দালাল নয়, জীবনযোদ্ধা
সচ্চিদানন্দ দে সদয়
বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোর করিডোরে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের ভিড় জমে। কেউ এসেছেন অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসা করাতে, কেউ বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে দৌড়াচ্ছেন এক ওয়ার্ড থেকে আরেক ওয়ার্ডে, কেউবা রিপোর্ট হাতে দাঁড়িয়ে আছেন দীর্ঘ লাইনে। এই ব্যস্ততা, উদ্বেগ আর অস্থিরতার মাঝেই কিছু পরিচিত মুখ প্রতিদিন ঘুরে বেড়ায়Ñকাঁধে ব্যাগ, হাতে ফাইল, মুখে ক্লান্তি, তবু বিনয়ী হাসি। তারা মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ।এই মানুষগুলোর দিকে সমাজের একাংশ এমনভাবে তাকায়, যেন তারা স্বাস্থ্যব্যবস্থার অবাঞ্ছিত কোনো চরিত্র। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রƒপ, অপমান আর “দালাল” শব্দের নির্বিচার ব্যবহার সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। অথচ একটু গভীরভাবে দেখলেই বোঝা যায়Ñএই মানুষগুলো আসলে বাংলাদেশের শ্রমজীবী শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত অংশগুলোর একটি।একজন মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভের দিন শুরু হয় খুব ভোরে। শহর কিংবা জেলাÑযেখানেই হোক, সকাল আটটার আগেই তাকে প্রস্তুত হতে হয়। কারণ তার সামনে অপেক্ষা করে দীর্ঘ এক কর্মদিবস। হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফার্মেসিÑএক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছুটতে ছুটতেই কেটে যায় পুরো দিন। অনেক সময় দুপুরের খাবার খাওয়ারও সুযোগ হয় না। কখনো সিঁড়ির কোণে দাঁড়িয়ে বিস্কুট খেয়ে, কখনো চায়ের দোকানে দুই মিনিট বসে আবার ছুটতে হয়। এই ছুটে চলা কোনো শখের নয়। এর পেছনে থাকে চাকরি টিকিয়ে রাখার লড়াই। থাকে মাস শেষে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার তাগিদ। বাংলাদেশের চাকরির বাজারে আজ সবচেয়ে বড় বাস্তবতার নাম বেকারত্ব। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে বের হওয়া হাজার হাজার তরুণ বছরের পর বছর চাকরির পেছনে ঘুরছেন। কেউ বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কেউ ব্যাংকের পরীক্ষার জন্য কোচিং করছেন, কেউ আবার হতাশ হয়ে বাড়িতে বসে আছেন। এই বাস্তবতায় মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভের চাকরি অনেকের কাছে বেঁচে থাকার শেষ ভরসা হয়ে আসে।এ পেশার অধিকাংশ কর্মীই অনার্স বা মাস্টার্স পাস। অনেকে বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। তাদের অনেকেরই স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হওয়ার, গবেষক হওয়ার, সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার। কিন্তু বাস্তবতা সব সময় স্বপ্নের মতো হয় না। পরিবার চালানোর প্রয়োজন, বাবার অবসর, ছোট ভাইবোনের পড়াশোনা, সংসারের দায়িত্বÑসব মিলিয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে এই পেশায় আসেন। এটা এমন একটি চাকরি, যেখানে চাকরির নিরাপত্তা কম, চাপ বেশি, আর সম্মান সবচেয়ে কম। একজন মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভকে প্রতিদিন টার্গেট পূরণ করতে হয়। মাস শেষে কত বিক্রি হলো, কোন চিকিৎসক কোন ওষুধ লিখলেন, কোন ফার্মেসিতে ওষুধ পাওয়া যাচ্ছেÑসবকিছুর হিসাব দিতে হয়। কোম্পানির চাপ, মার্কেটের প্রতিযোগিতা, চিকিৎসকের সময়ের অভাবÑসবকিছু সামলাতে হয় একসঙ্গে।তবু তারা কাজ করে যান। কারণ তাদের পেছনে থাকে পরিবার।একজন মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ হয়তো রাতে বাসায় ফিরছেন ক্লান্ত শরীরে। কিন্তু বাসায় ঢুকতেই ছোট্ট সন্তান দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে। স্ত্রী অপেক্ষা করে থাকেন রাতের খাবার নিয়ে। বৃদ্ধ মা হয়তো জিজ্ঞেস করেন, “বাবা, খেয়েছিস?” এই মানুষগুলোর জীবনও তো অন্য সবার মতোই। কিন্তু সমাজ তাদের দেখার সময় যেন মানবিকতা ভুলে যায়।বিশেষ করে হাসপাতালে প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আছে। রোগীর গোপনীয়তার বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। কিন্তু এটাও বোঝা দরকার যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রেসক্রিপশন সার্ভের উদ্দেশ্য রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য জানা নয়; বরং বাজারে ওষুধের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।ধরা যাক, একজন চিকিৎসক নতুন একটি ওষুধ লিখলেন। কিন্তু আশপাশের কোনো ফার্মেসিতে সেটি পাওয়া গেল না। তখন সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন রোগীই। এই ব্যবস্থাপনাটিই মূলত সমন্বয় করেন মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভরা। তারা চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন বিশ্লেষণ করে কোম্পানিকে জানান কোন এলাকায় কোন ওষুধের চাহিদা বাড়ছে। এরপর সেই অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত হয়। এখানে রোগীর রোগ নিয়ে কৌতূহল নয়, বরং বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়টিই মুখ্য। তবু যদি কোথাও রোগীর গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হয়, তবে অবশ্যই সেটি নিয়ে নীতিমালা হওয়া উচিত। সচেতনতা বাড়ানো উচিত। কিন্তু সেটির সমাধান অপমান হতে পারে না। আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুব সহজে মানুষকে ছোট করা যায়। কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও, কিছু কটূক্তি, কিছু ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যÑআর মুহূর্তেই একজন মানুষকে “খলনায়ক” বানিয়ে দেওয়া সম্ভব। মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভরাও সেই নির্মম ট্রলের শিকার হয়েছেন। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, অনেকেই তাদের “দালাল” বলেন। কিন্তু প্রশ্ন হলোÑকোন অর্থে তারা দালাল? তারা কি কারও কাছ থেকে ঘুষ নেয়?তারা কি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে?তারা কি মানুষের জমি দখল করে? তারা কি ব্যাংকের টাকা লুট করে বিদেশে পালিয়ে যায়?না।তারা মূলত একটি কোম্পানির পণ্য সম্পর্কে তথ্য চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দেন। পৃথিবীর সব দেশেই এই ব্যবস্থা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের একটি স্বীকৃত অংশ এটি। বাংলাদেশের ওষুধশিল্প আজ দেশের অন্যতম সফল খাত। দেশের চাহিদার বড় অংশ পূরণ করার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজার হাজার শ্রমিক, কর্মকর্তা, গবেষক, ফার্মাসিস্ট, বিপণনকর্মী ও মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ। একটি ওষুধ গবেষণা থেকে বাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে বিশাল একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। নতুন ওষুধের কার্যকারিতা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ব্যবহারবিধিÑএসব তথ্য চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। এই কাজটিই করেন মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভরা। চিকিৎসকেরাও তাদের গুরুত্ব বোঝেন। তাই ব্যস্ততার মাঝেও দুই-তিন মিনিট সময় দেন। কারণ নতুন ওষুধ সম্পর্কে আপডেট তথ্য জানা চিকিৎসাব্যবস্থারই অংশ।