বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

ধুলিহরে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, কুপিয়ে জখম ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
ধুলিহরে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, কুপিয়ে জখম ২

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার ধুলিহর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুইজন গুরুতর জখম হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের ধুলিহর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন ধুলিহর গ্রামের শংকর অধিকারী (৫৫) ও তার ছেলে রতন অধিকারী (৩৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের জেরে এদিন সকালে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পলাশ চৌধুরী, সজিবসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে বাবা-ছেলে গুরুতর জখম হন।
আহত রতন অধিকারীর অভিযোগ, “আমাদের জমির বাঁশ জোর করে কাটতে আসে তারা। বাধা দিতে গেলে পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।”
শংকর অধিকারী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তারা আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করছে। আজকে সুযোগ পেয়ে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।”
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে সদর থানার একটি সূত্র জানায়, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Ads small one

তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি: জমে উঠেছে নির্বাচনের লড়াই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি: জমে উঠেছে নির্বাচনের লড়াই

নিজস্ব প্রতিনিধি: তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ত্রিবার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে স্থানীয় শিক্ষাঙ্গন। আগামী ১৬ মে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রার্থীরা তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এবং শুরু হয়েছে জোর প্রচার-প্রচারণা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে লড়াই হচ্ছে দ্বিমুখী। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষÑপ্রতিটি পদেই দুজনে করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রার্থীরা হলেনÑ সভাপতি পদে সুভাষিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল ইসলাম এবং কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগদীশ কুমার হালদার।
সাধারণ সম্পাদক পদে কুমিরা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সজীবুদ্দৌলা এবং একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। কোষাধ্যক্ষ পদে খলিশখালী মাগুরা কে এম এস সি কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অজয় কুমার দাশ ও ফলেয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফিরোজ কবির।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ভোটার হিসেবে তালিকায় রয়েছেন উপজেলার ৮০০ জন শিক্ষক প্রতিনিধি। আগামী ১৬ মে তালা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণ করা হবে। সেদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট চলবে।
নির্বাচনের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, প্রার্থীদের ব্যস্ততা ততই বাড়ছে। জয়ের লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের কাছে ভোট ও দোয়া চাইছেন প্রার্থীরা। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। শিক্ষকদের অধিকার রক্ষা এবং পেশাগত মানোন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার শোনা যাচ্ছে তাঁদের মুখে।
সাধারণ শিক্ষকদের মাঝেও নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ১৬ মে শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে কার হাতে নেতৃত্বের দায়িত্ব তুলে দেন ভোটাররা।

বাম্পার ফলনেও হাসি নেই সাতক্ষীরার কৃষকের মুখে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ
বাম্পার ফলনেও হাসি নেই সাতক্ষীরার কৃষকের মুখে

 

এম এম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: মাঠজুড়ে সোনালি ধানের সমারোহ। সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদে বোরোর বাম্পার ফলন দেখে প্রথম নজরে মনে হতে পারে কৃষকের সুদিন ফিরেছে। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটি উল্টো। তীব্র তাপপ্রবাহ, শ্রমিক সংকট আর হঠাৎ বৃষ্টির আশঙ্কায় সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকার ধান চাষিদের কপালে এখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ। শ্রমিকের মজুরি ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের কষ্টের ফসল এখন তাঁদের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও আবাদ হয়েছে ৮২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। ফলন আশাতীত ভালো হলেও তা ঘরে তোলা নিয়ে শুরু হয়েছে চরম ভোগান্তি।
বৈশাখী খরতাপ আর ভ্যাপসা গরমে কাহিল জনজীবন। এর প্রভাব পড়েছে ধান কাটার মাঠেও। সদর ও তালা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র রোদের কারণে শ্রমিকেরা দীর্ঘক্ষণ মাঠে কাজ করতে পারছেন না। স্থানীয় শ্রমিকের অভাবে বাইরে থেকে চড়া মূল্যে শ্রমিক আনতে হচ্ছে।
তালা উপজেলার বাইগুলি গ্রামের কৃষক সাইফুল্লাহ মামুন বলেন, “১০ বিঘা জমিতে আবাদ করেছি, ফলনও ভালো। কিন্তু শ্রমিকের অভাবে বাইরে থেকে বেশি দামে মানুষ আনতে হচ্ছে। সার ও কীটনাশকের দামের পর এখন মজুরি দিতে গিয়ে পকেট ফাঁকা হওয়ার জোগাড়।” ফটিক দাশ নামে আরেক কৃষক জানান, মজুরি দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় তিনি নিজেই কাস্তে হাতে মাঠে নেমেছেন।
কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কায় তড়িঘড়ি করে ধান কাটতে গিয়েও বিপাকে পড়ছেন চাষিরা। অনেক জায়গায় নিচু জমির ধান বাতাসে মাটিতে নুয়ে পড়েছে। হঠাৎ বৃষ্টিতে অনেক চাষির কাটা ধান ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কৃষক কুতুব উদ্দিন মোড়ল বলেন, “আকাশের অবস্থা ভালো না। বৃষ্টি নামলেই গতবারের মতো ধান নষ্ট হবে। তাই খরচের দিকে না তাকিয়ে দ্রুত ধান বাড়ি নেওয়ার চেষ্টা করছি।”
কৃষকদের বড় অভিযোগ ধানের বাজারদর নিয়ে। তাঁরা জানান, এক মণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের মজুরি উঠছে না। তার ওপর জ্বালানি সংকটে পরিবহনের জন্য ট্রলি বা ভ্যান পাওয়া যাচ্ছে না, পেলেও গুণতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।
বাইরে থেকে আসা শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতি বছর আমরা এ সময় বাড়তি আয়ের আশায় এখানে আসি। কিন্তু এবার যে রোদ আর গরম, তাতে আগের মতো কাজ করা যাচ্ছে না। মালিকের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।”
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “জেলায় ধানের খুব ভালো ফলন হয়েছে। শ্রমিকের কারণে কিছুটা দেরি হলেও ইতিমধ্যে ৪৪ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় পরিবহন সমস্যা কিছুটা আছে। আশা করছি, আগামী ১০ দিনের মধ্যে মাঠের বাকি ধান কৃষকের ঘরে উঠে যাবে।”

 

 

চার মাসের মধ্যে খুলনা চেম্বারের নির্বাচন, দুই কর্মকর্তাকে অব্যাহতির নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
চার মাসের মধ্যে খুলনা চেম্বারের নির্বাচন, দুই কর্মকর্তাকে অব্যাহতির নির্দেশ

পত্রদূত ডেস্ক: খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজে নতুন প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে চার মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চেম্বারের বিতর্কিত দুই কর্মকর্তাকেও অব্যাহতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বুধবার পৃথক দুই অফিস আদেশে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রথম আদেশে বলা হয়েছে, খুলনা চেম্বারের প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)-এর দায়িত্ব ২৯ এপ্রিল শেষ হয়েছে। তবে খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সকল কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য চলমান রাখার লক্ষ্যে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ১৭ ধারা মোতাবেক খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলমকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হলো। তিনি চার মাসের মধ্যে আবশ্যিকভাবে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত কমিটির নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করে এ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবেন।

এছাড়া বাকি অফিস আদেশে বলা হয়েছে, খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির চুক্তিভিত্তিক সচিব নূর রুখসানা বানু এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি (এস্টেট) বিশ্বরূপ সরকারের বিষয়ে নিয়োগ বিধি ও নিয়োগপত্রের শর্তাবলী অনুসারে নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চেম্বারের যাবতীয় কার্যক্রম হতে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করার জন্য অনুরোধ করা হলো।