বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

গল্প/পদক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
গল্প/পদক

 

সাজেদা সুলতানা কলি
সকাল বেলায় পত্রিকার পাতায় চোখ পড়তেই নিলীমা চমকে ওঠে! হাতে লেখা একটি পা-ুলিপির ছবির নিচে লেখা- ‘এই হাতের লেখা কার? উপযুক্ত প্রমাণসহ খোজ চাই।’ এটা কিভাবে সম্ভব! এতকিছু হয়ে গেছে অথচ সে কিছুই জানলো না! সে কি তাহলে একবার পত্রিকা অফিসে যোগাযোগ করবে? স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। তবু বড় ম্যাডামকে ফোন করে ছুটি নিল নীলিমা। পাঁচ বছরের চাকরিজীবনে এমনটা সে কখনো করেনি। :বাবা, তুমি সারাদিন কোথায় ছিলে? মন খারাপ করে কোথায় কোথায় ঘুরে বেড়াচ্ছ? একটু বলেও তো যাও না। আমি তাহলে কিভাবে বাঁচবো? নাওয়া নেই, খাওয়া নেই। তোমার স্বাস্থ্যও তো পুরোপুরি ভেঙ্গে গেছে। আমার তো এখন তোমাকে নিয়ে ভয় হচ্ছে। বাবার গা থেকে শার্টটা খুলে বাতাসে মেলে দিতে দিতে নীলিমা কথাগুলো বলল, : কোথাও যাইনি। তোর মায়ের কবরটা দেখে আসলাম। চারপাশে ঝোঁপঝাড়ে কবরটা আড়াল হয়ে গেছে। সেগুলো সরিয়ে দিয়েছি। বেঁচে থাকতে তো কখনো যতœ করিনি। এখন যতœ করে ঋণ শোধ করার চেষ্টা করছি। কথাটা বলে, হু হু করে কেঁদে উঠে নীলিমার বাবা।
সায়রা আর মুজাফ্ফরের বিয়ে হয়েছে পারিবারিকভাবে। মুজাফ্ফর মফস্বল শহরের একটা কলেজের বাংলার প্রভাষক। সায়রার বাবা ছেলে কলেজে পড়ায় শুনে বিয়েতে আর দ্বিমত করেননি। অনার্সে ভর্তির কয়েক মাস পর সায়রার বিয়ে হয়ে যায়। পড়াশোনাও চলছিল। নিলীমা যখন পেটে আসলো তখন শ্বশুর বাড়ির লোকজন বিশেষ করে শ্বাশুড়ী সায়রাকে আর কলেজে যেতে দেননি। মেয়ের জন্মের পর থেকে সায়রা পুরোপুরি সংসারী হয়ে উঠেছে। এখন তার একমাত্র ধ্যানজ্ঞান মেয়ে নিলীমাকে বড় করা ।
কলেজের সময়টুকু ছাড়া মুজাফফরের অখ- অবসর। সে শিক্ষকতার পেশায় গেছেও এই অবসরটুকুর জন্য। তার প্রচুর বই পড়ার নেশা। একসময় লেখালেখিও শুরু করে। মাস শেষে সায়রার হাতে বেতনের টাকাটা তুলে দিয়েই তার দায়িত্ব শেষ। প্রথম দিকে “নিয়ে সায়রা রাগারাগি করতো। এখন সে আর কিছু বলে না। মুজাফফরও স্বাধীন। অবসরে বই পড়া আর লেখালেখি ছাড়া তার কোনো কাজ নেই।
সুখের সংসারে ঝড় উঠলো একদিন। সায়রা পেটের ব্যথায় ছটফট করছে। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানা গেলো গলব্লাডারে পাথর। ডাক্তার পরামর্শ দিলেন যত তাড়াতাড়ি পাথর অপসারণ করা যায় তত মঙ্গল। কিন্তু ব্যথার ওষুধ খেয়ে আরাম পাওয়ায় বিষয়টা সায়রা আর গুরুত্ব দেয়নি। এদিকে মুজাফফর তো আগে থেকেই উদাসীন। যেদিন সায়রা ব্যথায় অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল সেদিন মুজাফফরকে কিছুটা বিচলিত দেখা গেল। কারণ এবার সায়রার অসুস্থতা চিকিৎসার ঊর্ধ্বে চলে গেছে। তার পেটের ভেতর কর্কট রোগ বাসা বেঁধেছে । নিলীমা তখন এইচএসসি পড়ছে। মেয়ের পড়ার খরচ আর মায়ের চিকিৎসার খরচ নিয়ে ভাবতে গিয়ে মুজাফ্ফর এলোমেলো হয়ে গেছে। সায়রা চলে গেল চিরতরে। নিলীমা তখন সদ্য এইচএসসি পাশ করে বিভিন্ন জায়গায় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো ।
মুজাফ্ফর তিন বছর ধরে একটা উপন্যাস লিখেছে। সায়রা মাঝে মাঝে দুষ্টুমি কওে বলতো, ‘আমি মরে যাবো তবুও তোমার এই উপন্যাস শেষ হবে না। একটা উপন্যাস লিখতে যদি এত সময় লাগে তাহলে হুমায়ুন আহমেদ কিভাবে এত বই লিখলেন?’ সবার লেখার ধাঁচ এক নয়। আমি চাই আমার উপন্যাস কালজয়ী হবে। তাই সময় নিয়ে লিখছি। মুজাফফরের এই উত্তর শুনে সায়রা কি ভাবলো কে জানে। আর কিছু না বলেসে রান্না ঘরে চলে গেলো। এর ক’দিন পরই সায়রা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। সত্যি সত্যিই মুজাফফর উপন্যাস শেষ করতে পারেনি। সারাজীবন লেখালেখি করে কি লাভ হলো? আজ পর্যন্ত একটা লেখা মূলধারার পত্রিকায় ছাপা হলো না। অবশ্য এলাকা ভিত্তিক লিটল ম্যাগাজিনে অনেক লেখা ছাপা হয়েছে। কিন্তু এতে তো মন ভরে না। সায়রা চলে যাওয়ার পর সে এখন বই পড়ে না। লেখার কাগজ কলম ছুঁয়েও দেখে না। সুযোগ পেলেই চলে যায় স্ত্রীর কবরের কাছে। অনেক দিন হলো মুজাফফর পুরোপুরি অপ্রকৃতিস্থ হয়ে গেছে। এখন আর দিন রাত নেই। সবসময়ই সায়রার কবরের কাছে বসে কি যেন বিড়বিড় করে। প্রথম দিকে নিলীমা কোথাও খুঁজে না পেলে চিন্তিত হতো। এখন জানে তার বাবা মায়ের কবর ছেড়ে কোথাও যায় না।
অনিরুদ্ধ বাংলা সাহিত্যের ছাত্র এবং পরম ভক্তও। তার অদ্ভুত একটা শখ আছে। সে পুরনো বইয়ের দোকান খুঁজে খুঁজে বের করে। আর সেখান থেকে সংগ্রহ করে এমন কিছু বই যেগুলোর লেখককে কেউ চেনে না। মাত্র একটা বা দুটি বই প্রকাশ হয়েছে এমন লেখকের বইয়ে তার বুক শেলফ ঠাসা। তার যুক্তি হলো যে লেখক তার সারা জীবনে মাত্র একটা বই লিখেছেন সেটাতে তিনি তার সমস্তটা ঢেলে দিয়েছেন। তাই নিশ্চিত, এই বইটি হবে অসাধারণ। সেরকম একটা পুরনো বইয়ের দোকানে গিয়ে বই নাড়াচাড়া
করতে গিয়ে অনিরুদ্ধ পেয়ে গেলো চমৎকার একটা মাস্টারপিস!
অনেকগুলো পুরনো বইয়ের ভেতরে পা-ুলিপিটা পেয়েছিলো অনিরুদ্ধ। উল্টে পাল্টে দেখে দোকানীকে জিজ্ঞেস করল, : এটা কার? আমি কি এটা নিতে পারি? একতাড়া কাগজ দেখে দোকানী তাচ্ছিল্যের
সুরে বললো, ‘এটা দিয়ে আমরা কি করবো! নিয়ে যান।’ পা-ুলিপিটা পড়ে অনিরুদ্ধ সিদ্ধান্ত নিলো এটা সে ছাপাবে। কিন্তু অসমাপ্ত পা-ুলিপি কোনো প্রকাশক নিচ্ছিল না। কারণ এটার শেষের বেশ কয়েকটি পৃষ্ঠা ছুটে গেছে। শেষ পর্যন্ত অনিরুদ্ধ সেটা গুছিয়ে নিয়ে বই আকারে ছাপলো। নীলিমা আজকে স্কুল থেকে ছুটি নিয়েছে। হলরুম লোকজনে পরিপূর্ণ। প্রধান অতিথি আসলেই অনুষ্ঠান শুরু হবে। অনিরুদ্ধও এসেছে। নিলীমার সাথে কথা বলছে সে। সেদিন পত্রিকায় অনিরুদ্ধের ‘খোঁজ চাই’ বিজ্ঞপ্তি দেখে নীলিমা তার সাথে দেখা করে। দৈনিক পূর্ববাংলা পত্রিকার আয়োজনে আজকে এখানে অনেক খ্যাতিমানের মিলনমেলা বসেছে। অতিথিদের বক্তব্য শেষে আসলো পুরস্কার প্রদানের পালা। নীলিমা ধীর এবং শান্ত পায়ে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যায়। হঠাৎ করে সে মাইকে ঘোষণা করে বসলো, ‘এই পুরস্কার আমি প্রত্যাখ্যান করলাম। এটা গ্রহণ করা মানে তিলে তিলে আমার নিজেকে শেষ করে দেওয়া। অনুষ্ঠান স্থলে গুঞ্জন উঠলো, কী ব্যাপার! কী হলো! সব তো ঠিকই ছিলো! নীলিমার বক্তব্য শুনে বোঝা গেল আসলে কিচ্ছু ঠিক নেই। নীলিমা বলতে শুরু করে- ‘সেদিন পত্রিকায় ‘সেরা বইয়ের পুরস্কার অর্জন’ কথাটার পাশে হাতে লেখা একটা কাগজের ছবির নিচে লেখা ছিলো, ‘এই হাতের লেখা কার? উপযুক্ত প্রমাণসহ খোঁজ চাই’। আমি দেখেই বুঝতে পেরেছি এটা আমার বাবার হাতের লেখা। পত্রিকা অফিস থেকে খোঁজ পাই অনিরুদ্ধের। বাবা মারা যাওয়ার পর আমি সব বই কাগজওয়ালার কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। ওখানে বাবার লেখা একটা উপন্যাসের পা-ুলিপি ছিলো। যেটা নিয়ে বাবা প্রকাশকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে। যেটা লিখতে গিয়ে বাবা আমার মাকে কখনো সময় দেয়নি। মৃত্যুশয্যায় আমার মা অভিমান নিয়ে বাবাকে বলেছিলো, ‘এখন থেকে তুমি লেখালেখি নিয়ে থাকতে পারবে। কেউ কিছু তোমাকে বলবে না।’ সেই অপরাধবোধ থেকে বাবা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অপ্রকৃতিস্থ ছিলো। আমি সংসার করিনি, বাবাকে তাহলে কে দেখবে ? আমার বয়স এখন পঁয়তাল্লিশ। বাবার জন্য তো আমি ছিলাম। আমার জন্য কে আছে? আজ আমার বাবা বেঁচে নেই। এই পদক দিয়ে কি হবে? বেঁচে থাকতে মানুষটাকে কেউ দেখেনি। এখন এই সম্মান আমার কাছে অভিশাপ ছাড়া কিছু নয়।’ বলে, নীলিমা কান্নায় ভেঙে পড়ে। পুরো হলরুমে পিনপতন নীরবতা। অনিরুদ্ধ ও বাষ্পায়িত কণ্ঠে বলে উঠলো, ‘মানুষ বেঁচে থাকতে যদি তার বেতিভার স্বীকৃতি না পায়, মৃত্যুর পরের স্বীকৃতিতে তার কি আসে যায়? লেখক মুজাফফর হোসেন তাঁর জীবদ্দশায় একটি ভালো দৈনিক পত্রিকায়ও নিজের ভাপানো লেখা দেখেননি। এখন এই পদক কি তাঁকে ফিরিয়ে আনতে পারবে? নীলিমার জায়গায় আমি হলেও পদক প্রত্যাখ্যান করতাম। নীলিমা মঞ্চ ছেড়ে নেমে আসে। হলরুম তখনো নিস্তব্ধ।

Ads small one

রানি মুখার্জি মা হারালেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
রানি মুখার্জি মা হারালেন

বলিউড অভিনেত্রী রানি মুখার্জি মাকে হারালেন। তার মা কৃষ্ণা মুখার্জি মঙ্গলবার দুপুরে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। প্রযোজনা সংস্থা ‘যশ রাজ ফিল্মস’ এক বিবৃতিতে কৃষ্ণা মুখার্জির মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। শোকের এই সময়ে মুখার্জি পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মঙ্গলবার দুপুরে রানি মুখার্জির মা কৃষ্ণা মুখার্জি এই কঠিন সময়ে আপনাদের ভালোবাসা, প্রার্থনা ও সমর্থনের জন্য এই পরিবার কৃতজ্ঞ।’ শাস্ত্রীয় সংগীতে প্রশিক্ষিত শিল্পী ছিলেন কৃষ্ণা মুখার্জি। একসময় কয়েকটি সিনেমায় গানও করেছিলেন তিনি। তার স্বামী রাম মুখার্জি ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক। ২০১৭ সালে মারা যান তিনি।

মুম্বাইয়ে মুখার্জি পরিবারের বিভিন্ন আয়োজনে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন কৃষ্ণা। পরিবারের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজাতেও প্রতিবছর তার সরব উপস্থিতি দেখা যেত। মায়ের সঙ্গে রানির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও বিভিন্ন সময়ে অভিনেত্রীর সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে।

রানির প্রথম হিন্দি সিনেমা ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’-এ অভিনয়ের সুযোগ আসে তার বাবার বন্ধু ও প্রযোজক সেলিম আখতারের মাধ্যমে। তবে সেই ছবিতে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মায়ের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে জানিয়েছিলেন রানি।অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘মা ভেবেছিলেন, আমি যদি ভালো কাজ করি, তা আমাদের পরিবারের সবার জন্য ভালো হবে।’

‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ সিনেমায় অভিনয়ের ক্ষেত্রেও মায়ের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন রানি। ছবিতে এক মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। সন্তানদের ফিরে পেতে একজন মা কতটা দূর যেতে পারেন, সেই গল্পই তুলে ধরা হয়েছিল সিনেমাটিতে।

মাকে স্মরণ করে রানি একবার বলেছিলেন, ‘একজন আপাদমস্তক বাঙালি মানুষ। নিজ হাতে আমাদের খাইয়ে দিয়েছেন, কপালে টিপ পরিয়ে দিয়েছেন। আমি আমার মায়ের কাছ থেকেই শক্তি ও অনুপ্রেরণা পেয়েছি।’

চলতি বছর ‘মর্দানি ৩’ সিনেমায় দেখা গেছে রানিকে। এ ছাড়া আগামী ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে তার নতুন সিনেমা ‘কিং’-এর। ছবিটিতে শাহরুখ খান, তার মেয়ে সুহানা খান, দীপিকা পাড়ুকোন ও অভিষেক বচ্চনসহ বলিউডের একাধিক তারকা অভিনয় করেছেন।

ভয়ংকর শক্তি নিয়ে মেক্সিকোর কাছে হারিকেন পোলো

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ভয়ংকর শক্তি নিয়ে মেক্সিকোর কাছে হারিকেন পোলো

প্রশান্ত মহাসাগরে গত কয়েক দশকের অন্যতম শক্তিশালী ঝড়ে পরিণত হয়েছে হারিকেন ‘পোলো’। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের (এনএইচসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এটি ইতোমধ্যে ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনে রূপ নিয়েছে। ঝড়টি মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছ দিয়ে ধীরে এগোচ্ছে এবং আরও কিছুটা শক্তি সঞ্চয় করতে পারে।

মার্কিন ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) ‘হারিকেন হান্টার’ বিমান পোলোর ভেতরে প্রবেশ করে ঝড়টির শক্তি পরিমাপ করে। এনএইচসির ২২ সেপ্টেম্বরের বুলেটিন অনুযায়ী, ঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২৮৫ কিলোমিটার এবং কেন্দ্রে সর্বনিম্ন বায়ুচাপ ৮৯২ মিলিবারে নেমে আসে।

এনএইচসি পোলোকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হারিকেন হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টি মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছ দিয়ে অগ্রসর হলেও স্থলভাগে সরাসরি আঘাত হানার সম্ভাবনা নেই। তবে এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, গেরেরো ও মিচোয়াকান রাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় ৪ থেকে ৮ ইঞ্চি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া ওক্সাকা, কলিমা ও জালিস্কো উপকূলেও কয়েক ইঞ্চি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ঝড়ের কারণে সমুদ্রেও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পোলোর প্রভাবে মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে বড় ঢেউ ও প্রাণঘাতী রিপ কারেন্টের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এনএইচসির তথ্য বলছে, অত্যন্ত উষ্ণ সমুদ্রের পানি পোলোর দ্রুত শক্তিশালী হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২১ সেপ্টেম্বরের বুলেটিনে সংস্থাটি জানায়, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ঝড়টির শক্তি অস্বাভাবিক দ্রুত বেড়েছে এবং অনুকূল পরিবেশের কারণে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবামও উপকূলীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে জালিস্কো, কলিমা ও মিচোয়াকানসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের রাজ্যগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে রাখা হয়েছে।

ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ঢাকায় অফিস স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। একইসঙ্গে বাংলাদেশের ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণসহ নিউ ইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ঢাকায় অফিস খোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। বাংলাদেশে ফেসবুকের বড় ব্যবহারকারী ভিত্তির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়েও মেটার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দেশের ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ডিজিটাল হয়রানি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের হয়রানি কমাতে মেটা সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

তিনি আরও জানান, সরকারের প্রথম বাজেটে ই-কমার্স ও প্রযুক্তি খাতকে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও মেটার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট টিমের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ঢাকায় কবে ও কীভাবে অফিস খুলবে, তা তারা পর্যালোচনা করবে।

বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে। মক্কা প্যাক্ট নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, বৈঠকটি আন্তরিক ছিল। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে পারস্পরিক অংশীদারত্ব ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

এলডিসি উত্তরণ নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতি, গত ১৫ বছরের গণতান্ত্রিক ঘাটতি, প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতা এবং বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের বিষয়গুলো বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ-সংক্রান্ত আবেদনের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব বিষয়ে বাংলাদেশ সমর্থন পাচ্ছে এবং এ নিয়ে সরকার ইতিবাচক। জ্বালানি সংকটের বিষয়টি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদেও সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।