লেবাননের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনায় বসবে ইসরায়েল: নেতানিয়াহু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লেবাননের সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব সরাসরি আলোচনায় বসার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৈরুতের পক্ষ থেকে আলোচনায় বসতে একাধিক আহ্বানের পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তিনি এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করতে লেবাননের পক্ষ থেকে বারবার আবেদন জানানো হয়েছে। এর আলোকে আমি বুধবার মন্ত্রিসভাকে লেবাননের সঙ্গে দ্রুততম সময়ে আলোচনা শুরুর নির্দেশ দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেছেন, এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে ‘হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করা’।
এ ছাড়া বৈরুতকে বেসামরিকীকরণের বিষয়ে লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক আহ্বানকেও স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি রক্ষা করতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে লেবাননে হামলা কমিয়ে আনার অনুরোধ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার এক টেলিফোন আলাপে ট্রাম্প এই অনুরোধ জানান। এর আগে নেতানিয়াহু প্রকাশ্যেই লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও দাবি করেছিলেন যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা সফল করতে ইসরায়েল লেবাননে কিছুটা সংযম প্রদর্শনে রাজি হয়েছে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। বুধবার ইসরায়েল লেবাননে ইরান যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিমান হামলা চালায়। এতে ইসরায়েলি সংযম প্রদর্শনের কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। ট্রাম্পের অনুরোধের পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবারও লেবাননে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী, যদিও হামলার তীব্রতা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কম।
বৃহস্পতিবার সকালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অস্ত্রাগার, রকেট লঞ্চার এবং সদর দফতর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক এখনও শেষ হয়নি। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে আসছে যে ইরানের সঙ্গে হওয়া এই সাময়িক চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে তেহরান ও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, লেবাননও এই যুদ্ধবিরতির অংশ।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল












