বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

কলারোয়ায় দাখিলে চরম ফলাফল বিপর্যয়, পাসের হার ৫৩%

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় দাখিলে চরম ফলাফল বিপর্যয়, পাসের হার ৫৩%

শেখ জিল্লু, কলারোয়া: কলারোয়া উপজেলায় দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে চরম হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার ২৮টি মাদ্রাসা থেকে ৫৮২ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৩১৪ জন। বিপরীতে অকৃতকার্য হয়েছে ২৬৮ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৪৬.০৫ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৪৬ জনই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

পুরো উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩ জন পরীক্ষার্থী। উপজেলার ২৮টি মাদ্রাসার মধ্যে ২৫টি প্রতিষ্ঠান থেকেই কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। ফলে দাখিলের ফলাফলে একদিকে যেমন উচ্চসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, অন্যদিকে মেধাবৃত্তিক ফলাফলেও দেখা দিয়েছে চরম সংকট।

প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার প্রায় অর্ধেক মাদ্রাসার পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার নেমে এসেছে ১০ শতাংশের নিচে। ধান্যতাড়া, মদনপুর অধ্যাপক নাসিরউদ্দীন দাখিল মাদ্রাসায় ১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন (পাসের হার ৬.২৫ শতাংশ)। একই পাসের হার বাকসা হঠাৎগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসায়ও; সেখানেও ১৬ জনের মধ্যে মাত্র একজন পাস করেছে। এ ছাড়া উলুডাঙ্গা ওসমানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৪ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩ জন (২১.৪২ শতাংশ), শাকদাহ দাখিল মাদ্রাসায় ৫ জনের মধ্যে একজন (২০ শতাংশ), পুটুনি দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ৬ জনের মধ্যে একজন এবং ছোট রাজনগর দাখিল মাদ্রাসায় ১৮ জনের মধ্যে ৮ জন পাস করেছে।

তবে এর বিপরীতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ বা তুলনামূলক ভালো ফলও হয়েছে। গয়ড়া-রামভদ্রপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসা (১১ জন) ও বোয়ালিয়া আদর্শ মহিলা দাখিল মাদ্রাসার (১২ জন) শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কাকডাঙ্গা সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা, বসন্তপুর আমিনিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও কলারোয়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে একজন করে মোট ৩ জন সর্বোচ্চ গ্রেড পেয়েছে। উপজেলার বাকি ২৫টি মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি। সার্বিকভাবে গড় পাসের হার দাঁড়ায় ৫৩.৯৫ শতাংশ।

সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হারুন অর রশিদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার কারণ চিহ্নিত করে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ একাডেমিক তদারকি, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের জবাবদিহিতা এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আরও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জিপিএ-৫-এর এমন নি¤œসংখ্যা নিয়েও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা করা জরুরি।

Ads small one

মাহমুদকাটীতে বৃক্ষরোপণ ও ‘গাছের গল্প বলা’ অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
মাহমুদকাটীতে বৃক্ষরোপণ ও ‘গাছের গল্প বলা’ অভিযান

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (খুলনা): জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষায় কপিলমুনির পার্শ্ববর্তী মাহমুদকাটীতে শুরু হয়েছে বৃক্ষরোপণ ও ‘গাছের গল্প বলা’ অভিযান।
বুধবার পাইকগাছা উপজেলার মাহমুদকাটীতে অনির্বাণ লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে অনির্বাণ লাইব্রেরি, ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন। অনির্বাণ লাইব্রেরির সহসভাপতি বাসুদেব রায়ের সভাপতিত্বে ও সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্রের সঞ্চালনায় কর্মসূচি উদ্বোধন করেন সহযোগী অধ্যাপক সফিয়ার রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী প্রতিটি গাছের দেখভালের ওপর জোর দিয়ে শিক্ষার্থীদের ‘গার্ডিয়ানশিপ’ দেওয়ার প্রস্তাব করেন। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।

খুলনায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
খুলনায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস পালিত

খুলনা ব্যুরো: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বুধবার রাতে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন মানবদরদি, সমাজ সংস্কারক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। তিনি বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে সমৃদ্ধ করেছেন এবং তাঁর সাহিত্য মানবিকবোধ জাগ্রত করে।

খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন অধ্যাপক মো. আব্দুল মান্নান এবং স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা কালচারাল অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম।

 

সম্পাদকীয়/ সংকটে কেশবপুরের অবোলা ঐতিহ্য: দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ সংকটে কেশবপুরের অবোলা ঐতিহ্য: দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন

যশোরের কেশবপুরের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান। অথচ প্রকৃতির এই সুন্দর সৃষ্টিগুলো আজ চরম খাদ্য সংকটে পড়ে অস্তিত্ব রক্ষায় দিশেহারা। লোকালয় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ওদের আনাগোনা কিংবা মানুষের দুয়ারে গিয়ে আহত হনুমানের চিকিৎসার করুণ আকুতি কেবল খাবারের অভাবকেই তুলে ধরে না, বরং প্রাণী সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার এক বড় দুর্বলতা স্পষ্ট করে তোলে।
বনজ সম্পদের দ্রুত হ্রাস এবং সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে অবোলা প্রাণীগুলো লোকালয়ে এসে নিয়মিত দুর্ঘটনা ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার শিকার হচ্ছে। সরকারিভাবে দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণ কলা, পাউরুটি, বাদাম ও সবজি বরাদ্দ দেওয়া হলেও চার শতাধিক হনুমানের চাহিদার তুলনায় তা একেবারেই অপ্রতুল। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো গণনা না হওয়ায় প্রয়োজনের সঠিক হিসাবও আড়ালে রয়ে যাচ্ছে। প্রাণী ও মানুষের সংঘাত এড়াতে অবিলম্বে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সেগুলো হলোÑ অবিলম্বে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে হনুমানের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী দৈনিক খাদ্য বরাদ্দ কয়েকগুণ বৃদ্ধি করতে হবে। বসতবাড়ি ও ফলজ বাগান রক্ষায় নির্দিষ্ট অভয়ারণ্যে পর্যাপ্ত ফলদ গাছ রোপণ ও নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা দরকার। বিপজ্জনক বিদ্যুৎলাইন ও তারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, যেন খাদ্যের খোঁজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আর কোনো হনুমানের প্রাণহানি না ঘটে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষ টিম প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। কেশবপুরের কালোমুখো হনুমান রক্ষায় বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সময়মতো সঠিক উদ্যোগ না নিলে এই বিরল প্রজাতিটি আমাদের হাত থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে।