বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক নাবিক দিবস: বিশ্ববাণিজ্যের অদৃশ্য নায়করা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক নাবিক দিবস: বিশ্ববাণিজ্যের অদৃশ্য নায়করা

সাকিবুর রহমান বাবলা

বিশ্ব অর্থনীতির সচল গতির পেছনে যে অদৃশ্য শক্তি নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে, তার অন্যতম হলো নাবিক। খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক পণ্য—বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ৮৫ শতাংশ পণ্য পরিবহনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সমুদ্রপথের এই সাহসী মানুষগুলো। প্রতি বছর ২৫ জুন পালিত ‘আন্তর্জাতিক নাবিক দিবস’-এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্ব অর্থনীতির এই অকুতোভয় কর্মযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং তাঁদের পেশাগত অবদান ও ঝুঁকিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা।

২০১০ সালে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (IMO) উদ্যোগে প্রবর্তিত এই দিবসটি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্যথ “Carrying world trade. Carrying the risks.” নাবিকদের জীবন ও বিশ্ববাণিজ্যের মধ্যকার গভীর সম্পর্ককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে তুলে ধরে। আধুনিক প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগেও সমুদ্রপথের পেশা বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ কর্মক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত। পরিবার থেকে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকা, বৈরী আবহাওয়া, জলদস্যুতার হুমকি, সশস্ত্র সংঘাত এবং মানসিক একাকীত্বের সঙ্গে লড়াই করেই তাঁরা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিশ্ববাণিজ্যের চাকা সচল রাখছেন।

হরমুজ প্রণালীর মতো ভূ-রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর অঞ্চলের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি কিংবা বৈশ্বিক মহামারির সংকটময় সময়েও, যখন পৃথিবীর অনেক কিছু স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখন নাবিকরাই সরবরাহব্যবস্থা সচল রেখে বিশ্ব অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

বাংলাদেশের জন্যও এই দিবসটির গুরুত্ব অপরিসীম। বিপুল জনগোষ্ঠীর একটি সামুদ্রিক সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে নৌখাতের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। বিশ্ববাজারে দক্ষ নাবিকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা এবং নাবিকদের অধিকার ও কল্যাণ সুরক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ এ খাতে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

নাবিকদের অবদান কেবল পণ্য পরিবহনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তাঁরা বিশ্বশান্তি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়েরও অন্যতম বাহক। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে তাঁরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ও অর্থনীতিকে এক অদৃশ্য বন্ধনে যুক্ত করে রাখেন। অথচ তাঁদের জীবনের ঝুঁকি, স্বাস্থ্যসেবা এবং মানসিক সুস্থতার বিষয়গুলো অনেক সময়ই আলোচনার আড়ালে থেকে যায়। তাই আন্তর্জাতিক নাবিক দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিতÑ নাবিকদের জন্য একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।

খোলা আকাশের নিচে, উত্তাল সমুদ্রের বুকে তাঁদের এই অবিরাম যাত্রাই বিশ্ববাণিজ্যের প্রাণস্পন্দন। নাবিকদের নিষ্ঠা, সাহস ও ত্যাগের কারণেই বিশ্ব অর্থনীতির চাকা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলেছে। আন্তর্জাতিক নাবিক দিবসে তাঁদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

 

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।