বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

মাথিনের কূপের নায়ক ধীরাজ ভট্টাচার্যের জন্মদিন আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
মাথিনের কূপের নায়ক ধীরাজ ভট্টাচার্যের জন্মদিন আজ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: উপমহাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রাভিনেতা ও সাহিত্যিক ধীরাজ ভট্টাচার্যের জন্মদিন ৫ নভেম্বর। ১৯০৫ সালের এই দিনে যশোরের কেশবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পাঁজিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। কালজয়ী প্রেমকাহিনি ‘মাথিনের কূপ’-এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর নাম। জন্মদিন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে শুভসংঘ।

ধীরাজ ভট্টাচার্যের বাবা ললিতমোহন ভট্টাচার্য ও মা লীলাবতী। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান। ১৯২৩ সালে মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরে আশুতোষ কলেজে আইএসসিতে ভর্তি হন। তবে অভিনয়, গান, বাজনা ও নাটকের প্রতি প্রবল আগ্রহ তাঁকে ভিন্ন পথে নিয়ে যায়। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি পুলিশ বিভাগে যোগ দেন।

১৯২৩-২৪ সালের দিকে কলকাতা থেকে বদলি হয়ে চট্টগ্রাম এবং পরে টেকনাফ থানায় দায়িত্ব পালন করেন ধীরাজ। সেখানেই স্থানীয় রাখাইন জমিদার ওয়াংথিনের মেয়ে মাথিনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রতিদিন টেকনাফ থানার কূপে পানি আনতে আসতেন মাথিন। থানার বারান্দায় বসে থাকা ধীরাজের সঙ্গে চোখাচোখি থেকেই তাঁদের পরিচয়, পরে তা গভীর প্রেমে রূপ নেয়।

কিন্তু পারিবারিক কারণে বাবার চিঠি পেয়ে মাথিনকে না জানিয়েই কলকাতায় ফিরে যান ধীরাজ। তাঁর ফিরে না আসার আশঙ্কায় মাথিন খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেন। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, তিনি কূপের পাশে অনশন শুরু করেন এবং একপর্যায়ে মৃত্যুবরণ করেন। এভাবেই ধীরাজ-মাথিনের অসমাপ্ত প্রেমের করুণ কাহিনি ইতিহাস ও লোকমুখে জায়গা করে নেয়। টেকনাফ থানার সেই কূপ আজও তাঁদের প্রেমের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে পরিচিত।

কলকাতায় ফিরে ধীরাজ আবার অভিনয়জগতে যুক্ত হন। নায়ক থেকে খলনায়ক—বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের হৃদয়ে স্থান করে নেন। দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘কালপরিণয়’, ‘নৌকাডুবি’, ‘যমুনা পুলিন’, ‘চাঁদ সওদাগর’, ‘দক্ষযজ্ঞ’, ‘সোনার সংসার’, ‘পাষাণ দেবতা’ ও ‘অভয়ের বিয়ে’।

অভিনয়ের পাশাপাশি সাহিত্যিক হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন ধীরাজ ভট্টাচার্য। তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘যখন পুলিশ ছিলাম’ ও ‘যখন নায়ক ছিলাম’ পাঠকমহলে সমাদৃত। তিনি মোট পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন। ১৯৫৯ সালের ৪ মার্চ এই গুণী অভিনেতা ও সাহিত্যিক মৃত্যুবরণ করেন।

ধীরাজ ভট্টাচার্যের জীবন ও কর্ম আজও চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সাহিত্যপাঠকদের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। তাঁর জন্মস্থান পাঁজিয়া এবং টেকনাফের মাথিনের কূপ তাঁর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

Ads small one

সুযোগসন্ধানী নয়, সাংবাদিকের দায়বদ্ধতা জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
সুযোগসন্ধানী নয়, সাংবাদিকের দায়বদ্ধতা জরুরি