অথচ সাধারণ মানুষের চোখে এই পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক সময় ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়। সমস্যা হলো, আমরা পেশাকে বিচার করি বাইরে থেকে। একজন মানুষ সারাদিন কী কষ্ট করে, কী অপমান সহ্য করে, কী চাপের মধ্যে থাকেÑসেগুলো আমরা দেখি না।একজন মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভকে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকতে হয় চিকিৎসকের চেম্বারের বাইরে। কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় অপমানও সহ্য করতে হয়। তবু তিনি হাসিমুখে কথা বলেন। কারণ তার পেশাই তাকে ধৈর্য শিখিয়েছে। এমনও হয়, একজন প্রতিনিধি সারাদিন কাজ করে রাতে বাড়ি ফিরলেন, কিন্তু কোম্পানির টার্গেট পূরণ হয়নি। পরদিন আবার জবাবদিহি। চাকরি হারানোর ভয়। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই জীবন কাটে।বাংলাদেশে লাখ লাখ তরুণ এই পেশায় কাজ করছেন। তাদের বড় অংশই মধ্যবিত্ত বা নি¤œমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তারা চাকরি না করলে হয়তো পরিবার চলবে না। বৃদ্ধ বাবার ওষুধ কেনা হবে না। ছোট ভাইয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি দেওয়া যাবে না। মেয়ের স্কুলের বেতন বাকি পড়ে যাবে। তাই যখন সমাজ তাদের “দালাল” বলে অপমান করে, তখন সেটা শুধু একটি পেশাকে নয়, বরং সংগ্রামী মধ্যবিত্ত জীবনের মর্যাদাকেই আঘাত করে।আমাদের সমাজে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য আছে। আমরা বড় দুর্নীতিবাজদের অনেক সময় সম্মান করি, কিন্তু সৎভাবে পরিশ্রম করা মানুষকে ছোট করি।যে তরুণ সারাদিন ঘুরে, ঘাম ঝরিয়ে, হালাল উপার্জন করে পরিবার চালায়Ñতার প্রতি সহানুভূতির বদলে আমরা বিদ্রƒপ ছুড়ে দিই। অথচ সমাজের আসল শক্তি তারাই। এ কথা ঠিক, সব মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভই ফেরেশতা নন। কোনো পেশাতেই সবাই নিখুঁত নয়। কোথাও অনৈতিকতা থাকলে সেটির সমালোচনা হওয়া উচিত। কিন্তু সমালোচনা আর অপমান এক জিনিস নয়।কোনো ব্যক্তি ভুল করলে তার দায় ব্যক্তির। পুরো পেশার নয়। একইভাবে, কোনো চিকিৎসক ভুল করলে আমরা কি সব চিকিৎসককে অপরাধী বলি? কোনো সাংবাদিক অনৈতিক কাজ করলে কি সব সাংবাদিককে দোষ দিই? তাহলে মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভদের ক্ষেত্রে এই সামষ্টিক অপমান কেন? আসলে আমাদের সমাজে শ্রমের মর্যাদা নিয়ে এখনো সংকট আছে।আমরা চাকরিকে সম্মান করি বেতনের অঙ্ক দেখে, পদবি দেখে, ক্ষমতা দেখে। কিন্তু একজন মানুষ কত কষ্ট করে সৎভাবে উপার্জন করছেন, সেটিকে মূল্য দিই কম। একজন মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ হয়তো মাসে খুব বেশি আয় করেন না। কিন্তু তিনি নিজের শ্রম বিক্রি করেন, বিবেক নয়। এই জায়গাটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।আজকের বাংলাদেশে যেখানে দুর্নীতি, প্রতারণা, কমিশনবাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে প্রতিদিন খবর বের হয়, সেখানে যারা কঠোর পরিশ্রম করে সৎভাবে বাঁচতে চান, তাদের উৎসাহিত করা উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে তারা অবহেলা আর অপমানই বেশি পান। এই পেশার মানুষের মানসিক চাপও কম নয়। সারাক্ষণ লক্ষ্য পূরণের চাপ, চাকরি হারানোর ভয়, মানুষের অবজ্ঞাÑসব মিলিয়ে তারা এক অদৃশ্য মানসিক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যান।তবু তারা হাল ছাড়েন না। কারণ তারা জানেন, তাদের পেছনে একটি পরিবার আছে। সন্তানের ভবিষ্যৎ আছে। বৃদ্ধ মা-বাবার ভরসা আছে।আমরা যখন হাসপাতালে যাই, তখন নিজের কষ্টটাই বড় মনে হয়। সেটি স্বাভাবিক। অসুস্থতার সময় মানুষের ধৈর্য কমে যায়। কিন্তু সেই সময়টাতে যারা কাজ করছেন, তারাও তো মানুষ। তাদেরও ক্লান্তি আছে, কষ্ট আছে, অপমানবোধ আছে। একজন মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভকে হয়তো কেউ রাগ করে কিছু বলে ফেললেন। তিনি প্রতিবাদও করতে পারেন না। কারণ তিনি জানেন, সামান্য ভুল বোঝাবুঝিতেই চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এই নীরব সহনশীলতার গল্পগুলো কখনো খবর হয় না। খবর হয় কেবল বিতর্ক।আমাদের গণমাধ্যমেরও দায়িত্ব আছে। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো একটি পেশাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা হতে পারে না। কারণ এর প্রভাব পড়ে লাখো মানুষের জীবনে। বাংলাদেশে স্বাস্থ্যব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা আছে। চিকিৎসক কম, রোগী বেশি, হাসপাতালের চাপ বেশি। এই পুরো ব্যবস্থার মধ্যে মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভরা একধরনের “মধ্যবর্তী কর্মী” হিসেবে কাজ করেন। তাদের কাজ হয়তো সবার চোখে পড়ে না, কিন্তু তাদের অনুপস্থিতি টের পাওয়া যাবে খুব দ্রুত।
যদি কোনো এলাকায় প্রয়োজনীয় ওষুধ না পৌঁছায়, তার প্রভাব সরাসরি রোগীর ওপর পড়ে। তাই ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখাও জনস্বাস্থ্যের অংশ। একজন মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ হয়তো দিনের শেষে খুব ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফেরেন। কিন্তু মাস শেষে বেতন হাতে পেয়ে যখন মায়ের হাতে বাজারের টাকা তুলে দেন, সন্তানের জন্য নতুন জামা কেনেন, স্ত্রীর ওষুধ কিনে আনেনÑসেই মুহূর্তে তার শ্রমের মর্যাদা তৈরি হয়। এই মর্যাদাটুকু সমাজের কাছ থেকেও তিনি প্রাপ্য।আমাদের মনে রাখতে হবে, মানুষকে সম্মান করা মানে শুধু বড় পদধারীদের সম্মান করা নয়। বরং যারা নীরবে পরিশ্রম করে সমাজকে সচল রাখছেন, তাদের সম্মান করাও সভ্যতার পরিচয়।মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভরা নিখুঁত নন। তাদের কাজের ধরন নিয়েও আলোচনা হতে পারে। নীতিমালা হতে পারে। রোগীর গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়েও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তাদের অমানুষ বানিয়ে ফেলা, “দালাল” বলে অপমান করা কিংবা সামাজিকভাবে হেয় করা কোনো সমাধান নয়।আমরা যদি সত্যিই মানবিক সমাজ চাই, তাহলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। কারণ একজন মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভও এই দেশেরই সন্তান। তিনি কারও ভাই, কারও স্বামী, কারও বাবা। তিনি প্রতিদিন হালাল উপার্জনের জন্য লড়াই করছেন। তার ঘাম, তার পরিশ্রম, তার আত্মসম্মানÑএসবও মূল্যবান। সমাজের প্রতিটি সৎ শ্রমজীবী মানুষ সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখেন।মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভরাও তার ব্যতিক্রম নন। লেখক: সংবাদ কর্মী









