সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনায় বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনায় বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনায় পৃথক বজ্রাঘাতে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও তিন জন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকালের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। এর আগে রবিবার সাত জেলায় বজ্রাঘাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

সুনামগঞ্জ: বিকালে সদর ও জামালগঞ্জ উপজেলায় বজ্রাঘাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন—সুনামগঞ্জ সদরের মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৪৬), গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালী গ্রামের জমির হোসেন (৪০) এবং জামালগঞ্জ উপজেলার রূপাবালী গ্রামের আবু ছালেক (২০)।

স্থানীয় ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিকালে সদর উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের দেখার হাওরে অন্য কৃষকদের সঙ্গে ধান কাটছিলেন জমির উদ্দিন। এ সময় হঠাৎ বজ্রাঘাত হলে গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

একই সময়ে বৈটাখালী গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নদীর ঘাটে নিজের দোকান খুলতে যাচ্ছিলেন জমির হোসেন। পথে বজ্রাঘাতের শিকার হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

অপরদিকে, জামালগঞ্জ উপজেলার রূপাবালী গ্রামের আবু ছালেক হাওরে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতের কবলে পড়েন। স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শফিকুর রহমান জানান, ‘বিকালে বজ্রাঘাতের ঘটনায় তিন জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।’

এ ছাড়া জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে আরও তিন কৃষক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

নেত্রকোনা: খালিয়াজুরী উপজেলায় বজ্রাঘাতের ঘটনায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। খালিয়াজুরি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন বিষয়টি জানান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকার ফেরিঘাট সংলগ্ন ধনু নদীর পাড়ে মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাতে মো. আব্দুল মোতালিব (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাগবের গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের সাতগাঁও গ্রামে বজ্রাঘাতে কৃষক মোনায়েম খাঁ পালান (৫৩) মারা যান। দেড়টার দিকে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে শ্রমিক মো. শুভ মণ্ডলের (৩৫) মৃত্যু হয়। তিনি সিরাজগঞ্জের আকনাদিঘির চর গ্রামের আফিকুল মণ্ডলের ছেলে।

ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘চার ঘণ্টার ব্যবধানে বজ্রাঘাতের ঘটনায় তিন জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

Ads small one

সাতক্ষীরায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ৪

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ৪

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খানপুর এলাকায় পৈতৃক জমির ধান কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বিশার বিলে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন।
আহত ব্যক্তিরা হলেন খানপুর গ্রামের মো. মহিবুল্লাহ (৫২), আব্দুস সবুর (৪১), মাসুম বিল্লাহ (৫৫) ও এস এম মাসুদ (৩৭)। তাঁদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, খানপুর গ্রামের আব্দুস সবুর তাঁর পৈতৃক জমিতে চলতি মৌসুমে ইরি ধান আবাদ করেন। ওই জমি নিয়ে প্রতিবেশী গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আঃ সবুরের অভিযোগ, সোমবার ভোর ৬টার দিকে গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক ওই জমির ধান কাটতে শুরু করে।
বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা মহিবুল্লাহকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে তাঁর ডান হাতে গুরুতর জখম হয়। এ সময় অন্যরা এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে আব্দুস সবুরের আঙুলসহ অন্যরাও আহত হন। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা প্রায় ১০ মণ ধান কেটে নিয়ে গেছে এবং যাওয়ার সময় তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুস সবুর বলেন, ‘জমিটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। কিন্তু গিয়াস উদ্দিনরা দীর্ঘদিন ধরে এটি জবরদখলের চেষ্টা করছে। আজ বাধা দেওয়ায় তারা আমাদের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে।’
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ বা এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

 

সাতক্ষীরায় ‘মধুমতি-২’ হাইব্রিড ধানের মাঠ দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ‘মধুমতি-২’ হাইব্রিড ধানের মাঠ দিবস

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদরের আলিপুর ইউনিয়নের খোল বিলে অধিক ফলনশীল হাইব্রিড ধান ‘মধুমতি-২’-এর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে ইউনাইটেড সীড কোম্পানির আয়োজনে এবং সাতক্ষীরা মুসলিম বীজ ভা-ারের সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আলিপুর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ইউনাইটেড সীড কোম্পানির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (খুলনা ও বরিশাল) জাহাঙ্গীর হোসেন। কোম্পানিটির বিপণন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মজিদের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন খুলনা ডুমুরিয়া অঞ্চলের বিপণন কর্মকর্তা পলাশ মল্লিক, আশরাফুল হোসেন এবং মুসলিম বীজ ভা-ারের প্রতিনিধি আব্দুর রাশেদ।
মাঠ দিবসে প্রদর্শনী খেতের কৃষক শামীমুল ইসলাম সবুজ তাঁর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘সুলতানপুর বড় বাজারের মুসলিম বীজ ভা-ার থেকে বীজ সংগ্রহ করে আমি এবার মধুমতি-২ চাষ করেছি। অল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে এই ধানের ফলন দেখে আমি অভিভূত। ৩৩ শতকের বিঘায় প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ ফলন পাওয়া যাচ্ছে। ঝোড়ো বাতাসেও গাছ হেলে পড়েনি এবং রোগের উপদ্রব ছিল খুবই কম।’
অনুষ্ঠানে মধুমতি-২ ধানের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, চীন থেকে আমদানিকৃত এই জাতটি ব্রি-ধান ২৮-এর মতো মধ্যম চিকন। ফলে বাজারে এর ভালো দাম পাওয়া যায়। এর ভাত ঝুরঝুরে ও সুস্বাদু। ধানটির জীবনকাল ১৩৫ থেকে ১৪০ দিন এবং পাকার পর শিষ থেকে ধান ঝরে পড়ার ভয় থাকে না। ফলন ভালো হওয়ায় এলাকার অন্য কৃষকরাও আগামী মৌসুমে এই জাতটি চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মাঠ দিবসে স্থানীয় কৃষক আব্দুর রাজ্জাক, মো. আজারুল ইসলাম, বিল্লাল হোসেনসহ বিপুল সংখ্যক নারী ও পুরুষ চাষি উপস্থিত ছিলেন। শেষে ধান কাটার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলন প্রদর্শন করা হয়।

সাতক্ষীরায় ১৫ মাসে ২১২০ আবেদন, আদায় প্রায় কোটি টাকা, উপকারভোগী ২১৬৫জন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ১৫ মাসে ২১২০ আবেদন, আদায় প্রায় কোটি টাকা, উপকারভোগী ২১৬৫জন

জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান দিবস আজ
বদিউজ্জামান: আজ ২৮ এপ্রিল জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের সাম্প্রতিক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের চিত্র উঠে এসেছে। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ২১২০টি আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ৫২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ১৩৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থার আওতায় ১৬০০টি আবেদন দায়ের করা হয়, যার মধ্যে ১৪৮১টি নিষ্পত্তি হয়েছে—যা দ্রুত ও কার্যকর বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এ সময়কালে ১১০৬ জন নারী ও ৩৭৬ জন পুরুষকে আইনগত পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। মোট উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৬৫ জনে। এছাড়া এডিআরের মাধ্যমে আদায় হয়েছে ৯৯ লক্ষ ৭৮হাজার টাকা, যা অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য বড় সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত হতে ১৭টি, জেলা কারাগার হতে ৬৭টি এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি হতে ৩০টি আবেদন পাওয়া গেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে রেফার করা আবেদন এসেছে ১০০টি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে এ অর্জনগুলো বিচারপ্রাপ্তির অধিকারকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।