বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষার দায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষার দায়

{"data":{"source_platform":"mobile_2","pictureId":"b9cfa949cee04c3998ddbdd6dbeff509","appversion":"8.5.0","stickerId":"","filterId":"7580249178828180737","infoStickerId":"","imageEffectId":"","playId":"","activityName":"","os":"android","product":"retouch","originAppId":"7356","exportType":"","editType":"","alias":"","enterFrom":"enter_launch","capability_key":["filter"],"capability_extra_v2":{"filter":[{"effect_id":"7580249178828180737","resource_id":"7580249178828180737","origin":"heycan"}]},"effect_type":"tool","effect_id":"filter#7580249178828180737"},"source_type":"hypic","tiktok_developers_3p_anchor_params":"{"client_key":"awgvo7gzpeas2ho6","template_id":"","filter_id":["7580249178828180737"],"capability_key":["filter"],"capability_extra_v2":{"filter":[{"effect_id":"7580249178828180737","resource_id":"7580249178828180737","origin":"heycan"}]}}"}

সাতক্ষীরা জেলায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে বুধবার দৈনিক পত্রদূত পত্রিকায় যে চিত্রটি সামনে এসেছে, তা এক কথায় হতাশাজনক। জেলায় ৬৭ হাজারের বেশি নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী মানুষ থাকলেও তাদের আইনি অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্লিপ্ততা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে, যেখানে বিপুল সংখ্যক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছে, সেখানে মাত্র ২ শতাংশের উপবৃত্তি পাওয়ার বিষয়টি উচ্চশিক্ষার পথকে শুরুতেই রুদ্ধ করে দিচ্ছে।
‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩’ একটি সংবিধিবদ্ধ আইন। এই আইনের ২৩ ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি উপজেলায় প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিতে প্রতি তিন মাসে অন্তত একটি সভা করা বাধ্যতামূলক। অথচ সাতক্ষীরায় উপজেলা সুরক্ষা কমিটিগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘কাজের চাপের’ অজুহাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যখন একটি সংবিধিবদ্ধ কমিটির সভা বছরের পর বছর হয় না, তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের তালিকায় এই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীটি কতটা উপেক্ষিত।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো শিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয়হীনতা। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আশিস বিশ্বাসের মতো শিক্ষার্থীরা যখন পরীক্ষা কেন্দ্রে আইনি অধিকারভুক্ত ‘অতিরিক্ত সময়’ পান না, তখন তা কেবল অব্যবস্থাপনা নয়, বরং মানবাধিকারের লঙ্ঘন হয়ে দাঁড়ায়। শ্রুতিলেখক বা অতিরিক্ত সময়ের নীতিমালার সুবিধা পেতে শিক্ষার্থীদের কেন দ্বারে দ্বারে অনুরোধ করতে হবে? কেন জেলা শিক্ষা অফিস বা পরিসংখ্যান অফিসে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সঠিক ডাটাবেজ থাকবে না? এই তথ্যহীনতা প্রমাণ করে যে, তাদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী কোনো পরিকল্পনা প্রশাসনের নেই।
সাফল্যের যে দু-একটি উদাহরণ আমরা দেখি, যেমন সিহাব সিদ্দিকীর মতো অদম্য তরুণদের সংগ্রামÑতা মূলত তাদের ব্যক্তিগত লড়াইয়ের ফল। রাষ্ট্র বা প্রশাসন এখানে সহায়ক হওয়ার চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছে। চাহিদার তুলনায় উপবৃত্তির বরাদ্দের স্বল্পতা আরেকটি বড় বাধা। ভাতা বা করুণা নয়, বরং সংবিধিবদ্ধ অধিকার হিসেবে উপবৃত্তির আওতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবীদের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত যৌক্তিকÑআইন অমান্য করা কোনো দাপ্তরিক ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে বৈধ করা যায় না। আমরা মনে করি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় সাতক্ষীরার উপজেলা সুরক্ষা কমিটিগুলোকে দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষা বিভাগ ও সমাজসেবা কার্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে প্রতিটি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর ডাটাবেজ তৈরি এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে তাদের আইনগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিবন্ধকতা যে মেধার পথে বাধা নয়, তা সিহাবরা বারবার প্রমাণ করছেন। এখন প্রয়োজন প্রশাসনের সদিচ্ছা। আইন আছে, নীতিমালাও আছে; এখন প্রয়োজন কেবল সেগুলোর কঠোর প্রয়োগ। রাষ্ট্রের সম্পদ ও সুযোগে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা কোনো দয়া নয়, বরং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।

 

 

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।