বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরার বাইপাস মোড়ে যেন ‘এক খন্ড কাশ্মীর’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরার বাইপাস মোড়ে যেন ‘এক খন্ড কাশ্মীর’

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রবাদ আছে, ‘আঙ্গুর ফল টক’। শখের বসে বাড়ির আঙিনায় বা ছাদে দু-একটি গাছ লাগিয়ে যখন মিষ্টি ফল পাওয়া যায় না, তখন অনেকেই হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেন। কিন্তু সাতক্ষীরার হেলাল উদ্দীন প্রমাণ করেছেন, অদম্য ইচ্ছা থাকলে উপকূলের মাটিতেও বিদেশের মতো মিষ্টি আঙুর ফলানো সম্ভব। তাঁর বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল, খয়েরি আর সবুজ আঙুর। সাতক্ষীরা শহরের প্রবেশদ্বার লাবসা বাইপাস মোড়ের এই বাগানটি দেখে দর্শনার্থীরা বলছেনÑ এ যেন সাতক্ষীরার বুকে ‘এক খন্ড কাশ্মীর’।

পেশায় ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দীনের শুরুটা হয়েছিল কৌতূহল থেকে। ইউটিউবে আঙুর চাষের ভিডিও দেখে দুই বছর আগে বাড়িতে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি চারা রোপণ করেন তিনি। সেখানে ফলন ভালো ও মিষ্টি হওয়ায় আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় তাঁর। এরপর বাণিজ্যিকভাবে চাষের উদ্দেশ্যে আট মাস আগে ১৫ কাঠা জমি লিজ নেন।

বর্তমানে সেই জমিতেই গড়ে তুলেছেন বিশাল আঙুর বাগান। মাচায় মাচায় নেটের ওপর ছড়িয়ে পড়েছে আঙুরের লতা। হেলাল উদ্দীন জানান, “শুরুতে আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রথম বছরের ফলন বিক্রি করেই সেই টাকা উঠে আসবে বলে আশা করছি। দ্বিতীয় বছর থেকে খরচ না থাকলেও আয় হবে প্রায় ৫ লাখ টাকা।”

তিনি আরও জানান, একটি আঙুর গাছ একবার লাগালে প্রায় ১০০ বছর পর্যন্ত ফল দিতে পারে। সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে তিনি নতুন আরও জমিও প্রস্তুত করছেন।

হেলাল উদ্দীনের এই উদ্যোগের সারথি তাঁর স্ত্রী আলেয়া বেগমও। তিনি মনে করেন, বেকার যুবকরা যদি এভাবে আঙুর চাষে এগিয়ে আসেন, তবে বিদেশ থেকে আর আঙুর আমদানি করতে হবে না। এতে দেশের টাকা দেশে থাকবে এবং পুষ্টির চাহিদাও পূরণ হবে।

বাগানটি দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার নিজে বাগান করার পরামর্শ নিচ্ছেন। দর্শনার্থীরা লতায় লতায় ঝুলে থাকা আঙুরের সমারোহ দেখে মুগ্ধ। তাঁদের মতে, উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখা যায়নি।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, সাতক্ষীরার মাটি বৈচিত্র্যময় ফসলের জন্য উপযোগী। হেলাল উদ্দীনের পাশাপাশি জেলায় আরও একটি বাগান করা হয়েছে। এই পরীক্ষামূলক চাষ পুরোপুরি সফল হলে ভবিষ্যতে জেলায় আঙুর চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেবে কৃষি বিভাগ। প্রয়োজনে বড় অংকের ব্যাংক ঋণের জন্য সুপারিশ করার আশ্বাসও দিয়েছেন এই কর্মকর্তা। সাতক্ষীরার এই আঙুর চাষ শুধু হেলাল উদ্দীনের ভাগ্য বদলের গল্প নয়, এটি দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।

 

