কালিগঞ্জের মথুরেশপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম।
সোমবার (১১ মে) বিকেল সাড়ে ৫টায় ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন গ্রাম সরকার ও দুইবার ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০২২ সালে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে নির্বাচিত সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রায় ১২ কিলোমিটার বিস্তৃত ৯টি ওয়ার্ড ও ২৬টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষের জন্য গত চার বছরের বেশি সময়ে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পিচঢালা রাস্তা, হেরিংবন্ড ও ইনোব্লক সড়ক নির্মাণ, ড্রেন ও কালভার্ট স্থাপন, জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, কাঁচা রাস্তা সংস্কার, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো সংস্কার এবং খেলাধুলার মানোন্নয়নমূলক কার্যক্রম।চেয়ারম্যান দাবি করেন, স্বাধীনতার পর মথুরেশপুর ইউনিয়নে এত ব্যাপক উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি কুচক্রী মহল তার ও পরিষদের অধিকাংশ সদস্যের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এসএম আবু তাহের দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি থাকলেও এলাকায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করতে পারেননি। উন্নয়ন কাজে অনিয়ম ধরা পড়ায় তাকে বাদ দিয়ে অন্য সদস্যদের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন শুরু হলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে নানা ধরনের বাধা সৃষ্টি ও অপপ্রচার শুরু করেন।
এছাড়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ আরিজুল ইসলামের বিরুদ্ধেও উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে চেয়ারম্যান বলেন, কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়ায় তার সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয়। পরবর্তীতে ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা শুরু হলে তিনিও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়াতে থাকেন। সাংবাদিক সম্মেলনে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তারের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ তোলা হয়। চেয়ারম্যানের দাবি, ওই কর্মকর্তা তার স্বামীকে দিয়ে পরিষদের বিভিন্ন কম্পিউটার সংক্রান্ত কাজ পরিচালনা করাচ্ছেন, ফলে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে তিনি জানান।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বদলির দাবিতে ইতোমধ্যে তিনি ও ৯ জন ইউপি সদস্যরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান বলেন, “আমি রাষ্ট্রীয় বিধিমালা মেনে ইউনিয়ন পরিষদের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি মহল রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান মোদাচ্ছের হোসেন, ইউপি সদস্য রহমত আলী, কলীম গাজী, মো. আবু হাসান, দেবাশীষ ঘোষ, আব্দুল জলিল, নুর মোহাম্মদ বাঁচা মোল্লা এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য মেহেরুন নেসা ও প্রমিলা রাণী ম-ল।












