সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

জিআই স্বীকৃত হিমসাগর ও সাতক্ষীরার আম পর্যটন: বৈশ্বিক মডেল ও আমাদের করণীয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
জিআই স্বীকৃত হিমসাগর ও সাতক্ষীরার আম পর্যটন: বৈশ্বিক মডেল ও আমাদের করণীয়

মো. মামুন হাসান
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত সাতক্ষীরা জেলা এখন কেবল সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হিসেবেই নয়, বরং দেশের ‘আর্লি ম্যাঙ্গো বাস্কেট’ বা আগাম আমের ভা-ার হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাচ্ছে। প্রতি বছর মে মাসের শুরুতেই যখন রাজশাহী বা চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাগানগুলো কেবল পরিপক্ব হওয়ার অপেক্ষায় থাকে, সাতক্ষীরার বাজারে তখন হিমসাগর ও গোবিন্দভোগের সুবাসে ম ম করে।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাতক্ষীরায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের আবাদ হচ্ছে, যা থেকে বার্ষিক উৎপাদনের পরিমাণ ছাড়িয়ে যাচ্ছে ৫০ হাজার মেট্রিক টন। এই বিপুল উৎপাদন কেবল স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাচ্ছে না, বরং গত কয়েক বছরে ইউরোপের বাজারে রপ্তানি হওয়া বাংলাদেশের মোট আমের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই জোগান দিচ্ছে এই জেলা। সাতক্ষীরার এই প্রাকৃতিক ও বাণিজ্যিক সুবিধাকে পুঁজি করে ‘আম পর্যটন’ বা ‘এগ্রো-ট্যুরিজম’ এর যে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের পর্যটন মানচিত্রে সাতক্ষীরা একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দিকে তাকালে দেখা যায় যে তারা কীভাবে একটি নির্দিষ্ট কৃষিপণ্যকে পর্যটনের প্রধান আকর্ষণে পরিণত করেছে। উদাহরণস্বরূপ, থাইল্যান্ডের কথা বলা যায়। দেশটিতে প্রতি বছর বিশেষ করে রায়ং এবং চন্তাবুরি প্রদেশে ‘ফ্রুট ফেস্টিভ্যাল’ আয়োজন করা হয়, যেখানে হাজার হাজার বিদেশি পর্যটক কেবল হাতে পাড়া ফল খাওয়ার অভিজ্ঞতার জন্য ভিড় করেন। একইভাবে জাপানের হোক্কাইডো অঞ্চলে বিশেষ জাতের তরমুজ ও চেরি ফলকে কেন্দ্র করে বিলাসবহুল পর্যটন প্যাকেজ পরিচালনা করা হয়। ভারতের রতœাগিরিতে আলফনসো আমকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিশাল এক পর্যটন শিল্প, যেখানে পর্যটকরা বাগানের ভেতরেই রিসোর্টে রাত কাটান। সাতক্ষীরায় ঠিক এই মডেলটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। সাতক্ষীরার হিমসাগর আম ইতোমধ্যে জিআই পণ্য হিসেবে বিশ্বস্বীকৃতি পেয়েছে, যা মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। পর্যটকদের জন্য যদি এমন একটি প্যাকেজ তৈরি করা যায় যেখানে তারা সকালে সুন্দরবনে ভ্রমণ করবেন এবং দুপুরে কোনো প্রাচীন আম বাগানে বসে খাঁটি ও বিষমুক্ত হিমসাগরের স্বাদ নেবেন, তবে তা পর্যটন খাতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সাতক্ষীরাকে একটি আন্তর্জাতিক আম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আমাদের মার্কেটিং পলিসিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। বর্তমানের গতানুগতিক বাজার ব্যবস্থার বদলে ‘এক্সপেরিয়েন্স ট্যুরিজম’ বা অভিজ্ঞতাভিত্তিক পর্যটনে জোর দিতে হবে। এখানে ‘ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি’ পদ্ধতি প্রবর্তন করা জরুরি। প্রতিটি বড় বাগানের জন্য আলাদা কিউআর কোড থাকবে, যা স্ক্যান করলে পর্যটক জানতে পারবেন বাগানটির অবস্থান, গাছের বয়স এবং আমটি কত তারিখে পাড়া হয়েছে। এটি ক্রেতার মনে আমটি সম্পর্কে শতভাগ আস্থা তৈরি করবে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও ট্রাভেল ব্লগারদের মাধ্যমে ‘ম্যাঙ্গো ট্রেইল’ ক্যাম্পেইন চালানো যেতে পারে। তরুণ উদ্যোক্তারা আম বাগানগুলোতে ‘পিক ইউর ওউন ফ্রুট’ বা নিজের আম নিজে পাড়ার সুযোগ সংবলিত প্যাকেজ চালু করতে পারেন। এর ফলে পর্যটকরা কেবল পণ্য কিনছেন না, বরং তারা একটি স্মৃতির অংশ হচ্ছেন, যা মার্কেটিংয়ের ভাষায় সবচাইতে শক্তিশালী প্রচার।

পরিসংখ্যান বলছে, সাতক্ষীরায় বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার আমের লেনদেন হয়। কিন্তু এই বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে চলে যায়। আম পর্যটন চালু হলে পর্যটক সরাসরি কৃষকের বাগান থেকে আম কিনবেন, যার ফলে কৃষক ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে সরাসরি অর্থের প্রবাহ বাড়বে। এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে একটি সমন্বিত ‘ম্যাঙ্গো করিডোর’ নির্মাণ করা প্রয়োজন। সাতক্ষীরার তালা থেকে শুরু করে কলারোয়া, দেবহাটা ও কালীগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত আম বাগানগুলোকে এক সুতোয় গেঁথে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় রাস্তাঘাট উন্নয়ন, পর্যটকদের জন্য মানসম্মত স্যানিটেশন ও নিরাপদ আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে সাতক্ষীরায় যদি একটি ‘ম্যাঙ্গো ট্যুরিজম ভিলেজ’ স্থাপন করা যায়, যেখানে আমের মিউজিয়াম, আধুনিক হিমাগার এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র থাকবে, তবে এটি বিদেশের আমদানিকারকদেরও আকৃষ্ট করবে।

সবশেষে, সাতক্ষীরার এই আগাম আম কেবল একটি ফল নয়, এটি আমাদের জাতীয় গৌরবের প্রতীক। রাজশাহী বা চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ হলেও সাতক্ষীরার আম বাণিজ্যে ও আধুনিকতায় অনন্য। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে জেলা প্রশাসন, পর্যটন কর্পোরেশন এবং কৃষি বিভাগকে একযোগে কাজ করতে হবে। উন্নত হিমাগার সুবিধা এবং বিমানবন্দর সংলগ্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলে সাতক্ষীরার আম ও পর্যটন শিল্প থেকে প্রতি বছর কয়েক বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব। সাতক্ষীরাকে ‘গ্লোবাল ম্যাঙ্গো হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এখনই সঠিক সময়, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

 

 

 

 

Ads small one

মঞ্চসারথী আতাউর রহমান আর নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ২:১২ পূর্বাহ্ণ
মঞ্চসারথী আতাউর রহমান আর নেই

দেশের প্রখ্যাত নাট্যজন আতাউর রহমান আর নেই। আজ রাত ১১টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা ও নাট্যনির্দেশক অনন্ত হিরা। এর আগে তার মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান জানিয়েছিলেন, তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

অনন্ত হিরা বলেন, “রাত ১১টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এখনো তার মরদেহ হাসপাতালেই রাখা আছে। আগামীকাল শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের জন্য শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাকে দাফন করা হবে।”

আতাউর রহমানের মৃত্যুতে সংস্কৃতাঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে।

বাংলা নাট্যাঙ্গনের এক অবিস্মরণীয় নাম আতাউর রহমান। অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক, সংগঠক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অগ্রসৈনিক—প্রতিটি পরিচয়েই তিনি ছিলেন অনন্য। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের মঞ্চনাটক, টেলিভিশন নাটক ও নাট্যচর্চাকে তিনি শুধু সমৃদ্ধই করেননি, বরং একটি প্রজন্মকে পথও দেখিয়েছেন।

১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীর ফেনীতে জন্মগ্রহণ করেন আতাউর রহমান। শৈশব থেকেই সাহিত্য, অভিনয় ও সংস্কৃতির প্রতি ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করলেও জীবনের প্রকৃত ঠিকানা হিসেবে বেছে নেন নাটককে। ষাটের দশকে তিনি মঞ্চনাটকের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের আধুনিক নাট্যআন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ।

স্বাধীনতা-পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের নাট্যচর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে যাঁরা কাজ করেছেন, আতাউর রহমান তাঁদের অগ্রভাগে ছিলেন। তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক নির্দেশনা ও নাট্যরচনায়ও সমান দক্ষতা দেখান। তাঁর নির্মাণে সামাজিক বাস্তবতা, মানবিক সংকট, রাজনৈতিক অভিঘাত ও মধ্যবিত্ত জীবনের নানা টানাপোড়েন উঠে এসেছে সংবেদনশীল ভাষায়।

মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি ছিল দৃঢ় অথচ সংযত। সংলাপ উচ্চারণ, চরিত্র বিশ্লেষণ এবং অভিনয়ের বুদ্ধিবৃত্তিক গভীরতার জন্য তিনি আলাদা মর্যাদা লাভ করেন। টেলিভিশন নাটকেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ। বিটিভির স্বর্ণালি সময়ে তাঁর অভিনীত অসংখ্য নাটক দর্শকের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়।

নাট্যসংগঠক হিসেবেও তাঁর অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশ সেন্টার অব ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট (BCITI)-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশের নাট্যচর্চাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের প্রশিক্ষণ, নাট্যআন্দোলনের বিস্তার এবং সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশে তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন।

সাহিত্যচর্চাতেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। তাঁর লেখা নাটক, প্রবন্ধ ও রম্যরচনায় সমাজ পর্যবেক্ষণের সূক্ষ্মতা এবং ব্যঙ্গরসের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। ‘ষষ্ঠী তৎপুরুষ’, ‘দুই দুগুণে পাঁচ’ ও ‘মধ্যরাতের জোকস’-এর মতো গ্রন্থ তাঁর সাহিত্যিক পরিচয়কে সমৃদ্ধ করেছে।

শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০০১ সালে একুশে পদক এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি নাটক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

আতাউর রহমানের প্রয়াণে বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গন হারাল এক প্রজ্ঞাবান অভিভাবককে। তাঁর কর্ম, দর্শন ও নাট্যভাষা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

লেবাননে ইসরায়ালি ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরার ২ যুবক নিহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
লেবাননে ইসরায়ালি ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরার ২ যুবক নিহত

পত্রদূত রিপোর্ট: দক্ষিণ লেবাননের জেবদিন নামের এলাকায় একটি বাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী ও একজন সিরীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। সোমবার লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম লরিয়েন্ট টুডে এই তথ্য জানিয়েছে।
নিহতদের একজন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাদপুর গ্রামের আফসার আলী ও আজেয়া খাতুন দম্পতির ছেলে শফিকুল ইসলাম এবং অপরজন আশাশুনির কাদাকাটি গ্রামের মোঃ আব্দুল কাদের ও নুরুন্নাহান খাতুন দম্পত্তির ছেলে নাহিদুল ইসলাম নাহিদ বলে পবিারের সদস্যদের উদ্বৃতি দিয়ে নিশ্চিত করেছেন ভালুকা চাদপুর মডেল হাইস্কালের সহকারী প্রধান শিক্ষক আল কালাম আবু ওয়াহিদ ওরফে বাবলু মাষ্টার।
লেবাননে বাংলাদেশ দুতাবাসের প্রথম সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক শোকবার্তায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে পাওয়া শোকবার্তাটির সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সামাজি যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া শোবার্তায় বলা হয়েছে“ অত্যন্ত দুঃখের সহিত জানানো যাচ্ছে যে, লেবানন প্রবাসী দু’জন রেমিট্যান্সযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম পিতা মোঃ আফসার আলী, মাতা: আজেয়া খাতুন, ঠিকানা: ভালুকা চাঁদপুর, সাতক্ষীরা সদর, সাতক্ষীরা এবং মো নাহিদুল ইসলাম নাহিদ পিতা: মো: আব্দুল কাদের, মাতা: নুরুন্নাহার খাতুন, কাদাকাটি, আশাশুনি, সাতক্ষীরা আজ ১১ মে, ২০ ১২ টায় লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়ের যেবদীন এলাকায় তাদের আবাসস্থলে ইসরায়েলে ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহী ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।)
লেবানন প্রবাসী উপরোক্ত দু’জন রেমিট্যান্সযোদ্ধার মৃত্যুতে বাংলাদেশ দূতাবাস, বৈরুত একই সাথে দু’জন মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। বর্তমানে মরদেহ নাখাতিয়ের নাবিহ বেররী হাসপাতালে রাখা হয়েছে।” শোকবার্তায় স্বাক্ষর করেছেন প্রথম সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন। রাত ১টায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সাতক্ষীরার কোন সরকারী কর্মকর্তার সাথেও নিহতদের পরিচয় সংক্রান্ত বিষয়টি নিশ্চিত করতে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, নিহত তিন ব্যক্তিই ওই এলাকায় কাজ করছিলেন। গতকাল ওই এলাকায় এটি ছিল ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বিতীয় দফা হামলা। এর আগে জেবদিন পৌরসভার একটি রুটি বহনকারী ভ্যানে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। এতে স্থানীয় আরও দুজন বাসিন্দা নিহত হন।
চলতি বছরের ২ মার্চ লেবাননে পুনরায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। তখন থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২ হাজার ৮৬৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৮ হাজার ৭৩০ জন মানুষ।
উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওই যুদ্ধবিরতিতে ইরান-সমর্থিত লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর কোনো উল্লেখ ছিল না। অথচ দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে হিজবুল্লাহরই সরাসরি সংঘর্ষ ও গোলাগুলি চলছে।

পাটকেলঘাটায় ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ভাইয়ের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ভাইয়ের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সহোদরের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার পৃথক অসুস্থতায় ভুগে মারা যান যুগিপুকুরিয়া গ্রামের শহর আলী সরদারের দুই ছেলে আছিরদ্দীন (৫৮) ও মোহাম্মদ আলী (৫০)।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহর আলীর পাঁচ ছেলের মধ্যে বড় ছেলে আছিরদ্দীন গত ২০ দিন ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। সোমবার ভোরে নিজ বাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হয়। বড় ভাইয়ের দাফনের প্রস্তুতি চলাকালেই দুপুর ১২টার দিকে মারা যান সেজ ভাই মোহাম্মদ আলী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন। স্বজনদের দাবি, তাঁর শরীরে একটি টিউমার জটিল আকার ধারণ করে পরবর্তীতে ক্যানসারে রূপ নিয়েছিল।
একই দিনে দুই ভাইয়ের এমন মৃত্যুতে পরিবারটিতে চলছে কান্নার রোল। মৃত আছিরদ্দীনের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অন্যদিকে মোহাম্মদ আলী রেখে গেছেন এক ছেলে ও পাঁচ মেয়েকে। সোমবার বাদ জোহর বড় ভাই আছিরদ্দীনের এবং বাদ মাগরিব সেজ ভাই মোহাম্মদ আলীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের পাশাপাশি দাফন করা হয়।

প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই ভাইয়ের মৃত্যুতে গ্রামে বিষাদময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে সান্ত¡না দিতে ভিড় করছেন আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী।