বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

‘১০ বছর বয়সেই প্রতিটি শিশুর কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা উচিত’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
‘১০ বছর বয়সেই প্রতিটি শিশুর কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা উচিত’

১০ বছর বয়সে কোলেস্টেরল পরীক্ষা করালে হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের শনাক্ত করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অশোক শেঠ। ফোর্টিস এসকর্টস হার্ট ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান শেঠ বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়া টুডে হেলথ ওয়েলথ সামিটে এ কথা বলেন।

বিমারিয়োঁ কা বাপ মোটাপা শীর্ষক অধিবেশনে তিনি শিশুদের কোলেস্টেরল স্ক্রিনিংয়ের সুপারিশ করেন। একই সঙ্গে হৃদস্বাস্থ্য মূল্যায়নে ইকোকার্ডিওগ্রামের ভূমিকার ওপরও জোর দেন। শেঠ বলেন, অনেক তরুণ আকস্মিকভাবে মারা যান, পরে দেখা যায় শৈশব থেকেই তাদের হৃদরোগ ছিল, যা শনাক্ত হয়নি। অধিবেশনে সহ-আলোচক ফোর্টিস সি-ডকের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও পরিচালক ডা. অনুপ মিশ্র এ বক্তব্যে সম্মতি জানান।

হৃদরোগ আর শুধু বয়স্কদের নয়

অশোক শেঠ সতর্ক করে বলেন, হৃদরোগ আর কেবল প্রবীণদের সমস্যা নয়। ভারতে তরুণদের হার্ট অ্যাটাক নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তিনি বলেন, দেশটিতে হার্ট অ্যাটাকের প্রায় ৫০ শতাংশ ঘটে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে।

আলোচনায় গত ১৫ বছরে হৃদরোগ প্রায় ২০০ শতাংশ বাড়ার কথাও উঠে আসে। জনগোষ্ঠী ও পরিমাপ পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে বৃদ্ধির সঠিক হার ভিন্ন হতে পারে। তবে এ ধরনের পরিসংখ্যান জীবনযাত্রার পরিবর্তন, স্থূলতা ও অন্যান্য হৃদরোগ ঝুঁকির কারণ খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

হৃদরোগ কয়েক বছর ধরে গড়ে উঠতে পারে, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায়ই কোনও স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। তাই গুরুতর জটিলতা তৈরির আগেই উচ্চ রক্তচাপ, অস্বাভাবিক কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য ঝুঁকির কারণ শনাক্ত করা জরুরি।

লুকানো চর্বিতে ঝুঁকি বাড়ে

অনুপ মিশ্র বলেন, বাড়তি চর্বি শুধু সৌন্দর্যের সমস্যা নয়। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ অঙ্গের চারপাশে চর্বি জমলে তা বিপাকজনিত সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং বেশ কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তিনি অদৃশ্য চর্বির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, যা কারও চেহারা বা মোট ওজন দেখে বোঝা নাও যেতে পারে। অভ্যন্তরীণ অঙ্গের চারপাশের ভিসেরাল ফ্যাটের সঙ্গে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং বিপাকজনিত রোগের উচ্চ ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। ক্লিনিক্যাল মূল্যায়নে এমন ঝুঁকি শনাক্ত করা যায়, যা কাউকে দেখে বোঝা না-ও যেতে পারে।

ঝুঁকি শনাক্তে আগেভাগে স্ক্রিনিংয়ে

শিশু ও তরুণদের হৃদরোগ শনাক্তের গুরুত্ব আলোচনায় উঠে আসে। আকস্মিকভাবে হৃদরোগজনিত কারণে মারা যাওয়া কিছু তরুণের ক্ষেত্রে পরে এমন হৃদরোগ ধরা পড়ে, যা আগে শনাক্ত হয়নি।

পারিবারিক ইতিহাস, অকারণে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, ব্যায়ামের সময় বুকে ব্যথা এবং নিকটাত্মীয়দের আকস্মিক হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হতে পারে, যেগুলোর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।

চিকিৎসকেরা কিছু হৃদ্ঝুঁকি মূল্যায়নের উপায় হিসেবে কোলেস্টেরল পরীক্ষা ও ইকোকার্ডিওগ্রাফির কথা বলেন। তবে প্রতিটি শিশুর জন্য এসব পরীক্ষা আবশ্যক নয়। কোলেস্টেরল স্ক্রিনিং নির্ভর করে বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও অন্যান্য ঝুঁকির কারণের ওপর। আর উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষার ফল বা পারিবারিক ইতিহাসে হৃদ্‌রোগের সম্ভাবনার ইঙ্গিত থাকলে সাধারণত ইকোকার্ডিওগ্রাম করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

আগেভাগে মূল্যায়ন করলে বংশগত কোলেস্টেরলজনিত সমস্যা ও হৃদযন্ত্রের কাঠামোগত সমস্যা শনাক্ত করা যায়। এতে চিকিৎসকেরা উপযুক্ত পর্যবেক্ষণ বা চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।

 

শুধু ওজন প্রশিক্ষণ হৃদস্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট নয়

চিকিৎসকেরা জোর দিয়ে বলেন, ব্যায়ামের রুটিন শুধু পেশি গড়ার দিকে মনোযোগ না দিয়ে সামগ্রিক হৃদ্স্বাস্থ্যের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে হওয়া উচিত। ওজন প্রশিক্ষণ শক্তি বাড়াতে ও পেশি ধরে রাখতে সাহায্য করে, তবে আদর্শভাবে তা অ্যারোবিক কার্যকলাপের সঙ্গে মিলিয়ে করতে হবে।

দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটাসহ হৃদ্স্পন্দন বাড়ায় এমন কাজ হৃদ্স্বাস্থ্যের সক্ষমতা বাড়াতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার অ্যারোবিক কার্যকলাপের পাশাপাশি সপ্তাহে দুই বা তার বেশি দিন পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়ামের পরামর্শ দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যকর সকালের নাশতায় প্রোটিন, আঁশ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকতে পারে। ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী পূর্ণ শস্য, ডাল, ফল, বাদাম ও দুগ্ধজাত খাবার এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

অধিবেশনের মূল বার্তা ছিল, স্থূলতাজনিত জটিলতা ঠেকাতে শুধু ওজন কমানোই যথেষ্ট নয়। লুকানো চর্বি শনাক্ত, পেশি গঠন, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং প্রাসঙ্গিক ঝুঁকির কারণ নির্ণয়ে স্ক্রিনিং এসবের মাধ্যমে মানুষ দীর্ঘমেয়াদে নিজের হৃদ্‌স্বাস্থ্য রক্ষা করতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি

Ads small one

মোংলা বন্দর হবে নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
মোংলা বন্দর হবে নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী

পত্রদূত ডেস্ক: মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ করা হলে এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, মোংলা বন্দরকে ঘিরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে মোংলায় ‘মোংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ জোরদার এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পঞ্চগড় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ, পণ্য পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা উন্নয়নে সরকার উদ্যোগ নিতে চায়। খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম চালু করাও সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং দেশীয় পণ্য রপ্তানিতে মোংলা বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, ইয়ার্ড ও পণ্য ওঠানামার সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের সাফল্য শুধু নির্মাণকাজ শেষ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বন্দরসেবার মান বৃদ্ধি, পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় হ্রাস, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশ সুরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছে মোংলা বন্দরকে আকর্ষণীয় করে তুলতে বন্দরের নাব্যতা, নৌপথের নির্ভরযোগ্যতা ও জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মোংলা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার এ অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া শিল্পঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন দেশের শিল্প-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি থেকে কনটেইনারবাহী ট্রেন সরাসরি মোংলা বন্দরে চলাচল করতে পারবে। এতে বন্দরের পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়বে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।

অনুষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান দাই হেগেন বক্তব্য দেন। এ সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডুমুরিয়ায় চায়ের দোকানে গুলি করে যুবককে হত্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
ডুমুরিয়ায় চায়ের দোকানে গুলি করে যুবককে হত্যা

Oplus_16908288

পত্রদূত ডেস্ক: খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আমভিটা-রামকৃষ্ণপুর জোড়া বটতলা এলাকায় একটি চায়ের দোকানে গুলি করে তরিকুল ইসলাম শেখ (৩৫) নামে এক যুবককে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের দিকে গফফারের চায়ের দোকানের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তরিকুল ইসলাম শেখ ১২ নম্বর রংপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম শেখের ছেলে।

তবে কী কারণে এবং কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা: যুবদল নেতা ভদুর তিন দিনের রিমান্ড 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা: যুবদল নেতা ভদুর তিন দিনের রিমান্ড 

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের বড় শান্তা গ্রামের শামছুর রহমান সানার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীমকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় আদালতে আত্মসমর্পণকারী যুবদল নেতা সাদিকুল ইসলাম ভদুর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিনের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার আমলি তৃতীয় আদালতের বিচারক নুসরাত জাহান এ আদেশ দেন।

সাদিকুল ইসলাম ভদু দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া শেখপাড়ার শওকত আলীর ছেলে। তিনি পারুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আল আমিন জানান, ওয়াহেদুজ্জামানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ২ নম্বর আসামি সাদিকুল ইসলাম ভদু গত ২৮ অক্টোবর আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১ নভেম্বর আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর তাঁকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আগামী ৮ নভেম্বর দুপুর ১২টার মধ্যে তাঁকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আসাদুজ্জামান দিলু। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপপরিদর্শক (সিএসআই) বিশ্বনাথ রায় ও আইনজীবী আবু সাঈদ।

বৃহস্পতিবার আদালত চত্বরে সাদিকুল ইসলাম ভদু সাংবাদিকদের জানান, তিনি মিছিলকারীদের সঙ্গে থাকলেও শামীমকে মারধর করেননি। তিনি যুবদলের নেতা বলেও নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী আবুল কাশেমের মেয়ে মোসলেমা, ছেলে হোসেন আলী ও একই এলাকার মাসুদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা কল রেকর্ডের সূত্র ধরে ওয়াহেদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় স্থানীয় জামায়াত কার্যালয়ের সামনে থেকে একদল লোক তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। পরদিন ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুলিয়ার ডা. এমএ সবুরের ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর ওপর হামলা করা হয়। একই দিন পারুলিয়া থেকে মিছিল নিয়ে একদল লোক সখীপুর হাসপাতালের পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পুলিশ, আনসার ও কর্তব্যরত চিকিৎসকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন ওয়াহেদুজ্জামানের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল জলিল বাদী হয়ে ১৫ অক্টোবর ফজলুল হক আমিনী, যুবদল নেতা সাদিকুল ইসলাম ভদু, মোক্তার খান ও আসাদুল মোল্লাসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনকে আসামি করে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় ১৫ অক্টোবর রাতে মোক্তার খান, ১৬ অক্টোবর সকালে আসাদুল মোল্লা এবং ১৭ অক্টোবর ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তার হন।