লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের মধ্যে সাতক্ষীরার ৩ যুবক
পত্রদূত ডেস্ক: লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরার তিন প্রবাসী কর্মী নিহত হয়েছেন। গত সোমবার দুপুরে ও রাতে পৃথক দুটি হামলায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া একই এলাকায় হামলার পর আরও দুই বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহতদের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর, আশাশুনি এবং কলারোয়ায় উপজেলায়।
নিহত ব্যক্তিরা হলেনÑসাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৩৮), আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মো. নাহিদুল ইসলাম (২৬) এবং কলারোয়া উপজেলার শ্রীপ্রতিপুর গ্রামের শুভ কুমার দাস (২৮)।
বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস ও নিহতদের পারিবারিক সূত্র জানায়, সোমবার দুপুরে লেবাননের নাবাতিয়েহ এলাকার জেবদিন গ্রামে শফিকুল ও নাহিদুলের আবাসস্থলে ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁরা নিহত হন। শফিকুল মাস দুয়েক আগে এবং নাহিদুল আড়াই মাস আগে জমি বিক্রি ও ঋণ করে লেবাননে গিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, সোমবার রাতে ওই জেলারই মাইফাদুন এলাকায় ড্রোন হামলায় নিহত হন কলারোয়ার শুভ কুমার দাস। তিনি গত তিন বছর ধরে সেখানে একটি ফলের বাগান দেখাশোনার কাজ করতেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে।
সাতক্ষীরা সদরের শফিকুল ইসলাম ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র পুত্র সন্তান। ১০ লাখ টাকা ঋণ করে গত মার্চে তিনি বিদেশ গিয়েছিলেন। তাঁর দুই মেয়ে তামান্না ও তন্নি মেধাবী ছাত্রী। বড় মেয়ে তামান্না কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আব্বু বলছিলেন আমাকে অনেক পড়াবেন। এখন আমাদের কে দেখবে?’
আশাশুনির নাহিদুল ইসলামের বাবা আবদুল কাদের জানান, শেষ সম্বল জমিটুকু বিক্রি করে ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন। নাহিদুল মাত্র একবার বাড়িতে টাকা পাঠাতে পেরেছিলেন।
বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন জানান, সোমবার রাতে নাবাতিয়েহ এলাকায় আরও একটি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশির আবাসস্থল তছনছ হয়ে গেছে। তাঁরা বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের কারণে তাঁদের মৃত্যু নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর এই ‘জঘন্য হামলার’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত জানান, মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিবারটিকে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কু-ু নিহত নাহিদুলের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত¡না দেন। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত জানান, মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
বর্তমানে তিনজনের মরদেহ নাবাতিয়েহর নাবিহ বেররী হাসপাতালে রাখা হয়েছে। সংঘাতময় লেবাননে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় সাতক্ষীরার প্রবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।









