শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

কাজের অভাবে পাইকগাছার হাজারো শ্রমিকের ইটভাটায় পাড়ি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ণ
কাজের অভাবে পাইকগাছার হাজারো শ্রমিকের ইটভাটায় পাড়ি

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় স্থানীয় পর্যায়ে কাজের তীব্র সংকট ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জীবিকার সন্ধানে দেশের বিভিন্ন জেলার ইটভাটায় পাড়ি জমাচ্ছেন হাজারো নিম্নআয়ের মানুষ। তাঁদের সঙ্গে যাচ্ছেন নারী ও শিশুরাও। সংসারের খরচ, সন্তানদের খাবার ও পড়ালেখার ব্যয় মেটাতে বাধ্য হয়েই তাঁরা নিজ এলাকা ছেড়ে দূরদূরান্তে শ্রমিকের কাজ বেছে নিচ্ছেন।

স্থানীয়ভাবে স্থায়ী কর্মসংস্থান ও পর্যাপ্ত দৈনিক কাজের সুযোগ না থাকায় দিনমজুরদের আয় অনিয়মিত। অন্যদিকে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষের পাশাপাশি অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারও। এ পরিস্থিতিতে জীবিকার তাগিদে ইটভাটায় কাজ করতে যাচ্ছেন পাইকগাছার অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ।

সাধারণত বর্ষা মৌসুম শেষে কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাস থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইটভাটার মৌসুম শুরু হয়। চলে পরবর্তী বর্ষা মৌসুমের আগ পর্যন্ত। উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষিকাজের ব্যস্ততা কমে গেলে অনেক শ্রমজীবী মানুষ কাজের সন্ধানে অন্য জেলায় চলে যান।

ইটভাটার মালিক বা শ্রমিক সরবরাহকারী সর্দাররা অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অগ্রিম টাকা দেন, যা স্থানীয়ভাবে ‘দাদন’ নামে পরিচিত। দরিদ্র পরিবারগুলো এই টাকা দিয়ে জরুরি পারিবারিক প্রয়োজন মেটায়। পরে ইটভাটায় কাজ করে সেই টাকা পরিশোধ করতে হয়। অনেক শ্রমিক একা না গিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ পুরো পরিবার নিয়ে ভাটায় যান, যাতে পরিবারের একাধিক সদস্য কাজ করে আয় করতে পারেন।

শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ইট তৈরির মৌসুমে তাঁদের কাজ করতে হয়। সর্দারের মাধ্যমে ছয় মাসের চুক্তিতে তাঁরা ইটভাটায় যোগ দেন। কাজ শুরুর আগে অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়। তবে এই অর্থ পরিশোধের দায় থাকায় অনেক শ্রমিককে দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

কাজের ধরন অনুযায়ী ছয় মাসে শ্রমিকদের পারিশ্রমিকও ভিন্ন। ইট তৈরির কারিগররা পান প্রায় এক লাখ টাকা। জোগালিরা পান ৪৫ হাজার টাকা, আগাটক শ্রমিকরা ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা, গোড়ারটক শ্রমিকরা ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা এবং মাটি বহনকারীরা পান ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া কাজ শেষে খোরাকি হিসেবে সাত দিনে জনপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দেওয়া হয় বলে শ্রমিকেরা জানান।

শ্রমিকদের জানান, তাঁদের দুই শিফটে কাজ করতে হয়। ফজরের আজানের পরপরই কাজ শুরু হয়ে চলে দুপুর পর্যন্ত। এরপর স্বল্প বিরতি দিয়ে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। আবার শ্রমিকদের একটি অংশ পালাক্রমে রাতে কাজ করেন। সব মিলিয়ে অনেক শ্রমিককে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করতে হয়।

ইটভাটার পাশেই টিনের ঘর তৈরি করে শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। সেখানেই তাঁরা বসবাস করেন এবং নিজেরাই রান্না করে খাবার তৈরি করেন। তবে এসব ঘরে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় তাঁদের জীবনযাপন করতে হয় নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে।

ইটভাটার শ্রমিকদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কষ্টকর। অস্থায়ী ও অপর্যাপ্ত আবাসনে বসবাসের পাশাপাশি তাঁদের দীর্ঘ সময় ধোঁয়া, ধুলাবালি ও গরম পরিবেশে কাজ করতে হয়। এতে শ্বাসতন্ত্রসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

বিশেষ উদ্বেগের বিষয়, কাজের জন্য পরিবারের সঙ্গে ইটভাটায় যাওয়া অনেক শিশু নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে তাদের পড়ালেখা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়া এবং নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে পাইকগাছার শ্রমজীবী মানুষকে জীবিকার জন্য নিজ এলাকা ছাড়তে হচ্ছে। সংসারের ব্যয় মেটাতে তাঁদের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সীমিত বিশ্রাম ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে কাজের সুযোগ বাড়ানো গেলে এসব মানুষের দূরদূরান্তে গিয়ে কঠিন পরিবেশে কাজ করার চাপ কমতে পারে।

Ads small one

মনিরামপুরে পাঁচ শহীদ বিপ্লবীর ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
মনিরামপুরে পাঁচ শহীদ বিপ্লবীর ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

যশোর প্রতিনিধি: পাঁচ শহীদ বিপ্লবী কমরেড আসাদ, শান্তি, মানিক, তোজো ও ফজলুর ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের মনিরামপুরের চিনাটোলায় শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, শোক পালন ও শপথ পাঠ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ও জাতীয় ছাত্রদল যশোর জেলা কমিটির উদ্যোগে শহীদদের সমাধিস্থলে পুষ্পমাল্য অর্পণ, নীরবতা পালন ও শপথ পাঠ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের জেলা কমিটির সহসভাপতি সমীরণ বিশ্বাস, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির মনিরামপুর উপজেলা কমিটির সহসভাপতি আশরাফ আলী, সাধারণ সম্পাদক আশিষ গাইন এবং জাতীয় ছাত্রদলের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মধুমঙ্গল বিশ্বাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ শহীদ বিপ্লবীদের অসমাপ্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর আধিপত্য বিস্তার ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কারণে বাংলাদেশ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দেশের বন্দর ও করিডর বিদেশি শক্তির স্বার্থে ব্যবহারের উদ্যোগের বিরোধিতা করে তাঁরা জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৩ অক্টোবর পাকিস্তানি শাসকদের এদেশীয় সহযোগী রাজাকার বাহিনী মনিরামপুরের চিনাটোলা বাজারসংলগ্ন একটি গ্রাম থেকে কমরেড আসাদ, শান্তি, মানিক, তোজো ও ফজলুকে আটক করে। পরে হরিহর নদীর সেতুর ওপর তাঁদের হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এ পাঁচ বিপ্লবীর স্মরণে প্রতিবছর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়।

অসুস্থ মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
অসুস্থ মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিনিধি: চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি মন্ত্রীর চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলেন।

হাসপাতালে উপস্থিত হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ শাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ অন্য চিকিৎসকেরা মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

শ্বাসকষ্ট ও হৃদ্‌রোগের সমস্যা নিয়ে বুধবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন ড. আবদুল মঈন খান। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা এই মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীও তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

ড. আবদুল মঈন খানের দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তাঁর পরিবার। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী রোকসানা খন্দকার ও তিন কন্যা হাসপাতালে তাঁর শয্যাপাশে রয়েছেন।

গাজীপুরে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় পুলিশ কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতা নিহত, আহত ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় পুলিশ কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতা নিহত, আহত ২

ন্যাশনাল ডেস্ক: গাজীপুরের কালীগঞ্জে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও বিএনপির এক স্থানীয় নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের আরও দুই সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। দুর্ঘটনার পর কাভার্ডভ্যান নিয়ে পালিয়ে গেছেন চালক।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার তুমলিয়া এলাকায় কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন কালীগঞ্জ থানার এসআই মিজানুর রহমান এবং পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। তিনি তুমলিয়া এলাকার মৃত ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে।

কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, রাতে এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল টহল ও ওয়ারেন্ট তামিলের দায়িত্ব পালন করছিল। মহাসড়কের পাশে গাড়ি থামিয়ে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যান তাঁদের ধাক্কা দেয়। এতে চারজন গুরুতর আহত হন।

পুলিশের দাবি, ধাক্কার পর এসআই মিজানুর রহমান কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে আটকে গেলে চালক তাঁকে প্রায় আধা কিলোমিটার টেনে নিয়ে সড়কের পাশে ফেলে পালিয়ে যান।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত এসআই মিজানুর রহমান ও পিএসআই জাবেদ ওমরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে শুক্রবার সকালে মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়। জাবেদ ওমর চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত কনস্টেবল ফজলে রাব্বিকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মাদক-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজনকে আটকের খবর পেয়ে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। ঘটনার পর পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কাভার্ডভ্যান ও চালকের পরিচয় জানা যায়নি।