কপিলমুনিতে চারা গাছের বাজার জমজমাট
পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): চাল, ডালসহ নিত্যপণ্যের পাশাপাশি অন্ততঃ একটি করে গাছ যেন চাই…..চাই। জনসচেতনতা বৃদ্ধির কারণে মানুষের মৌলিক চাহিদার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে বৃক্ষায়ন কর্মসূচীতে নেমেছে মানব সমাজ। আর তা’ই হাটের দিনে গাছের চারা কিনছেন সর্বস্তরের ক্রেতারা। ২০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০/৩০০ টাকায় একটি গাছের চারা সংগ্রহ করে তা বাড়িতে নিয়ে রোপন করছেন নিন্ম আয়ের মানুষ। এতে মধ্যবিত্ত্ব বা বিত্ত্বশালীরাও বসে নেই, তারাও রীতিমত বৃক্ষের চারা কিনে ভ্যান বোঝাই করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন।
খুলনার ঐতিহ্যবাহী বানিজ্যিক কেন্দ্র কপিলমুনিতে চারা গাছের বাজারের চিত্রটা প্রত্যক্ষ করলেই মনে হয় যেন প্রত্যেক মানুষ প্রতিযোগীতা শুরু করেছেন। পরিবেশবিদরা মনে করেন, বৃক্ষায়ন কর্মসূচীতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কারণে বৃক্ষায়নের এমন দৃশ্যপট আমাদের সামাজিক পরিবেশকে আরোও তরান্বিত করবে।
জানাগেছে, সরকারের বনায়ন কর্মসূচীর আওতায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচী ও জন-সচেতনতা বৃদ্ধিতে তৃণমূল পর্যায় এর কার্যক্রম চলছে। যে কারণে ”গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান” শোগানে একাতœতা প্রকাশ করে এলাকার মানুষ প্রতিদিনকার সাংসারিক খরচ বাঁচিয়ে নুন্যতম একটি গাছের চারা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন।
এলাকার বিভিন্ন নার্সারী মালিকরা ফলজ বৃক্ষের পাশাপাশি মেহগনি, শিরিশ, লম্বু, নিম, গামারী, সেগুন ইত্যাদী গাছের উৎপাদন করে তা বাজারে বিক্রি করছেন। ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০/৪০০ টাকায় উন্নত গাছের চারা সরবরাহ ও বিক্রি হচ্ছে। এমনকি ভাল জাতের চারা গাছ সংগ্রহে আগাম বায়নাও করছেন অনেকেই।
নার্সারী মালিক আমিন মোল্লা জানান, নিজ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে গাছের চারা বাইরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানী করছেন। যে কারণে অধিক মুনাফা উপার্জিত হচ্ছে তাদের। সূত্রমতে, গত ৮০’র দশকের পর হতে দক্ষিণ পশ্চিম উপকুলীয় এলাকা সমুহে মৌসুমী বায়ুর প্রভাব ও বিভিন্ন সময়ে ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছাস-এ সাবাড় করে দেয় দক্ষিণ উপকুলীয় এলাকার বনবৃক্ষরাজি। বিভিন্ন সময়ে জলোচ্ছাস ও বন্যায় লবণ পানির প্রভাবে মারাগেছে মূল্যবান গাছপালা। আর এ কারণে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ বনায়ন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে; পরোক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ গাছপালা।
শুধু তাই নয়, পরপর দেশে স্মরন কালের ভয়াবহ ঘুর্ণিঝড় আইলা, সিডর, নারগীজ, বুলবুল লন্ডভন্ড করেদেয় সুন্দরবন সহ উপকুলীয় এলাকা। যারফলে সামাজিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় রীতিমত হুমকির মুখে পড়ে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে ফলজ বৃক্ষের পাশাপাশি অধিক হারে বৃক্ষরোপন বা বনায়ন করতে পারলে সার্বিক পরিবেশ রক্ষা পাবে।
গাছ ক্রয় করতে আসা প্রতাপকাটী গ্রামের শাহিদা বেগম বলেন, “প্রতি বছর আমি গাছ লাগাই, আমার ভালো লাগে। গাছ হলো অকৃত্রিম বন্ধু। গাছ যেমন ফল ও অক্্িরজেন দেয়, আবার গাছ বিক্রি করলে নগদ টাকা ও পাই। এসব কারণে আমি গাছ লাগাই।”












