বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

প্লাস্টিকের দাপটে বিলীন হতে বসেছে পাটকেলঘাটার ঐতিহ্যবাহী মাদুরশিল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ
প্লাস্টিকের দাপটে বিলীন হতে বসেছে পাটকেলঘাটার ঐতিহ্যবাহী মাদুরশিল্প

এম এম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাণিজ্য কেন্দ্রের অর্থনীতিতে একসময় বড় ভূমিকা রাখত স্থানীয় মাদুরশিল্প। এই শিল্প থেকে মাদুর কেনাবেচা ও সরবরাহের মাধ্যমে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় হতো। ‘মেলে’ নামক বিশেষ ঘাস দিয়ে তৈরি এসব মাদুরের বেশ সুনাম ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তবে কাঁচামালের সংকট, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, প্লাস্টিক পণ্যের দাপট ও সরকারি সহায়তার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প।

একসময় পাটকেলঘাটা হাটের মাদুরশিল্পের খ্যাতি ছিল অনেক। তালা উপজেলার খলিষখালী বাজার, দলুয়া বাজার, গাছা বাজার, মাগুরা বাজার, গোয়ালপোতা বাজার ও খেসরা ইউনিয়নের বহু পরিবার মাদুর বুনে জীবিকা নির্বাহ করত। গৃহস্থদের আঙিনায় নারী-পুরুষ মিলে শুকাতেন মেলে ঘাস। নিজেদের জমিতে কিংবা বর্গা নিয়ে অনেকেই এ ঘাসের চাষ করতেন।

স্থানীয় কারিগরদের অভিযোগ, কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত মেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। আগে প্রতিদিন তিন থেকে চারটি মাদুর তৈরি করে প্রতিটি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করা যেত। বর্তমানে সেই মাদুর বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। খরচ বাদ দিলে খুব সামান্য টাকাই হাতে থাকে। ফলে বাধ্য হয়ে কারিগরেরা এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।
মাদরা গ্রামের তারাজান বিবি জানান, জমি থেকে মেলে এনে চিরে রোদে শুকানো হয়। এরপর তা প্রক্রিয়াজাত করে মাদুর তৈরির জন্য সংরক্ষণ করা হয়।

গাচা গ্রামের পরিতোষ সরকার, বাগডাঙা গ্রামের নারায়ণ ম-ল, মাগুরা ইউনিয়নের মাদ্রা গ্রামের শ্যামল সরকার ও কলাগাছি গ্রামের স্বপন সরকার জানান, আগে ঘরে ঘরে মাদুর তৈরির প্রচলন ছিল। অধিকাংশ মানুষ এ কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ব্যাংকিং ঋণের অপ্রতুলতা ও অনুকূল পরিবেশ না থাকায় এখন ব্যাংক থেকে ঋণ মিলছে না। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

পাটকেলঘাটা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শেখ জহুরুল হক জানান, দক্ষ মাদুরশিল্পীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাঁদের জন্য প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন। এতে দেশীয় এই হস্তশিল্প পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
একটি স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধি মনে করেন, সরকারি উদ্যোগে ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ে মাদুর মেলার আয়োজন করা উচিত। এটি হস্তশিল্প ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

এ বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, তিনি সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

Ads small one

সম্পাদকীয়: মাদুরশিল্প বাঁচাতে উদ্যোগ জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: মাদুরশিল্প বাঁচাতে উদ্যোগ জরুরি

সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী মাদুরশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। একসময় তালা উপজেলার বহু পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন ছিল মাদুর তৈরি। পাটকেলঘাটার মাদুরের সুনামও ছিল দেশের বিভিন্ন এলাকায়। কিন্তু কাঁচামালের সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, মাদুরের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং প্লাস্টিক পণ্যের দাপটে এ শিল্প এখন সংকটে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, মেলে ঘাসের দাম বেড়েছে, অথচ মাদুরের বিক্রিমূল্য সেই তুলনায় বাড়েনি। ফলে শ্রম ও উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কারিগরদের হাতে সামান্য অর্থ থাকছে। এ কারণে অনেকেই পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে ব্যাংকঋণের অপ্রতুলতা ও সরকারি সহায়তার অভাবও শিল্পটির সংকট বাড়াচ্ছে।
এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে হলে প্রথমে মাদুরশিল্পীদের সহজ শর্তে ঋণ, কাঁচামাল সংগ্রহে সহায়তা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি মাদুরের নকশা ও ব্যবহার বহুমুখী করে বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ে মাদুর মেলার আয়োজন এবং দেশীয় ও অনলাইন বাজারে বিপণনের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।
পাটকেলঘাটার মাদুরশিল্প শুধু একটি পেশা নয়, এটি স্থানীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ অর্থনীতির অংশ। তাই শিল্পটি পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার আগেই সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এতে ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি বহু প্রান্তিক পরিবারের কর্মসংস্থানও টিকে থাকবে।

 

কলারোয়ায় ৪৬টি ম-পে দুর্গাপূজা, ঝুঁকিপূর্ণ নয় কোনটিই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় ৪৬টি ম-পে দুর্গাপূজা, ঝুঁকিপূর্ণ নয় কোনটিই

কলারোয়া প্রতিনিধি: সামনেই শারদীয় দুর্গোৎসব। উৎসবকে ঘিরে কলারোয়া উপজেলার সব ম-পে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রঙ-তুলির শেষ মুহূর্তের ছোঁয়া। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রস্তুতিতে কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
বৃহস্পতিবার পৌরসভার তুলসীডাঙ্গা ঘোষপাড়া মাতৃমন্দির, উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া ও গোয়ালঘাটা পূজাম-প ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমার নির্মাণ ও রঙের কাজ প্রায় শেষ। ম-পে ম-পে প্রতিমা দেখার জন্য স্থানীয় হিন্দুধর্মাবলম্বী মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। উৎসব ঘিরে সর্বত্র সম্প্রীতিময় পরিবেশ বজায় রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কলারোয়ায় এবার ৪৬টি ম-পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে, যা গতবারের চেয়ে একটি বেশি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভায় জানানো হয়, উপজেলার সবকটি ম-প সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। কোনো ম-পকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

পৌরসভার আটটি ম-প হলোÑতুলসীডাঙ্গা ঘোষপাড়া সর্বজনীন, তুলসীডাঙ্গা গোয়ালঘাটা, উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া, মুরারিকাটি দক্ষিণ পাড়া, মুরারীকাটি দক্ষিণ হরিসভা, গোপীনাথপুর ঘোষপাড়া, গোপীনাথপুর দক্ষিণ পাড়া ও ঝিকরা হরিতলা সর্বজনীন পূজাম-প।
ইউনিয়ন পর্যায়ের ম-পগুলোর মধ্যে জয়নগরে আটটি, দেয়াড়ায় ছয়টি, কুশোডাঙ্গায় চারটি, জালালাবাদ, কেঁড়াগাছি ও হেলাতলায় তিনটি করে, কয়লা, লাঙ্গলঝাড়া, চন্দনপুর, কেরালকাতা ও যুগিখালিতে দুটি করে এবং সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নে একটি ম-পে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
সার্বিক পরিবেশ নিয়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট কলারোয়া উপজেলা শাখার সভাপতি প্রকাশ চন্দ্র হালদার ও সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দাস দেবু সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে এবং কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সবার সহযোগিতায় উৎসবমুখর পরিবেশে এবারও পূজা সম্পন্ন হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

তালায় দুর্গাপূজা ঘিরে নবাগত ওসির মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
তালায় দুর্গাপূজা ঘিরে নবাগত ওসির মতবিনিময় সভা

শাহিন আলম, খলিষখালী (পাটকেলঘাটা): শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তালার খলিষখালীতে বিভিন্ন পূজাম-পের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে পাটকেলঘাটা থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফাজ্জল হোসেনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় খলিষখালী রামকৃষ্ণ আশ্রমে এ সভা হয়।
খলিষখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাবীর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাটকেলঘাটা থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা শেখ নূর আহম্মেদ ও শেখ আব্দুল হান্নান, তালা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র মজুমদার, খলিষখালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. সায়েম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. জিহাদ হোসেন এবং জয়দেব বাবু। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন তালা উপজেলা যুবদলের নেতা মেহেদী হাসান।