সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

শহরে ফোর লেনের নতুন সম্ভাবনা: হাল ধরবে কে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
শহরে ফোর লেনের নতুন সম্ভাবনা: হাল ধরবে কে?

আল মুতাসিম বিল্লাহ সুমন

সাতক্ষীরা শহর এখন এক যানজটের নগরী। যেখানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। ১০০ বছরের পুরাতন এই শহরের যানজটের প্রধান কারণ অপ্রশস্ত সড়ক। মাত্র ১৮ ফুট থেকে ২৪ ফুটের অপ্রশস্ত সড়ক নিয়ে রীতিমত এই শহরটি ধুকছে এবং বসবাসের অযোগ্য হওয়ার পথে। সাতক্ষীরা বাসীর দীর্ঘদিনের দাবী শহরের প্রধান সড়ক গুলো ফোর লেনে রূপান্তর করা। এরই প্রেক্ষাপটে সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ-শ্যামনগর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে প্যাকেজ-১ এ শহরাংশে ফোর লেন সড়ক সংযুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে তা বাতিল করা হয়। কিন্তু বর্তমানে প্রকল্পের টেন্ডার ও ভূমি অধিগ্রহণ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হওয়ায় সাতক্ষীরা শহরে পুনরায় ফোর লেন রাস্তা নির্মাণের এক নতুন ও সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন শুধু দরকার সাতক্ষীরার জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিক প্রচেষ্টা।

সাতক্ষীরা জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে বিগত আওয়ামীলীগ সরকার সাতক্ষীরা-সখিপুর-কালীগঞ্জ (জেড-৭৬০২) এবং কালীগঞ্জ-শ্যামনগর-ভেটখালী (জেড-৭৬১৭) মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্প হাতে নেয়। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে শ্যামনগর এবং সীমান্তবর্তী ভেটখালী পর্যন্ত নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করা।

প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮২২ কোটি ৪৪ লাখ ১২ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই প্রকল্পের অনুকূলে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দও রাখা হয়। বিশাল এই কর্মযজ্ঞের মধ্যে রয়েছে ভূমি অধিগ্রহণ, সড়ক প্রশস্তকরণ, বিদ্যমান পেভমেন্ট পুনর্র্নিমাণ ও মজবুতীকরণ, সার্ফেসিং, আরসিসি বক্স কালভার্ট, বাস-বে এবং ড্রেন নির্মাণসহ নানা অবকাঠামোগত উন্নয়ন।

তৎকালীন সংসদ সদস্য ডা. আ ফ ম রুহুল হকের নির্দেশনায় সাতক্ষীরা-শ্যামনগর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাবে সাতক্ষীরা শহরের যানজট এবং ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা বিবেচনা করে শহরাংশের প্রথম ৫.৩০ কিলোমিটার রাস্তা চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা জমা দেয়া হয়েছিল। শহরের সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এই প্রস্তাবনাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। সবার প্রত্যাশা ছিল, অবশেষে সাতক্ষীরা শহরের প্রধান সড়কটি আধুনিক রূপ পেতে যাচ্ছে।

কিন্তু পরবর্তীতে সাতক্ষীরার বাকি জনপ্রতিনিধিদের অসহযোগিতা ও প্রকল্পের ব্যয় সাশ্রয়ের কারণ দেখিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক প্রাথমিক প্রস্তাবনায় পরিবর্তন আনা হয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ৫.৩০ কিলোমিটারের ফোর লেনের প্রস্তাবনাটি বাতিল করে সেটিকে দুই লেনে নামিয়ে আনা হয়। সংশোধিত এই প্রস্তাবনাই একনেক কর্তৃক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) হিসেবে অনুমোদন লাভ করে। ফোর লেনের এই প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার ফলে সাতক্ষীরা বাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন মুখ থুবড়ে পড়ে।

ফোর লেন বাতিল হয়ে বর্তমানে যখন সড়কের কাজ চলমান রয়েছে তখন হতাশার মাঝে সাতক্ষীরা বাসীর জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছে প্রকল্পের সাম্প্রতিক একটি আর্থিক মূল্যায়ন। যেকোনো মেগা প্রকল্পে সাধারণত ব্যয় বৃদ্ধির খবরই বেশি শোনা যায়, তবে এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে ঘটেছে সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা। যথাযথ টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং স্বচ্ছতার কারণে এই প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।

