শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

হজযাত্রীরা আজ মক্কা থেকে মিনায় যাত্রা করবেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
হজযাত্রীরা আজ মক্কা থেকে মিনায় যাত্রা করবেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পবিত্র হজ পালনের জন্য প্রস্তুত বিশ্বের হজযাত্রীরা। গোটা মক্কা নগরী এখন হজযাত্রীমুখর। আজ রোববার থেকেই শুরু হচ্ছে আনুষ্ঠানিকতা। এদিন পবিত্র মক্কা থেকে হজের নিয়তে এহরাম বেঁধে তাঁবুর নগরী মিনার উদ্দেশে রওনা দেবেন লাখ লাখ হজযাত্রী। আগামীকাল সোমবার (৮ জিলহজ) সেখানে নির্ধারিত তাঁবুতে অবস্থান নিয়ে ইবাদত-বন্দেগি করবেন সবাই। পর্যায়ক্রমে ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের মাধ্যমে মূল আনুষ্ঠানিকতাসহ ১২ জিলহজ পর্যন্ত হজের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন তারা।

সূত্রমতে, সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে এবারের হজ অনুষ্ঠানের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি সরকার। অভ্যন্তরীণ ছাড়াও বাংলাদেশসহ বিশ্ব থেকে ১৫ লক্ষাধিক হজযাত্রী ইতোমধ্যে দেশটিতে পৌঁছেছেন।

এদিকে এবার পবিত্র হজ পালনের জন্য ৭৯ হাজার ১৬৪ জন (ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ) বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার ৪৬৪ জন এবং বেসরকারি মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯২৬ জন হজ পালন করবেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বুলেটিন সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে গিয়ে এ পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জন পুরুষ ও সাতজন মহিলা। মক্কায় ১৫ জন ও মদিনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার হজযাত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (৬১) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

মক্কায় অবস্থানরত ‘কাজী হজ কাফেলার’ পরিচালক কাজী রফিকুল ইসলাম গতকাল শনিবার আমার দেশকে বলেন, হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করার জন্য আমরা সবাই প্রস্তুত হয়ে আছি। রোববার সন্ধ্যার পর থেকে বাসযোগে হজ যাত্রীরা মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে মিনার উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে সোমবার অবস্থান করবেন সবাই। ওইদিন রাত থেকেই আবার পবিত্র আরাফাত ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবেন হজযাত্রীরা। মঙ্গলবার ৯ জিলহজ সেখানে অবস্থান ও হজের খুতবা শোনার মধ্য দিয়ে মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। তবে পরবর্তী সময়ে ১২ জিলহজ পর্যন্ত মুজদালিফায় রাতযাপন, মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, কোরবানি, তাওয়াফে জিয়ারতসহ অন্যান্য কার্যক্রম আদায় করবেন সবাই।

তিনি আরো জানান, প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ার কারণে সবাইকে খুব সাবধানে চলাফেরা করতে হচ্ছে। তাছাড়া এখন পর্যন্ত হজযাত্রীদের তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না। সৌদি গেজেট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার প্রেস ব্রিফিংয়ে সৌদি আরবের জননিরাপত্তা পরিচালক এবং হজ নিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আল-বাসামি জানিয়েছেন, হজের ধর্মীয় উদ্দেশের পরিপন্থী কোনো কার্যকলাপের জন্য তারা হজ মৌসুমকে অপব্যবহার করতে দেবে না। ভুয়া হজ যাত্রীদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ঘোষণার পাশাপাশি হজ মৌসুমে দায়িত্ব পালনে হজ নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণ প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

আল-বাসামি প্রকাশ করেন যে, কর্তৃপক্ষ দেশব্যাপী ২১৭টিরও বেশি ভুয়া হজ অভিযান নস্যাৎ করেছে এবং বাসস্থান, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারী সাত হাজার ৭৩৩ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে, যারা অবৈধভাবে মক্কায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। কর্তৃপক্ষ মক্কার প্রবেশপথগুলোতে তিন লাখ ৬৬ হাজার অননুমোদিত ব্যক্তিকে প্রবেশ করতে দেয়নি এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহনে ব্যবহৃত হাজার হাজার অননুমোদিত যানবাহন আটক করেছে।

তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ের সূচকগুলো গত বছরের তুলনায় নিয়ম পালনে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখিয়েছে, যার মধ্যে লঙ্ঘনকারী ও নির্বাসিতের সংখ্যা ৪৪ শতাংশ, ভুয়া হজ প্রচারণা ১২ শতাংশ এবং বাসস্থান ও সীমান্ত বিধি সংক্রান্ত লঙ্ঘন ৩৩ শতাংশ হ্রাসের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। দেশটির পাসপোর্ট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ড. সালেহ আল-মুরব্বা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত বিদেশ থেকে ১৫ লাখ ১৮ হাজারেরও বেশি হজযাত্রী পৌঁছেছেন, যার মধ্যে ১৪ লাখ ৫৭ হাজারেরও বেশি বিমানবন্দর দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেন।

এদিকে আরব নিউজ সূত্রে জানা গেছে, হজ মৌসুমে মক্কায় তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মদিনায় ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত আর্দ্রতা এবং খোলা জায়গায় ধুলি উড়ানো বাতাসের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ সময় পানিশূন্যতা এড়াতে হজযাত্রী ও ভ্রমণকারীদের প্রচুর পরিমাণে তরল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র হজের খুতবা বাংলায় অনুবাদ করবেন চার বাংলাদেশি

এদিকে পবিত্র হজের খুতবা চলতি বছরও বাংলাসহ বিশ্বের ৫০টি ভাষায় অনুবাদ ও সম্প্রচার করা হবে। এর মাধ্যমে টানা সপ্তমবারের মতো বাংলা ভাষায় হজের খুতবা শুনতে পারবেন বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানরা। সৌদি আরবের পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর তত্ত্বাবধানকারী জেনারেল প্রেসিডেন্সির অধীনে পরিচালিত এ কার্যক্রমে এবার বাংলা অনুবাদ দলের দায়িত্ব পালন করবেন চার বাংলাদেশি। তারা হলেন ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান, ড. আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান, মুবিনুর রহমান ফারুক এবং নাজমুস সাকিব।

জানা গেছে, অনুবাদ কার্যক্রমে যুক্ত চারজনই মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। বাংলা বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান। তিনি জানান, আরাফাতের ময়দান থেকে প্রচারিত হজের খুতবা বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে সম্প্রচার করা হবে। অনুবাদ কার্যক্রমে পুরো দল অংশ নিলেও উপস্থাপনায় সাধারণত দুজন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এর আগে একাধিকবার হজের খুতবার বাংলা অনুবাদ উপস্থাপনা করেছেন।

Ads small one

সাতক্ষীরায় ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

সংবাদদাতা: গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই ঘোষণাপত্র কার্যকরের দাবিতে দেশব্যাপী ঘোষিত ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় কলারোয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা চত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি মো. জুবায়ের হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক জেলা সভাপতি মো. জিয়ারুল ইসলাম জিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মো. নাজমুল ইসলাম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা অফিস সম্পাদক নাহিদ হাসান, জেলা অর্থ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, জেলা মাদ্রাসা সম্পাদক, জেলা বিজ্ঞান সম্পাদক ফয়সাল হোসেন, জেলা সহকারী অফিস সম্পাদক আহসান হাবীব ইমরোজ, কলারোয়া পৌর সভাপতি মোস্তাকিম বিল্লাহ, কলারোয়া পূর্ব সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, কলারোয়া পশ্চিম সভাপতি আবু রায়হানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শহীদ ও আহত ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের বিনিময়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তাই শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি না করে অবিলম্বে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

তারা আরও বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে ছাত্র-জনতা আবারও জুলাই অভ্যুত্থানের মতো ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। ছাত্র-জনতা পুনরায় মাঠে নামলে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে বলেও বক্তারা মন্তব্য করেন।

সমাবেশে বক্তারা গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই ঘোষণাপত্র দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়ে এসব দাবিতে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জি এম নূর ইসলামের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জি এম নূর ইসলামের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি এবং মাসজিদে কুবার উদ্যোগে দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক, মাসজিদে কুবা ও সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভাপতি জি এম নূর ইসলামের দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বাদ জুমা মাসজিদে কুবা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা তৈয়ব হাসান। সঞ্চালনা করেন মসজিদের ইমাম মাওলানা মাহমুদুর রহমান। দোয়া পরিচালনা করেন প্রবীণ আলেম ও মসজিদের উপদেষ্টা হযরত মাওলানা মো. রজব আলী।
এ সময় বক্তব্য দেন মাসজিদে কুবার সহ-সভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান। বক্তারা বলেন, জি এম নূর ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা, সামাজিক উন্নয়ন এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
দোয়া মাহফিলে মসজিদ কমিটির সদস্যবৃন্দ, সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত সপ্তাহে জি এম নূর ইসলামকে ঢাকার ধানমন্ডিস্থ পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
দোয়া মাহফিল থেকে তাঁর দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করা হয়।

বুদ্ধির খেলা দাবা/ প্রকাশ ঘোষ বিধান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
বুদ্ধির খেলা দাবা/ প্রকাশ ঘোষ বিধান

প্রকাশ ঘোষ বিধান

দাবা খেলা মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী একটি ব্যায়াম। এটি মানুষের চিন্তাশক্তি, স্মৃতিশক্তি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়িয়ে মানসিক বিকাশ ঘটায় এবং মনকে গভীরভাবে শাণিত করে। নিয়মিত দাবা খেললে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়। এটি মানুষের দূরদর্শিতা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

দাবা মস্তিষ্কের উন্নতি সাধন করে, একাগ্রতা ও মনোযোগ বৃদ্ধি করে। দাবায় প্রতিপক্ষের পরবর্তী চাল অনুমান করতে ও নিজের কৌশল সাজাতে গভীর মনোযোগের প্রয়োজন হয়, যা দৈনন্দিন জীবনের অন্যান্য কাজেও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। বিভিন্ন চাল ও প্যাটার্ন মনে রাখার ফলে স্মৃতিশক্তি প্রখর হয় এবং আইকিউ বা বুদ্ধাঙ্ক বাড়াতে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। দাবা খেলা শেখায় ঘোড়া, হাতি, মন্ত্রী ইত্যাদি দিয়ে সর্বোচ্চ কৌশল প্রয়োগ করতে হয়, যা বিশ্লেষণাত্মক ও যৌক্তিক চিন্তাশক্তি উন্নত করে।

প্রতি বছর ২০ জুলাই আন্তর্জাতিক দাবা দিবস পালিত হয়। ১৯২৪ সালের এই দিনে ফ্রান্সের প্যারিসে আন্তর্জাতিক দাবা ফেডারেশন গঠিত হয়। পরবর্তীতে ইউনেস্কো এর প্রস্তাবে ১৯৬৬ সাল থেকে ফিডে-এর উদ্যোগে দিনটি বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয়ে আসছে।

দাবা হলো প্রাচীন ও জনপ্রিয় একটি কৌশলগত বোর্ড গেম। ৬৪ খোপের একটি বোর্ডে দুজন খেলোয়াড় বিপরীত রঙের গুটি সাদা ও কালো গুটি দিয়ে খেলেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নিজের রাজাকে সুরক্ষিত রেখে প্রতিপক্ষের রাজাকে এমনভাবে ফাঁদে ফেলা, যাতে পালানোর কোনো পথ না থাকে। দাবায় দুই খেলোয়াড়ের কাছে মোট ৩২টি ঘুঁটি থাকে। প্রতিটি গুটির চাল আলাদা। সৈন্য: সামনে সোজা এক ঘর যায়। প্রথম চালে দুই ঘরও যেতে পারে, কিন্তু অন্য গুটিকে কোণাকোণি মারে। নৌকা: সোজা বা পাশাপাশি যত ঘর খুশি যেতে পারে। ঘোড়া: এল আকারে আড়াই ঘর চলে এবং অন্য ঘুঁটির ওপর লাফিয়ে যেতে পারে। হাতি: কোণাকোণি যত ঘর খুশি চলতে পারে। মন্ত্রী: সোজা, পাশাপাশি ও কোণাকোণি যত ঘর খুশি যেতে পারে। রাজা: সব দিকে এক ঘর চলতে পারে।

দাবা খেলায় প্রতিটি চাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভুল চালের কারণে পুরো ম্যাচ হারতে হতে পারে। দাবায় কেবল নিজের চাল দিলেই চলে না, প্রতিপক্ষের পরবর্তী সম্ভাব্য চালগুলো কী হতে পারে তা আগে থেকেই অনুমান করতে হয়। তাই খেলোয়াড়কে দীর্ঘ সময় বোর্ডের দিকে সম্পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখতে হয়। মানুষের দূরদর্শিতা এবং চিন্তাভাবনার ক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

দাবা বোর্ডের প্রতিটি পরিস্থিতি একেকটি জটিল সমস্যা। সীমিত সময়ের মধ্যে এবং মানসিক চাপের মুখে দাঁড়িয়ে সেরা সমাধানটি খুঁজে বের করতে হয়। এই অভ্যাস বাস্তব জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়।
একটি দাবা ম্যাচ দীর্ঘসময় ধরে চলতে পারে এবং এতে হার-জিত দুটোই থাকে। এটি খেলোয়াড়দের ধৈর্য ধরতে এবং পরাজয় মেনে নিয়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এটি দৈনন্দিন জীবনেও কোনো কাজে গভীরভাবে মনোনিবেশ করার ক্ষমতা বাড়ায়।
ধৈর্য ও আবেগ নিয়ন্ত্রণদাবা খেলা হুট করে জেতা যায় না, এর জন্য প্রচুর ধৈর্যের প্রয়োজন। অনেক সময় প্রতিপক্ষের ফাঁদে পড়েও মাথা ঠান্ডা রেখে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে হয়। এটি মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্যশীল থাকার মানসিকতা তৈরি করে।

দাবা খেলাকে কেবল একটি ইনডোর গেম বা বিনোদন হিসেবে দেখলে ভুল হবে, এটি মূলত মস্তিষ্কের একটি চমৎকার ব্যায়াম। নিয়মিত দাবা খেললে মানসিক ক্ষমতার বহুমুখী বিকাশ ঘটে এবং মন শাণিত হয়।

মস্তিষ্কের বাম অংশ যুক্তি ও গণিত নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডান অংশ সৃজনশীলতা ও প্যাটার্ন চেনার কাজ করে। দাবা খেলার সময় খেলোয়াড়কে যেমন হিসাব-নিকাশ করতে হয়, তেমনি নতুন চালের পরিকল্পনা ও বোর্ডের রূপরেখা কল্পনা করতে হয়। ফলে মস্তিষ্কের উভয় অংশের সমন্বয় ঘটে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দাবা খেললে মস্তিষ্কের কার্যকারী স্মৃতিশক্তি শক্তিশালী হয় এবং আলঝেইমার্স বা স্মৃতিভ্রমের মতো রোগ প্রতিরোধে এটি সাহায্য করে। নিয়মিত দাবা খেললে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়। এটি মানুষের দূরদর্শিতা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট