বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

‘১০ বছর বয়সেই প্রতিটি শিশুর কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা উচিত’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
‘১০ বছর বয়সেই প্রতিটি শিশুর কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা উচিত’

১০ বছর বয়সে কোলেস্টেরল পরীক্ষা করালে হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের শনাক্ত করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অশোক শেঠ। ফোর্টিস এসকর্টস হার্ট ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান শেঠ বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়া টুডে হেলথ ওয়েলথ সামিটে এ কথা বলেন।

বিমারিয়োঁ কা বাপ মোটাপা শীর্ষক অধিবেশনে তিনি শিশুদের কোলেস্টেরল স্ক্রিনিংয়ের সুপারিশ করেন। একই সঙ্গে হৃদস্বাস্থ্য মূল্যায়নে ইকোকার্ডিওগ্রামের ভূমিকার ওপরও জোর দেন। শেঠ বলেন, অনেক তরুণ আকস্মিকভাবে মারা যান, পরে দেখা যায় শৈশব থেকেই তাদের হৃদরোগ ছিল, যা শনাক্ত হয়নি। অধিবেশনে সহ-আলোচক ফোর্টিস সি-ডকের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও পরিচালক ডা. অনুপ মিশ্র এ বক্তব্যে সম্মতি জানান।

হৃদরোগ আর শুধু বয়স্কদের নয়

অশোক শেঠ সতর্ক করে বলেন, হৃদরোগ আর কেবল প্রবীণদের সমস্যা নয়। ভারতে তরুণদের হার্ট অ্যাটাক নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তিনি বলেন, দেশটিতে হার্ট অ্যাটাকের প্রায় ৫০ শতাংশ ঘটে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে।

আলোচনায় গত ১৫ বছরে হৃদরোগ প্রায় ২০০ শতাংশ বাড়ার কথাও উঠে আসে। জনগোষ্ঠী ও পরিমাপ পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে বৃদ্ধির সঠিক হার ভিন্ন হতে পারে। তবে এ ধরনের পরিসংখ্যান জীবনযাত্রার পরিবর্তন, স্থূলতা ও অন্যান্য হৃদরোগ ঝুঁকির কারণ খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

হৃদরোগ কয়েক বছর ধরে গড়ে উঠতে পারে, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায়ই কোনও স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। তাই গুরুতর জটিলতা তৈরির আগেই উচ্চ রক্তচাপ, অস্বাভাবিক কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য ঝুঁকির কারণ শনাক্ত করা জরুরি।

লুকানো চর্বিতে ঝুঁকি বাড়ে

অনুপ মিশ্র বলেন, বাড়তি চর্বি শুধু সৌন্দর্যের সমস্যা নয়। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ অঙ্গের চারপাশে চর্বি জমলে তা বিপাকজনিত সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং বেশ কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তিনি অদৃশ্য চর্বির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, যা কারও চেহারা বা মোট ওজন দেখে বোঝা নাও যেতে পারে। অভ্যন্তরীণ অঙ্গের চারপাশের ভিসেরাল ফ্যাটের সঙ্গে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং বিপাকজনিত রোগের উচ্চ ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। ক্লিনিক্যাল মূল্যায়নে এমন ঝুঁকি শনাক্ত করা যায়, যা কাউকে দেখে বোঝা না-ও যেতে পারে।

ঝুঁকি শনাক্তে আগেভাগে স্ক্রিনিংয়ে

শিশু ও তরুণদের হৃদরোগ শনাক্তের গুরুত্ব আলোচনায় উঠে আসে। আকস্মিকভাবে হৃদরোগজনিত কারণে মারা যাওয়া কিছু তরুণের ক্ষেত্রে পরে এমন হৃদরোগ ধরা পড়ে, যা আগে শনাক্ত হয়নি।

পারিবারিক ইতিহাস, অকারণে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, ব্যায়ামের সময় বুকে ব্যথা এবং নিকটাত্মীয়দের আকস্মিক হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হতে পারে, যেগুলোর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।

চিকিৎসকেরা কিছু হৃদ্ঝুঁকি মূল্যায়নের উপায় হিসেবে কোলেস্টেরল পরীক্ষা ও ইকোকার্ডিওগ্রাফির কথা বলেন। তবে প্রতিটি শিশুর জন্য এসব পরীক্ষা আবশ্যক নয়। কোলেস্টেরল স্ক্রিনিং নির্ভর করে বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও অন্যান্য ঝুঁকির কারণের ওপর। আর উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষার ফল বা পারিবারিক ইতিহাসে হৃদ্‌রোগের সম্ভাবনার ইঙ্গিত থাকলে সাধারণত ইকোকার্ডিওগ্রাম করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

আগেভাগে মূল্যায়ন করলে বংশগত কোলেস্টেরলজনিত সমস্যা ও হৃদযন্ত্রের কাঠামোগত সমস্যা শনাক্ত করা যায়। এতে চিকিৎসকেরা উপযুক্ত পর্যবেক্ষণ বা চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।

 

শুধু ওজন প্রশিক্ষণ হৃদস্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট নয়

চিকিৎসকেরা জোর দিয়ে বলেন, ব্যায়ামের রুটিন শুধু পেশি গড়ার দিকে মনোযোগ না দিয়ে সামগ্রিক হৃদ্স্বাস্থ্যের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে হওয়া উচিত। ওজন প্রশিক্ষণ শক্তি বাড়াতে ও পেশি ধরে রাখতে সাহায্য করে, তবে আদর্শভাবে তা অ্যারোবিক কার্যকলাপের সঙ্গে মিলিয়ে করতে হবে।

দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটাসহ হৃদ্স্পন্দন বাড়ায় এমন কাজ হৃদ্স্বাস্থ্যের সক্ষমতা বাড়াতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার অ্যারোবিক কার্যকলাপের পাশাপাশি সপ্তাহে দুই বা তার বেশি দিন পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়ামের পরামর্শ দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যকর সকালের নাশতায় প্রোটিন, আঁশ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকতে পারে। ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী পূর্ণ শস্য, ডাল, ফল, বাদাম ও দুগ্ধজাত খাবার এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

অধিবেশনের মূল বার্তা ছিল, স্থূলতাজনিত জটিলতা ঠেকাতে শুধু ওজন কমানোই যথেষ্ট নয়। লুকানো চর্বি শনাক্ত, পেশি গঠন, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং প্রাসঙ্গিক ঝুঁকির কারণ নির্ণয়ে স্ক্রিনিং এসবের মাধ্যমে মানুষ দীর্ঘমেয়াদে নিজের হৃদ্‌স্বাস্থ্য রক্ষা করতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি

Ads small one

ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি, কনটেন্ট ক্রিয়েটর মামুন গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি, কনটেন্ট ক্রিয়েটর মামুন গ্রেপ্তার

পত্রদূত ডেস্ক: স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সাতক্ষীরার আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে দেবহাটা উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মামুন চণ্ডীপুর প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক করিম উল্লাহ মাস্টারের ছেলে। মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ভিডিও ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, টাকা দাবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ১ নভেম্বর দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বর্তমানে সাতক্ষীরার বাসিন্দা সাহেব আলী বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি করেন। এতে সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে প্রধান আসামি, আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দ্বিতীয় এবং বাদীর দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে মৌসুমীকে তৃতীয় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কারণে প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগে সাহেব আলী তার স্ত্রীকে তালাক দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারী তাদের দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তরা সেসব ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে বাদীকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান।

এজাহারে বলা হয়, গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ভিডিও পাঠিয়ে বাদীকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে ২০ অক্টোবর আবার যোগাযোগ করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া ২৯ অক্টোবর ‘সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল’ নামের একটি ফেসবুক আইডি এবং ১ নভেম্বর মামুনের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে বাদীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার পক্ষে ভিডিও, স্ক্রিনশট ও অডিও রেকর্ডিং সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেছেন বাদী।

সাহেব আলী অভিযোগ করেন, প্রথমে পাঁচ লাখ, পরে তিন লাখ এবং একপর্যায়ে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে ৫০ হাজার টাকায় সমঝোতা হলেও টাকা দেওয়ার পর ব্ল্যাকমেল অব্যাহত থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও প্রচার করা হলে তিনি আইনের আশ্রয় নেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির বলেন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

সুন্দরবন, নদী ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা, পরিবেশ রক্ষায় বাড়ছে উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সুন্দরবন, নদী ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা, পরিবেশ রক্ষায় বাড়ছে উদ্বেগ

মোঃ দেলোয়ার হোসেন

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, বিস্তীর্ণ বনভূমি, নদ-নদী, খাল-বিল, জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এ জেলার শ্যামনগর উপজেলায় অবস্থিত। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, নদী-খাল দখল, অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ ও বৃক্ষনিধনের কারণে জেলার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে।

সাতক্ষীরার সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক সম্পদ সুন্দরবন। শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ, বুড়িগোয়ালিনী, গাবুরা ও পদ্মপুকুরসহ উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা এ বনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বন্য শূকর, বানর, কুমির, উদবিড়ালসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রয়েছে। সুন্দরী, গেওয়া, গরান, কেওড়া ও পশুরসহ বিভিন্ন ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ এ বনের বৈশিষ্ট্য তৈরি করেছে।

সুন্দরবন শুধু বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নয়, এটি উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবর্ম। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও প্রবল বাতাসের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি মাছ, কাঁকড়া, মধু ও বনজ সম্পদ আহরণের মাধ্যমে বহু মানুষের জীবিকার উৎস হিসেবে কাজ করছে।

জেলার প্রকৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে ইছামতী, কপোতাক্ষ, বেতনা, মরিচ্চাপ ও খোলপেটুয়াসহ বিভিন্ন নদ-নদী ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একসময় এসব নদীতে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য ছিল। নদীর পানি কৃষিকাজ, নৌযান চলাচল ও মৎস্য আহরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। কিন্তু বর্তমানে পলি জমে নদীর নাব্যতা হ্রাস, অবৈধ দখল, অপরিকল্পিত বাঁধ ও দূষণের কারণে অনেক নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সাতক্ষীরার ইছামতী, কপোতাক্ষ ও বেতনা নদীর ৩০২ জন অবৈধ দখলদার শনাক্তের তথ্য উঠে এসেছে। নদীর জায়গা দখল করে ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।

সাতক্ষীরা শহরের প্রাণসায়ের খালও দীর্ঘদিন ধরে দখল ও দূষণের শিকার। বেতনা ও মরিচ্চাপ নদীর সঙ্গে সংযুক্ত এ খাল শহরের পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় শহরের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিও জটিল হয়ে উঠছে।

উপকূলীয় সাতক্ষীরার অন্যতম বড় পরিবেশগত সংকট লবণাক্ততা। শ্যামনগর, আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও দেবহাটার বিভিন্ন এলাকায় মাটি ও পানির লবণাক্ততা কৃষি উৎপাদন এবং সুপেয় পানির প্রাপ্যতাকে প্রভাবিত করছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কৃষি বিভাগের তথ্যের বরাতে বলা হয়, সাতক্ষীরার প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার হেক্টর জমি বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততায় আক্রান্ত। এর মধ্যে চিংড়ি চাষের জমিও রয়েছে।

লবণাক্ততার কারণে অনেক এলাকায় ধান, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে মিঠাপানির পুকুর ও জলাশয়ের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে দেশীয় মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জেলার আরেকটি বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। অতিবৃষ্টি, নদীর নাব্যতা সংকট, খাল ভরাট, অপরিকল্পিত মাছের ঘের এবং পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

২০২৬ সালের জুলাইয়ে টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা পৌরসভা ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ২০ জুলাই সকাল পর্যন্ত জেলায় ৪৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। ওই সময় প্রায় ৬ হাজার হেক্টর আউশ ধান ও সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ার তথ্য জানায় কৃষি বিভাগ।

অন্যদিকে আশাশুনি ও শ্যামনগরের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন এবং বেড়িবাঁধের ঝুঁকি উপকূলীয় জনপদের মানুষের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাঁধ ভেঙে লবণাক্ত পানি লোকালয়ে প্রবেশ করলে বসতবাড়ি, কৃষিজমি, পুকুর ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সুন্দরবনের বাইরেও সাতক্ষীরার গ্রামীণ এলাকায় রয়েছে নানা প্রজাতির পাখি, সরীসৃপ, উভচর প্রাণী ও দেশীয় জলজ প্রাণী। পুকুর, বিল, খাল, ধানক্ষেত ও গাছপালা এসব প্রাণীর আবাসস্থল। কিন্তু জলাশয় ভরাট, নির্বিচারে গাছ কাটা, কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার ও প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। এতে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

উপকূলীয় জেলা হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও সাতক্ষীরায় বিশেষভাবে অনুভূত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত বাসসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাতক্ষীরার প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। বিশেষ করে কৃষক, জেলে, দিনমজুর ও উপকূলীয় এলাকার নারীরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে জেলার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। সুন্দরবনের বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ইছামতী, কপোতাক্ষ, বেতনা, মরিচ্চাপ ও খোলপেটুয়াসহ সব নদ-নদী ও খাল দখলমুক্ত করতে হবে। প্রাণসায়ের খালসহ শহর ও গ্রামের জলাশয় দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে।

একই সঙ্গে অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ নিয়ন্ত্রণ, কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎস সংরক্ষণ, দেশীয় মাছের প্রজননক্ষেত্র রক্ষা, পরিকল্পিত বনায়ন এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা এবং লবণসহিষ্ণু কৃষির প্রসারও প্রয়োজন।

সাতক্ষীরার প্রকৃতি শুধু সৌন্দর্যের আধার নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জেলার মানুষের খাদ্য, অর্থনীতি, জীবিকা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা। সুন্দরবন, নদ-নদী, খাল-বিল, কৃষিজমি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে পুরো জনপদের পরিবেশ ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ জন্য প্রশাসন, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি ও মৎস্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উন্নয়নের নামে প্রকৃতির ক্ষতি না করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কারণ, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা গেলে নিরাপদ থাকবে সাতক্ষীরার পরিবেশ, সুরক্ষিত হবে মানুষের জীবন-জীবিকা।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল ডেমোক্র্যাটরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল ডেমোক্র্যাটরা

আন্তজার্তিক ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। ১০০ আসনের সিনেটে প্রয়োজনীয় ৫১টি আসন নিশ্চিত করে দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি পেয়েছে ৩৯টি আসন। বাকি আসনগুলোর ফলাফল এখনো ঘোষণা হয়নি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার নির্বাচনি ফলাফল পর্যবেক্ষণকারী লাইভ ট্র্যাকার থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সিনেটের পাশাপাশি নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদেও এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ৪৩৫ আসনের এই কক্ষে দলটি ১৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে এবং আরও ৯৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা জয় পেয়েছে ১০৫টি আসনে এবং এগিয়ে রয়েছে ৫৮টিতে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ২১৮টি আসন। ফলে দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি, মূল্যস্ফীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে জনঅসন্তোষ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোয় ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন, গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ ও নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি মেয়াদে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়বে। ফলে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিরোধী দল আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবে।