মাথিনের কূপের নায়ক ধীরাজ ভট্টাচার্যের জন্মদিন আজ
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: উপমহাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রাভিনেতা ও সাহিত্যিক ধীরাজ ভট্টাচার্যের জন্মদিন ৫ নভেম্বর। ১৯০৫ সালের এই দিনে যশোরের কেশবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পাঁজিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। কালজয়ী প্রেমকাহিনি ‘মাথিনের কূপ’-এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর নাম। জন্মদিন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে শুভসংঘ।
ধীরাজ ভট্টাচার্যের বাবা ললিতমোহন ভট্টাচার্য ও মা লীলাবতী। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান। ১৯২৩ সালে মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরে আশুতোষ কলেজে আইএসসিতে ভর্তি হন। তবে অভিনয়, গান, বাজনা ও নাটকের প্রতি প্রবল আগ্রহ তাঁকে ভিন্ন পথে নিয়ে যায়। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি পুলিশ বিভাগে যোগ দেন।
১৯২৩-২৪ সালের দিকে কলকাতা থেকে বদলি হয়ে চট্টগ্রাম এবং পরে টেকনাফ থানায় দায়িত্ব পালন করেন ধীরাজ। সেখানেই স্থানীয় রাখাইন জমিদার ওয়াংথিনের মেয়ে মাথিনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রতিদিন টেকনাফ থানার কূপে পানি আনতে আসতেন মাথিন। থানার বারান্দায় বসে থাকা ধীরাজের সঙ্গে চোখাচোখি থেকেই তাঁদের পরিচয়, পরে তা গভীর প্রেমে রূপ নেয়।
কিন্তু পারিবারিক কারণে বাবার চিঠি পেয়ে মাথিনকে না জানিয়েই কলকাতায় ফিরে যান ধীরাজ। তাঁর ফিরে না আসার আশঙ্কায় মাথিন খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেন। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, তিনি কূপের পাশে অনশন শুরু করেন এবং একপর্যায়ে মৃত্যুবরণ করেন। এভাবেই ধীরাজ-মাথিনের অসমাপ্ত প্রেমের করুণ কাহিনি ইতিহাস ও লোকমুখে জায়গা করে নেয়। টেকনাফ থানার সেই কূপ আজও তাঁদের প্রেমের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে পরিচিত।
কলকাতায় ফিরে ধীরাজ আবার অভিনয়জগতে যুক্ত হন। নায়ক থেকে খলনায়ক—বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের হৃদয়ে স্থান করে নেন। দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘কালপরিণয়’, ‘নৌকাডুবি’, ‘যমুনা পুলিন’, ‘চাঁদ সওদাগর’, ‘দক্ষযজ্ঞ’, ‘সোনার সংসার’, ‘পাষাণ দেবতা’ ও ‘অভয়ের বিয়ে’।
অভিনয়ের পাশাপাশি সাহিত্যিক হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন ধীরাজ ভট্টাচার্য। তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘যখন পুলিশ ছিলাম’ ও ‘যখন নায়ক ছিলাম’ পাঠকমহলে সমাদৃত। তিনি মোট পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন। ১৯৫৯ সালের ৪ মার্চ এই গুণী অভিনেতা ও সাহিত্যিক মৃত্যুবরণ করেন।
ধীরাজ ভট্টাচার্যের জীবন ও কর্ম আজও চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সাহিত্যপাঠকদের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। তাঁর জন্মস্থান পাঁজিয়া এবং টেকনাফের মাথিনের কূপ তাঁর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।












