রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

আশাশুনিতে ১০ হাজার বিঘা ধানের জমিতে লোনাপানি, বিপাকে কৃষক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে ১০ হাজার বিঘা ধানের জমিতে লোনাপানি, বিপাকে কৃষক

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে রাতের আঁধারে স্লুইসগেটের কপাট তুলে প্রায় ১০ হাজার বিঘা ধানের জমিতে লোনাপানি ঢুকিয়ে দিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। এতে কপোতাক্ষ নদের লোনা পানিতে খাজরা ও বড়দল ইউনিয়নের অন্তত আটটি গ্রামের ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। ধান চাষের পাশাপাশি এলাকায় ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কালকি স্লুইসগেটের কপাট তুলে দেওয়ায় লোনাপানি ঢুকে খাজরা ইউনিয়নের গজুয়াকাটি, রাউতাড়া, গোয়ালডাঙ্গা, পিরোজপুর, খালিয়া, ফটিকখালী এবং বড়দল ইউনিয়নের দক্ষিণ বাইনতলা ও পাঁচ পোতা গ্রামের হাজার হাজার বিঘা জমি এখন পানির নিচে। অনেক জমির পাকা ধান এখনও কাটা শেষ হয়নি।
গজুয়াকাটি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক শিবপ্রসাদ ম-ল বলেন, “দিন ১৫ আগে রাতের অন্ধকারে কে বা কারা গেট তুলে দেয়। এতে প্রায় ৭০০ বিঘা জমির ধান ও পুকুর লোনা পানিতে ভরে গেছে। মারা যাচ্ছে গাছপালাও।” কৃষক সতীশ চন্দ্র বৈদ্য জানান, লোনা পানির কারণে এলাকায় গো-খাদ্য ও রান্নার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র চেউটিয়া খালের ওপর নির্মিত কালভার্টের কপাটও খুলে দিয়েছে। এর ফলে আরও কয়েক হাজার বিঘা জমি নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। গত তিন বছর এসব এলাকায় কোনো ফসল না হলেও এবার ভালো ফলনের আশা করেছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু লোনাপানির কারণে বোরো ধানের পাশাপাশি আসন্ন আউশ মৌসুমও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
খাজরা ইউনিয়ন নদী-খাল সুরক্ষা নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব হাবিবুর রহমান বলেন, খালের মাছ ধরার জন্য একটি কুচক্রী মহল এ কাজ করছে। স্লুইসগেটটি সংস্কারের পর কোনো তদারকি কমিটি না থাকায় দুর্বৃত্তরা সুযোগ নিচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, বড়দল গ্রামের একটি প্রভাবশালী চক্র স্কেভেটর মেশিন ব্যবহার করে গেটের কপাট তুলে নদী ও খালে মাছ ধরছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় স্থানীয়রা ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কু-ু বলেন, “আমি সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করেছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, লোনাপানি প্রবেশ বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Ads small one

পালকির দোলায় অমলিন প্রেম: শিকড়ে ফেরার এক অনন্য উপাখ্যান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
পালকির দোলায় অমলিন প্রেম: শিকড়ে ফেরার এক অনন্য উপাখ্যান

মো. সিরাজুল ইসলাম: আকাশের কোণে রোদের ঝিলিক আর বাতাসে বসন্তের শেষ বিকেলের মাতাল হওয়াÑসব মিলিয়েই দিনটি ছিল যেন কোনো ধ্রুপদী গল্পের ফ্রেম। সাতক্ষীরা শহরের পিচঢালা রাজপথ আজ সাক্ষী হলো এক বিস্মৃত ইতিহাসের প্রত্যাবর্তনের। আধুনিক যান্ত্রিকতার এই যুগে যখন দামী গাড়ির গর্জন আর আলোকসজ্জার চাকচিক্যই বিয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন এক তরুণ আইনজীবী বেছে নিলেন ইতিহাসের ধূলোবালি মাখা সেই ধ্রুপদী বাহনÑপালকি।
রোববার বিকেলে শহরের সুলতানপুর সদ্দারপাড়া এলাকায় সৃষ্টি হয় এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের। সুসজ্জিত পঙ্খীরাজ পালকিতে চড়ে কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন অ্যাডভোকেট শিমুল ইসলাম। আটজন বেহারার কাঁধে তাল মিলিয়ে চলা পালকির সেই ছন্দময় দুলুনি যেন অনেক কাল আগের কোনো গ্রাম্য উপন্যাসের পাতা থেকে উঠে আসা দৃশ্য।
দেবহাটা উপজেলার পূর্বকুলিয়া বাঁধের মুখ এলাকার লামিয়া আরেফিন শোভার সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হতে যাওয়ার এই যাত্রায় ছিল না কোনো গাড়ির হর্ন, বরং ছিল শেকড়ের টান। বিয়ে শেষে একইভাবে পালকির ওড়না টেনে নববধূকে নিয়ে যখন শিমুল নিজের আঙিনায় ফেরেন, তখন চারপাশের বাতাসে যেন ফিরে এসেছিল হারিয়ে যাওয়া সেই ম ম গন্ধ।
রাস্তার দু’পাশে ভিড় জমিয়েছিলেন উৎসুক জনতা। ছোটদের চোখে কৌতূহল আর প্রবীণদের চোখে ছিল ফেলে আসা যৌবনের দীর্ঘশ্বাস। কেউ সেলফি তুলছিলেন, কেউ বা ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন বেহারাদের সেই মাপা কদম।
উল্লসিত এলাকাবাসী বলেনÑ“পালকি তো কেবল কাঠের একটা কাঠামো নয়; এ তো আমাদের সংস্কৃতির স্পন্দন। আজ এই দৃশ্য দেখে মনে হলো আমরা আবারও আমাদের সত্তাকে খুঁজে পেলাম।”
সময়ের বিবর্তনে পালকি আজ কেবল যাদুঘরের জড় বস্তু। কিন্তু অ্যাডভোকেট শিমুল ইসলামের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে এক নীরব বার্তা পৌঁছে দিয়েছেÑসভ্যতা এগিয়ে চললেও শিকড়কে ভুলে যাওয়া মানেই শূন্যতা। স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের শৌখিন ও ঐতিহ্যবাহী উদ্যোগ আমাদের হাজার বছরের কৃষ্টিকে নতুন করে জীবন দান করবে।
সাতক্ষীরার এই বিয়ে কেবল দুটি হৃদয়ের মিলন হয়ে থাকল না, এটি হয়ে উঠল হারিয়ে যাওয়া বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক পপ-আপ আর্ট, যা আগামী অনেক দিন এলাকাবাসীর মনে এক টুকরো অমলিন স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকবে।

জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

বদিউজ্জামান: জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা ২৬ এপ্রিল বিকাল ৩টায় জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সভায় বিচার বিভাগের কর্মকর্তা বৃন্দ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, জেলা তথ্য অফিসার, প্যানেল আইনজীবীবৃন্দ, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়া। দরিদ্র ও অসহায় মানুষ যাতে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা পায়, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন ও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। এ দিবস পালনের মাধ্যমে আইনগত সহায়তা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হবে।”সভায় আগামী ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—সকাল ৭:৩০ টায় জজ কোর্ট চত্বর হতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি;সকাল ৮:৩০ টায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তদান কর্মসূচি ও লিগ্যাল এইড মেলা;সকাল ৯:৩০ টায় দিবসের তাৎপর্য বিষয়ক আলোচনা সভা;এবং বিকাল ৫:৩০ টায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।সভায় উপস্থিত বক্তারা দিবসটি সফলভাবে উদযাপনের জন্য সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন।সভাটি পরিচালনা করেন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার ও যুগ্ম জেলা জজ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিভিল জজ লিটন দাস।

সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: প্রাণসায়ের খাল ও নাগরিক স্বাস্থ্য রক্ষা হোক সর্বাগ্রে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: প্রাণসায়ের খাল ও নাগরিক স্বাস্থ্য রক্ষা হোক সর্বাগ্রে

সাতক্ষীরা শহরের ফুসফুস হিসেবে পরিচিত প্রাণসায়ের খাল। এক সময়ের খরস্রোতা এই খালটি আজ মৃতপ্রায়, যার অন্যতম কারণ দখল আর দূষণ। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব রোধে জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতারের নেতৃত্বে শহরে যে পরিচ্ছন্নতা ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে সুলতানপুর বড় বাজার এলাকার বর্জ্য অপসারণ এবং খালের পানি প্রবাহ সচল রাখার যে দৃঢ় অঙ্গীকার জেলা প্রশাসক ব্যক্ত করেছেন, তা সাতক্ষীরাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি।
তবে এই অভিযানের মাঝেই একটি উদ্বেগের বিষয় সামনে এসেছে। সুলতানপুর বড় বাজারের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন যে, সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ খালের ধারেই কসাইখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। যেখানে খালের পানি প্রবাহ ঠিক রাখা এবং দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের মূল লক্ষ্য, সেখানে খালের পাড়ে কসাইখানা স্থাপন করা হবে চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কসাইখানার বর্জ্য সরাসরি খালে পড়লে তা কেবল পানিকেই বিষাক্ত করবে না, বরং ডেঙ্গু ও মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়ে জনস্বাস্থ্যকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই জায়গার মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান এবং স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে পৌরসভার টেন্ডার প্রক্রিয়া কেবল আইনি জটিলতাই বাড়াবে না, বরং খালের অস্তিত্বকেও সংকটে ফেলবে। জেলা প্রশাসক স্পষ্ট করে বলেছেন যে, খালের পাড়ে কোনো ময়লার ভাগাড় হতে দেওয়া হবে না।
আমরা মনে করি, সাতক্ষীরাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে খালের পাড়ে কসাইখানা নির্মাণের মতো হটকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা প্রয়োজন।
শহরের জনচলাচল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা জরুরি। জেলা প্রশাসকের এই অভিযান কেবল এক দিনের লোকদেখানো কার্যক্রম না হয়ে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় রূপ নিতে হবে। আগামী শনিবার তিনি পুনরায় পরিদর্শনে আসার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
আমরা মনে করি, সাতক্ষীরার প্রাণসায়ের খালকে বাঁচাতে এবং নাগরিকদের মশাবাহিত রোগ থেকে রক্ষা করতে প্রশাসন ও পৌরসভাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। খালের পাড়ে কসাইখানা নয়, বরং সেখানে বৃক্ষরোপণ ও হাঁটার পথ (ওয়াকওয়ে) তৈরি করে পরিবেশবান্ধব সাতক্ষীরা গড়ার কাজ এগিয়ে নেওয়া হোক। জনস্বার্থই হোক সকল উন্নয়ন কর্মকা-ের মূল লক্ষ্য।