বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

ইনক্লুসিভ এআই: প্রযুক্তি যখন হয়ে উঠবে প্রকৃত অর্থে সবার জন্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
ইনক্লুসিভ এআই: প্রযুক্তি যখন হয়ে উঠবে প্রকৃত অর্থে সবার জন্য

মো. মামুন হাসান

একজন ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আমি ক্লাসরুমে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি শুনি, তা হলো, প্রযুক্তি কি আমাদের মতো ছোট শহরের শিক্ষার্থী বা প্রান্তিক এলাকার উদ্যোক্তার জন্যও সমান সুযোগ তৈরি করবে, নাকি এটি আরও একটি বিভাজনের দেয়াল হয়ে দাঁড়াবে। বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য “ডিজিটাল এজেন্ডা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পর্যটন পুনর্গঠন”-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপ-প্রতিপাদ্য হলো “ইনক্লুসিভ এআই”, অর্থাৎ এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যা সবার জন্য, সব জায়গার জন্য সমানভাবে কাজ করে। সাতক্ষীরার মতো একটি জেলা, যেখানে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হয়েও পর্যটন খাত এখনও অনেকটাই অবহেলিত, সেখান থেকে দেখলে এই ধারণাটির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আমাদের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে যে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে, তাদের অনেকেই আসে সুন্দরবন সংলগ্ন গ্রাম বা মৎস্যজীবী পরিবার থেকে। তাদের কাছে ইনক্লুসিভ এআই শুধু একটি প্রযুক্তিগত ধারণা নয়, এটি জীবিকার প্রশ্ন। ধরা যাক, একজন শিক্ষার্থী স্নাতক শেষে সুন্দরবন এলাকায় নিজের একটি ছোট ইকো-টুরিজম উদ্যোগ শুরু করতে চায়। বড় বুকিং প্ল্যাটফর্মে তার প্রতিযোগিতা হবে কক্সবাজার বা কুয়াকাটার প্রতিষ্ঠিত রিসোর্টের সঙ্গে, যাদের হাজার হাজার রিভিউ, প্রফেশনাল ফটোগ্রাফি আর নিয়মিত ডিজিটাল মার্কেটিং টিম আছে। এখানেই ইনক্লুসিভ এআই-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, এমন একটি প্রযুক্তি যা কেবল অতীতের জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে সুপারিশ না করে, বরং মান, স্থায়িত্ব আর স্থানীয় সত্যতার (authenticity) ভিত্তিতেও নতুন উদ্যোক্তাদের সামনে নিয়ে আসে।

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকৃতপক্ষে অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠতে পারে কয়েকটি নির্দিষ্ট উপায়ে। প্রথমত, ভাষা অনুবাদ প্রযুক্তি এখন এত উন্নত যে ইংরেজি না জানা একজন স্থানীয় গাইডও বিদেশি পর্যটকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন, যা আগে কেবল শহরের প্রশিক্ষিত গাইডদেরই সুবিধা ছিল। দ্বিতীয়ত, স্বল্প খরচের ছবি ও ভিডিও তৈরির এআই টুল একজন সাধারণ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীকেও প্রফেশনাল মানের প্রচার সামগ্রী তৈরির সুযোগ দিচ্ছে, ফলে বড় প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং বাজেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা আগের চেয়ে অনেক সহজ। তৃতীয়ত, এআই-চালিত মাইক্রো-ফাইন্যান্স ও ক্রেডিট স্কোরিং মডেল ব্যাংকিং ইতিহাস না থাকা প্রান্তিক উদ্যোক্তাদেরও ছোট ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে, যা একটি নতুন হোমস্টে বা নৌকা-ভ্রমণ ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে বড় সহায়ক হতে পারে।

 

