সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

গরমে র‍্যাশ-চুলকানি এড়াতে করণীয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
গরমে র‍্যাশ-চুলকানি এড়াতে করণীয়

গরমকালে অনেকেই চুলকানি, র‌্যাশ বা ঘামাচির সমস্যায় ভোগেন। এই সময়ে আরো একটি সমস্যা দেখা দেয় তা হলো ‘নিকেল অ্যালার্জি’। আংটি, চুড়ি বা ঘড়ি অথবা ধাতব কিছু থেকে এক রকম চর্মরোগ হতে দেখা যায়। এতে ত্বকে জ্বালা, চুলকানি বাড়ে। কারো ত্বকে বড় বড় ফোস্কা পড়ে। ত্বকের রংও বদলে যায়।
ত্বক চিকিৎসকেরা বলেন, গরমের সময়ে হিট র‌্যাশ ও কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের সমস্যা বাড়ে। এর থেকে রেহাই পেতে ঘরোয়া কিছু টোটকাই কাজে আসতে পারে।

গরমে র‍্যাশ-চুলকানি এড়াতে করণীয়-

> গরমে গোসলের বিকল্প নেই। দুই থেকে তিনবার গোসল করুন। এতে ত্বক ঠান্ডা থাকবে। গোসলের সময় খুব বেশি সুগন্ধযুক্ত সাবান ব্যবহার করবেন না। হালকা বডিওয়াশ ব্যবহার করা ভালো। এতে ত্বকে পিএইচ ব্যালান্স বজায় থাকবে। প্রতিবার গোসলের পর অন্তর্বাসসহ পোশাক বদলে ফেলুন।

> গরমের সময় টাইট বা ফিটিং পোশাক পরা থেকে বিরত থাকুন। শরীরে যেন বাতাস প্রবেশ করতে পারে, সেজন্য ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। টাইট পোশাক পরলেই ত্বকে সংক্রমণ দেখা দেবে। মনে রাখবেন, ত্বকের যেসব স্থানে বেশি ঘাম হয়; সেসব স্থানগুলো যাতে পরিষ্কার ও খোলামেলা থাকে। তাহলেই র্যাশ বা ফুসকুড়ি উঠবে না।

> গোসলের আগে প্রতিবার ত্বকের আক্রান্ত স্থানে বরফের সেঁক নিতে পারেন। এতে জ্বালা-পোড়াভাব ও চুলকানি কমবে। একটি তোয়ালের মধ্যে কিছু বরফ নিয়ে পুরো শরীরে কিছু সময়ের জন্য সেঁক নিতে পারেন।

> চন্দন ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ রোধে জাদুকরী ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, চন্দন কাঠের গুঁড়োয় অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যানালজেসিক আছে। যা ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ রোধ করে। পাশাপাশি আক্রান্ত স্থানের জ্বালা-পোড়াভাব কমায়। চন্দনের গুঁড়ো সঙ্গে পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখ, গলাসহ আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করতে পারেন।

> বেকিং সোডা ব্যবহারে ত্বকের চুলকানি বা প্রদাহ মুহূর্তেই কমে। এটি ত্বকের সংক্রমণ রোধে দুর্দান্ত একটি ঘরোয়া প্রতিষেধক। পানির সঙ্গে কয়েক টেবিল চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে গোসল করুন। এভাবে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে তারপর শরীরে পরিষ্কার পানি ঢেলে গোসল সম্পন্ন করুন।

> অ্যালোভেরার নির্যাস ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-সেপটিক উপাদান আছে। যা ত্বক ঠান্ডা করে সংক্রমণ কমায়। ত্বকের অস্বস্তি দূর করতে আক্রান্ত স্থানে অ্যালোভেরার রস ব্যবহার করতে পারেন।

সূত্র: আনন্দবাজার

Ads small one

দেবহাটায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

দেবহাটা প্রতিনিধি: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও জীবনাদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে সাতক্ষীরার দেবহাটায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় দেবহাটা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহার সভাপতিত্বে এবং উপজেলা ইন্সট্রাক্টর, ইউপিইটিসি মহিতোষ কর্মকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মাহমুদ, দেবহাটা থানার তদন্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম, দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা অলিউল ইলমাল, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা কাজী সিদরাতুল মুনতাহা, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শাহিনা খাতুন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওহাব, প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খাইরুল আলম, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুল, জুলাই যোদ্ধা মুজাহিদ বিন ফিরোজ, দেবহাটা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অনুপ কুমার পাল ও আব্দুল আজিজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। এ সময় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, গীতা পাঠ, কবিতা আবৃত্তি ও নজরুলসংগীত পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও কর্ম নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মে সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বার্তা রয়েছে। নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলের আদর্শ ও চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তালায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
তালায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

তালা প্রতিনিধি: নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়েছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টায় তালা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. তারিক ইমাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার মন্ডল, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার প্রভাস কুমার দাস, সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রাসেল রানা, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মো. ইমান উদ্দীন, তালা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রাজ্জাক, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান এবং তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার প্রমুখ।

এ সময় সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন শেষে অতিথিরা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সাফল্য কামনা করেন। তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, দর্শন ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে ধারণা দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নেপালে বন্যায় নিহত ৯০০ ছাড়ালো, নিখোঁজ ৪৭০০

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৪ অপরাহ্ণ
নেপালে বন্যায় নিহত ৯০০ ছাড়ালো, নিখোঁজ ৪৭০০

নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষ। দুর্যোগের চতুর্থ দিনে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, নদী ও বসতিতে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।

নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত জানিয়েছেন, পাহাড়, জনবসতি ও নদী এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার কাজ চলছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধার তৎপরতায় স্থানীয় বাহিনীর সঙ্গে একাধিক বিদেশি দলও কাজ করছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সোমবারের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে বন্যায় ৯০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২৪৭ জন, যাদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। অন্যদিকে চীনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৬ জন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতে নিখোঁজ বিদেশির সংখ্যা ২৬১ জন, যাদের মধ্যে শতাধিক নেপালি নাগরিক।

বন্যায় সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে অন্তত ৯০ জন আটকা রয়েছেন।

তাদের উদ্ধারে স্থানীয় উদ্ধারকারীদের পাশাপাশি বিদেশি বিশেষজ্ঞ দলও কাজ করছে। তবে পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় এবং বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ জমে থাকায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।

গত বুধবার হিমালয় অঞ্চলের উচ্চভূমিতে একটি হিমবাহ ধসে পড়ার পর ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত হয়। স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করা বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, হিমবাহের নিচের পাহাড়ি শিলাস্তরের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। এর সঙ্গে হিমবাহের একটি অংশও নিচে নেমে আসে।

শিলাধসের মাত্রা এতটাই বড় ছিল যে তা ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূকম্পন হিসেবে রেকর্ড হয়। এরপর বিপুল পরিমাণ পাথর ও গলিত বরফ নিচের উপত্যকাগুলোর নদীতে গিয়ে পড়ে। এতে নদীগুলোর পানির প্রবাহ হঠাৎ বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ স্রোত তৈরি হয়।

সেই স্রোত নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভবন, সেতু, সড়ক ও মাটির বিশাল অংশ ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বহু জনবসতি এখন কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে আছে।

দুর্যোগের পর থেকে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চল ও নদীর তীরবর্তী এলাকায় আটকে পড়াদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি, সরু উপত্যকা এবং ধসে পড়া সড়ক-সেতুর কারণে উদ্ধারকারীদের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছাতেও বেগ পেতে হচ্ছে।

এদিকে নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে উদ্ধার ও ত্রাণকাজের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজও চলছে।

ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপাল ও তিব্বতের বহু এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্গত এলাকায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: এপি