রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রাকৃতিক রসগোল্লা লিচু/ মোঃ কায়ছার আলী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ
প্রাকৃতিক রসগোল্লা লিচু/ মোঃ কায়ছার আলী

মোঃ কায়ছার আলী

“ঝড়ের দিনে মামার দেশে আম কুড়াতে সুখ, পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ।” পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের এ কাব্যকথাগুলো মনে পড়লেই মনটা ছুটে যায় সেই ছোট্ট বেলায়। পাকা ফুলের মধুর রস সত্যিই সুন্দর, সুস্বাদু যা মন ও হৃদয়কে জুড়িয়ে দেয়। পল্লীকবির প্রতি শত শ্রদ্ধা রেখেই লিখছি যদি তিনি আমাদের এই দিনাজপুরের সদর উপজেলার মাশিমপুর গ্রামে অথবা বিরল উপজেলায় মাধববাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করতেন তবে অবশ্যই লিচুকে নিয়ে হয় তোবা একখানা অমর কবিতা লিখতেন এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

 

সুস্বাদু ও মজাদার এ লিচু দিনাজপুরের বিরল, সদরসহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি উপজেলায় আবাদ হচ্ছে। হামরা দিনাজপুরিয়ারা এই লিচুকে ভালবেসে বলি ‘প্রাকৃতিক রসগোল্লা’। স্বাদ আর বর্ণের জন্য দিনাজপুরের লিচুর ব্যাপক চাহিদা। এমনকি নিকট প্রতিবেশী দেশগুলো থেকেও ক্রেতারা আসেন দিনাজপুরের লিচুর বাজারে। বাংলাদেশের লিচু বলতে দিনাজপুরের লিচু অতুলনীয়। বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ এই দুই মাস গরমকাল। ঋতুচক্রে গরমকাল হলেও ফলের বিবেচনায় এই মাসকে বলা হয় ‘মধু ঋতু’।

 

জ্যৈষ্ঠ মাস হল মধু মাস। মধু মাসে কত ফলই না হলে গাঁয়ের এ বাগানে-ও বাগানে, এ বাড়িতে-ও বাড়িতে। গ্রীষ্মের গরম উপেক্ষা করে লিচু হাতে পেলে মানুষ ভুলে যায় অসহ্য গরমের যন্ত্রণা। লিচু পুষ্টি এবং স্বাদে এত মজা যার তুলনা অন্য কোন ফলের সাথে করা যায়না কেননা বিভিন্ন ফলের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ এবং এর ভেষজ মূল্য এক এক রকম। এক এক জেলা এক এক ফলের জন্য বিখ্যাত। যা মাটির উপর নির্ভর করে। মাটি হল পৃথিবীর উপরিভাগের একটি আস্তরণ যা প্রাণি ও উদ্ভিদের পুষ্টি জোগায় ও বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।

 

এই মাটির উৎপত্তি হয়েছে টারশিয়ারী যুগের শিলা, প্লাইস্টোসিন যুগের সোপান এবং সাম্প্রতিক কালের পলল থেকে। জেলা শহরের চারদিকে বিশেষ করে দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে গ্রামগুলোতে ছড়িতে আছে বিভিন্ন শস্যের চাষাবাদের সুসমতল কৃষি শ্যামল উর্বর বিস্তৃত কৃষিক্ষেত্র। জনপদ মাত্রই কিছু কিছু অর্থনৈতিক সম্পদ ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রভূমি। সুন্দর প্রাকৃতিক শোভায় এই জেলা অতি মনোমুগ্ধকর। কিন্তু সে সৌন্দর্য বৈচিত্র্যহীন ও অবিচ্ছিন্ন। কারণ এ জেলায় কোন পাহাড়-পর্বত, মরু প্রাপ্তর, হৃদ বা বৃহৎ জলাভূমি নেই।

 

তবে এ জেলায় রয়েছে মাটির সমতল বুক চিড়ে প্রবাহিত অনেক চঞ্চল গতি ক্ষীণকায় নদী বস্তুত নির্জন নিবিড় বনময় মুগ্ধ প্রকৃতির কোলে অবস্থিত হয়েও এবং দূর পল্লীর বিচ্ছিন্ন পরিবেশেও মাধববাটি বা মাশিমপুর বরাবর একটি স্বনামধন্য গ্রাম। স্বর্গীয় সম্পদেও বৈশিষ্ট্যে ভরপুর এ গ্রামের মানুষেরা হাজার হাজার একর জমি লিচু আবাদ করে সারাদেশ বাসীকে এক মায়ার জালে বেঁধে ফেলেছে। এ গ্রামের লিচু চাষীরা তাদের যোগ্যতা ও মেধার বিকাশ ঘটিয়েছে। জাতীয় ফল কাঁঠাল, ফলের রাজা আম অবশ্যই পুষ্টিকর ও উপাদেয় ফল। লিচু সম্পর্কে লিখতে গেলে মনের অজান্তে কেন জানি লিখতে ইচ্ছে করে লিচু হল ফলের রাণী।

 

জানিনা তা বলা ঠিক হবে কি না? তবে এটা আমার ব্যক্তিগত মত । মতান্তর থাকতে পারে। লিচু হল বিশ্বের সবচেয়ে রোমান্টিক এবং উপকারী ফল। প্রায় দুই হাজার বছর থেকে এ ফলটি এ মর্যাদা পেয়ে আসছে। বিশ্বে প্রথম ফল চাষের বই লেখা হয়েছিল ১০৫৬ সালে, সেটিও ছিল লিচুকে নিয়ে। বিশ্বে অনেক রাজা বাদশাহ রাণী-বেগমদের মন জয় করতে যুগে যুগে লিচু ফল উপহার দিয়েছেন। অষ্টম শতকে চীনা সম্্রাট হুয়ান সাংও একই কাজ করে বেগমের মন জয় করেছিলেন। দক্ষিন চীন থেকে লিচু বয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন সূদুর উত্তর চীনে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে লিচুর চাষাবাদ শুরু হয়। লিচুর আছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

 

তা ব্রেস্ট ক্যানসার নিরাময়ে সহায়তা করে থাকে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হার্ট ভালো রাখে। এতে পাওয়া যায় অলিগনাল নামক বিশেষ উপাদান। তা নাইট্রিক অ্যাসিড উৎপাদন করে। এ অ্যাসিড Vasodialator –এর কাজ করে। মানে, ব্লাড ভেসেল এক্সপান্ড করে দেয়। ফলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। কমে হৃদয়ের ওপর চাপ এবং হৃদয় ভালো থাকে। লিচু শরীরের রক্তচাপও ঠিক রাখে। হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটাতে লিচু দারুন দারুণ কাজ করে। চোখে সহজেই ছানি পড়তে দেয় না লিচুতে থাকা ফাইটো কেমিক্যাল থেকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এতে থাকা অ্যান্টি নিওপ্লাসমিক প্রপার্টি তৈরি হয় বলে কোস বিভাজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে চোখে ছানি পড়ে না।

 

ইনফ্লুয়েনঞ্জা হওয়ার প্রধান কারণ হলো বিভিন্ন ভাইরাস। দেখা গেছে, ইনফু¬য়েঞ্জা হলে লিচু খেলে তা দ্রুত সেরে যায়। শুধু তা-ই নয়, লিচু থেকে এ অসুখের ওষুধ তৈরি করা যায় কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুতে আছে ৬৬ ক্যালরি। এ ছাড়া আছে ফাইবার। তা চর্বি গলাতে সাহায্য করে। তাই যারা ওজন কমাতে চান, তারা ডায়েটে অবশ্যই লিচু রাখুন। লিচুতে আছে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘সি’। ফলে আমাদের শরীরে ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে। কারোর স্কার্ভি হলে লিচু খেলে তা সেরে যায়।

 

স্কার্ভি ভিটামিন ‘সি’ ডেফিসিয়েন্সি থেকে হয়ে থাকে। বিজ্ঞানীরা নানা জাতের লিচু উদ্ভাবন করেছেন। বর্তমানে ইশ্বরদীতে আম-লিচুতে কীটনাশকের পরিবর্তে চার্জওয়াটার নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করে বিষমুক্ত ফল উৎপাদনে চাষীরা সাফল্য ভাল করেছে। জার্মানী থেকে আমদানী করা এই প্রযুক্তি বাংলাদেশে এ বছরই প্রথম পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করা হয়। আর তাতে সফলতা আসায় নতুন এ প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের মাঝে। কৃষিবিদরা বলেছেন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ কমবে তেমনি কীটনাশকমুক্ত সবজিও ফল উৎপাদনে এ প্রযুক্তি সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন স্থানীয় কৃষক ও কর্মকতারা।

 

প্রচন্ড দাবদাহে লিচু ফেটে নষ্ট হয়ে ঝড়ে পড়া আবার পোকার আক্রমণ তো আছেই। এ সবের হাত থেকে রেহাই পেতে লিচু চাষীরা ব্যবহার করেন বিভিন্ন রকমের কীটনাশক। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কীটনাশকের চেয়ে প্রায় নব্বই ভাগ খরচ কম বিষমুক্ত এই প্রযুক্তিতে শুধুমাত্র পানিকে নিক্কন ওয়াটার মেশিনের মাধ্যমে চার্জ করে সেই পানি ব্যবহার করা হয় লিচু ও আমগাছে। এই স্প্রে করার ফলে ইশ্বরদীতে গতবার লিচু ঝরে পড়েনি, পোকা লাগেনি, পচেনি বা ফাটেনি।

 

এই আশাতীত সাফল্যে ঢাকার বে কনসোর্টিয়াম লিমিটেডের জি.এম (টেকনিক্যাল) জার্মান ও সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন বাগান দেখে এসে এবং অনুপ্রাণিত হয়ে এই প্রযুক্তি বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। জার্মান বিজ্ঞানী ড. কার্লোস আবিষ্কৃত খাবার সমতুল্য পানি নিক্কন ওয়াটার মেশিনের চার্জ পদ্ধতি আজ লিচু চাষীদের জন্য এক মাইলফলক। এই পদ্ধতিতে স্প্রে কারীর শ্বাস-প্রশ্বাসের বা স্বাস্থ্যের ক্ষতি, গাছের ফলন রক্ষা, মাটির উপরিভাগের উপকারী কীটপতঙ্গ রক্ষা, জলবায়ু ও পরিবেশসহ সবকিছু স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়।

 

শুধুমাত্র ইশ্বরদীতে নয় সারাদেশে এই আধুনিক পদ্ধতিতে ছড়িতে দিতে হবে। লাভজনক বা অর্থকারী ফল প্রাকৃতিক রসগোল্লা লিচু আমাদের দিনাজপুরের গর্ব ও অহঙ্কার। তাই এর যথাযথ আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতির ব্যবহার আরো বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে লিচু চাষীদের উন্নত মানের সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ কোর্স সরকারিভাবে দেওয়া যেতে পারে। সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় লিচু সংরক্ষণের জন্য আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহার আজ জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দিনাজপুরের লিচু এদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।

লেখকঃ শিক্ষক, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট
০১৭১৭-৯৭৭৬৩৪, kaisardinajpur@yahoo.com

Ads small one

পাইকগাছায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আলোচনা সভা

তালা প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও তীব্র তাপদাহের ফলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও সম্পদ প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই ক্ষতি মোকাবিলা এবং অভিযোজনের জন্য উন্নত ও দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিবছর ৩১০ থেকে ৩৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ আদায় করে তা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বন্টন করতে হবে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রোববার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার পাইকগাছায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘প্রকৃতির জন্য অনুপ্রাণিত। জলবায়ুর জন্য। আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘অ্যাওসেড’ ও ‘পাইকগাছা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরাম’ যৌথভাবে এই সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করে।
পাইকগাছা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন পাইকগাছা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরামের সভাপতি অখিল চন্দ্র ম-ল। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাওসেড-এর হেড অব প্রোগ্রাম শংকর রঞ্জন সরকার এবং মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সংস্থার নলেজ ম্যানেজমেন্টের টিম লিডার মোসালাউদ্দিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অ্যাওসেড-এর উপ-নির্বাহী পরিচালক হেলেনা খাতুন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য, শ্যামাপদ ম-ল, নুরুন্নাহার পারভীন, শেখ জুলি, সুভাষ চন্দ্র ম-ল, নুর ইসলাম গাজী, মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডা. বাসুদেব রায় ও মানিক ভদ্র। আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় শহীদ এম. এ. গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চারটি ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়।

দেবহাটায় চুরির সন্দেহে শিশুকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় চুরির সন্দেহে শিশুকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেবহাটায় চুরির অপবাদ দিয়ে এক শিশুকে আখ ও কাঠের বাটাম দিয়ে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পারুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে আহত শিশুর বাবা হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন বেলা তিনটার দিকে দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের হাফিজুল ইসলামের ছেলে আব্দুল হাকিম (১৩) পারুলিয়া বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে সাইফুল ইসলামের (৪৫) দোকানে আখের রস খেতে যায়। হাকিম ২০টাকার রস খেয়ে সাইফুলকে ৫০টাকার একটি নোট দিলে দোকানদার তাকে ৩০টাকা ফেরত দেন। এরপর সাইফুল ক্যাশ টেবিল পাহারা দিতে বলে প্রস্রাব করতে যান। ফিরে এসে তিনি হাকিমের বিরুদ্ধে ক্যাশ টেবিল থেকে টাকা চুরির অভিযোগ তোলেন।
শিশু হাকিম নিজের জামা-প্যান্ট তল্লাশি করতে বললে সাইফুল তল্লাশি চালিয়ে ফেরত দেওয়া ৩০ টাকা ছাড়া আর কোনো টাকা পাননি। এরপরও সাইফুল চোর সন্দেহে হাকিমের বাঁ কানে সজোরে চড় মারেন এবং আখ দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট ও বেদনাদায়ক ফোলা জখম করেন। ঘটনাটি কাউকে বললে আরও মারধর করা হবে বলে হুমকিও দেওয়া হয়। ভয়ে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রাখে।
গত ৫ জুন সকালে শরীরে প্রচ- ব্যথা অনুভব হলে হাকিম তাঁর পরিবারকে বিষয়টি জানায়। ওই দিন সকাল ১০টার দিকে হাকিমের বাবা হাফিজুল ইসলাম, দাদা আলাউদ্দীন, দাদি রাফিজা খাতুন ও মা সোমা আক্তার সাইফুলের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার কারণ জানতে চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাইফুল কাঠের বাটাম এবং তাঁর স্ত্রী বানু খাতুন বঁটি নিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হন। প্রতিবেশীরা ছুটে এলে তাঁরা রাফিজা খাতুনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং পরিবারটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ বিষয়ে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, লিখিত অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

জেলা যুবদলের শুভেচ্ছা মিছিল ও সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
জেলা যুবদলের শুভেচ্ছা মিছিল ও সমাবেশ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে সাতক্ষীরায় মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা যুবদল। রোববার বিকেলে শহরের মাওয়া চাইনিজ রেস্টুরেন্ট প্রাঙ্গণ থেকে এই শুভেচ্ছা মিছিল বের হয়।
কমিটিতে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি, নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক, দক্ষিণবঙ্গের আমিনুর রহমান আমিনকে তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এবং শাহাজান রনিকে মৎস্য ও পশুপালন বিষয়ক সম্পাদক মনোনীত করায় এই আনন্দ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুকুলের সভাপতিত্বে এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর শফিকুল আলম বাবুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আলী শাহিন, সদস্যসচিব মাসুম রানা সবুজ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন রহমান, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী রাসিউল করিম রোমান ও জেলা যুবদলের সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এস আই আশা।
এছাড়াও বক্তব্য দেন আশাশুনি উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আবু জাহিদ সোহাগ, দেবহাটা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম, সদস্যসচিব মেহেদী হাসান সবুজ, কালিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল্লাহ বাহার, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক এবং আশাশুনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আখতারুজ্জামান আখতার প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা কেন্দ্রীয় কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সাতক্ষীরায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে জেলা যুবদলে যোগ্য ও ত্যাগী নেতৃত্বকে সামনে আনা প্রয়োজন। এ সময় জেলা, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন যুবদলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।