সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রক্তে লেখা প্রতিরোধের ইতিহাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ
রক্তে লেখা প্রতিরোধের ইতিহাস

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন বাংলার ইতিহাসে ছাত্রসমাজ বারবার সময়ের সন্ধিক্ষণে নেতৃত্ব দিয়েছে। ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রাম প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে তরুণ সমাজের ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান। ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এই তিনটি অধ্যায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে গভীরভাবে আলোচিত।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান : স্বাধিকার আন্দোলনের জাগরণ
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালির রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং গণতান্ত্রিক দাবির এক বিস্ফোরণ। আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ১১ দফা দাবি উত্থাপন করে। ধীরে ধীরে শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ এই আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হন। ঢাকার রাজপথে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামানের মৃত্যু আন্দোলনকে আরও বেগবান করে। “আসাদের শার্ট” হয়ে ওঠে প্রতিবাদের প্রতীক। গণআন্দোলনের চাপে শেষ পর্যন্ত আইয়ুব খান ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। এই আন্দোলন পরবর্তীতে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি তৈরি করে। ১৯৬৯ সালের আন্দোলনের মূল বৈশিষ্ট্য ছাত্রসমাজের ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব গণমানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তি নির্মাণ

১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান : স্বৈরাচারবিরোধী গণজাগরণ
১৯৯০ সালের আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দীর্ঘদিনের সামরিক শাসন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ জনগণ একযোগে আন্দোলনে নামে। তৎকালীন সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ঢাকার রাজপথে মিছিল, সমাবেশ এবং হরতালের মধ্য দিয়ে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। নূর হোসেনের আত্মত্যাগ আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে। তাঁর বুকে লেখা ছিল “স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক।” অবশেষে প্রবল গণচাপের মুখে রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে এবং দেশে গণতান্ত্রিক ধারার নতুন অধ্যায় শুরু হয়। ১৯৯০ সালের আন্দোলনের তাৎপর্য বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম ছাত্র-জনতার ঐক্যের শক্তি প্রকাশ নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের দাবির উত্থান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গণআন্দোলনের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন : নতুন প্রজন্মের ক্ষোভ ও প্রত্যাশা
২০২৪ সালের আন্দোলন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে ব্যাপক আলোচিত একটি অধ্যায়। মূলত সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে তা বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দেয়। ছাত্ররা দাবি করে, মেধা ও সমতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি এবং সড়ক অবরোধ দেখা যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, সংঘর্ষ, গুলি ও সহিংসতায় বহু মানুষ আহত এবং কয়েকশত নিহত হন। এসব ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি হয়। সরকারি পক্ষ থেকে বলা হয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করেছে। একইসাথে পরিস্থিতি শান্ত করতে সংলাপ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়।

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের এই আন্দোলনের পেছনে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ১. চাকরির সীমিত সুযোগ দেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণের সংখ্যা বাড়লেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক সীমিত। ফলে চাকরিতে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত তীব্র হয়ে ওঠে। ২. মেধাভিত্তিক প্রত্যাশা ছাত্রসমাজের একটি বড় অংশ মনে করে, নিয়োগে স্বচ্ছতা ও সমতা নিশ্চিত করা জরুরি। ৩. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব ফেসবুকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আন্দোলন সংগঠিত ও দ্রুত বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ৪. আবেগ ও ক্ষোভের বিস্তার কিছু স্থানে সংঘর্ষ, আহত ও মৃত্যুর ঘটনার পর আন্দোলন আরও আবেগপ্রবণ রূপ নেয়। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলো বিগত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচন মেনে না নেওয়ায় চরম ক্ষোভে ছাত্রদের আন্দোলনে তারা সংযুক্ত হয়।

আহত ও নিহতের বেদনা
প্রতিটি গণআন্দোলনের মতো ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহেও সাধারণ পরিবারগুলো গভীর কষ্টের মুখোমুখি হয়। অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কেউ চোখ হারিয়েছেন, কেউ স্থায়ী শারীরিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। আবু সাঈদসহ নিহতদের পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা যে কোনো মতবিরোধ যেন সংলাপ, সহনশীলতা ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায়।

তিন গণঅভ্যুত্থানের তুলনামূলক প্রেক্ষাপট : বিষয়: ১৯৬৯, ১৯৯০, ২০২৪। নেতৃত্ব-ছাত্রসমাজ, ছাত্র ও রাজনৈতিক জোট, ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণ। মূল দাবি: স্বাধিকার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, কোটা সংস্কার ও সমঅধিকার, আন্দোলনের ধরন, গণবিক্ষোভ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ক্যাম্পাসভিত্তিক থেকে দেশব্যাপী বিস্তার। প্রতীক, আসাদ, নূর হোসেন ও আবু সাঈদ। তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ ফলাফল, স্বাধীনতার ভিত্তি, গণতান্ত্রিক ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জাতীয় পর্যায়ে নীতিগত আলোচনা।

উপসংহার
বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্রসমাজ সবসময় পরিবর্তনের অগ্রভাগে থেকেছে। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান স্বাধীনতার স্বপ্ন জাগিয়েছে, ১৯৯০-এর আন্দোলন গণতন্ত্রের পথ খুলেছে এবং ২০২৪ সালের আন্দোলন নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা ও নাগরিক সচেতনতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আলোচিত হয়েছে। তবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো সহিংসতা নয়, শান্তিপূর্ণ সংলাপ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই একটি জাতিকে সামনে এগিয়ে নেয়। রাষ্ট্র, সরকার, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজ সব পক্ষের দায়িত্ব হলো এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে তরুণদের কণ্ঠ শোনা হবে এবং একইসাথে দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় থাকবে। লেখক: সাবেক ব্যাংকার

Ads small one

আমার বিশ্বাস ছিল, আমি মাসুদ রানা হবো: রাসেল রানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
আমার বিশ্বাস ছিল, আমি মাসুদ রানা হবো: রাসেল রানা

বাঙালি পাঠকের হৃদয়ে রোমাঞ্চের ঝড় তোলা সেবা প্রকাশনীর কালজয়ী স্পাই চরিত্র ‘মাসুদ রানা’ এবার আসছে রূপালী পর্দায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর নানামুখী অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আগামী ঈদুল আজহায় দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত এই সিনেমাটি।

গতকাল (২৪ মে) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিনেমাটির প্রথম অফিসিয়াল পোস্টার প্রকাশ ও আনুষ্ঠানিক প্রচারণার ঘোষণা দেওয়া হয়। জমকালো এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে নিজের দীর্ঘ জার্নি ও অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সিনেমার মূল চরিত্র ‘মাসুদ রানা’ অর্থাৎ অভিনেতা রাসেল রানা।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রাসেল রানা বলেন, “আপনারা সবাই জানেন যে মাসুদ রানা সবাই লুকিয়ে লুকিয়ে পড়তো এবং মুরুব্বিদের সাথে এখানে কিছু ঝামেলা ছিল। তো, আমার বাবাও আমাকে পড়তে দিত না। আমার বাবা মাসুদ রানার অনেক বড় ফ্যান ছিল। উনি মাসুদ রানার বই পড়তেন এবং আমাদের বাসায়ও মাসুদ রানার বই ছিল। আমি দেখতাম ওই বইগুলো, বাট আমি ওইভাবে পড়তাম না কারণ আমি ফ্যান ছিলাম হচ্ছে ঐ কিশোর উপন্যাস বা টিন উপন্যাসের।”

 

জেমস বন্ডের প্রতি নিজের ভালোলাগার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “জেমস বন্ডের আমি অনেক বড় ফ্যান ছিলাম এবং জেমস বন্ডের মুভিগুলো দেখেই আমি বড় হয়েছি—পিয়ার্স ব্রসনান থেকে শুরু করে ড্যানিয়েল ক্রেইগ পর্যন্ত। ওনাদের মুভিগুলো দেখার পর আমি যখন জানতে পারলাম যে আমাদের বাংলাদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স, বিসিআই-এর একজন এজেন্ট হচ্ছে এই মাসুদ রানা ক্যারেক্টার এবং সে হচ্ছে বাংলাদেশের বলতে গেলে জেমস বন্ড, তো তখন আমার আগ্রহটা তিন থেকে চার গুণ বেড়ে যায় যে না, আমার মাসুদ রানার সবগুলো বই পড়তে হবে।”

‘কে হবে মাসুদ রানা’ রিয়েলিটি শো-র মাধ্যমে এই পথচলার শুরুটা মনে করিয়ে দিয়ে রাসেল রানা বলেন, “আমি বেশ কিছু বই পড়ি। পড়ার পর বেশ কয়েক বছর কেটে যায়। হঠাৎ একদিন দেখলাম ‘কে হবে মাসুদ রানা?’। এটা দেখার পর আমি টোটালি অ্যামেজড—ও মাই গড! মানে, আমি মাসুদ রানার এত বড় ফ্যান, আর এই রিয়েলিটি শোটা হচ্ছে মাসুদ রানাকে খোঁজার জন্য! সো, আই থিংক দিস ইজ দ্য টাইম।”

 

সব প্রতিকূলতা জয় করার গল্প শুনিয়ে তিনি বলেন, “সবকিছু শেষ করে, প্রতিকূলতা পার করে, ফাইনালি আমি সিলেক্ট হই। তো, আমার বিশ্বাস ছিল যে আমি মাসুদ রানা হব। এরপর বেশ কয়েক বছর কেটে যায়, আমরা মুভিটা শুরু করি এবং ফাইনালি আমরা মাসুদ রানা কমপ্লিট করতে পারি।”

নিজের ভেতরের আত্মবিশ্বাস আর স্বপ্নের মঞ্চে দাঁড়ানোর অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি সবসময় আয়নার সামনে দাঁড়াই এবং নিজেকে বলি যে তোমাকে করতে হবে, তুমি পারবে। এই জিনিসটা আমি সবসময় নিজেকে বলি। তো, আজকেও আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এই কথাটাই বলেছি যে এই মঞ্চে, এই পোডিয়ামের সামনে দাঁড়াতে পারাটা অনেক দিনের একটা স্বপ্ন ছিল। আজকে আমি এখানে দাঁড়াতে পারছি, এজন্য আসলে আমি অনেক ইমোশনালি ওভারহোয়েল্মড এবং ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না যে কী বলবো। যা মুখে আসছে, যতটুকু কথা বলতে পারছি, আমি বলছি। আর যেহেতু এটা আমার ফার্স্ট মুভি, সো আমার মনে হয় যে কথাগুলো গুছিয়ে বলতে পারছি না।”

 

পোস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে রাসেল রানা বলেন, “আপনারা দেখতে পাচ্ছেন যে আমার যেটা স্বপ্ন ছিল, এই পোস্টারের মাধ্যমে আমার স্বপ্নটা আমার সামনে দেখতে পাচ্ছি। এবং ইনশাল্লাহ আগামী ঈদে এই মুভিটা রিলিজ হতে যাচ্ছে। আশা করি মুভিটা আপনাদের সবার ভালো লাগবে।”

প্রসঙ্গত, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন সৈকত নাসির। সিনেমাটিতে নামভূমিকায় রাসেল রানা ছাড়াও ‘সোহানা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা চেরি এবং ‘অবনিতা’ চরিত্রে দেখা যাবে সৈয়দা তিথি অমনিকে।

উল্লেখ্য, সিনেমাটির প্রথম অফিশিয়াল পোস্টারটি তৈরি করা হয়েছে সেবা প্রকাশনীর সেই চেনা ক্লাসিক বইয়ের প্রচ্ছদের আদলে, যা পাঠকদের মাঝে নতুন করে নস্টালজিয়া তৈরি করেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ছবিটি আগামী ঈদুল আজহায় দেশের বড় বড় প্রেক্ষাগৃহ ও মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে একযোগে মুক্তি পাবে।

সংসারবিরাগী, ভবঘুরে ‘লাইলি খালা’র গানে মুগ্ধ নেটিজেনরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
সংসারবিরাগী, ভবঘুরে ‘লাইলি খালা’র গানে মুগ্ধ নেটিজেনরা

খালি পায়ে হেঁটে বেড়ান, কাজ তার মানুষ দেখা। হাটবাজারে, যেখানে জনসমাগম সেখানে ভবঘুরে হয়ে ঘুরে বেড়ান। ফরিদপুর শহরে সকলেই চেনে তাকে ‘লাইলি খালা’ নামে। গতকাল নজরুল জয়ন্তীতে ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথির বাইরে মঞ্চে উঠে গান গেয়ে মুগ্ধ করেছেন। ফরিদপুরের মানুষ তার গানের সঙ্গে পরিচিত হলেও নেটিজেনরা যেন চিনলেন গতকালের এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।

জীর্ণ শাড়িতে, তিনি গাইছেন নজরুলের ‘নয়নভরা জল গো তোমার…’। তার গায়কি ও কণ্ঠে মুগ্ধ দেশের নামি-দামি শিল্পী ও সুধীজনরা। অনেকেই তার পোস্টটি শেয়ার করে লিখছেন নানা মুগ্ধতার কথা। কিন্তু তিনি কি এসব জানেন? লাইলি খালা সম্পর্কে বিস্তারিত জানালেন ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মফিজ ইমাম মিলন।

এক কন্যা ও এক পুত্রের জননী লাইলি সংসারত্যাগী মানুষ। সন্তানরা বড় হয়ে গেছে। সংসার হয়েছে তাদের। কিন্তু লাইলি সংসারে ফেরেননি। কথিত আছে, কোনও ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়াই তিনি পায়ে হেঁটে প্রায়ই চলে যান আজমীর শরীফে।

মফিজ ইমাম মিলনের সঙ্গে তার পরিচয়, যখন মিলন ২০০০-২০০৮ সালে শিল্পকলা একাডেমির সেক্রেটারি ছিলেন। তখন প্রায়ই এই নারীকে দেখতে পেতেন, সাহায্যের জন্য আসতে। তার গান শুনে মুগ্ধও হয়েছিলেন তিনি। শিল্পকলা একাডেমিতে যেখানে গানের চর্চা হতো, সেখানে চুপচাপ বসে থাকতে দেখা যেত লাইলিকে। মিলনের সহযোগিতায় ওস্তাদরাও তাকে সহযোগিতা করতেন। খুব অল্প সময়েই হারমোনিয়াম শিখে নিয়েছিলেন লাইলি।

“আমি প্রায়ই বলতাম, আপনি এভাবে রাস্তায় রাস্তায় হাঁটেন, দেখে তো খারাপ লাগে। লাইলি বলতেন, ‘আমি মানুষ দেখি, দুনিয়াতে কত রকমের মানুষ। এত মানুষ, কারো সঙ্গে কারো মিল নাই, মানুষ দেখতে আমার ভাল্লাগে।’ তিনি নূরজাহান, মেহেদী হাসান কিংবা লতা মঙ্গেশকরের গান এমনভাবে গেয়ে শোনাবেন, আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন।”

তার গানের ভক্ত হয়ে উঠেছেন ফরিদপুরের সংসদ সদস্যরাও। ২ এপ্রিল ফরিদপুর হেরিটেজ শীর্ষক এক আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ। ছিলেন সংসদ সদস্যরাও। তাদের উপস্থিতিতে গান গেয়ে মঞ্চ মাতিয়ে রেখেছিলেন ‘লাইলি খালা’। সে ধারাবাহিকতায় নজরুল জয়ন্তীতেও তার ডাক আসে।

ফরিদপুরে অবস্থিত উপমহাদেশের রাজনীতির আঁতুড়ঘর বলে খ্যাত ময়েজ মঞ্জিল, যেখানে নজরুলও এসেছিলেন, সেখানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নজরুলের দুটি গান পরিবেশন করেন লাইলি। তার গানের ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পোস্টটি শেয়ার করেছেন সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকেই। শেয়ার করেছেন, আনু মুহাম্মদ, সংগীতশিল্পী মৌসুমী ভৌমিক, শারমিন সুলতানা সুমি, সাংবাদিক মুন্নি সাহাসহ অনেকেই।

ভাইরাল পোস্টের নিচে কমেন্টবক্সে কেউ লিখেছেন, “লাইলি খালার গলা অসাধারণ। শুধুমাত্র দারিদ্র্যের কষাঘাতে উনি কোথাও সুযোগ পেলেন না।” কেউ লিখেছেন, “কতটা প্রেম, কতটা ভালোবাসা থাকলে কাজী নজরুলের কবিতা এভাবে বুকের ভিতর লালন-পালন করা যায়।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন খান পলাশ, নাট্যকার-শিক্ষক ড. অনুপম হায়াৎ, প্রবীণ সাংবাদিক ও ইতিহাসবিদ বদিউজ্জামান চৌধুরী, ফরিদপুর ফাউন্ডেশনের গোলাম মহিউদ্দিন মুন্না ও জেলা জিয়ামঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবক প্রফেসর এম এ সামাদ।

ছুটির দিনে প্রশাসনের তিন কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে সচিব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
ছুটির দিনে প্রশাসনের তিন কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে সচিব

 

প্রশাসনের তিন অতিরিক্ত সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে সচিব করা হয়েছে। ছুটির দিন সোমবার (২৫ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ফারাহ শাম্মীকে পদোন্নতি দিয়ে সচিব দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) হিসেবে পদায়ন করা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাসির উদ দৌলাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে পদোন্নতি দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে।

অপরদিকে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।