শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আগেই ‘কর্মী নিয়োগ’, বেতনহীন দুই শতাধিক যুবক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আগেই ‘কর্মী নিয়োগ’, বেতনহীন দুই শতাধিক যুবক

সংবাদদাতা: আনুষ্ঠানিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুই শতাধিক ‘পরিবেশকর্মী’ নিয়োগ ও কাজ করানোর মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এনজিও ব্যুরো সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ‘ড্যাফ বাংলাদেশ’-এর বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন কাজ করলেও এসব কর্মীর অধিকাংশই কোনো বেতন পাননি বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি দেশের দুটি জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকে সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘পরিবেশকর্মী’ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সংস্থাটি। গত ৩০ এপ্রিল প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ১০ মে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৭ থেকে ৮ মাস আগেই দুই শতাধিক বেকার যুবক-যুবতীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাদের যোগদান করানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে মাসিক ১৪ হাজার টাকা বেতন এবং আবেদনপত্রের সঙ্গে ২০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও, মোট কতজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং বেতন চালু হলে আরও এক লক্ষাধিক টাকা দেওয়ার চুক্তিতে তাদের যোগদান করানো হয়েছিল।

পিরোজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমার মন্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমার বিদ্যালয়ে গত তিন মাস ধরে একজন পরিবেশকর্মী কাজ করছে, কিন্তু সে কোনো বেতন পায়নি। যোগদানের সময় সে শুধুমাত্র পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি ছাড়পত্র দেখিয়েছিল, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদনের কাগজ দেখাতে পারেনি।”

এ বিষয়ে ড্যাফ বাংলাদেশ-এর সাতক্ষীরা রিজিওনাল অফিসার প্রীতিষ রায় বলেন, “িিনয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে যেসব প্রতিষ্ঠানে পরিবেশকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো অবৈধ। সেখানে যদি কোনো আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে, তার দায়ভার ড্যাফ বাংলাদেশ নেবে না।” তবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কার নির্দেশে এবং কীভাবে এই কর্মীরা এতদিন ধরে বিদ্যালয়গুলোতে কাজ করলেনÑসে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

যোগাযোগ করা হলে সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, “বিভাগীয় কর্মকর্তার সুপারিশকৃত একটি চিঠি নিয়ে ড্যাফ বাংলাদেশের লোকজন অফিসে এসেছিলেন। আমি শুধু বিভাগীয় অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করার কথা বলেছিলাম। কর্মীরা স্কুল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবে, এটুকুই জানানো হয়েছিল। তবে এর সাথে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই।”

স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই জালিয়াতির ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এবং প্রতারিত বেকার যুবকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

 

Ads small one

না-এ কোনও ইতিহাস নয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
না-এ কোনও ইতিহাস নয়

মারিয়া নূর
কয়েক মিলিয়ন কষ্টের বরাদ্দ নেওয়া ছিলো
আগেই, অনেক আগেই।
এখন আর বাড়তি দেনার দায় নেই ভাগ্যলিপিতে।
সুখেরা তো বরাবরই মুখচোরা
তাই আর ঘাঁটাতে চাইনি ওদের নতুন করে।

ফিরে যাওয়া বসন্তের আক্ষেপ পত্রে
অভিযোগ ছিলো – অপয়া মুখদর্শনের।
এখন দফায় দফায় হাজিরা চলে
জজকোর্ট থেকে হাইকোর্টের বারান্দায়।

সানগ্লাসটা ছোট হতে হতে
এখন মোটা ফ্রেমের চশমায় পরিনত।
চোখের নিচে বয়সের পাটিগণিত।
নামতা ভুলে গেছি সেই কবে;
উপপাদ্য বা সম্পাদ্য যাই বলো
সকল সুত্রের কারসাজিতে এখন
চোখ রাঙানি দেখি ভীষণ রকম।

যারা একসময় স্বপ্নের পরিচয়ে
চোখের সমুদ্রে খেলতো গোল্লাছুট;
বৃদ্ধ বটের নুয়ে পড়া তর্জনী আঁকড়ে
ওরাও ঝুলে থাকে অলস দুপুরে।

এখন আর দিবাকরের হৃদপি-ে কামড় দিয়ে
রোদ চুরি করে না কেউ।

না – এ কোনও ইতিহাস নয়;
রবীঠাকুরের ছোট গল্প? না তাও না।
এ হলো সেই চমকপ্রদ উপন্যাস
যার বিশেষ ক’টা পৃষ্ঠা অলক্ষেই অন্তর্ধান।

নবান্ন ও চন্দ্রাহত একজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
নবান্ন ও চন্দ্রাহত একজন

বাবুল চৌধুরী
খোলা চুলে বাইরে এসো না এই ঘোর পূর্ণিমা-রাতে
সনাতন চাঁদ আকাশে সওয়ার চাঁদের জোয়ার, তাই
জোছনায় আহত হতে পারো আমিও চন্দ্রগ্রস্থ বলে
এক শ’ বছর পেছনে তাকাই অথবা তারও বেশি
সময়ের উল্টো স্রোতে, তোমার মুখে দেখি দীঘল
ফসলের মাঠ, চুলে খরতর নদী, ও শাড়ির জমিনে
জড়ানো স্থির অথবা অনেক উড়ন্ত ফিঙের ডানা,
আঁচলে আদরে আগলে রেখেছ নাকি ধান স্বর্ণালী!
আরেক মানবীর মতো তখন তুমি, যে মুখ বহু বছর
আগে দেখেছি – সে ছন্দে নাচে, উঠোনে হেসে যায়

এখনি ঢেঁকির শব্দ উঠবে, ঢেঁকিতে পড়ছে তার পা
স্বপ্নের ভেতর তার ছন্দিত পা দেখি, ধান ভাঙা হলে
এখনই দেবে সে নবান্নের ডাক, এখন চাঁদের মতো
সব থালা ভরবে নতুন খাদ্য-কণায়, নিরন্ন লোকালয়

নবান্নের সাড়া পেয়ে যায়, আকাশে চাঁদের জোয়ার –
এ নবান্নে নিমগ্ন আমি – খোলাচুলে বাইরে এসো না

সুখের দিনে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১১ পূর্বাহ্ণ
সুখের দিনে

ফাহিম শাহরিয়ার রুমি
সুখের দিনে কেন এ হৃদয়
নিভৃতে কাঁদিতে চায়?
হাসির আড়ালে কার যেন বেদনা
নীরবে ভাসিয়া যায়।

রৌদ্রঝলমল প্রভাত-আকাশে
স্বর্ণরেখা খেলে যায়,
তবু মোর চিত্তে অকারণ ছায়া
নিভৃত ব্যথা বুনে যায়।

সবাই যখন গাহে আনন্দগান,
মিলন-সুরে মাতে প্রাণ,
আমি কেন শুনি বিরহের বীণা
অশ্রুর মৃদু তান?

ফুলে ভরা এ জীবনের বাগান,
গন্ধে ভরে চারিধার,
তবু কেন যেন মলিন হইয়া
ঝরে পড়ে অন্তর-হার।

হায়, সুখের মাঝে লুকায়ে থাকে
দুঃখের অচেনা রূপ,
মানব-হৃদয় তাই চিরদিন
বিরোধে গাঁথা এক সুরূপ।