প্রকল্পের মোট ছয়টি প্যাকেজে কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিটি প্যাকেজেই প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে ন্যূনতম ১৬ শতাংশ বা তারও বেশি নি¤œদরে দরপত্র দাখিল করে। এর ফলে প্রকল্পের পূর্ত কাজ বা নির্মাণ ব্যয় থেকে প্রায় ১২৪ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণের জন্যও একটি বড় অঙ্কের বাজেট রাখা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে এবং ইতোমধ্যে আইনের ৭ ধারা সম্পন্ন হয়েছে। চূড়ান্ত প্রাক্কলনে দেখা যাচ্ছে, ভূমি অধিগ্রহণ খাতেও আনুমানিক ৪৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। সব মিলিয়ে, ঠিকাদারদের নি¤œদরে কাজ নেওয়া এবং ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় হ্রাস পাওয়ার ফলে সাতক্ষীরা-শ্যামনগর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে মোট ১৬৯ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ সাশ্রয়কৃত অর্থ এখন সাতক্ষীরার উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

সাশ্রয়কৃত এই ১৬৯ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত না পাঠিয়ে যদি প্রকল্পের উন্নয়ন কাজে পুনরায় প্যাকেজ-১ সংশোধন করা হয়, তবে শহরাংশের ৫.৩০ কিলোমিটার সড়কটিকে এই ১৬৯ কোটি টাকা থেকে সহজেই চার লেনে উন্নীত করা সম্ভব হবে । যেহেতু অর্থ সাশ্রয় হয়েছে, তাই মন্ত্রণালয় চাইলেই ডিপিপি সংশোধন করে পূর্বের চার লেনের প্রস্তাবনাটি পুনরায় যুক্ত করতে পারে। এতে শহরের যানজট নিরসন হবে এবং প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য শতভাগ সফল হবে।

সাতক্ষীরার বর্তমান ৪ জন সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক মহোদয়া, সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার সাংবাদিক সমাজ, সাতক্ষীরা জেলার উন্নয়ন কমিটি গুলোর দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। বিশেষ করে সাতক্ষীরার সংসদ সদস্যদের অতি সত্ত্বর সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের সাথে কথা বলে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশন থেকে প্রকল্পটির সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদন করানোর ব্যবস্থা করা উচিত। যাতে সাতক্ষীরা শহরের ৫.৩০ কিলোমিটার সড়ক ফোর লেন রূপান্তরিত হয়।
সাতক্ষীরা একটি বর্ধিষ্ণু জেলা শহর। সময়ের সাথে সাথে এই শহরের জনসংখ্যা এবং যানবাহনের চাপ জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শহর এলাকার রাস্তাঘাটগুলো অত্যন্ত সরু হওয়ায় প্রতিদিন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এই যানজটের কারণে সাধারণ মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকা-ও ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা শহরের প্রবেশ মুখ থেকে শুরু করে শহরের ভেতরের অংশ পর্যন্ত প্রতিদিন ছোট-বড় অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। ভোমরা স্থলবন্দর থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ থেকে আসা বাস এবং স্থানীয় থ্রি-হুইলারগুলোর চাপে শহরের রাস্তাগুলো প্রায়শই অচল হয়ে পড়ে। একটি চার লেনের রাস্তা নির্মিত হলে শহরের প্রধান সড়কে যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে যাবে এবং যানজট নিরসন হবে।

সাতক্ষীরার মতো সম্ভাবনাময় একটি জেলা শহরের প্রধান সড়কের এই দুরবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সাশ্রয়কৃত ১৬৯ কোটি টাকা সাতক্ষীরা বাসীর জন্য এক প্রকার আশীর্বাদ। এই অর্থকে কাজে লাগিয়ে শহরাংশের সড়ককে ফোর লেনে রূপান্তর না করতে পারলে সেটি হবে বর্তমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৪ জন সংসদ সদস্যের জন্য বড় ধরনের ব্যর্থতা। সাতক্ষীরার মানুষ উন্নয়নের আশায় তাদের বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে। সেই আশা নিরাশা হয়ে যাবে সাতক্ষীরা বাসীর জন্য যদি তারা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পারে। আর সেই ব্যর্থতার সরাসরি প্রভাব পড়বে আগামীর সকল নির্বাচনে।

সাতক্ষীরা শহরে একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক ফোর লেন সড়ক নির্মাণ এখন আর কোনো অলীক কল্পনা নয়। পূর্বে ফোর লেন বাতিল হওয়ায় যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছিল, সাশ্রয়কৃত অর্থের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে তা আনন্দে রূপান্তরিত হতে পারে। সরকারের আন্তরিক সদিচ্ছা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জোরালো ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দ্রুত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই সাতক্ষীরা বাসীর এই প্রাণের দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব। সাতক্ষীরা বাসী আশা করে, সাশ্রয়কৃত এই ১৬৯ কোটি টাকা দিয়ে সাতক্ষীরা শহরের ৫.৩০ কিলোমিটার ফোর লেন এবং আনুষঙ্গিক উন্নয়ন কাজ দ্রুতই আলোর মুখ দেখবে এবং সাতক্ষীরা একটি আধুনিক ও যানজট মুক্ত শহর হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। লেখক: আল মুতাসিম বিল্লাহ সুমন, রাজারবাগান, সাতক্ষীরা

Ads small one

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: জ্বালানি সংকটে স্থবির ভোমরা বন্দরÑকাঁচামাল পচন ও ব্যবসায়িক ধস রুখতে জরুরি উদ্যোগ জরুরী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: জ্বালানি সংকটে স্থবির ভোমরা বন্দরÑকাঁচামাল পচন ও ব্যবসায়িক ধস রুখতে জরুরি উদ্যোগ জরুরী

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর আজ এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। যে বন্দরটি সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ কাস্টম হাউজে রূপান্তরের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছিল, জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে তা এখন স্থবির হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ডিজেলের অভাবে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় আমদানিকৃত পণ্য, বিশেষ করে পচনশীল কাঁচামাল নষ্ট হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শুধু স্থানীয় ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, বরং দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্দরে ট্রাকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। আগে প্রতিদিন যেখানে ৩০০ থেকে ৩৫০টি ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করত, এখন তা ২০০-এর নিচে নেমে এসেছে। দূরপাল্লার ট্রাকগুলো গন্তব্যে পৌঁছাতে গিয়ে মাঝপথে তেলশূন্য হয়ে পড়ছে। উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তেল না পাওয়ায় ট্রাক চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি দিনের পর দিন পাম্পে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যেখানে দুদিনে একটি ট্রিপ সম্পন্ন হতো, সেখানে এখন এক সপ্তাহ লেগে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে ট্রাকভাড়াÑ২৫ হাজার টাকার ভাড়া গিয়ে ঠেকেছে ৩৭ হাজার টাকায়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো পচনশীল পণ্যের অবস্থা। ভারত থেকে আমদানিকৃত কাঁচামরিচ, আদা ও বিভিন্ন ফলমূল সময়মতো গন্তব্যে না পৌঁছানোয় পথেই পচে নষ্ট হচ্ছে। আমদানিকারকরা জানাচ্ছেন, মাল দেরিতে পৌঁছানোর কারণে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত দাম কেটে নেওয়া হচ্ছে। এই বহুমুখী লোকসান ক্ষুদ্র ও মাঝারি আমদানিকারকদের ব্যবসার মেরুদ- ভেঙে দিচ্ছে।
ভোমরা বন্দর দিয়ে দেশের রাজস্ব আয়ের একটি বড় অংশ আসে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের সুফল যখন ব্যবসায়ীরা পেতে শুরু করেছেন, ঠিক তখনই জ্বালানি সংকটের কারণে এই অচলাবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই সংকট কেবল পরিবহনের নয়, এটি সরাসরি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার দরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আমরা মনে করি, ভোমরা স্থলবন্দরের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এখানে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর পেট্রোল পাম্পগুলোতে ডিজেলের পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং পরিবহন মালিকদের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া, বন্দরে খালাস হওয়া পণ্য দ্রুত সরানোর জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, তাও ভেবে দেখা জরুরি।
দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যের দাম রাখতে ভোমরা বন্দরের এই পরিবহন সংকট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।

৪০ দিনেও উদ্ধার হয়নি মন্দিরের সোনা, ক্ষুব্ধ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
৪০ দিনেও উদ্ধার হয়নি মন্দিরের সোনা, ক্ষুব্ধ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা

পত্রদূত রিপোর্ট: পুরাতন সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ৪০ দিন পার হলেও লুণ্ঠিত সোনার গহনা বা টাকা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশের এই ব্যর্থতায় স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

এদিকে, এই মামলায় গ্রেপ্তার বাবলু গাজীর জামিন শুনানি শেষে সোমবার জেলা ও দায়রা জজ মো. নজরুল ইসলাম আগামী ১১ মে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। একই সঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কেস ডায়েরিসহ (সিডি) সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১১ মার্চ রাত আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে মন্দিরে চুরির ঘটনাটি ঘটে। চোর চক্রের সদস্যরা পর্যায়ক্রমে কালীমাতা মন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, জগন্নাথ দেবের মন্দির, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মন্দির এবং রাধা-গোবিন্দ মন্দিরের তালা ভেঙে প্রবেশ করে।

তারা বিগ্রহের শরীর থেকে প্রায় ১৮ লাখ টাকা মূল্যের সোনার গহনা ও নগদ সাত হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন।

পুলিশ তদন্তে নেমে এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে মাসুদ রানা ও অংকন সাহা নামের দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে অংকন সাহা জানান, চুরির সময় তিনি ও মাসুদ রানা মন্দিরের ফটকে পাহারা দিচ্ছিলেন। আতাউল ইসলাম ওরফে আতা এবং মামুন ওরফে ‘বোতল’ ভেতরে ঢুকে তালা ভেঙে সোনা লুট করেন। লুটের পর সেই সোনা ইয়ারুল নামের একজনের কাছে রাখা হয়েছে বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়। তবে মূল অভিযুক্ত আতা ও মামুন ওরফে বোতলকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

মামলার বাদী নিত্যানন্দ আমিন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আলামত উদ্ধার হবে বলে আমাদের আর বিশ্বাস নেই। এর আগে দুর্গাপূজার সময় শহরে চারটি বাড়িতে বড় ধরনের চুরি হলেও পুলিশ কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি। এমনকি কাটিয়া মায়ের মন্দিরে চুরির চেষ্টার ঘটনায়ও কাউকে ধরা যায়নি।

জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার পরিদর্শক রেজাউল করিম বলেন, “আমরা আলামত উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। র‌্যাবেরও সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। তবে মূল অভিযুক্ত আতা ও বোতল বারবার মোবাইল সিম পাল্টে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।” তিনি আসামিদের গ্রেপ্তারে মন্দির কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন। সাতক্ষীরায় একের পর এক চুরির ঘটনায় জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ।