তবে এই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেবে কেবল তখনই, যখন নীতিনির্ধারক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করবে। কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, পলিটেকনিক ও কারিগরি কলেজগুলোর ট্যুরিজম বিভাগে এখন থেকেই ডিজিটাল মার্কেটিং, এআই টুল ব্যবহার আর অনলাইন উদ্যোক্তা দক্ষতা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে যদি প্রতি বছর এমন কিছু শিক্ষার্থী বেরিয়ে আসে যারা প্রযুক্তি ও পর্যটন দুটোই বোঝে, তাহলে সুন্দরবন ঘিরে যে বিপুল সম্ভাবনা এখনও অব্যবহৃত রয়ে গেছে, তা ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

 

শেষ কথা হলো, ইনক্লুসিভ এআই কোনো স্বয়ংক্রিয় সমাধান নয়, এটি একটি লক্ষ্য, যার দিকে সচেতনভাবে এগিয়ে যেতে হবে। প্রযুক্তি নিজে থেকে বৈষম্য দূর করে না, তবে সঠিক নীতি, প্রশিক্ষণ আর স্থানীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করলে এটি সাতক্ষীরার মতো এলাকার তরুণ উদ্যোক্তা, স্থানীয় গাইড আর ছোট পরিবার-চালিত পর্যটন ব্যবসাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সমান সুযোগে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে। বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ আমাদের সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাওয়ার একটি আহ্বান।

 

লেখক: মো. মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা।

Ads small one

পাঁচরখি পশ্চিমপাড়ায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে দোয়া ও সমর্থন চাইলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী রমযান আলী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
পাঁচরখি পশ্চিমপাড়ায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে দোয়া ও সমর্থন চাইলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী রমযান আলী

0-0x0-0-0#

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১ নম্বর বাঁশদহা ইউনিয়নের পাঁচরখি পশ্চিমপাড়া এলাকায় বাড়ি বাড়ি ও দোকানপাটে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা রমযান আলী। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।

সাক্ষাৎকালে তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সবার সহযোগিতা ও দোয়া চান। এ সময় স্থানীয় কর্মী ও ইউনিয়নের দায়িত্বশীল নেতারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

সুন্দরবনে বনদস্যু আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে কয়রায় মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে বনদস্যু আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে কয়রায় মানববন্ধন

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করা, বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দস্যুদের সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবিতে খুলনার কয়রায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় সুন্দরবনের সাকবাড়িয়া নদীর তীরে কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের সামনে উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের উদ্যোগে এবং কয়রা উপজেলা কাঁকড়া ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সহযোগিতায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সুন্দরবন ও উপকূল সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি তরিকুল ইসলাম। বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা আ ব ম আব্দুল মালেক, নাগরিক সংগঠন সুজনের কয়রা উপজেলা সভাপতি মোস্তফা শফিকুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা এম আনোয়ার হোসেন, কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক বিদেশ রঞ্জন মৃধা, কয়রা কাঁকড়া ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুল ইসলাম, বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যুরোর কয়রা উপজেলা শাখার সহসভাপতি জি এম মোনায়েম, কয়রা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন ও বনজীবী মুছানুর রহমান।

বক্তারা অভিযোগ করেন, গত দুই বছর ধরে সুন্দরবনের বিভিন্ন বনদস্যু বাহিনী জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এসব কর্মকাণ্ডে বনদস্যুদের পাশাপাশি স্থানীয় কিছু মাছ ব্যবসায়ীও সহযোগিতা করছেন বলে তাঁরা দাবি করেন।

তাঁদের অভিযোগ, বনদস্যুদের সহযোগীদের মাধ্যমে দুই ও পাঁচ টাকার নোটের নম্বরকে টোকেন হিসেবে ব্যবহার করে বনজীবীদের বনে প্রবেশ করতে হচ্ছে। এ জন্য আগাম ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। টোকেন ছাড়া বনে প্রবেশ করলে দস্যুদের হাতে জিম্মি হয়ে জনপ্রতি ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দিতে হচ্ছে। ফলে জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনে যাওয়া বনজীবীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

