শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য চুক্তি কি ভেস্তে দিতে পারে ইসরায়েল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য চুক্তি কি ভেস্তে দিতে পারে ইসরায়েল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তেহরানের সঙ্গে যেকোনও চূড়ান্ত চুক্তির শর্ত হিসেবে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়ার দাবিতে অটল থাকবেন। রবিবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।

শনিবার রাতে দুই নেতার মধ্যকার ফোনালাপের বরাত দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া এবং ইরানি ভূখণ্ড থেকে সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার দীর্ঘদিনের দাবিতে তিনি আলোচনায় অবিচল থাকবেন। এই শর্তগুলো পূরণ না হলে তিনি কোনও চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন না।’

তবে ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স এবং তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনও ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো তেহরান সফরের পর শনিবার ট্রাম্প বলেছিলেন যে, যুদ্ধ অবসানের জন্য ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি ‘মোটামুটি চূড়ান্ত হয়ে গেছে’ এবং এখন শুধু তা আনুষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এর পরেই মূলত পারমাণবিক বিষয় নিয়ে এই ভিন্নধর্মী তথ্য সামনে এলো।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শনিবার বলেছেন, পারমাণবিক বিষয়টি প্রাথমিক কোনও রূপরেখার অংশ ছিল না। এটি পরবর্তী পর্যায়ে ‘পৃথক আলোচনার বিষয়’ হিসেবে থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরান যুদ্ধের সূত্রপাত করা ইসরায়েল এখানে একটি চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার ভূমিকা নিতে পারে। এর আগে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছিল, ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে ইরানের পারমাণবিক নথিপত্র মার্কিন প্রশাসনের দেখভালের পদ্ধতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্টার কেএএন একটি ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির মধ্যে কোনও যোগসূত্র তৈরি হতে পারে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নেতানিয়াহু।

ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, ‘প্রথমে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ঘোষণা করা হবে, যেখানে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে লড়াই বন্ধের ওপর জোর দেওয়া হবে।’ এতে আরও বলা হয়, ‘এই ব্যবস্থার অধীনে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে ইসরায়েলও লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

ইরানি গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে যে, তেহরান প্রথমে একটি সমঝোতা স্মারক বা এক ধরনের রূপরেখা চুক্তি তৈরি করতে চায়, যার পরবর্তী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হবে। তবে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থা মনে করে যে ‘ইরানিরা মূলত সময়ক্ষেপণ করছে এবং ৬০ দিন পর তেহরান কোনও ধরনের ছাড় দিতে তাদের অনীহার কথা জানিয়ে দেবে।’

এই পরিস্থিতির মধ্যেই, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনায় অগ্রগতির খবরের মধ্যে রবিবার সন্ধ্যায় ইসরায়েলি নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের বৈঠক বসার কথা রয়েছে বলে কেএএন জানিয়েছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের একটি বিবৃতির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ওয়াশিংটন চলমান আলোচনা সম্পর্কে তেল আবিবকে প্রতিনিয়ত অবহিত রাখছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার রাতে ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপকালে নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইসরায়েল ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যেকোনও হুমকির বিরুদ্ধে তাদের নিজস্ব পদক্ষেপ নেওয়ার স্বাধীনতা বজায় রাখবে।’

এদিকে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যে চুক্তিটি গড়ে উঠছে তা অত্যন্ত ‘খারাপ’। সূত্রটি চ্যানেলটিকে বলে, এটি মূলত এই বার্তাই দেয় যে হরমুজ প্রণালি হলো ‘ইরানের হাতে থাকা একটি অস্ত্র, যা কোনও পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়ে কম কার্যকর নয়’।

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, চুক্তির খসড়ায় শর্ত রাখা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ইরান বা তার মিত্রদের ওপর আক্রমণ করবে না এবং এর বিনিময়ে ইরানও তাদের ওপর কোনও আগাম বা প্রতিরোধমূলক হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ বেনি গান্তজ বলেছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়া ইসরায়েলের জন্য একটি কৌশলগত ভুল হবে, যেখানে যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও তেল আবিব এখনও বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে এই সব আলোচনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন যে, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ফোনালাপ ‘খুব ভালো’ হয়েছে।

আর রবিবার নেতানিয়াহু সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, তিনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে যেকোনও চূড়ান্ত চুক্তিতে পারমাণবিক হুমকি দূর করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পারমাণবিক হুমকি দূর করার অর্থ হলো, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা বা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং দেশটির ভূখণ্ড থেকে সব সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান সরিয়ে নেওয়া।

তবে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে তেহরান তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হস্তান্তর করতে রাজি হয়নি।

