শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস: সুপরিকল্পিত নগরই সমৃদ্ধ জনপদের নিদর্শন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৫১ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস: সুপরিকল্পিত নগরই সমৃদ্ধ জনপদের নিদর্শন

সাকিবুর রহমান বাবলা
নগর কেবল ইট-পাথরের দালান, প্রশস্ত সড়ক কিংবা সুউচ্চ অট্টালিকার সমষ্টি নয়। একটি নগরের প্রকৃত সৌন্দর্য ও সাফল্য নির্ভর করে সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মান, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, পরিবেশের ভারসাম্য এবং নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় চলাচলের ওপর। পরিকল্পিত নগর মানুষকে শুধু বসবাসের জায়গা দেয় না, বরং কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক-সামাজিক বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করে। নগর পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিবছর ৮ নভেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস।
আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কার্লোস মারিয়া দেলা পাওলেরা ১৯৪৯ সালে দিবসটির প্রচলন করেন। তিনি প্যারিসের ইনস্টিটিউট অব আরবানিজম থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। নগর পরিকল্পনার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি এবং পরিকল্পিত নগর গঠনে পেশাজীবীদের ভূমিকা তুলে ধরাই ছিল তাঁর উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সিটি অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানার্স এবং গ্লোবাল প্ল্যানার্স নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন দিবসটির প্রচার ও উদযাপনে ভূমিকা রাখে।
দিবসটির একটি বিশেষ প্রতীকী পতাকাও রয়েছে। অধ্যাপক দেলা পাওলেরার পরিকল্পিত এই পতাকায় নীল, সবুজ ও সোনালি হলুদ রঙের সমন্বয় রয়েছে। নীল রং আকাশ ও বাতাস, সবুজ প্রকৃতি ও ভূমি এবং সোনালি হলুদ সূর্যের প্রতীক। এই প্রতীকের মাধ্যমে নগর পরিকল্পনায় মানুষ, প্রকৃতি ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ভারসাম্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
২০২৬ সালের প্রচারাভিযানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জ্ঞান, মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের মাধ্যমে পরিকল্পনার ইতিবাচক ফলাফল তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫ সালের ‘পরিকল্পনাই সমাধানের একটি অংশ’ বার্তার ধারাবাহিকতায় এবারের মূল ভাবনা হলো, পরিকল্পনার বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে মানুষের জীবন ও জনপদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। রয়্যাল টাউন প্ল্যানিং ইনস্টিটিউট বিশ্বব্যাপী পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। কারণ জনগণের মতামত, স্থানীয় জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা ও সম্মিলিত আকাক্সক্ষার সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই জনপদ।
বর্তমান বিশ্বে দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাসনসংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যগত বৈষম্য এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে যানজট, বায়ুদূষণ, জলাবদ্ধতা, জলাভূমি ও কৃষিজমি ধ্বংস, বস্তির বিস্তার এবং নাগরিক বৈষম্য বাড়ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার, সাশ্রয়ী আবাসন, আধুনিক গণপরিবহন, প্রশস্ত ও নিরাপদ ফুটপাত, সাইকেল চলাচলের ব্যবস্থা, পার্ক, উন্মুক্ত স্থান এবং পর্যাপ্ত সবুজায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নদী, খাল ও জলাভূমি সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
