রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

চলচ্চিত্র নয়, তবে কোন ‘অস্তিত্বের লড়াই’-এ পূর্ণিমা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
চলচ্চিত্র নয়, তবে কোন ‘অস্তিত্বের লড়াই’-এ পূর্ণিমা?

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। অভিনয় ও সৌন্দর্য দিয়ে মাতিয়ে রেখেছেন বছরের পর বছর। এক সময়ের ব্যস্ত এই নায়িকা এখন অভিনয় থেকে অনেক দূরে। বিরতি দিয়ে মাঝে তিনটি সিনেমায় কাজ করলেও সেগুলো মুক্তির খবর নেই। নাটকেও নেই তিনি অনেক দিন। হুট করে সম্প্রতি এই নায়িকা সচেতনতামূলক একটি প্রামাণ্যচিত্রে অংশ নিয়েছেন।

‎১৯৭০ সালে ভোলায় ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে ‘প্রেমের তাজমহল’খ্যাত প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক গাজী মাহবুব নির্মাণ করেছেন প্রামাণ্যচিত্রটি। এফডিসিতে দৃশ্যধারণের মধ্য দিয়ে এরই মধ্যে শেষ হয়েছে শুটিং। বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান মানবসুর উন্নয়ন সংস্থা (মাউস)-এর জন্য প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মিত হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব লাভুর গ্রন্থনা ও পরিকল্পনায় প্রামাণ্যচিত্রটির নাম রাখা হয়েছে ‘অস্তিত্বের লড়াই’।
‎পূর্ণিমা বলেন, ‘প্রামাণ্যচিত্রের ভাবনা ভালো লাগায় মানুষকে সচেতন করতে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে কাজটি করেছি। আমি সবসময় ভালো কাজের সঙ্গে থাকতে চাই।’

‎গাজী মাহবুব জানান, গল্পে উঠে আসবে ১৯৭০ সালের বন্যার সেই মর্মান্তিক কাহিনি এবং বর্তমান বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমাদের করণীয় কী। মানবসুর উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গঠনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এটি দেখানো হবে। এছাড়াও অন্তর্জালে প্রকাশিত হবে। অনুষ্ঠানে সারাদেশের ২ হাজার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে দিনব্যাপী ফ্রি প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণ বিষয়ে বিস্তারিত সংস্থার ফেসবুক পেজে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব লাভু।

‎পূর্ণিমা ছাড়াও প্রামাণ্যচিত্রটিতে আরও রয়েছেন কাজী হায়াৎ, শিবা শানু, তানহা তাসনিয়া, শিরিন শিলা, মৌ খান ও জয় চৌধুরীসহ আরও অনেকেই।

Ads small one

‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’: সাতক্ষীরায় দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবুজের নবযাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’: সাতক্ষীরায় দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবুজের নবযাত্রা

এসএম শহীদুল ইসলাম

ঋতুচক্রে এখন বর্ষাকাল। আকাশজুড়ে মেঘের আনাগোনা আর রিনিঝিনি বৃষ্টির শব্দে চারদিকের তপ্ত প্রকৃতি শান্ত রূপ নিয়েছে। প্রকৃতির এই নতুন রূপ কেবল দেখার আনন্দই দেয় না, বরং পরিবেশকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়ও এটি। বিশেষ করে বৃক্ষরোপণের জন্য বর্ষার চেয়ে ভালো সময় আর হতেই পারে না। এই রূপান্তরকে আরও অর্থবহ করতে আজ সোমবার বেলা দুইটায় সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে শুরু হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ কর্মসূচি ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ (লেইস) প্রকল্পের অধীনে এই কর্মসূচি আয়োজিত হচ্ছে। জেলার প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের দেড় হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এই সবুজায়ন অভিযান পালিত হবে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, জেলার প্রায় এক হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৫০ হাজার বৃক্ষচারার চাহিদা দেওয়া হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব চারা বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে।

অন্যদিকে, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর কবীর জানান, জেলায় প্রায় ৫০০ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় কমপক্ষে একটি ফলজ, একটি বনজ ও একটি ভেষজ উদ্ভিদ রোপণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুধু গাছ লাগানোই নয়, শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করতে র‌্যালি, সেমিনার, আলোচনাসভা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা ও দেয়ালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রোপণের পর গাছের সঠিক যতœ ও পরিচর্যার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গাছ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অক্সিজেন সরবরাহ, জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গাছের ভূমিকা অপরিসীম। বর্তমানে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমরা নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হচ্ছি। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ। বর্ষাকালে মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকায় এবং বৃষ্টির পানির কারণে চারা গাছের শিকড় খুব দ্রুত মাটির গভীরে প্রবেশ করতে পারে। এ সময় প্রখর রোদ না থাকায় চারা মরে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে এবং বাড়তি সেচেরও প্রয়োজন হয় না। ফলে প্রকৃতি নিজেই চারা গাছকে পরম যতেœ বড় করে তোলে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশসচেতনতা ছড়িয়ে দিতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচিটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি শিশুর মাঝে গাছ লাগানোর মানসিকতা তৈরি করা, যেন তারা নিজেদের চারপাশকে সবুজ করে তুলতে উদ্বুদ্ধ হয়।

বর্তমান সময়ে এই সবুজায়নের অভিযান আরও বেগবান করা জরুরি। বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশে, পতিত জমি কিংবা ছাদবাগানেÑযেখানেই সুযোগ আছে, সেখানেই অন্তত একটি করে গাছ লাগানো উচিত। ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করে আমরা যেমন নিজেদের পুষ্টি ও অর্থনৈতিক চাহিদা মেটাতে পারি, তেমনি পরিবেশকেও বাঁচাতে পারি বিপর্যয়ের হাত থেকে। আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি গাছ লাগানো মানে কেবল একটি জীবন বাঁচানো নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পৃথিবী রেখে যাওয়া।

এবারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বেশ কিছু প্রেরণাদায়ী স্লোগান তুলে ধরা হয়েছে। যেমন: ‘বন্যা-ঘূর্ণিঝড় করবো জয়, জলবায়ু সচেতনতায় নেই ভয়।’ ‘লেইস প্রকল্পের অঙ্গীকার, সবুজ হবে বিদ্যালয় আমাদের সবার।’ ‘গাছ লাগিয়ে ভরবো দেশ, তৈরি হবে সবুজ বাংলাদেশ।’ ‘একটি গাছ একটু যতœ, লেইসের সবুজায়ন স্বপ্ন’, ‘সবুজ স্কুল সুন্দর মন, লেইস প্রকল্পের আয়োজন’, ‘শিক্ষাঙ্গনে সবুজের বার্তা, সবুজ বাংলাদেশের নবযাত্রা’, এবং ‘আজকের বৃক্ষরোপণ, আগামীর জলবায়ু সুরক্ষা’।

আসুন, এই বর্ষায় আমরা প্রত্যেকে অন্তত একটি করে চারা গাছ লাগাই এবং সেটির সঠিক যতœ নেওয়ার শপথ নিই। আপনার সামান্য একটু উদ্যোগই পারে এই পৃথিবীকে আরও সবুজ ও সুন্দর করে তুলতে। লেখক: বার্তা সম্পাদক, দৈনিক পত্রদূত, সাতক্ষীরা

 

গ্রীষ্মমন্ডল: সম্ভাবনা, সংকট ও আমাদের দায়িত্ব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
গ্রীষ্মমন্ডল: সম্ভাবনা, সংকট ও আমাদের দায়িত্ব

সাকিবুর রহমান বাবলা

আজ ২৯ জুন আন্তর্জাতিক গ্রীষ্মমন্ডল দিবস। কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলকে গ্রীষ্মমন্ডল বলা হয়। পৃথিবীর মোট ভূখন্ডের প্রায় ৩৫ শতাংশ জুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চল জীববৈচিত্র্য, বনসম্পদ ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল এবং নবায়নযোগ্য মিঠাপানি ৫০ শতাংশের বেশি এ অঞ্চলে। একই সঙ্গে বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ এখানে বসবাস করে।

সরাসরি সূর্যালোক গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল কৃষি, মৎস্য, বনজ ও পানি সম্পদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনও এই অঞ্চল পৃথিবীর অক্সিজেন ভান্ডার। গবেষণা বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের অধিকাংশ শিশুর জন্ম হবে গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশগুলোতে, ফলে বৈশ্বিক উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনে এ অঞ্চলের গুরুত্ব আরও বাড়বে। গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল কেবল সম্পদ নয়, এটি বিশ্ব অর্থনীতির নতুন ‘মেরুকেন্দ্র’ হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, শিল্প কারখানা, দূষণ ও দারিদ্র্য গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশগুলোর জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ এর অন্যতম ভুক্তভোগী। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, উচ্চ তাপপ্রবাহ, খরা ও তীব্র লবণাক্ততার বিস্তার মানুষের জীবন ও জীবিকাকে ক্রমাগত ঝুঁকির মুখে ফেলছে। ফলে এ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ‘জলবায়ু উদ্বাস্তু’ অভিবাসন বাড়ছে।

পবিত্র কোরআনে পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা ও পরিবেশ ধ্বংস না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই প্রকৃতি সংরক্ষণ শুধু উন্নয়নের প্রয়োজন নয়, এটি নৈতিক ও মানবিক দায়িত্বও। বৃষ্টির পানি, প্রাকৃতিক জলাধার ও বন সংরক্ষণ, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষির ব্যাপক প্রসার এখন সময়ের দাবি।

আন্তর্জাতিক গ্রীষ্মমন্ডল দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়-প্রকৃতি রক্ষা মানেই মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ রক্ষা। একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে পরিবেশ সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

ধর্মের নামে রাজনীতি: আদর্শের মুখোশ নাকি ক্ষমতার লোভ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
ধর্মের নামে রাজনীতি: আদর্শের মুখোশ নাকি ক্ষমতার লোভ?

মুক্তমত

‎‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎বাংলাদেশের মানুষ ইসলামকে ভালোবাসে। এ দেশের ধর্মীয় চেতনা, মূল্যবোধ ও সামাজিক সংস্কৃতির সঙ্গে ইসলাম গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ফলে যারা নিজেদের ইসলামী আদর্শের ধারক-বাহক হিসেবে পরিচয় দেন এবং ইসলামের নামে রাজনীতি করেন, তাদের প্রতি জনগণের প্রত্যাশাও স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি। মানুষ আশা করে, ইসলামের কথা যারা বলবেন, তারা নিজেদের ব্যক্তি, সংগঠন ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডেও ইসলামের শিক্ষা ও বিধানের প্রতিফলন ঘটাবেন।

‎কিন্তু বাস্তবতায় কিছু মৌলিক প্রশ্ন বারবার সামনে আসে। একদিকে ইসলামী রাষ্ট্র, শরিয়াহভিত্তিক সমাজব্যবস্থা এবং ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়; অন্যদিকে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের বহু ক্ষেত্রে এমন কিছু চিত্র দেখা যায়, যা ঘোষিত আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয় না। ফলে সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে এটি কি আদর্শ বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা, নাকি আদর্শকে রাজনৈতিক প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাখ্যা করার প্রবণতা?

‎বিশেষত পর্দা ও শালীনতার প্রশ্নে এই বিতর্ক আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ইসলামে পর্দা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান হিসেবে বিবেচিত। অথচ ইসলামী পরিচয়ে পরিচালিত বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল, সমাবেশ ও প্রচারণায় নারীদের প্রকাশ্য অংশগ্রহণ, মিশ্র পরিবেশ এবং অনেক ক্ষেত্রে বেপর্দা উপস্থিতি নিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন উত্থাপন করে আসছে। তারা জানতে চায়, যদি ইসলামের প্রতিটি বিধান বাস্তবায়নের দাবি করা হয়, তবে সেই দাবির প্রথম প্রতিফলন কি নিজেদের সাংগঠনিক কর্মকান্ডে দৃশ্যমান হওয়া উচিত নয়?

‎মসজিদের ব্যবহার নিয়েও সমাজে আলোচনা রয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে মসজিদ কেবল ইবাদতের স্থান নয়; এটি শিক্ষা, দাওয়াত, সমাজসেবা ও নৈতিক নেতৃত্বেরও কেন্দ্র ছিল। সে অর্থে ইসলামী আদর্শভিত্তিক কোনো সামাজিক বা ধর্মীয় কর্মকান্ডে মসজিদের সম্পৃক্ততা নিয়ে আপত্তির অবকাশ কম। কিন্তু প্রশ্ন তখনই সৃষ্টি হয়, যখন একই সঙ্গে ইসলামের কঠোর বিধান প্রতিষ্ঠার দাবি করা হয়, অথচ নিজেদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে সেই বিধানের পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যায় না।

 

যদি কোনো সংগঠন সত্যিকার অর্থে ইসলামী আদর্শের প্রতিনিধিত্বের দাবি করে, তাহলে জনগণ স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা করবে যে তাদের বক্তব্য, কর্মপদ্ধতি ও সাংগঠনিক সংস্কৃতির মধ্যে আদর্শগত সামঞ্জস্য থাকবে। আদর্শের শক্তি স্লোগানে নয়, বরং তার বাস্তব প্রয়োগে নিহিত। জনগণ শুধু ইসলামের নাম শুনতে চায় না; তারা ইসলামের শিক্ষা ও নৈতিকতার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায়। সততা, ন্যায়বিচার, আমানতদারি, শালীনতা, আত্মসমালোচনা এবং জবাবদিহিতা এসবই ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। কিন্তু যখন কথার সঙ্গে কাজের ফারাক সৃষ্টি হয়, তখন মানুষের মনে প্রশ্ন ও সংশয় জন্ম নেওয়া স্বাভাবিক।

 

আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ধর্মীয় আবেগকে কেন্দ্র করে জনসমর্থন অর্জনের প্রবণতা দৃশ্যমান। কিন্তু ইসলাম কেবল আবেগের বিষয় নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ নৈতিক ও আদর্শিক জীবনব্যবস্থা। তাই ইসলামের নাম ব্যবহারের চেয়ে ইসলামের শিক্ষা অনুসরণ করাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হবে তাদের ঘোষিত আদর্শ ও বাস্তব কর্মকান্ডের মধ্যে কতটা সামঞ্জস্য রয়েছে তার ভিত্তিতে। কারণ আদর্শের প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয় কথায় নয়, কর্মে; দাবিতে নয়, বাস্তব প্রয়োগে।