মানববন্ধনে তরিকুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা বনদস্যুদের কারণে হুমকির মুখে। সুন্দরবনকে নিরাপদ করতে দস্যুদের পাশাপাশি তাদের স্থানীয় সহযোগীদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও বিশেষ অভিযান জোরদারের দাবি জানান তিনি।

বক্তারা বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের একক দাবি নয়; এটি উপকূলীয় মানুষের জীবন, জীবিকা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন। বনদস্যুদের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান, তাদের অস্ত্র-গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহকারীদের শনাক্ত এবং সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তাঁরা। এ আন্দোলনে দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।

মানববন্ধনে সুন্দরবননির্ভর জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সুযোগসন্ধানী নয়, সাংবাদিকের দায়বদ্ধতা জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
সুযোগসন্ধানী নয়, সাংবাদিকের দায়বদ্ধতা জরুরি

প্রকাশ ঘোষ বিধান

সুযোগসন্ধানী মনোভাব পরিহার করে দায়িত্বশীল ও নৈতিক সাংবাদিকতা চর্চা সমাজ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হলুদ সাংবাদিকতা ও ক্লিকবেইট সংস্কৃতির ভিড়ে কোনো সাংবাদিক যখন তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ হাসিলে বেশি মনোযোগী হন, তখন সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত গণমাধ্যমের মূল ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রাখা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য।

সাংবাদিকতা সমাজের দর্পণ এবং রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এর মূল লক্ষ্য সত্য প্রকাশ ও ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা। কিন্তু কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যম যখন জনস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়, তখন সমাজ ভুল বার্তা পায় এবং গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যায়।

সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা, নির্ভরযোগ্যতা ও উৎস যাচাই করা সাংবাদিকের অন্যতম প্রধান নৈতিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও শাসকগোষ্ঠীর অনিয়ম-দুর্নীতি সাহসের সঙ্গে তুলে ধরাও সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সংবাদ পরিবেশনের মূল ভিত্তি সত্য। তাই সুযোগসন্ধানী মনোভাব পরিহার করে সঠিক তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতে হবে।

উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ সমাজের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। ব্যক্তিস্বার্থে গুজব ছড়ানো কিংবা কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে। হলুদ সাংবাদিকতা বর্জন করে রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণকে ব্যক্তিস্বার্থ ও বাণিজ্যিক লাভের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে।

সাংবাদিকতার প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব সত্যের পক্ষে থাকা। কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের যথার্থতা যাচাই করতে হবে। ব্যক্তিগত মতামত, প্ররোচনা ও পক্ষপাত থেকে দূরে থেকে নিরপেক্ষভাবে ঘটনা তুলে ধরতে হবে। কারণ সাংবাদিকতার মূল আনুগত্য সাধারণ মানুষ বা নাগরিকদের প্রতি।

অসত্য ও উসকানিমূলক সংবাদ সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, এমনকি কারও জীবনও বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। তাই সংবাদের গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে ভুয়া খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে। এ কারণে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের আরও সতর্ক হতে হবে।

সাংবাদিকতা ব্যক্তিগত বা দলীয় লাভের মাধ্যম নয়। এর মূল লক্ষ্য জনস্বার্থ রক্ষা এবং সরকার ও সমাজের অনিয়ম-দুর্নীতি জনগণের সামনে তুলে ধরা। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সাংবাদিকদের এই দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান জরুরি।

সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার। সুযোগসন্ধানী মানসিকতা সাময়িক সুবিধা এনে দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে তা সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করে। গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ অটুট রাখতে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠতা, সততা ও পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

একটি সুস্থ, সচেতন ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই। দায়বদ্ধতাহীন সাংবাদিকতা সমাজে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। তাই ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সত্যনিষ্ঠ ও জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতা চর্চাই হোক প্রতিটি সাংবাদিকের অঙ্গীকার।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট