প্লাবনের ঝুঁকিতে পড়ে। বৈরামপুরেও বেতনা নদীর ভাঙন দীর্ঘদিন ধরে বাঁধকে দুর্বল করে তুলছে। সেখানে কয়েক মাসে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ফুট চর নদীতে বিলীন হয়েছে এবং ভাঙন বাঁধসংলগ্ন সড়কের কাছাকাছি চলে এসেছে। এটি শুধু আশাশুনির সমস্যা নয়; পুরো সাতক্ষীরার উপকূলীয় বাস্তবতা একই। চলতি বছরের মে মাসে আশাশুনি ও শ্যামনগরের অন্তত ৪০টি স্থানে বেড়িবাঁধ তীব্র ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আশাশুনির মরিচ্চাপ নদীর তেঁতুলিয়া সেতু এলাকাও ছিল সেই ঝুঁকির তালিকায়।

 

গত বছর আনুলিয়ার বিছট গ্রামের কাছে খোলপেটুয়া নদীর বাঁধের প্রায় ১৫০ ফুট অংশ ভেঙে প্রায় ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। চলতি বছর বড়দল ও খাজরা এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর বাঁধে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিলে প্রায় ২০টি গ্রাম এবং হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি ও মৎস্যঘের প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়। আর সর্বশেষ প্রতাপনগরের শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া এলাকায় কপোতাক্ষ নদের বাঁধ ভাঙার ঘটনা আবারও সেই পুরোনো বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। স্থানীয় মানুষের হিসাবে ভাঙন প্রায় ১৫০ ফুট হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাথমিক হিসাবে তা ৬০ থেকে৭০ ফুট। বাঁধ রক্ষায় শতাধিক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোদাল-ঝুড়ি নিয়ে কাজে নেমেছেন। অথচ এলাকাবাসীর ভাষ্য, ঝুঁকির কথা আগেই জানানো হয়েছিল। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিবার মানুষ নিজেরাই কেন বাঁধ রক্ষায় নামবেন?

 

রাষ্ট্রের দায়িত্ব কোথায়? আশাশুনির মানুষ দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করতে অভ্যস্ত। কিন্তু মানুষের সহনশীলতাকে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার বিকল্প বানানো যায় না। বাঁধ ভাঙার পর জিওব্যাগ ফেলা, মাটি ফেলা, বাঁশের পাইলিং করাÑএসব জরুরি ব্যবস্থা হতে পারে; কিন্তু এগুলো স্থায়ী সমাধান নয়। আরও বড় প্রশ্ন নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে। কোথাও নদী খনন হচ্ছে, কোথাও স্রোতের গতিপথ বদলাচ্ছে, কোথাও তীর থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। এসব কাজের সঙ্গে বাঁধের নিরাপত্তার সম্পর্ক বিবেচনা না করলে এক জায়গা রক্ষা করতে গিয়ে অন্য জায়গা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই নদী ও বাঁধকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

 

এখন আর প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়Ñবাঁধ ভাঙলে কীভাবে সামলানো হবে? প্রশ্ন হওয়া উচিতÑবাঁধ যাতে না ভাঙে, তার জন্য আজ কী করা হচ্ছে? পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোর কারিগরি জরিপ করতে হবে। বাঁধের উচ্চতা, প্রস্থ, মাটির গুণমান, ফাটল, নদীর স্রোত ও তীরভাঙনের গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে একটি ঝুঁকি-মানচিত্র তৈরি করা প্রয়োজন। এরপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থায়ী সংস্কার করতে হবে। বুধহাটা বাজার ও শ্মশানঘাট তেঁতুলতলার মতো জন বসতিপূর্ণ এলাকায় সাময়িক জোড়াতালির বদলে প্রয়োজন অনুযায়ী স্থায়ী তীর সংরক্ষণ ও বাঁধ শক্তিশালী করতে হবে।

 

নদীখনন বা অন্য কোনো উন্নয়নকাজের আগে তার প্রভাব বাঁধ ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের ওপর কী পড়বে, সেটিও কারিগরি সমীক্ষায় নিশ্চিত করা দরকার। একই সঙ্গে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে কাজের মান, অর্থ ব্যয় এবং ঠিকাদারি ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। বর্ষা ও দুর্যোগ মৌসুমের আগে প্রতিবছর বাঁধের ‘স্বাস্থ্য পরীক্ষা’ বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগেই জিওব্যাগ, বালুর বস্তা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুত রাখতে হবে। সবশেষে প্রয়োজন জবাবদিহি।

 

একই বাঁধ বারবার ভাঙবে, বারবার সরকারি অর্থে সংস্কার হবে, আবার ভাঙবেÑএই চক্র চলতে পারে না। কোনো প্রকল্প ব্যর্থ হলে তার কারণ খুঁজতে হবে এবং দায়িত্বে অবহেলা থাকলে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাঁধ ভাঙার পর দৌড়ঝাঁপ নয়Ñভাঙার আগেই পরিকল্পনা, অর্থায়ন, কাজ ও জবাবদিহি নিশ্চিত হোক। কারণ একটি বেড়িবাঁধ শুধু মাটি ও বালুর স্তূপ নয়; এর ওপারে রয়েছে মানুষের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, মৎস্যঘের, বাজার ও জীবিকা। বাঁধ রক্ষার সাফল্য জিওব্যাগের সংখ্যায় নয়, কতটি পরিবারকে প্লাবনের হাত থেকে রক্ষা করা গেলÑতার হিসাবেই মাপা উচিত।

লেখক: সংবাদকর্মী

চৈতালী মুখার্জির কণ্ঠে কালজয়ী গানের মূর্ছনা, মুগ্ধ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
চৈতালী মুখার্জির কণ্ঠে কালজয়ী গানের মূর্ছনা, মুগ্ধ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র

মিলন বিশ্বাস: জ্যোৎস্নামাখা রাত। নীরব আকাশের নিচে চারদিকে সুরের আবেশ। কখনো প্রেম, কখনো বিরহ, কখনো পুরোনো দিনের স্মৃতির মায়া-কণ্ঠশিল্পী চৈতালী মুখার্জির কণ্ঠে একের পর এক কালজয়ী গান যেন ছুঁয়ে যায় শ্রোতাদের হৃদয়। তাঁর কণ্ঠের মাধুর্যে শনিবার রাতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ছাদ হয়ে ওঠে এক মায়াবী সংগীতমঞ্চ।

২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে ঐতিহ্যবাহী বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দক্ষিণ পাশের ছাদে ‘আলোর ইশকুল-চৈতন্যের আলোকযাত্রা’র বিশেষ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় কণ্ঠশিল্পী চৈতালী মুখার্জির একক সংগীত সন্ধ্যা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সদস্যবৃন্দের আয়োজনে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে এই সংগীতের আয়োজন।

তিন ঘণ্টার এই সুরেলা সন্ধ্যায় চৈতালী মুখার্জির কণ্ঠে প্রাণ পায় বাংলা গানের বহু জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান। ‘এই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায়’, ‘এ শুধু গানের দিন’, ‘এ লগন গান শোনাবার’, ‘ঘুম ঘুম চাঁদ ঝিকিমিকি তারা’, ‘মরমী গো, আজি মনের কথাটি বলোনা’, ‘আর দেখো না সেই মধু নামে’, ‘এই মন জোছনায় অঙ্গ ভিজিয়ে’ এবং ‘অলিরও কথা শুনে বকুল হাসে’-এমন সব গানে ভরে ওঠে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ছাদ।

এরপর একে একে পরিবেশন করেন ‘আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা’, ‘তারা ঝিলমিল স্বপ্ন মিছিল’, ‘তখন তোমার একুশ বছর বোধহয়’, ‘নিশি রাত বাঁকা চাঁদ’, ‘ও চাঁদ সামলে রাখো জোছনাকে’, ‘যদি কাগজে লেখ নাম মুছে যাবে’, ‘নদীর যেমন ঝরনা আছে, আমার আছে তুমি’ এবং ‘আমার সন্ধ্যায় প্রান্ত পাখিরা’সহ আরও বেশ কিছু জনপ্রিয় গান।

চৈতালীর কণ্ঠে কখনো ছিল নরম প্রেমের আবেশ, কখনো বিরহের বিষণœতা, আবার কখনো ছিল পুরোনো দিনের স্মৃতিমেদুরতা। গানের সঙ্গে তাঁর কণ্ঠের আবেগ আর জ্যোৎস্নামাখা রাতের পরিবেশ মিলে তৈরি করে এক অনন্য অনুভূতি। উপস্থিত শ্রোতারা গভীর মনোযোগে উপভোগ করেন প্রতিটি পরিবেশনা। গান শেষে করতালি আর ভালোবাসায় শিল্পীকে অভিবাদন জানান তাঁরা।

অনুষ্ঠানে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন অঙ্গনের গুণীজনসহ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতি এবং শ্রোতাদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে সংগীতসন্ধ্যাটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণময়।

চৈতালী মুখার্জির সংগীত পরিবেশনে মুগ্ধ হয়ে অবসরপ্রাপ্ত সচিব, লেখক ও গবেষক ড. মোহাম্মদ আলী খান শিল্পীর হাতে তাঁর সংকলন ও সম্পাদনায় প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি’ এবং তাঁর নিজের লেখা ‘৫০১ টাকা ও অন্যান্য গল্প’-এই দুটি বই উপহার দেন। সংগীতের প্রতি ভালোবাসা ও শিল্পীর পরিবেশনার প্রতি সম্মান হিসেবে দেওয়া এই উপহার মুহূর্তটি অনুষ্ঠানে ভিন্ন আবেগের জন্ম দেয়।

অনুষ্ঠান শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে চৈতালী মুখার্জি বলেন, “এটি আমার সংগীত জীবনের একটি বড় অর্জন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মতো একটি জায়গায় একক সংগীত অনুষ্ঠান করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। এমন একটি আয়োজনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।”

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মননশীলতার চর্চার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়ে আসছে। ‘আলোকিত মানুষ চাই’-এই দর্শনকে ধারণ করে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটির আঙিনায় সংগীতের এমন আয়োজন যেন সাহিত্য ও সংস্কৃতির সেই আলোর সঙ্গে সুরেরও এক সুন্দর সংযোগ তৈরি করে।

রাত যত গভীর হয়েছে, আকাশের জ্যোৎস্না ততই মিশে গেছে চৈতালীর কণ্ঠের সুরে। তিন ঘণ্টার পরিবেশনা শেষে অনুষ্ঠান শেষ হলেও শ্রোতাদের মনে থেকে যায় গানের রেশ। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ছাদে সেই রাত যেন হয়ে ওঠে এমন এক স্মরণীয় সন্ধ্যা-যেখানে জ্যোৎস্নার সঙ্গে মিশে ছিল সুর, আর সুরের সঙ্গে মিশে ছিল চৈতালীর কণ্ঠের মায়া।

সাতক্ষীরা জেলা ডিবি কার্যালয় বার্ষিক পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা ডিবি কার্যালয় বার্ষিক পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কার্যালয় বার্ষিক পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কার্যালয়ে এলে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার ডিবি কার্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক রেজিস্টার, নথিপত্র ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করেন। একই সঙ্গে দাপ্তরিক কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।