মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সুরক্ষা দিবস: পৃথিবীর অদৃশ্য ছাতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সুরক্ষা দিবস: পৃথিবীর অদৃশ্য ছাতা

সাকিবুর রহমান বাবলা

পৃথিবীর আকাশে এমন এক অদৃশ্য প্রহরী রয়েছে, যাকে আমরা চোখে দেখি না, অথচ যার ওপর নির্ভর করছে জীবনের নিরাপত্তা। সেই প্রহরীর নাম ওজোন স্তর। স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোনের এই স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির বড় একটি অংশ শোষণ করে মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও সামুদ্রিক জীবজগতকে সুরক্ষা দেয়। তাই ওজোন স্তরকে পৃথিবীর অদৃশ্য ছাতা বললেও অত্যুক্তি হয় না।

প্রতি বছর ১৬ সেপ্টেম্বর পালিত হয় আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সুরক্ষা দিবস। ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (এ/আরইএস/৪৯/১১৪) এই দিবস ঘোষণা করে। দিনটি ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক মন্ট্রিয়ল প্রটোকল-এর স্মরণে নির্ধারিত।

ওজোন স্তর: তিনটি অক্সিজেন পরমাণু দিয়ে গঠিত (ও₃) ওজোন গ্যাসের একটি ঘন স্তর। এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার উঁচুতে অবস্থান করে, যা পৃথিবীর প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন বা সুরক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করে। আর এই ওজোন স্তর ক্ষয়ের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল মানুষের তৈরি ক্লোরোফ্লোরোকার্বন, হ্যালন, কার্বন টেট্রাক্লোরাইডসহ বিভিন্ন ওজোন-ক্ষয়কারী পদার্থ। রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, অ্যারোসলসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ও শিল্পপণ্যে এগুলোর ব্যাপক ব্যবহার হতো। এসব রাসায়নিক বায়ুম-লের ওপরের স্তরে পৌঁছে সূর্যের বিকিরণের প্রভাবে সক্রিয় ক্লোরিন ও ব্রোমিন মুক্ত করে, যা ওজোন অণু ধ্বংসের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

বিশেষ করে অ্যান্টার্কটিকার ওপর ভয়াবহ ওজোন স্তর ক্ষয়ের ঘটনা বিজ্ঞানীদের সতর্ক করে দেয়। স্পষ্ট হয়ে ওঠেÑএটি কোনো এক দেশের সমস্যা নয়; এটি গোটা মানবজাতির সংকট। এই সংকট মোকাবিলায় ১৯৮৫ সালের ভিয়েনা কনভেনশন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করে। এর দুই বছর পর ১৯৮৭ সালে আসে মন্ট্রিয়ল প্রটোকল। ওজোন-ক্ষয়কারী পদার্থ উৎপাদন ও ব্যবহার ধাপে ধাপে বন্ধ করার মাধ্যমে এটি পরিবেশ কূটনীতির ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ ওজোন-ক্ষয়কারী পদার্থের ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। ২০০৯ সালে বিশ্বের সব দেশ মন্ট্রিয়ল প্রটোকল অনুমোদন করে, যা আন্তর্জাতিক পরিবেশ সহযোগিতার ইতিহাসে এক বিরল সাফল্য। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে কিগালি সংশোধনীর মাধ্যমে হাইড্রোফ্লুওরোকার্বন (এইচএফসি) ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এইচএফসি সরাসরি ওজোন স্তর ধ্বংস না করলেও এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস। ফলে কিগালি সংশোধনী বাস্তবায়নের মাধ্যমে ওজোন সুরক্ষার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হচ্ছে।

ওজোন সুরক্ষায় জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি, ওজোন সচিবালয় এবং বহুপক্ষীয় তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সহায়তা দিয়ে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তর ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশও এ বৈশ্বিক উদ্যোগের দায়িত্বশীল অংশীদার। বাংলাদেশ ২ আগস্ট ১৯৯০ মন্ট্রিয়ল প্রটোকলে যোগ দেয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংশোধনী অনুমোদনের পাশাপাশি ২০২০ সালের ৮ জুন কিগালি সংশোধনী অনুমোদন করে।

দেশে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ওজোন সেল গঠন করে ওজোন-ক্ষয়কারী পদার্থ নিয়ন্ত্রণ, বিকল্প প্রযুক্তির প্রসার এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতে সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং খাতের দ্রুত সম্প্রসারণের কারণে বাংলাদেশের জন্য পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে দ্রুত রূপান্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ট্রিয়ল প্রটোকলের সাফল্যের কারণে ওজোন স্তর এখন ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পথে। বর্তমান বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, নীতিগুলো অব্যাহত থাকলে বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে প্রায় ২০৪০ সালের দিকে, আর্কটিক অঞ্চলে ২০৪৫ সালের দিকে এবং অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলে ২০৬৬ সালের দিকে ওজোন স্তর ১৯৮০ সালের মাত্রার কাছাকাছি ফিরে আসতে পারে। এই সাফল্য প্রমাণ করেÑবিজ্ঞানকে গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক ঐক্য গড়ে তুললে বৈশ্বিক পরিবেশগত সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।

ওজোন স্তর রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থার নয়। নতুন ফ্রিজ বা এসি কেনার সময় ওজোন-নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বেছে নিতে হবে। পুরোনো যন্ত্রের’ হিমায়ক গ্যাস’ যেন অসতর্কভাবে বায়ুম-লে না ছড়ায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ভোগ কমাতে হবে এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহারে উৎসাহ দিতে হবে। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

ওজোন স্তর আমাদের চোখে দেখা যায় না, কিন্তু এর সুরক্ষা ছাড়া পৃথিবীর জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই ১৬ সেপ্টেম্বর শুধু একটি দিবস পালনের দিন নয়; এটি বৈশ্বিক দায়িত্ব ও ঐক্যের কথা স্মরণ করার দিন। আসুন, সবাই মিলে ওজোন স্তর রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই।

Ads small one

সুন্দরবন অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল জীবিকায়নবিষয়ক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
সুন্দরবন অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল জীবিকায়নবিষয়ক কর্মশালা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামারবাড়ি) কমপ্লেক্সে সুন্দরবন অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, মৎস্য চাষ, গবাদিপশু ও জীবিকার ওপর স্থানীয় পর্যায়ের সমন্বয় এবং যৌথ পরিকল্পনাবিষয়ক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘জলবায়ু-সহনশীল জীবিকায়ন: স্থানীয় পর্যায়ের সমন্বয় ও যৌথ পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে কেয়ার বাংলাদেশের নেতৃত্বে ‘নবপল্লব’ কনসোর্টিয়াম ও কর্ডএইড।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেয়ার বাংলাদেশের রিজিওনাল ম্যানেজার লুৎফা পারভীন ও কর্ডএইডের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মাসুদ রানা।
কর্মশালায় বক্তারা সুন্দরবন উপকূলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান (নেচার-বেসড সলিউশনস) গ্রহণের ওপর জোর দেন। জলবায়ু অভিযোজন ও স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারি দপ্তর, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় সুদৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয়।

কলারোয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
কলারোয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

 

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলার মানিকনগর গ্রামের উজ্জ্বল হোসেন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভিটেবাড়ি দখলের চেষ্টা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সোমবার রাতে কলারোয়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, একই গ্রামের তিন নারী ও কপিল উদ্দিন গাজী দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশলে তাঁর পরিবারকে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন। তাঁদের অত্যাচারের কারণে মানিকনগরের বাড়ি ছেড়ে বর্তমানে খোর্দ্দ বাজারে দাদার বাড়িতে তাঁরা আশ্রয় নিয়েছেন।
উজ্জ্বল হোসেন জানান, ২০১৪ সালে তাঁদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হলেও তা আদালতে প্রমাণিত হয়নি। পরবর্তীতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৩০ আগস্ট তাঁদের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা করা হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। এর মধ্যে সর্বশেষ মামলায় ২ নম্বর আসামি হিসেবে তাঁর মামা শামিনুর রহমানকে ১২ সেপ্টেম্বর রাতে সোনাবাড়িয়া বাজার থেকে কলারোয়া থানা-পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ ও জখমের হুমকি দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

জেলা কালচারাল অফিসার অন্বেষার সঙ্গে মৌচাক সাহিত্য পরিষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
জেলা কালচারাল অফিসার অন্বেষার সঙ্গে মৌচাক সাহিত্য পরিষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলা কালচারাল অফিসার ফাইজা হোসেন অন্বেষার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মৌচাক সাহিত্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিস কক্ষে উপস্থিত হয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সংগঠনটির প্রতিনিধিরা।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি মৌচাক সাহিত্য পরিষদের বিভিন্ন কর্মকা- সম্পর্কে অবহিত হন এবং সংগঠনের কবি-সাহিত্যিকদের খোঁজখবর নেন। এ সময় মৌচাক সাহিত্য পরিষদের পক্ষ থেকে জেলা কালচারাল অফিসার ফাইজা হোসেন অন্বেষাকে শুভেচ্ছা স্মারক, ‘মৌচাক’ পত্রিকা এবং মৌচাক সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি আব্দুল ওহাব আজাদের লেখা তিনটি বই প্রদান করা হয়।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা মৌচাক সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি আব্দুল ওহাব আজাদ, সহসভাপতি প্রভাষক মহিনুর ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মো. মছরুর রহমান, সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুন্না ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রেবেকা সুলতানা প্রমুখ।