প্রকাশ ঘোষ বিধান

সুযোগসন্ধানী মনোভাব পরিহার করে দায়িত্বশীল ও নৈতিক সাংবাদিকতা চর্চা সমাজ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হলুদ সাংবাদিকতা ও ক্লিকবেইট সংস্কৃতির ভিড়ে কোনো সাংবাদিক যখন তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ হাসিলে বেশি মনোযোগী হন, তখন সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত গণমাধ্যমের মূল ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রাখা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য।

সাংবাদিকতা সমাজের দর্পণ এবং রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এর মূল লক্ষ্য সত্য প্রকাশ ও ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা। কিন্তু কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যম যখন জনস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়, তখন সমাজ ভুল বার্তা পায় এবং গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যায়।

সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা, নির্ভরযোগ্যতা ও উৎস যাচাই করা সাংবাদিকের অন্যতম প্রধান নৈতিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও শাসকগোষ্ঠীর অনিয়ম-দুর্নীতি সাহসের সঙ্গে তুলে ধরাও সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সংবাদ পরিবেশনের মূল ভিত্তি সত্য। তাই সুযোগসন্ধানী মনোভাব পরিহার করে সঠিক তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতে হবে।

উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ সমাজের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। ব্যক্তিস্বার্থে গুজব ছড়ানো কিংবা কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে। হলুদ সাংবাদিকতা বর্জন করে রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণকে ব্যক্তিস্বার্থ ও বাণিজ্যিক লাভের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে।

সাংবাদিকতার প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব সত্যের পক্ষে থাকা। কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের যথার্থতা যাচাই করতে হবে। ব্যক্তিগত মতামত, প্ররোচনা ও পক্ষপাত থেকে দূরে থেকে নিরপেক্ষভাবে ঘটনা তুলে ধরতে হবে। কারণ সাংবাদিকতার মূল আনুগত্য সাধারণ মানুষ বা নাগরিকদের প্রতি।

অসত্য ও উসকানিমূলক সংবাদ সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, এমনকি কারও জীবনও বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। তাই সংবাদের গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে ভুয়া খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে। এ কারণে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের আরও সতর্ক হতে হবে।

সাংবাদিকতা ব্যক্তিগত বা দলীয় লাভের মাধ্যম নয়। এর মূল লক্ষ্য জনস্বার্থ রক্ষা এবং সরকার ও সমাজের অনিয়ম-দুর্নীতি জনগণের সামনে তুলে ধরা। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সাংবাদিকদের এই দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান জরুরি।

সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার। সুযোগসন্ধানী মানসিকতা সাময়িক সুবিধা এনে দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে তা সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করে। গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ অটুট রাখতে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠতা, সততা ও পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

একটি সুস্থ, সচেতন ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই। দায়বদ্ধতাহীন সাংবাদিকতা সমাজে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। তাই ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সত্যনিষ্ঠ ও জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতা চর্চাই হোক প্রতিটি সাংবাদিকের অঙ্গীকার।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

পাইকগাছা পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
পাইকগাছা পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা পৌরসভাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে পৌরসভায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দাতা সংস্থা ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নবলোক পরিষদের সহযোগিতায় আয়োজিত সচেতনতামূলক র‍্যালিটি টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে নবপল্লীসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালি শেষে পাইকগাছা সরকারি কলেজের পশ্চিম পাশে এবং শহীদ গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে পৌরসভার নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য এলাকাবাসীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ক্যাম্পেইন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও সাবেক প্যানেল মেয়র এস এম ইমদাদুল হক, পৌরসভা জামায়াতের আমির ডা. জি এম আসাদুল হক, সেক্রেটারি মিজানুর রহমান, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা লালু সরদার, ওয়াটারএইড বাংলাদেশের প্রতিনিধি সুমন সাহা ও নিপু খানম, প্রধান শিক্ষক দেবাশীষ সরদার, সেলিনা পারভীন, অ্যাডভোকেট মোর্তজা জামান আলমগীর রুলু, তুষার কান্তি মণ্ডল, সেলিম রেজা লাকি, ইলিয়াস হোসেন, এম আব্দুস সামাদ, মুহাম্মদ শফিয়ার রহমান, আলহাজ মুরশাফুল আলম, মাওলানা আব্দুল কাদীর, গাজী আব্দুস সামাদ, শফিকুল ইসলাম, নবলোক পরিষদের ওমর ফারুক জুয়েল, বিএম নাহিদ হাসান, কাজী ফারহানা আফরোজ ও মুক্তা বিশ্বাস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পৌরসভার প্রধান সহকারী জিয়াউর রহমান।

বক্তারা বলেন, পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। তাই পৌরসভাকে পরিচ্ছন্ন রাখা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। তাঁরা আরও জানান, মানববর্জ্য শোধনাগারের পাশাপাশি পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে পৌরসভায় পরিবেশবান্ধব আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে এবং পৌরবাসী পরিচ্ছন্ন পরিবেশ পাবে।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলায় ‘দৈনিক সাতক্ষীরা খবর’-এর যাত্রা শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলায় ‘দৈনিক সাতক্ষীরা খবর’-এর যাত্রা শুরু

সংবাদদাতা: বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে নতুন সংবাদপত্র ‘দৈনিক সাতক্ষীরা খবর’। বুধবার (৪ নভেম্বর) সাতক্ষীরা শহরের তুফান কনভেনশন সেন্টারে পত্রিকাটির মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক মীর আবু বকরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে ‘দৈনিক সাতক্ষীরা খবর’ জেলার সম্ভাবনা, সমস্যা এবং মানুষের সুখ-দুঃখ তুলে ধরবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সত্য প্রকাশে আপস না করে জেলার উন্নয়নে পত্রিকাটি ভূমিকা রাখবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

পত্রিকাটির সহসম্পাদক ও জেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নূর মোহাম্মাদ পাড়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তিনি বলেন, সংবাদপত্র সমাজের অতন্দ্র প্রহরী। হলুদ সাংবাদিকতা পরিহার করে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে পত্রিকাটি সাতক্ষীরার সম্ভাবনা, ঐতিহ্য ও মানুষের কথা তুলে ধরবে বলে তিনি আশা করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ, সাতক্ষীরা-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ আব্দুর রউফ, জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল হাসেম, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব বসু, জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম ফারুক, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু, জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদী, দৈনিক যুগের নির্বাহী সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, জেলা তথ্য কর্মকর্তা জাহারুল ইসলাম, সাবেক ফিফা রেফারি তৈয়ব হাসান সামসুজ্জামান, দৈনিক দক্ষিণের মশাল-এর সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বাবু, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক কাউন্সিলর মাসুম বিল্লাহ শাহিন, সেতারা নাসরিন নিশী, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মিনি, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুজ্জামান সজিব, সাবেক কাউন্সিলর শফিকউদ্দৌলা সাগর, সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রাসেল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ইমরান হোসেন, পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক এস এম মহিদার রহমান, আশাশুনি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জি এম মুজিবুর রহমান, কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল বারী সফুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

বক্তারা বলেন, একটি অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ‘দৈনিক সাতক্ষীরা খবর’ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করবে বলে তাঁরা প্রত্যাশা করেন। সাতক্ষীরার শিক্ষা, কৃষি ও পর্যটন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পত্রিকাটির প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা। এ সময় পত্রিকাটির অঙ্গসজ্জা ও বিষয়বস্তুর প্রশংসাও করেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঝাউডাঙ্গা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী, জেলা যুবদলের সভাপতি হাফিজুর রহমান মুকুল, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম বাবু, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, মনিরুল ইসলাম মনিসহ জেলার শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে অতিথিরা সম্মিলিতভাবে পত্রিকাটির মোড়ক উন্মোচন করেন। পরে সম্পাদক ও প্রকাশক মীর আবু বকর এবং নির্বাহী সম্পাদক এস এম মহিদার রহমান অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

সমাপনী বক্তব্যে মীর আবু বকর উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সাতক্ষীরার মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতাকে পাথেয় করে পত্রিকাটির পথচলা শুরু হলো। বস্তুনিষ্ঠতা ও পেশাদারত্ব বজায় রেখে পাঠকদের আস্থা অর্জন করাই তাঁদের লক্ষ্য।