Ads small one

সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের উদ্যোগে ৬০ শিক্ষার্থী পেল গাছ ও শিক্ষা সামগ্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের উদ্যোগে ৬০ শিক্ষার্থী পেল গাছ ও শিক্ষা সামগ্রী
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় ৬০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে গাছের চারা ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পরিবেশের প্রতি শিশুদের সচেতনতা তৈরি এবং গাছের পরিচর্যায় তাদের সম্পৃক্ত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় সিলভার জুবিলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের উদ্যোগে ও প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি আব্দুস সামাদ। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাতক্ষীরা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মুনির উদ্দীন, সিলভার জুবিলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চায়না ব্যানার্জী ও সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক আহসানুর রহমান রাজীব।
প্রধান শিক্ষক চায়না ব্যানার্জী বলেন, ৬০ শিক্ষার্থীকে গাছের চারা, খাতা ও কলম দেওয়ায় আমরা আনন্দিত। বর্তমান আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে তা বাঁচিয়ে রাখতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে গাছগুলোর যত্ন নেয়, সে বিষয়ে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তদারকি করা হবে।
চারা পেয়ে শিক্ষার্থী মেহেজাবিন বলেন, গাছ পেয়ে আমার খুব ভালো লাগছে। আমি নিয়মিত পানি দেব এবং গাছটি যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখব।
আরেক শিক্ষার্থী রাফি হাসান বলেন, নিজের হাতে গাছ পেয়ে খুব আনন্দ লাগছে। গাছটি যত্ন করে বড় করব এবং নিয়মিত পানি দেব।
কর্মসূচিতে সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সদস্য আসাদুজ্জামান সরদার (বাংলা ট্রিবিউন), আলী মুক্তাদা হৃদয় (হৃদয় বার্তা), রিজাউল করিম (দ্য এডিটরস), ইব্রাহিম খলিল (ঢাকা পোস্ট), মৃত্যুঞ্জয় রায় অপূর্ব (বার্তা২৪), হাবিবুল হাসান, মেহেদী হাসান শিমুল এবং ভিবিডি সাতক্ষীরার সভাপতি সাজেদুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকেরা বলেন, শিশুদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি এবং গাছ লাগানো ও পরিচর্যার অভ্যাস গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য। শিক্ষার্থীদের হাতে গাছ তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের পরিবেশ সংরক্ষণে সম্পৃক্ত করা এবং সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ দল থেকে দুই প্রবাসীসহ ৭ জন বাদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ দল থেকে দুই প্রবাসীসহ ৭ জন বাদ

ফিফা আসিয়ান কাপকে সামনে রেখে জাতীয় দলের অনুশীলন চলছে। এতে স্থানীয় খেলোয়াড় ছাড়াও বংশোদ্ভূতরাও রয়েছেন। কোচ টমাস ডুলি তাদেরকে নানানভাবে পরখ করছেন। আপাতত তার প্রাথমিক দল থেকে ৭ জন খেলোয়াড় বাদ পড়েছেন।

জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন দুই প্রবাসী ইয়াসার ও দেবজিতসহ কাজেম শাহ, ঈসা ফয়সাল, তাজ উদ্দিন, রাহুল ও স্বাধীন।

জাতীয় দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় প্রথম আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের খেলার সূচি প্রকাশ করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও পাকিস্তান।

প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া। ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় ম্যাচটি শুরু হবে। খেলা হবে গেলোরা বান কার্নো স্টেডিয়ামে। দুই দিন পর ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ম্যাচ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। একই মাঠে একই সময়ে ম্যাচটি শুরু হবে।

বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। ১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ম্যাচটি শুরু হবে। খেলা হবে গেলোরা বান কার্নো স্টেডিয়ামে।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা মারা গেছেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৩ অপরাহ্ণ
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা মারা গেছেন

কারাগারে আটক বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা সন্ধ্যা রাণী ধর (৭১) মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সন্ধ্যা রাণী ধর। তার বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার ক্যানসার শনাক্ত হয়। গত বুধবার রাতে তাকে হাসপাতাল থেকে পুণ্ডরিক ধামে নিয়ে আসা হয়।

তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী সবার ছোট। গুরুতর অসুস্থ মাকে দেখতে কারাগারে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে প্যারোলে মুক্তি দিতে বুধবার কারা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করেছিল পরিবার।

চিন্ময়ের বড় ভাই রঞ্জন কুমার ধর বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন মায়ের মরদেহ নিয়ে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছি। সেখান থেকে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নিয়ে আমার ভাইয়ের প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করবো। আমাদের মায়ের শেষকৃত্য হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে সম্পন্ন হবে।’

পুণ্ডরিক ধাম সূত্রে জানা গেছে, ধর্মীয় আচারাদি পালন শেষে এখানেই সন্ধ্যা রাণী ধর-কে (শ্রীমতি সখী রসমঞ্জুরী মাতাজি) সমাধি দেওয়া হবে।