ওই সূত্র মতে, ‘পারমাণবিক ইস্যুটি মূলত একটি চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনায় সমাধান করা হবে এবং সে কারণে এটি বর্তমান চুক্তির অংশ নয়। ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার বা স্থানান্তরের বিষয়ে কোনও ধরনের চুক্তি বা সমঝোতা হয়নি।’

ততক্ষণে ট্রাম্প আবার নিজের অবস্থান কিছুটা পাল্টে ফেলেছেন। ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ‘সুশৃঙ্খল ও গঠনমূলকভাবে অগ্রসর হচ্ছে’ বলে দাবি করলেও তেহরানের সঙ্গে চুক্তি করার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের তাড়াহুড়ো না করতে নিজের প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই তথ্য জানিয়েছেন।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি আমার প্রতিনিধিদের চুক্তির জন্য তাড়াহুড়ো না করতে জানিয়ে দিয়েছি এবং সময় এখন আমাদের পক্ষেই রয়েছে।’

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

Ads small one

সাতক্ষীরায় ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

সংবাদদাতা: গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই ঘোষণাপত্র কার্যকরের দাবিতে দেশব্যাপী ঘোষিত ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় কলারোয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা চত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি মো. জুবায়ের হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক জেলা সভাপতি মো. জিয়ারুল ইসলাম জিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মো. নাজমুল ইসলাম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা অফিস সম্পাদক নাহিদ হাসান, জেলা অর্থ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, জেলা মাদ্রাসা সম্পাদক, জেলা বিজ্ঞান সম্পাদক ফয়সাল হোসেন, জেলা সহকারী অফিস সম্পাদক আহসান হাবীব ইমরোজ, কলারোয়া পৌর সভাপতি মোস্তাকিম বিল্লাহ, কলারোয়া পূর্ব সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, কলারোয়া পশ্চিম সভাপতি আবু রায়হানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শহীদ ও আহত ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের বিনিময়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তাই শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি না করে অবিলম্বে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

তারা আরও বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে ছাত্র-জনতা আবারও জুলাই অভ্যুত্থানের মতো ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। ছাত্র-জনতা পুনরায় মাঠে নামলে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে বলেও বক্তারা মন্তব্য করেন।

সমাবেশে বক্তারা গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই ঘোষণাপত্র দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়ে এসব দাবিতে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জি এম নূর ইসলামের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জি এম নূর ইসলামের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি এবং মাসজিদে কুবার উদ্যোগে দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক, মাসজিদে কুবা ও সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভাপতি জি এম নূর ইসলামের দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বাদ জুমা মাসজিদে কুবা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা তৈয়ব হাসান। সঞ্চালনা করেন মসজিদের ইমাম মাওলানা মাহমুদুর রহমান। দোয়া পরিচালনা করেন প্রবীণ আলেম ও মসজিদের উপদেষ্টা হযরত মাওলানা মো. রজব আলী।
এ সময় বক্তব্য দেন মাসজিদে কুবার সহ-সভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান। বক্তারা বলেন, জি এম নূর ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা, সামাজিক উন্নয়ন এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
দোয়া মাহফিলে মসজিদ কমিটির সদস্যবৃন্দ, সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত সপ্তাহে জি এম নূর ইসলামকে ঢাকার ধানমন্ডিস্থ পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
দোয়া মাহফিল থেকে তাঁর দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করা হয়।

বুদ্ধির খেলা দাবা/ প্রকাশ ঘোষ বিধান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
বুদ্ধির খেলা দাবা/ প্রকাশ ঘোষ বিধান

প্রকাশ ঘোষ বিধান

দাবা খেলা মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী একটি ব্যায়াম। এটি মানুষের চিন্তাশক্তি, স্মৃতিশক্তি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়িয়ে মানসিক বিকাশ ঘটায় এবং মনকে গভীরভাবে শাণিত করে। নিয়মিত দাবা খেললে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়। এটি মানুষের দূরদর্শিতা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

দাবা মস্তিষ্কের উন্নতি সাধন করে, একাগ্রতা ও মনোযোগ বৃদ্ধি করে। দাবায় প্রতিপক্ষের পরবর্তী চাল অনুমান করতে ও নিজের কৌশল সাজাতে গভীর মনোযোগের প্রয়োজন হয়, যা দৈনন্দিন জীবনের অন্যান্য কাজেও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। বিভিন্ন চাল ও প্যাটার্ন মনে রাখার ফলে স্মৃতিশক্তি প্রখর হয় এবং আইকিউ বা বুদ্ধাঙ্ক বাড়াতে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। দাবা খেলা শেখায় ঘোড়া, হাতি, মন্ত্রী ইত্যাদি দিয়ে সর্বোচ্চ কৌশল প্রয়োগ করতে হয়, যা বিশ্লেষণাত্মক ও যৌক্তিক চিন্তাশক্তি উন্নত করে।

প্রতি বছর ২০ জুলাই আন্তর্জাতিক দাবা দিবস পালিত হয়। ১৯২৪ সালের এই দিনে ফ্রান্সের প্যারিসে আন্তর্জাতিক দাবা ফেডারেশন গঠিত হয়। পরবর্তীতে ইউনেস্কো এর প্রস্তাবে ১৯৬৬ সাল থেকে ফিডে-এর উদ্যোগে দিনটি বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয়ে আসছে।

দাবা হলো প্রাচীন ও জনপ্রিয় একটি কৌশলগত বোর্ড গেম। ৬৪ খোপের একটি বোর্ডে দুজন খেলোয়াড় বিপরীত রঙের গুটি সাদা ও কালো গুটি দিয়ে খেলেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নিজের রাজাকে সুরক্ষিত রেখে প্রতিপক্ষের রাজাকে এমনভাবে ফাঁদে ফেলা, যাতে পালানোর কোনো পথ না থাকে। দাবায় দুই খেলোয়াড়ের কাছে মোট ৩২টি ঘুঁটি থাকে। প্রতিটি গুটির চাল আলাদা। সৈন্য: সামনে সোজা এক ঘর যায়। প্রথম চালে দুই ঘরও যেতে পারে, কিন্তু অন্য গুটিকে কোণাকোণি মারে। নৌকা: সোজা বা পাশাপাশি যত ঘর খুশি যেতে পারে। ঘোড়া: এল আকারে আড়াই ঘর চলে এবং অন্য ঘুঁটির ওপর লাফিয়ে যেতে পারে। হাতি: কোণাকোণি যত ঘর খুশি চলতে পারে। মন্ত্রী: সোজা, পাশাপাশি ও কোণাকোণি যত ঘর খুশি যেতে পারে। রাজা: সব দিকে এক ঘর চলতে পারে।

দাবা খেলায় প্রতিটি চাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভুল চালের কারণে পুরো ম্যাচ হারতে হতে পারে। দাবায় কেবল নিজের চাল দিলেই চলে না, প্রতিপক্ষের পরবর্তী সম্ভাব্য চালগুলো কী হতে পারে তা আগে থেকেই অনুমান করতে হয়। তাই খেলোয়াড়কে দীর্ঘ সময় বোর্ডের দিকে সম্পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখতে হয়। মানুষের দূরদর্শিতা এবং চিন্তাভাবনার ক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

দাবা বোর্ডের প্রতিটি পরিস্থিতি একেকটি জটিল সমস্যা। সীমিত সময়ের মধ্যে এবং মানসিক চাপের মুখে দাঁড়িয়ে সেরা সমাধানটি খুঁজে বের করতে হয়। এই অভ্যাস বাস্তব জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়।
একটি দাবা ম্যাচ দীর্ঘসময় ধরে চলতে পারে এবং এতে হার-জিত দুটোই থাকে। এটি খেলোয়াড়দের ধৈর্য ধরতে এবং পরাজয় মেনে নিয়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এটি দৈনন্দিন জীবনেও কোনো কাজে গভীরভাবে মনোনিবেশ করার ক্ষমতা বাড়ায়।
ধৈর্য ও আবেগ নিয়ন্ত্রণদাবা খেলা হুট করে জেতা যায় না, এর জন্য প্রচুর ধৈর্যের প্রয়োজন। অনেক সময় প্রতিপক্ষের ফাঁদে পড়েও মাথা ঠান্ডা রেখে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে হয়। এটি মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্যশীল থাকার মানসিকতা তৈরি করে।

দাবা খেলাকে কেবল একটি ইনডোর গেম বা বিনোদন হিসেবে দেখলে ভুল হবে, এটি মূলত মস্তিষ্কের একটি চমৎকার ব্যায়াম। নিয়মিত দাবা খেললে মানসিক ক্ষমতার বহুমুখী বিকাশ ঘটে এবং মন শাণিত হয়।

মস্তিষ্কের বাম অংশ যুক্তি ও গণিত নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডান অংশ সৃজনশীলতা ও প্যাটার্ন চেনার কাজ করে। দাবা খেলার সময় খেলোয়াড়কে যেমন হিসাব-নিকাশ করতে হয়, তেমনি নতুন চালের পরিকল্পনা ও বোর্ডের রূপরেখা কল্পনা করতে হয়। ফলে মস্তিষ্কের উভয় অংশের সমন্বয় ঘটে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দাবা খেললে মস্তিষ্কের কার্যকারী স্মৃতিশক্তি শক্তিশালী হয় এবং আলঝেইমার্স বা স্মৃতিভ্রমের মতো রোগ প্রতিরোধে এটি সাহায্য করে। নিয়মিত দাবা খেললে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়। এটি মানুষের দূরদর্শিতা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট