বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

আশাশুনিতে দুর্যোগ ঝুঁকি ও প্রস্তুতি বিষয়ে তিন দিনের প্রশিক্ষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে দুর্যোগ ঝুঁকি ও প্রস্তুতি বিষয়ে তিন দিনের প্রশিক্ষণ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে প্রতিবন্ধিতা-অন্তর্ভুক্ত দুর্যোগ ঝুঁকি ও প্রস্তুতি বিষয়ে তিন দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ হয়েছে। বুধবার সকালে প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে এই প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হয়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আইডিয়াল’-এর বাস্তবায়নে, সেন্টার ফর ডিজএবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি)-এর কারিগরি সহায়তায় এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সংস্থা ‘লিলিয়ান ফন্ডস’-এর অর্থায়নে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। ‘রেজিলেন্স বিগিনস এট হোম’ প্রকল্পের আওতায় গত ৮ জুন থেকে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণে প্রতাপনগর ইউনিয়নের ২৫ জন প্রতিবন্ধী শিশুর কেয়ারগিভার (পরিচর্যাকারী) অংশ নেন।

প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী। প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার মামুন আলী। দুর্যোগকালীন সময়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও প্রস্তুতি বিষয়ে এই প্রশিক্ষণে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

 

Ads small one

দ্রুত বিচার, দুর্নীতিমুক্ত আদালত: সাতক্ষীরার মানুষের প্রত্যাশা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
দ্রুত বিচার, দুর্নীতিমুক্ত আদালত: সাতক্ষীরার মানুষের প্রত্যাশা

‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎সাতক্ষীরা জেলা জজ কোর্ট ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সাম্প্রতিক মামলার পরিসংখ্যান যেকোনো সচেতন নাগরিককে ভাবিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট। জেলাজুড়ে বর্তমানে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার থেকে ৭৭ হাজার। একটি সীমান্তবর্তী জেলায় মামলার এই বিশাল সংখ্যা শুধু বিচারব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপই তৈরি করছে না, বরং হাজার হাজার সাধারণ মানুষের জীবনকে করে তুলছে স্থবির।

‎মামলার এই বিভাজন বিশ্লেষণ করলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়। জেলা জজের আওতাধীন আদালতে (দেওয়ানি ও ফৌজদারি) বিচারাধীন রয়েছে প্রায় ৬৩ হাজার-এর বেশি মামলা। এর মধ্যে দেওয়ানি মোকদ্দমার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি-প্রায় ২৪ হাজার ৮৯৩টি। বছরের পর বছর ধরে চলা ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ এবং পারিবারিক ও সম্পত্তিসংক্রান্ত জটিলতাও এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। এর বাইরে ফৌজদারি মামলা রয়েছে ১৩ হাজার ২৮৭টি এবং ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে আটকে আছে ৭ হাজার ২৩৬টি মামলা। অন্যদিকে, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (আমলি ও বিচারিক) মামলার সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার ৮১০টি।

‎এই পরিসংখ্যানের পেছনের গল্পটি বেশ বেদনাদায়ক। একটি মামলার পেছনে বছরের পর বছর ঘুরতে গিয়ে সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু মানুষ আজ নিঃস্ব। জমিজমার বিরোধ কিংবা ফৌজদারি অপরাধের সুরাহা পেতে দিনের পর দিন আদালতের বারান্দায় জুতো ক্ষয় করছেন বিচারপ্রার্থীরা। মামলা পরিচালনার খরচ, যাতায়াত ব্যয় এবং বারবার আদালতে হাজির হওয়ার কারণে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ছে।

‎এর মধ্যে আদালতকেন্দ্রিক ঘুষ-বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে নিঃস্ব, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য এ ধরনের অনিয়ম ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ঘুষ-বাণিজ্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। ‎সময়মতো বিচার না পাওয়া বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্তা হারাচ্ছে।

‎এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মামলাজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বিচারকের শূন্য পদ পূরণ, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি, আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন মামলাগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি সাক্ষীদের সময়মতো হাজির করা, তদন্তে অযথা বিলম্ব কমানো এবং অপ্রয়োজনীয় মুলতবি এড়ানোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। দেওয়ানি বিরোধের ক্ষেত্রে আইনসম্মত মধ্যস্থতার সুযোগ কাজে লাগানো গেলে কিছু মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিও সম্ভব।

‎সাতক্ষীরার মামলাজট শুধু আদালতের সমস্যা নয়; এটি হাজারো বিচারপ্রার্থীর জীবন, সময় ও অর্থের সঙ্গে জড়িত। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করা। আদালতের দীর্ঘ বারান্দায় বছরের পর বছর অপেক্ষা করা মানুষের দীর্ঘশ্বাস যেন ন্যায়বিচার পাওয়ার স্বস্তিতে রূপ নেয় এটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।
লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা।

 

 

দুর্গাপূজা শেষে আবার শহরমুখী মানুষ, কর্মস্থলে ফেরার তাড়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজা শেষে আবার শহরমুখী মানুষ, কর্মস্থলে ফেরার তাড়া

শ্যামল শীল

শারদীয় দুর্গাপূজার আনন্দ, উৎসব আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো স্মৃতিময় মুহূর্ত পেছনে ফেলে আবারও শহরমুখী হচ্ছেন কর্মজীবী মানুষ। ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে গ্রাম ছেড়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের পথে যাত্রা শুরু করেছেন অনেকে। ফলে বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বাড়ছে কর্মস্থলমুখী মানুষের ব্যস্ততা।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানী ও বিভিন্ন শহরে বসবাসরত অনেক মানুষ পরিবারের সঙ্গে উৎসব উদ্যাপন করতে গ্রামের বাড়িতে ফিরেছিলেন। কয়েক দিন পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে কাটানোর পর এবার তাঁদের ফিরতে হবে কর্মস্থলে। যদিও শুক্রবার ও শনিবারও বন্ধ থাকবে দেশের সকল অফিস আদালত। ফলে একটানা ৫দিন ছুটি কাটাতে পারবেন চাকুরিজীবীরা। তারপরও পুজো শেষ হওয়ার সাথে সাথে কারও চোখে উৎসবের আনন্দমাখা স্মৃতি, আবার কারও মনে প্রিয়জনদের ছেড়ে যাওয়ার বিষণœতা ভর করতে শুরু করেছে।

সাতক্ষীরার বিভিন্ন গ্রাম থেকেও কর্মজীবী মানুষ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিরছেন। অনেকের কাছে এই যাত্রা শুধু কর্মস্থলে ফেরার নয়, বরং জীবিকার তাগিদে আবারও ব্যস্ত নগরজীবনে ফিরে যাওয়ার বাস্তবতা। গ্রামের নির্মল পরিবেশ, পরিবারের সান্নিধ্য ও উৎসবের আনন্দ ছেড়ে তাঁদের আবারও ব্যস্ত কর্মজীবনে মনোযোগ দিতে হচ্ছে।

এদিকে উৎসব শেষে একসঙ্গে অনেক মানুষের যাত্রার কারণে পরিবহনে চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সময়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিটের সংকট এবং যানজটের মতো ভোগান্তি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন। যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে পরিবহন ব্যবস্থাপনা জোরদার করাও জরুরি।

উৎসবের আনন্দ শেষ হলেও মানুষের মনে থেকে যায় আপনজনদের সঙ্গে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো। জীবিকার প্রয়োজনে শহরে ফিরতে হলেও মনের টান রয়ে যায় জন্মভূমি ও পরিবারের কাছে। আর সেই টান নিয়েই আবারও নতুন কর্মব্যস্ততার পথে যাত্রা শুরু করছেন হাজারো মানুষ।

লেখক: সাবেক জবি শিক্ষার্থী ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা।

 

গাবুরার মেগা প্রকল্প পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক, জলদস্যু দমনের দাবী এলাকাবাসীর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
গাবুরার মেগা প্রকল্প পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক, জলদস্যু দমনের দাবী এলাকাবাসীর

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯নং সোরার দৃষ্টিনন্দন এলাকায় চলমান মেগা প্রকল্পের কাজ ও গুণগত মান পরিদর্শন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক জনাব কওসার আজিজ। এ সময় সুন্দরবনে জলদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা, সুপেয় পানি ও শিক্ষাব্যবস্থাসহ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১১টায় ১৭৩ নং সোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জামান কনক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর শরীফ ফাহাদ, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাছুদুল আলমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাছুদুল আলম, মাস্টার আবু তালেব সাগর, আমজিয়াদ হোসেন ও ইকবাল হোসেন মন্টু। তাঁরা সুন্দরবনে জলদস্যুদের বেপরোয়া তৎপরতা, আত্মসমর্পণের পরও পুনরায় ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়া এবং জলদস্যু দমনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সুন্দরবন ও উপকূলীয় জনপদের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তাঁরা।

এ ছাড়া গাবুরার চলমান মেগা প্রকল্পের রাস্তার সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ, সড়কের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং প্রকল্পের নকশা ও ডিজাইন জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান বক্তারা। প্রকল্পের কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি এবং নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

সভায় সুপেয় পানি সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসাসুবিধা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ, খেলার মাঠ সংরক্ষণ, ভূমিহীনদের বসতির ব্যবস্থা এবং দৃষ্টিনন্দন এলাকার উন্নয়ন ও সংরক্ষণের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি অসমাপ্ত খাল খনন এবং মেগা প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের গুণগত মান নিয়েও আলোচনা হয়।

স্থানীয়দের বক্তব্য শোনার পর জেলা প্রশাসক কওসার আজিজ সুন্দরবনে জলদস্যু দমনে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে গাবুরার সুপেয় পানির সংকট নিরসন, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং এলাকায় পর্যাপ্ত স্কুল না থাকায় নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

চলমান মেগা প্রকল্পের সড়ক নির্মাণকাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন ও গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়েও আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।