বিশ্বের কয়েকটি নগর এ ক্ষেত্রে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ডেনমার্কের কোপেনহেগেন মানবকেন্দ্রিক ও সাইকেলবান্ধব নগর পরিকল্পনার জন্য পরিচিত। সিঙ্গাপুর পরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার, আবাসন ও সবুজায়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা সাশ্রয়ী আবাসন ও গণপরিবহনে, ব্রাজিলের কুরিতিবা বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ও পরিবেশবান্ধব নগরায়ণে এবং সুইজারল্যান্ডের জুরিখ সমন্বিত গণপরিবহন ও নগর ব্যবস্থাপনায় প্রশংসিত। বিভিন্ন সূচকের মাধ্যমে এসব শহরের সাফল্য মূল্যায়ন করা হয়।
নগর পরিকল্পনার ইতিহাসে প্যাট্রিক গেডেস, এবেনেজার হাওয়ার্ড, জেন জ্যাকবস, ইয়ান গেল ও জাইমে লার্নারের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্যাট্রিক গেডেস নগর, সমাজ, পরিবেশ ও অর্থনীতির সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেন। এবেনেজার হাওয়ার্ডের গার্ডেন সিটি ধারণা আধুনিক পরিকল্পিত নগরায়ণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। জেন জ্যাকবস স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও মানবিক নগরচিন্তার প্রবক্তা। ইয়ান গেল পথচারীবান্ধব নগর ও জনপরিসর উন্নয়নে এবং জাইমে লার্নার কুরিতিবার গণপরিবহন ও পরিবেশবান্ধব নগর রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ২০২৩ সালে প্ল্যানেটিজেনের পাঠক-ভোটভিত্তিক ১০০ প্রভাবশালী নগরচিন্তাবিদের তালিকায় জেন জ্যাকবস প্রথম এবং ইয়ান গেল দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।
বাংলাদেশে নগর পরিকল্পনার প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় মূলত ১৯৫০-এর দশকে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে নগর পরিকল্পনা শাখার কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এ উদ্যোগের সূচনা। ১৯৫৩ সালে টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট প্রণয়ন এবং ১৯৫৬ সালে ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নগর পরিকল্পনা প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি লাভ করে। পরবর্তী সময়ে ১৯৫৯ সালে ঢাকার প্রথম মহাপরিকল্পনা প্রণীত হয়। ১৯৬২ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ফিজিক্যাল প্ল্যানিং বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হলেও এর শিক্ষাক্রম শুরু হয় ১৯৬৯ সালে। এর মধ্য দিয়ে দেশে পেশাদার নগর পরিকল্পনাবিদ তৈরির আনুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে ওঠে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের মতো পেশাজীবী সংগঠনও দিবসটি পালন করে।
বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহীসহ সাতক্ষীরার মতো শহরেও পরিকল্পিত নগরায়ণের প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে। সাতক্ষীরা জেলার তিনটি পৌরসভা ও সাতটি উপজেলায় প্রায় ২২ লাখ মানুষের বসবাস। সমৃদ্ধ নগর গড়ে তুলতে বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসন, নদী-খাল ও জলাভূমি সংরক্ষণ, সাশ্রয়ী আবাসন, নিরাপদ সড়ক, সামাজিক বনায়ন, কার্যকর গণপরিবহন এবং পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শুধু বিশেষজ্ঞদের সিদ্ধান্ত নয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে স্থানীয় জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে।
একটি আদর্শ নগর গড়ে তোলার দায়িত্ব শুধু নগর পরিকল্পনাবিদদের নয়; জনপ্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ নাগরিকÑসবারই সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে। নগর পরিকল্পনা হতে হবে বাস্তবভিত্তিক, জনবান্ধব, পরিবেশসম্মত এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজনের প্রতি সংবেদনশীল। কারণ সুন্দর ও সমৃদ্ধ জনপদ কখনো অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠে না। মানুষের নিরাপদ, সুস্থ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি নগরের প্রকৃত সার্থকতা প্রকাশ পায়।

Ads small one

জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিতে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের আহ্বান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৭ পূর্বাহ্ণ
জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিতে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের আহ্বান

পত্রদূত ডেস্ক: জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের (বিবিএন) মধ্যে আঞ্চলিক ঐক্য জোরদার এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও অভিযোজন অর্থায়ন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত, উন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় ঝুঁকিপ্রবণ দেশগুলোর স্বার্থ তুলে ধরতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩১) সামনে রেখে সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশসহ কয়েকটি নাগরিক ও উন্নয়ন সহযোগী সংগঠন এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী ও ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশের সমন্বয়ক মো. শামসুদ্দোহা।

তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের জলবায়ু ঝুঁকি কমবে না। অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা উত্তরণ জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলার সক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ায় না। তাই তিন দেশের সরকার ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ এবং যৌথ দাবি তুলে ধরার কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

এসডিএসের নির্বাহী পরিচালক রাবেয়া বেগম বলেন, এলডিসি উত্তরণকে জলবায়ু ঝুঁকি থেকে উত্তরণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। উন্নয়নের অজুহাতে আন্তর্জাতিক অভিযোজন সহায়তা প্রত্যাহার করা উচিত নয়। এ জন্য উন্নত দেশ ও বহুপক্ষীয় জলবায়ু অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের সভাপতি আমিনুর রসুল বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অভিযোজনের প্রয়োজন ও বেঁচে থাকার অধিকার উন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থের অধীন হতে পারে না। বৈশ্বিক আলোচনায় অভিন্ন স্বার্থ তুলে ধরতে তিনি যৌথ উদ্যোগের আহ্বান জানান।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, কপ-৩১ ও পরবর্তী সময়ে ন্যায্য অভিযোজন সহায়তা এবং জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক উদ্যোগের পাশাপাশি সরকার ও নাগরিক সমাজের সমন্বয় জরুরি।

উপকূল ও সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, অভিযোজন ও প্রশমন জলবায়ু কার্যক্রমের পরিপূরক দুটি স্তম্ভ। অভিযোজন কার্যক্রম বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করা উন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার অংশ।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ বলেন, অর্থনৈতিক উত্তরণ ও জলবায়ু ঝুঁকিকে পৃথকভাবে বিবেচনা করতে হবে। জলবায়ু সম্মেলনে তিন দেশের জন্য অনুদানভিত্তিক অভিযোজন অর্থায়নের দাবিতে দৃঢ় অবস্থান রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিআরডির গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুমাইয়া বিনতে আনোয়ার। তিনি প্রচলিত উন্নয়ন সূচকের বাইরে দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু ঝুঁকিকে স্বীকৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক অভিযোজন ও জলবায়ু অর্থায়ন কাঠামোয় পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে তিনটি নীতিগত দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ঝুঁকি, ন্যায্যতা ও মানবাধিকারের ভিত্তিতে সহায়তা নির্ধারণ; এলডিসি উত্তরণের পরও ঝুঁকিপ্রবণ দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে অভিযোজন অর্থায়ন অব্যাহত রাখা; এবং বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের মধ্যে অভিন্ন আঞ্চলিক দাবি ও আলোচনাভিত্তিক কর্মসূচি গড়ে তোলা।

পাটকেলঘাটায় জামায়াতের উদ্যোগে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় জামায়াতের উদ্যোগে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: তালা উপজেলার পাটকেলঘাটায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহি বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় পাটকেলঘাটায় জামায়াতের কার্যালয়ে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। তালা উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাস্টার আবদুল মালেকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট বাশারাতুল্লাহ আরঙ্গি বাবলা। শ্রমজীবী শিবিরের নেতা মাস্টার আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ধানদিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা নুরুল ইসলাম, নগরঘাটা ইউনিয়নে জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী আমিন মাওলানা মেহেদী হাসান, সরুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ও ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হাফেজ শাহ আলম এবং মাওলানা রেজাউল করিম।

ব্রহ্মরাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষককে পেটালেন অভিভাবক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
ব্রহ্মরাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষককে পেটালেন অভিভাবক

‎নিজস্ব প্রতিনিধি: ‎সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ৭ নভেম্বর (শনিবার) সকালে স্কুলে প্রাইভেট পড়ানোর সময় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নিপীড়নের শিকার শিক্ষার্থীর বরাতে সূত্র জানায়, স্কুলের টয়লেটের দরজা বন্ধ করে ওই শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করা হয়। এতে ওই শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে কাঁদতে কাঁদতে তার পিতাকে বিষয়টি জানায়। ‎এরপর ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষককে বেধড়ক মারধর করেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
‎ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল খায়ের মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। এর আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাইভেট পড়ানোর সময় আরও একাধিক অভিযোগ আছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
‎এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মমিনুর রহমান মুকুল জানান, এঘটনায় এখনো কেউ কিছু আমাকে জানায়নি। তবে অভিযোগ পেলে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎বিষয়টি জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আসাদুজ্জামান ও জেলা শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।