মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

চুরির ঘটনায় বিচারের দাবিতে তুজুলপুর বাজারে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
চুরির ঘটনায় বিচারের দাবিতে তুজুলপুর বাজারে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তুজুলপুর বাজার জামে মসজিদের ৭০ হাজার টাকা চুরির প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত শাহজাহান, বাবু ও দিপুর বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার বিকেলে তুজুলপুর বাজারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলমগীর মোল্লার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন তুজুলপুর বাজার জামে মসজিদের সভাপতি সেলিম হোসেন, বাজার কমিটির সভাপতি হাফেজ আমির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, পিন্টু, বাবলুর রহমান মহুরি, আলম মোল্লা ও ওয়ার্ড জামায়াতের সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন প্রমুখ।

বক্তারা জানান, মসজিদের দানবাক্স ভেঙে শাহজাহান, দিপু ও বাবু টাকা চুরি করেন। বিষয়টি মসজিদ কমিটির বৈঠকে মীমাংসার সময় তারা চুরি করার কথা স্বীকার করেন এবং ৭০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করে ১০ দিনের সময় নেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও তারা টাকা না দিয়ে তালবাহানা করতে থাকেন। একপর্যায়ে মসজিদের সভাপতি সেলিম হোসেনসহ কয়েকজন টাকা ফেরত দেওয়ার তাগিদ দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সেলিম হোসেনকে মারধর করেন।

এ ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করে অভিযুক্তদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান। বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, শাহজাহান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের চুরি ও অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিবাদ করলে তিনি প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং নিয়মিত মাদক সেবন করে এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সেলিম হোসেন। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Ads small one

‘তন্দ্রাবিলাস’-এ শরতের আমেজ খুঁজলেন পরীমণি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
‘তন্দ্রাবিলাস’-এ শরতের আমেজ খুঁজলেন পরীমণি

শরৎ এলেই কাশফুল আর নীল আকাশের টানে অনেকেই ছুটে যান কাশবনে। এবার সেই সুযোগ হয়নি চিত্রনায়িকা পরীমণির। তবে শরতের আবহ থেকে নিজেকে দূরে রাখেননি তিনি। নীল শাড়ি পরে হাতে নিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদের বই ‘তন্দ্রাবিলাস’।

মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর ফেসবুকে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন পরীমণি। ছবিতে তাকে দেখা গেছে নীল রঙের শাড়িতে। চুল খোঁপা করে, কানে দুল আর মুখে মৃদু হাসি নিয়ে ক্যামেরার সামনে হাজির হয়েছেন তিনি।

একটি ছবিতে ‘তন্দ্রাবিলাস’ বইটি বুকে জড়িয়ে রেখেছেন পরীমণি। অন্য ছবিতে বইয়ের পাতা উল্টাতে দেখা গেছে তাকে। নীল শাড়ি, সাদামাটা সাজ আর বই হাতে তার উপস্থিতি ভক্তদের নজর কেড়েছে।

ছবিগুলোর সঙ্গে নিজের অনুভূতিও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘না হলো যাওয়া আর কাশবনে, না হলো দেখা শরতের আকাশ। উপায় হলো এই তন্দ্রাবিলাস।’

পরীমণির পোস্টের পর তার ভক্ত-অনুরাগীরা নানা মন্তব্য করেছেন। নীল শাড়িতে অভিনেত্রীর সাজের প্রশংসার পাশাপাশি তার ক্যাপশন নিয়েও মন্তব্য করেছেন অনেকে।

দেব দুলাল দত্ত নামে একজন লিখেছেন, ‘পরীর আবার আকাশ বাতাস কী… পরীর সব ই আকাশ, সব ই বাতাস…!’

ফরিদুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, ‘কাশবনে তোমার দেখা না মিললেও, এই লেখার ভাঁজে যেন তোমাকেই খুঁজে পেলাম। শরতের আকাশ যতটা নীল, তোমার মায়ায় হারিয়ে যাওয়ার অনুভূতিটা তার চেয়েও গভীর।’

আর মিনার হোসাইন লিখেছেন, ‘এমনিতেই যা সুন্দরী তার উপর আবার নীল শাড়ি পোলাপান তো পাগল হয়ে যাবে।’

গাজায় নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় হাজারো পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
গাজায় নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় হাজারো পরিবার

গাজায় যুদ্ধ শুরুর তিন বছর পরও নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে অপেক্ষা করছেন হাজারো ফিলিস্তিনি পরিবার। কেউ ইসরায়েলি স্থল অভিযানের সময় নিজ এলাকা বা আশ্রয়শিবির থেকে নিখোঁজ হয়েছেন, কেউ ত্রাণের সন্ধানে বেরিয়ে, বাড়িঘরের খোঁজ নিতে গিয়ে কিংবা তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছাকাছি যাওয়ার পর আর ফেরেননি।
নিখোঁজ স্বজনদের বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় এসব পরিবার এক অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাঁরা জানেন না, স্বজনেরা বেঁচে আছেন কি না, আটক হয়েছেন কি না, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন কি না, নাকি অজ্ঞাত মরদেহের মধ্যে রয়েছেন।

স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এখনো ১১ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ বা নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া এবং জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছেন বলে সন্দেহ করা ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

ফিলিস্তিনি সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড ফরসিবলি ডিসঅ্যাপিয়ার্ডের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর ঘোষিত যুদ্ধবিরতি পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মানুষ জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁরা নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি।

নিখোঁজ এসব মানুষের পরিণতি এখনো অজানা। গাজা থেকে আটক ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে গাজায় ফেরত দেওয়া প্রায় ৬২০টি মরদেহের পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়নি।

স্বজন হারানো এসব পরিবারের জন্য অপেক্ষার প্রতিটি দিনই হয়ে উঠেছে নতুন এক যন্ত্রণা। প্রিয়জন জীবিত না মৃত, আটক না নিখোঁজ, ধ্বংসস্তূপের নিচে নাকি অজ্ঞাত মরদেহের তালিকায়—কোনোটিই নিশ্চিতভাবে জানতে পারছেন না তাঁরা। ফলে শোক করবেন, নাকি ফিরে আসার আশায় অপেক্ষা করবেন, সেই সিদ্ধান্তও নিতে পারছেন না।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এমন তিনটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে, যাদের স্বজন যুদ্ধের সময় নিখোঁজ হয়েছেন।

তিন বছর ধরে ছেলের অপেক্ষায়
মধ্য গাজা শহরের আল-নাফাক সড়কের একটি ছোট তাঁবুতে বসে মোবাইল ফোনে ছেলের ছবি দেখেন নিদাল আল-ওয়াহিদির মা-বাবা। বাড়িতে বোমা হামলায় তাঁদের ঘরবাড়ি ও ছেলের জিনিসপত্র ধ্বংস হওয়ার পর এসব ছবিই এখন তাঁদের কাছে নিদালের স্মৃতি ধরে রাখার অন্যতম মাধ্যম।

নিদালের বাবা ৬২ বছর বয়সী সুহাইল আল-ওয়াহিদি বলেন, ‘আমাদের করার মতো কিছু নেই। শুধু ছেলের ছবি দেখি আর অপেক্ষা করি। তিন বছর ধরে আমরা শুধু অপেক্ষা করেছি এবং ছেলের কোনো খবর পাওয়ার আশা করেছি।’

নিদাল ছিলেন একজন সাংবাদিক। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ভোরে সহকর্মীদের সঙ্গে উত্তর গাজার এরেজ ক্রসিং এলাকায় গিয়েছিলেন তিনি। ওই এলাকায় হামাসের হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে সেখানে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

সুহাইল বলেন, ‘নিদাল সব সময় আমাদের চিন্তায় থাকে। আমরা আশাবাদী থাকার চেষ্টা করি এবং তার কাছ থেকে কোনো খবর পাওয়ার অপেক্ষায় থাকি।’

ছেলের সন্ধানে রেড ক্রসসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাননি বলে জানান তিনি।

‘আমরা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে বহুবার আবেদন করেছি। কোনো আবেদনই আমাদের সাহায্য করেনি। এই যুদ্ধে দুঃখজনকভাবে মানবাধিকারের কোনো সম্মান নেই,’ বলেন তিনি।

তবে ছেলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টিই শুধু তাঁকে কষ্ট দেয় না। প্রতিদিনের কঠিন সময়ে যে মানুষটির ওপর তিনি নির্ভর করতেন, সেই মানুষটিকে পাশে না পাওয়ার শূন্যতাও তাঁকে কষ্ট দেয়।

সুহাইল বলেন, ‘নিদাল শুধু আমাদের ছেলে ছিল না। সে ছিল আমাদের বন্ধু, পরিবারের অবলম্বন এবং আমার ডান হাত। এখন তাকে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। আমি প্রায়ই ভাবি, সে যদি এখানে থাকত, এই কঠিন দিনগুলো কতটা সহজ হতো।’

বাবা ও ভাইয়ের অপেক্ষায় পরিবার
৫৯ বছর বয়সী সাঈদ হাজ্জাজ এবং তাঁর ছেলে কাসেম হাজ্জাজ (নিখোঁজ হওয়ার সময় বয়স ১৭) ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তাঁদের কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার।

মধ্য গাজা শহরের ফিলিস্তিন স্টেডিয়ামে বাস্তুচ্যুত হয়ে একটি তাঁবুতে থাকেন সাঈদের স্ত্রী ৫২ বছর বয়সী মোনা হাজ্জাজ। রাতে ঘুমানোর আগে হৃদ্‌রোগের ওষুধ খাওয়ার পর দুই মেয়ের সঙ্গে স্বামী ও ছেলের স্মৃতি নিয়ে কথা বলেন তিনি।

তাঁদের মেয়ে ৩৫ বছর বয়সী নিসরিন হাজ্জাজ বলেন, ‘আমার বাবা ও ছোট ভাইকে হারানোর কষ্টে আমরা সব সময় শোকের মধ্যে আছি। আমরা বিয়ের অনুষ্ঠানে যাই না। দুই বছরের বেশি সময় ধরে আমরা মিষ্টিও খাইনি।’

তিনি জানান, স্বামী ও ছেলের নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর মায়ের হৃদ্‌রোগের সমস্যা দেখা দিয়েছে। দিন-রাত কান্নার কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তিও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের সময় উত্তর গাজা শহরের শেখ রাদওয়ানে আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল পরিবারটি। ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে আশপাশের বাড়িঘর ধ্বংস করার পর হাজ্জাজ পরিবারের বাড়িতেও প্রবেশ করে ইসরায়েলি বাহিনী।

নারীদের দক্ষিণ গাজায় চলে যেতে বাধ্য করা হয় এবং পুরুষদের আটক করা হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

নিসরিন বলেন, ‘আমরা শেষবার বাবা ও ভাইকে দেখেছিলাম নগ্ন, হাতকড়া পরানো, নির্যাতিত ও অপমানিত অবস্থায়। এরপর থেকে তাঁদের বিষয়ে আমরা আর কিছুই জানি না। তাঁরা কোথায় আছেন বা কী অবস্থায় আছেন, কিছুই জানি না।’

তথ্য জানতে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

এই অনিশ্চয়তা পরিবারের প্রতিটি মুহূর্তকে প্রভাবিত করেছে।

নিসরিন বলেন, ‘তাঁরা এখনো আমাদের জীবনের অংশ। কিন্তু আমরা জানি না, তাঁদের জন্য শোক করব, নাকি তাঁদের ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকব।’

তিনি আরও বলেন, ‘যাদের ওপর আমরা নির্ভর করতাম, তাঁদের ছাড়াই আমাদের চলতে হচ্ছে। দুঃখজনকভাবে সহায়তা সংস্থাগুলোও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে না, কারণ তাঁদের শহীদ বা বন্দি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি।’

স্বজনেরা মারা গেছেন এমন কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের মৃত্যুর কথা মেনে নিতে রাজি নয় হাজ্জাজ পরিবার। এখনো তাঁরা ফিরে আসার আশায় আছেন।

নিসরিন বলেন, ‘আমার বোনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার খরচ বহনের জন্য একটি বৃত্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এর জন্য মৃত্যুসনদ প্রয়োজন ছিল। আমরা তা দিতে অস্বীকার করি এবং বৃত্তিটিও ছেড়ে দিই। কারণ, এখনো যদি সামান্যও আশা থাকে যে সে জীবিত অবস্থায় ফিরে আসতে পারে, তাহলে আমরা সেই সম্ভাবনাকে শেষ করে দিতে চাই না।’

এই নিখোঁজের ঘটনা পরিবারটির আর্থিক ও দৈনন্দিন জীবনেই শুধু প্রভাব ফেলেনি; কেড়ে নিয়েছে বহু প্রতীক্ষিত পারিবারিক আনন্দও।

নিসরিন বলেন, ‘আমার ভাইয়ের স্ত্রী যখন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, তখন বাবা তাঁর প্রথম নাতিকে দেখার জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করছিলেন। দাদা হওয়া ছিল তাঁর স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণ হলেও তিনি তা দেখার জন্য সেখানে ছিলেন না।’

ভাইয়ের সন্ধানে তিন বছর
গাজায় নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে গঠিত একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ৪৮ বছর বয়সী আলা আবু শাবানের নিয়মিত একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিটি তাঁর ছোট ভাই মোহাম্মদের। কেউ তাঁকে দেখেছেন বা তাঁর কোনো খবর জানেন কি না, সেই প্রশ্ন করেন আলা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরু হলে আলা পূর্ব দেইর আল-বালাহ থেকে তাঁর ভাই মোহাম্মদের পরিবারকে সরিয়ে পারিবারিক বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা আলার সঙ্গে চলে গেলেও মোহাম্মদ বাড়িতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আলা বলেন, ‘সে আমাকে বলেছিল, সবকিছু দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। বাড়ি খালি রেখে যাওয়ার কোনো মানে হয় না।’

তিনি বলেন, ‘সেদিন বিকেলেও আমরা কথা বলেছিলাম এবং তাকে চলে আসতে বলেছিলাম। সে বলেছিল, সে চলে আসবে। এরপর সেটিই ছিল তার সঙ্গে আমাদের শেষ কথা।’

এর প্রায় দুই মাস পর মোহাম্মদের ফোন থেকে এক আত্মীয়ের কাছে একটি বার্তা আসে। সেখানে মোহাম্মদ জানান, তিনি দেইর আল-বালাহ সংলগ্ন ইসরায়েলের অভ্যন্তরের কিসুফিম এলাকায় আছেন এবং পরিবারের সদস্যদের তাঁকে নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু ওই এলাকা তখন এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল যে পরিবারটি সেখানে যেতে পারেনি।

আলা বলেন, ‘তিন বছর ধরে আমরা জানি না আমার ভাইয়ের কী হয়েছে, সে কীভাবে নিখোঁজ হলো, কোথায় আছে কিংবা সে জীবিত কি না।’

মুক্তি পাওয়া কয়েকজন বন্দি তাঁদের জানিয়েছেন, তাঁরা ওফার কারাগারে মোহাম্মদের নাম শুনেছেন। এরপর পরিবারটি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কেউ তাঁর অবস্থান নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।

আলা বলেন, ‘এত দিন ধরে আমরা এই যন্ত্রণাদায়ক অপেক্ষার মধ্যে আছি। এখন আমরা তাঁর পরিবারের দেখাশোনা করি। কিন্তু তাঁর বড় ছেলে ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় নিহত হয়েছে।’

ভাইয়ের নিখোঁজ হওয়ার অনিশ্চয়তা তাঁদের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের স্বাস্থ্যের ওপরও বড় প্রভাব ফেলেছে বলে জানান আলা।

‘আমার বাবা ও পরিবারের সবাই বিশ্বাস করেন, মোহাম্মদ একদিন ফিরে আসবে। এই আশাটাই তারা ধরে রেখেছেন, যদিও এর সঙ্গে অনেক কষ্টও আছে। কিন্তু তার কোনো খবর না পাওয়ায় তারা উদ্বেগ ও শোকে ভেঙে পড়ছেন,’ বলেন তিনি।

এখনো মুক্তি পাওয়া বন্দিদের কাছে ভাইয়ের ছবি দেখিয়ে তাঁর বিষয়ে জানতে চান আলা।

তিনি বলেন, ‘অনেক রাতে ভাইকে মনে করে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়ি। সে আমাকে যে সহযোগিতা করত, সেটিও খুব মনে পড়ে। সবচেয়ে কষ্ট হয়, তার বাবা নিখোঁজ থাকার সময় আমরা তার বড় ছেলেকে রক্ষা করতে পারিনি। ছেলেটিও নিহত হয়েছে।’

গাজায় নিখোঁজ মানুষের পরিবারগুলোর জন্য তাই যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও অপেক্ষার অবসান হয়নি। প্রিয়জনের কোনো নিশ্চিত খবর না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের জীবন যেন আশা, উৎকণ্ঠা ও শোকের মাঝামাঝি এক অনিশ্চিত অবস্থায় আটকে আছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু, একদিনে ১০ প্রাণহানি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু, একদিনে ১০ প্রাণহানি

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ২৮১ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৯৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত একদিনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) তিনজন, বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, ঢাকা বিভাগে বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে একজন ও রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজনের প্রাণহানি হয়েছে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) সবচেয়ে বেশি ৪৮০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ২০৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২২২, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৯৪, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৮৭, খুলনা বিভাগে ৩০২, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৬, রাজশাহী বিভাগে ১৯৯, রংপুর বিভাগে ৭৫ ও সিলেট বিভাগে ১৮ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।