অনিয়ম আর দুর্নীতিতে ডুবছে দরগাহপুর এনডিএস ফাজিল মাদ্রাসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ
অনিয়ম আর দুর্নীতিতে ডুবছে দরগাহপুর এনডিএস ফাজিল মাদ্রাসা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরের দরগাহপুর এনডিএস ফাজিল মাদ্রাসায় অনিয়ম আর দুর্নীতি চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে থাকা শতাধিক বিঘা কৃষি জমি হতে বাৎসরিকভাবে আদায়কৃত অর্ধ্ব কোটি টাকার মালিকানা নিয়ে অধ্যক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। যার ফলে প্রায় পাঁচ দশক আগে গড়ে উঠা ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠাতা পরিবারগুলোর সাথে অধ্যক্ষ ও তার অনুসারীদের মধ্যে দিনে দিনে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরী হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় ধরে এমন অবস্থা অব্যাহত থাকার সত্ত্বেও প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিধিদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অনতিবিলম্বে অবস্থার উন্নতি না হলে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হবে বলেও দাবি তাদের।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে ডা. রাহাতুল্লাহ গাজী প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। মাদ্রাসার অনুকুলে থাকা প্রায় একশ বিঘা কৃষি জমি মৎস্যঘেরের জন্য ইজারা দিয়ে প্রতিবছর কতৃপক্ষ মোটা অংকের টাকা আদায় করে।
অনুসন্ধানকালে স্পষ্ট তথ্য মিলেছে যে মাদ্রাসার অনুকুলে এত বিপুল পরিমান টাকা বাৎসরিকভাবে আয় হলেও তার যৎসামান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যয় হয়। মুলত অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস হোসেন ও তার কয়েক অনুসারী সিংহভাগ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বিভিন্ন খরচের ছিলিপ তৈরী করে অধ্যক্ষ খাতা-খতিয়ান ঠিক রাখার চেষ্টা করেন বলেও দাবি তাদের। এমনকি মাদ্রসার বিরুদ্ধে কোন অনিয়মের তদন্ত হলে তদন্ত কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করার জন্য তারা মাদ্রাসার ফান্ড থেকে মোটা অংকের অর্থ খরচ করে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরী করে হিসেবে স্বচ্ছতা রাখার অপচেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ তুলেছে খোদ পরিচালনা পর্ষদ ও প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্যরা।
প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের আলহাজ্ব মুরাদ হোসেন জানান তার দাদা মাদ্রসা গড়ে তুলেছিলেন ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তার ঘাঁতে। কিন্তু অধ্যক্ষ ইউনুস হোসেন তার কয়েক অনুসারীকে নিয়ে লুটেপুটে খাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বার বার প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দারস্থ হওয়া সত্ত্বেও পরিবার ইউনুস হোসেন মাদ্রাসার অর্থ দিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করে চলেছে।
প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের অপর এক সদস্য এবং নকিপুর এইচসি সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন জানান, ইউনুস হোসেন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ব্যাপক জালিয়াতির আশ্রয় েিনেছন। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ছাত্র জোবায়েরকে মাদ্রসায় ভর্তি দেখিয়ে তার পিতা ও নিজ বন্ধু এবং সকল অপকর্মের সাথী আজিজুর রহমানকে পরিচালনা পর্ষদের অভিভাবক সদস্য বানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদারকি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করা সত্ত্বেও ইউনুস সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে ফেলেছেন বলে তিন বছর ধরে বিষযটি ঝুলে আছে।
মাদ্রসার সাবেক সভাপতি আব্দুর রউফের ভাষ্য তিনি তার পিতা ও মাতার নামে ছাত্রাবাস এবং কবরস্থান তৈরীর জন্য সাড়ে বিঘা জমি দিয়েছেন। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি তার কোন অস্থিত্ত্ব নেই। বাধ্য হয়ে তিনি দুই বছর আগে নিরুপণ দলিলের উল্লেখিত শর্ত পূরণ করতে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন অধ্যক্ষের নিকট। সেসময় মাদ্রাসার প্রবেশদ্বারে তার পিতা ও মাতার নাম লেখা হলেও আজ পর্যন্ত সেই ছাত্রাবাস ও কবরস্থান তৈীর করা হয়নি। বাধ্য হয়ে তিনি উক্ত জমির টাকার দেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।
আব্দুর রউফ আরও অভিযোগ করেন অধ্যক্ষ ইউনুস মাওলানার কারনে মাদ্রাসায় শিক্ষার পরিবেশ নেই বললেই চলে। দিন দিন ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। তার দুর্নীতি এবং অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রায়১০ মাস আগে একযোগে পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন পদ হতে তারা ছয়জন অব্যাহতি নিয়েছেন। তারপরও স্বেচ্ছাচারী মনোভাব নিয়ে মাদ্রাসার অনুকুলে আদায়কৃত অর্থের অবৈধ ব্যবহার করে ইউনুস মাওলানা দিবি একক ক্ষমতায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তিনি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকসহ উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস হোসেন জানান তিনি দায়িত্ব নেয়ার আগে অন্য অধ্যক্ষরা একইভাবে মাদ্রাসা পরিচালনা করেছেন। প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের কয়েকজন সদস্য পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলেও তিনি স্বীকার করেন। স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।