রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

জলবায়ু পরিবর্তন ও কার্বনের ‘ছয় রং’: সংকট ও উত্তরণের পথ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তন ও কার্বনের ‘ছয় রং’: সংকট ও উত্তরণের পথ

তারিক ইসলাম

বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক যেকোনো আলোচনা কিংবা আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দগুলোর একটি হলো ‘কার্বন’। সাধারণ পাঠকের মনে কার্বন বলতে ধোঁয়া, বায়ুদূষণ, তাপ আটকে রাখা গ্যাস এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মতো নেতিবাচক ধারণা ভেসে ওঠে। কিন্তু পরিবেশবিজ্ঞানের আধুনিক গবেষণা আমাদের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সন্ধান দেয়। কার্বন মানেই যে শুধু পরিবেশের শত্রু, তা নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার ‘কার্বনের রংধনু’ কাঠামো এবং গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত ‘রঙের মাধ্যমে কার্বন’ শীর্ষক গবেষণাপত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কার্বনের উৎপত্তি, স্থায়িত্ব ও পরিবেশগত ভূমিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের কার্বনকে ভিন্ন ভিন্ন রং বা শ্রেণির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়। জলবায়ু সংকটের প্রকৃতি বুঝতে এবং তা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে কার্বনের এসব শ্রেণি সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ।

কার্বনের ‘রংধনু’: ধরন ও প্রভাব

প্রকৃতি ও মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত কার্বনের ছয়টি রূপ নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো।

১. কালো কার্বন: কয়লা, ডিজেল, কাঠসহ বিভিন্ন জ্বালানি ও জৈব পদার্থের অসম্পূর্ণ দহনের ফলে কালো কার্বনের সূক্ষ্ম কণা তৈরি হয়। বায়ুমণ্ডলে ভাসমান অবস্থায় এসব কণা সূর্যের আলো ও তাপ শোষণ করে। ফলে বায়ুমণ্ডল উষ্ণ হয়। একই সঙ্গে কালো কার্বন মানুষের শ্বাসতন্ত্রের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

২. বাদামি কার্বন: প্রধানত কাঠ, খড় ও অন্যান্য জৈব পদার্থ পোড়ানোর সময় নির্গত কিছু জৈব বায়ুকণা বাদামি কার্বনের উৎস। কালো কার্বনের মতো বাদামি কার্বনও সূর্যালোক শোষণ করতে পারে। এর ফলে বায়ুমণ্ডলের বিকিরণ ভারসাম্য, আঞ্চলিক আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর প্রভাব পড়ে।

৩. নীল কার্বন: সামুদ্রিক ও উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র—যেমন ম্যানগ্রোভ বন, সামুদ্রিক ঘাসের বন এবং উপকূলীয় জলাভূমিতে সঞ্চিত কার্বনকে নীল কার্বন বলা হয়। এসব বাস্তুতন্ত্রের উদ্ভিদ ও মাটি বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে কার্বন সঞ্চয় করে রাখে। বাংলাদেশের সুন্দরবন নীল কার্বন সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ভাণ্ডার।

৪. সবুজ কার্বন: স্থলভাগের বনভূমি, গাছপালা ও অন্যান্য উদ্ভিদ এবং সংশ্লিষ্ট মাটিতে সঞ্চিত কার্বনকে সবুজ কার্বন হিসেবে অভিহিত করা হয়। উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে কার্বন সঞ্চয় করে। কিন্তু নির্বিচারে বৃক্ষনিধন ও বন উজাড়ের ফলে সঞ্চিত কার্বনের একটি অংশ পুনরায় বায়ুমণ্ডলে মুক্ত হতে পারে। এতে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন আরও তীব্র হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

৫. লাল কার্বন: ‘লাল কার্বন’ শব্দটি কার্বনের প্রচলিত ও সর্বজনস্বীকৃত শ্রেণিবিন্যাসের অংশ নয়। তবে বরফ ও তুষারের ওপর জন্মানো লালচে শৈবাল বা অণুজীবের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তুষারের ওপর এসব অণুজীবের লালচে স্তর তৈরি হলে তুষারের সূর্যালোক প্রতিফলনের ক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফলে তুষার বেশি সূর্যালোক শোষণ করে এবং গলনের হার বাড়তে পারে। এটি বরফাচ্ছাদিত অঞ্চলের পরিবেশগত পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

৬. ধূসর কার্বন: ‘ধূসর কার্বন’ শব্দটিও কার্বনের সর্বজনস্বীকৃত বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাসের অংশ নয়। তবে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার, শিল্পকারখানা, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও যানবাহন থেকে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ বিভিন্ন তাপ আটকে রাখা গ্যাস বৈশ্বিক উষ্ণায়নের অন্যতম প্রধান কারণ। এসব গ্যাস বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রাখে এবং পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

প্রকৃতির কার্বন চক্র পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার অবিচ্ছেদ্য অংশ। উদ্ভিদ, বনভূমি, সমুদ্র ও মাটি প্রাকৃতিকভাবে কার্বন শোষণ ও সঞ্চয় করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। কিন্তু শিল্পবিপ্লব-পরবর্তী সময়ে অনিয়ন্ত্রিত শিল্পায়ন, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং বনাঞ্চল ধ্বংসের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ বিভিন্ন তাপ আটকে রাখা গ্যাসের ঘনত্ব বেড়েছে। পাশাপাশি কালো ও বাদামি কার্বনের মতো বায়ুদূষণকারী কণাও পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করছে।

অন্যদিকে, বরফাচ্ছাদিত অঞ্চলে শৈবালের বিস্তার এবং তুষারের প্রতিফলন ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো ঘটনা জলবায়ু পরিবর্তনের জটিল প্রভাবগুলো বুঝতে সহায়তা করে। এসব পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তাই কার্বনের বিভিন্ন ধরন, তাদের পরিবেশগত ভূমিকা এবং কার্বন নিঃসরণের উৎস সম্পর্কে জানা আমাদের জন্য শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়; বরং পরিবেশনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, কালো ও বাদামি কার্বন এবং তাপ আটকে রাখা গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে হবে। ইটভাটা, পুরোনো যানবাহন ও শিল্পকারখানায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষিবর্জ্য না পুড়িয়ে তা সার তৈরি, জৈব জ্বালানি উৎপাদনসহ পরিবেশসম্মত কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে বায়ুদূষণ কমানোর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দ্বিতীয়ত, নীল ও সবুজ কার্বনের প্রাকৃতিক ভাণ্ডার সংরক্ষণ করতে হবে। সুন্দরবনসহ উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন রক্ষায় কার্যকর আইন প্রয়োগ, অবৈধ বন উজাড় বন্ধ এবং পরিবেশসম্মত উপকূলীয় বনায়ন জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশের সমতল ও পাহাড়ি বনাঞ্চল সংরক্ষণ এবং শহরাঞ্চলে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিতে হবে।

তৃতীয়ত, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের মতো পরিচ্ছন্ন শক্তির প্রসার ঘটানো গেলে তাপ আটকে রাখা গ্যাসের নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, উপযুক্ত বিনিয়োগ এবং কার্যকর নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।

প্রকৃতিতে কার্বনের উপস্থিতি নিজে থেকেই বিপদের কারণ নয়; বরং কার্বন চক্রে মানুষের অনিয়ন্ত্রিত হস্তক্ষেপ এবং অতিরিক্ত তাপ আটকে রাখা গ্যাসের নিঃসরণই বর্তমান জলবায়ু সংকটকে তীব্র করেছে। পৃথিবীর পরিবেশগত স্থিতিশীলতা ও নতুন প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে ক্ষতিকর বায়ুদূষণকারী কণা ও তাপ আটকে রাখা গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ কার্বন ভাণ্ডার—বিশেষ করে বনভূমি, ম্যানগ্রোভ বন, জলাভূমি ও সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র—সংরক্ষণ করতে হবে।

কার্বন সম্পর্কে সঠিক বৈজ্ঞানিক ধারণা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমেই জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকার, গবেষক, পরিবেশকর্মী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক: তারিক ইসলাম, তরুণ কবি ও লেখক, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক এবং সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

Ads small one

তৃণমূলের প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতে ‘নতুন কুঁড়ি’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
তৃণমূলের প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতে ‘নতুন কুঁড়ি’

খুলনা প্রতিনিধি: তৃণমূলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি জানান, আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করবেন। এ আসরে অংশ নিতে ইতোমধ্যে প্রায় ১৬ লাখ ২৩ হাজার অনলাইন নিবন্ধন হয়েছে। প্রথম আসরে নিবন্ধনের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার। নিবন্ধিত খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠন করা হবে। এতে প্রায় ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদ অংশ নেবেন। আগামী বছরের মে বা জুনে প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ড শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম আসরে বিজয়ী অনেক খেলোয়াড় বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তাঁদের প্রশিক্ষণ ও পড়াশোনার দায়িত্ব সরকার বহন করবে। খেলাধুলার প্রসারের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখা এবং সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

খুলনা জেলা স্টেডিয়ামকে পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, আগামী জানুয়ারি থেকে নির্ধারিত ক্রীড়া সূচি অনুযায়ী খুলনা জেলা স্টেডিয়াম, বিভাগীয় স্টেডিয়াম ও বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সারা বছর খেলাধুলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোল্লা খায়রুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম, বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। পরে বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

কপিলমুনিতে ইয়াবাসহ কিশোর আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
কপিলমুনিতে ইয়াবাসহ কিশোর আটক

কপিলমুনি (পাইকগাছা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনিতে ৯ পিস ইয়াবাসহ লিটন মীর (১৬) নামে এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. হাসানুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ নাছিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। লিটন মীর রেজাকপুর গ্রামের হাসান মীরের ছেলে। পরে তাকে পাইকগাছা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

বল্লী ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিদারুল আলমের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
বল্লী ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিদারুল আলমের

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১২ নম্বর বল্লী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক সেনাসদস্য ও ব্যবসায়ী মো. দিদারুল আলম দিদার। তিনি ইউনিয়নের শীবনগর গ্রামের বাসিন্দা।

দিদারুল আলম জানান, নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করতে চান। পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

দিদারুল আলমের পিতা আলহাজ রেজাউল করিম সরদার। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ। তিনি কলারোয়া সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর মৎস্য চাষ এবং গবাদিপশু ও মাছের খাদ্যের ব্যবসায় যুক্ত হন। তাঁর সরদার এন্টারপ্রাইজের শাখা রয়েছে লাবসা পলিটেকনিক মোড় ও ঝাউডাঙ্গা বাজারে। এ ছাড়া বিনেরপোতায় তাঁর একটি মৎস্য আড়ৎ রয়েছে।

দিদারুল আলমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, ঈদগাহ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহযোগিতা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে বল্লী ইউনিয়নের ১২টি ওয়ার্ডে গণসংযোগ করছেন দিদারুল আলম। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন।

তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের অংশগ্রহণে ইউনিয়নের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।