মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুর্যোগে উপকূলীয় মানুষের জীবন জীবিকা বদলে যাচ্ছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুর্যোগে উপকূলীয় মানুষের জীবন জীবিকা বদলে যাচ্ছে

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ঘন ঘন দুর্যোগ, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের প্রথাগত জীবন-জীবিকা মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। কৃষি ও মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীলতা কমে যাওয়ায় উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর বেঁচে থাকার উপায় ও পেশায় ব্যাপক পরিবর্তন আসছে।

বাংলাদেশের উপকূলীয় ভৌগোলিক অবস্থান এবং ব-দ্বীপপ্রধান দেশ হওয়ার কারণে বাংলাদেশ একটি দুর্যোগ প্রবণ দেশ। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন-ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, খরা, বন্যা, নদী ভাঙন বাংলাদেশের নিত্যসঙ্গী। এর মধ্যে যোগ হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের দুর্যোগ। জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব এ দেশে প্রতিনিয়তই দৃশ্যমান। জলবায়ু পরিবর্তন স্পষ্টতই মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর প্রভাব ফেলছে। সময়ের বিবর্তনে পরিবর্তনশীল জলবায়ুর এই চক্র উপকূলে বসবাসরত সকল প্রাণীকুলের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ বাস করে উপকূলে, যাদের জীবিকার প্রধান বা একমাত্র উপাদান হচ্ছে কৃষি। বর্তমানে কৃষি থেকে যে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয় তা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এনে দিয়েছে, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ভবিষ্যতে এ ধারা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। বিশেষত ২০৫০ সালের মধ্যে যে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা আছে, সেটা ৮ শতাংশ এবং গম উৎপাদন কমবে ৩২ শতাংশ। যার প্রভাব পড়বে উপকূলের মানুষের জীবন জীবিকার উপর।

গত দুই দশকে বাংলাদেশে ১৮৫টি প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হেনেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। আর দেশের উপকূলীয় এলাকার মানুষ ও প্রকৃতি জলবায়ু ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি আছে। সিডর, আইলা এবং অন্যান্য ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চিংড়ি খামারসহ মৎস্য শিল্প এবং ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ফলস্বরূপ খামার এবং মাছ ধরার নৌকাগুলোতে দৈনিক শ্রমের সুযোগ মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। কয়রা, পাইকগাছা, শ্যামনগর, আশাশুনি এলাকার লোকেরা কাজ, বিকল্প আয় এবং ইট প্রস্তুতকারক, রিকশাচালক এবং শ্রমিক হিসেবে কর্মসংস্থানের জন্য অন্যান্য অঞ্চলে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয়। কয়রার দক্ষিণ বেদকাশীর বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহজাহান গাজী জানান, মাছের ঘেরে ও কৃষি কাজ করে সংসার চলছে না তাই খুলনা শহরে রিকশা চালিয়ে সংসারে খরচ বহন করছি।

উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকায় যেসব বড় পরিবর্তন আসছে। লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী ধান চাষ ব্যাহত হওয়ায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে লবণ-সহিষ্ণু জাতের ধান, তরমুজ বা শাকসবজি চাষে ঝুঁকছেন। মাছ শিকারিরা গভীর সমুদ্রে দুর্যোগের ঝুঁকি ও মাছের আকাল দেখে কাঁকড়া চাষ বা দিনমজুরিতে পেশা পরিবর্তন করছেন। অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে মিষ্টি পানির পুকুর বা ঘেরে মাছ চাষ কঠিন হয়ে পড়েছে। এর বিকল্প হিসেবে উপকূলের অনেক এলাকায় এখন কুঁচে মাছ ও কাঁকড়া চাষের প্রসার ঘটেছে।

দুর্যোগে পুরুষরা কর্মহীন হয়ে পড়লে নারীরা বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ, হাঁস-মুরগি পালন ও কাঁকড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছেন। দুর্যোগে ঘরবাড়ি ও জমি হারিয়ে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে শহরমুখী হচ্ছেন, যার ফলে উপকূলীয় অঞ্চল থেকে জলবায়ু উদ্বাস্তুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে তেমনি পেশাও বদলে যাচ্ছে। পাইকগাছার গোপালপুর গ্রামের করিম গাজী বলেন, অল্প একটু জায়গায় মাছ ও ধান চাষ করে এখন আর সংসার চলছে না। তাই যশোরে ইট ভাটায় কাজ করে ছয় মাস আর বাকি ছয় মাস ক্ষেতে কাজ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে।

স্থানীয়ভাবে আর কোনো কাজের সুযোগ থাকে না, তখন মানুষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি নিতে বাধ্য হন এলাকা ত্যাগ করার। গত দুই দশকে উপকূলীয় জেলাগুলো থেকে ঢাকামুখী মানুষের স্রোত অভাবনীয় হারে বেড়েছে। গ্রামের একজন দক্ষ কৃষক যখন খুলনা বা ঢাকায় আসেন, তখন তার কৃষিজ্ঞান কোনো কাজে আসে না। তিনি বাধ্য হয়ে রিকশা চালাতে, নির্মাণ শ্রমিক বা কারখানার নিম্নবেতনের শ্রমিকে পরিণত হতে। খুলনা, ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো শহরগুলোর বস্তিতে খোঁজ নিলে দেখা যাবে, সেখানকার বাসিন্দাদের একটা বিশাল অংশ শ্যামনগর, দাকোপ বা কয়রা অঞ্চল থেকে আসা। লবণাক্ততা তাদের কেবল ভিটেমাটি থেকেই উচ্ছেদ করেনি, তাদের পেশাগত পরিচয় ও সামাজিক মর্যাদাটুকুও কেড়ে নিয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি করে। সহায় সম্পদ হারিয়ে তারা শহরমুখি হচ্ছে।

Ads small one

ফ্রান্সের বিদায়, ফাইনালে স্পেন: স্পেন ২ : ০ ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৮ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সের বিদায়, ফাইনালে স্পেন: স্পেন ২ : ০ ফ্রান্স

 

বিশ্বকাপে একরকম অপ্রতিরোধ্য ফুটবল খেলে সেমিফাইনালে ওঠে এসেছিল ফ্রান্স। সেমিতে স্পেনের বিপক্ষে অনেকের ফেবারিটও ছিল দিদিয়ের দেশমের দলটি। কিন্তু টুর্নামেন্টজুড়ে অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলা ফ্রান্সকে সেমিফাইনালে আজ খুঁজেই পাওয়া গেল না। দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখানো স্পেনের কাছে ২–০ গোলে হেরে শেষ চার থেকেই বিদায় নিল দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

এদিন ২২ মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালের পেনাল্টি গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফেরার কোনো পথই বের করতে পারেনি গতবারের রানার্সআপরা। আলোচিত কিলিয়ান এমবাপ্পে–উসমান দেম্বেলে–মাইকেল ওলিসে ত্রয়ীও গড়তে পারলেন না তেমন কোনো পার্থক্য। উল্টো বিরতির পর পেদ্রো পোরো স্পেনের হয়ে গোল করে ফ্রান্সকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। বিশ্বকাপজুড়ে দাপুটে খেলে ফ্রান্সের এমন বিদায় দলটির সমর্থকদের জন্য বেশ হতাশাজনকই।

বিপরীতে আজ স্পেন ছিল গতিময় ও আগ্রাসী। শুরু থেকে ফ্রান্সের ওপর চাপ তৈরি করেছে তারা। জমাট রক্ষণ, গতিময় মিডফিল্ড ও আগ্রাসী আক্রমণ মিলে অসাধারণ ফুটবল উপহার দিয়েছে তারা। ফ্রান্সকে কোনো সুযোগই দেয়নি ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। যার ফল তারা শেষ পর্যন্ত পেয়েছে ফাইনাল নিশ্চিত করে। আগামী রোববার রাতের ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড ম্যাচের জয়ী দল।

ফ্রান্সের বিপক্ষে ২–০ গোলে এগিয়ে গেল স্পেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সের বিপক্ষে ২–০ গোলে এগিয়ে গেল স্পেন

ফ্রান্স দলে আরও দুই পরিবর্তন
৭২ মিনিটে মাঠ ছাড়লেন মাইকেল ওলিসে ও লুকাস দিনিয়ে। আর এ দুজনের পরিবর্তনে মাঠে নেমেছেন রায়ান শেরকি ও থিও হার্নান্দেজ।

০২: ২৫
ইয়ামালের গোল বাতিল
মনে হচ্ছিল লামিনে ইয়ামাল গোল করে ম্যাচ সিলাগালা করে দিয়েছেন। কিন্তু ৬৪ মিনিটে করা ইয়ামালের গোলটি বাতিল হয় অফসাইডের কারণে।

০২: ২১
২–০ গোলে এগিয়ে স্পেন, বিপদে ফ্রান্স
ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় থাকা ফ্রান্স এখন আরও বড় বিপদে পড়ল। তারা পিছিয়ে গেল ২–০ গোলে। ৫৮ মিনিটে গোলটি করেছেন পেদ্রো পোরো।

গোলটি অনেকটাই নিজের চেষ্টায় তৈরি করেন পোরো। দানি ওলমোর সঙ্গে দ্রুত ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে পড়েন পরো। এরপর দারুণ স্থিরতায় মাইক মাইনিয়ঁকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান তিনি।

ফ্রান্সের বিপক্ষে দ্বিতীয় গোলের পর স্পেনের উদ্‌যাপন
ফ্রান্সের বিপক্ষে দ্বিতীয় গোলের পর স্পেনের উদ্‌যাপনরয়টার্স
০২: ১৯
নামলেন দেজিরে দুয়ে
সমতা ফেরানোর অপেক্ষায় থাকা ফ্রান্স ৫৯ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলার বদলে মাঠে নামিয়েছে দেজিরে দুয়েকে।

০২: ১০
ফ্রান্স দলে পরিবর্তন
বিরতির সময়ই পরিবর্তন আনল ফ্রান্স। পরিবর্তনটি ছিল প্রত্যাশিতও। প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড দেখা মিডফিল্ডার আদ্রিয়াঁ রাবিওর বদলে মাঠে নেমেছেন রোমার মিডফিল্ডার মানু কোনে।

০১: ৫১
স্পেন ১ : ০ ফ্রান্স (হাফ টাইম)
বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালের প্রথমার্ধ শেষে ফ্রান্সের বিপক্ষে ১–০ এগিয়ে আছে স্পেন। পেনাল্টি থেকে প্রথমার্ধে একমাত্র গোলটি করেছেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। প্রথমার্ধে চেনা রূপে দেখা যায়নি ফ্রান্সকে।

ম্যাচের ২০ মিনিটে লুকাস দিনিয়ে বক্সের ভেতরে অসাবধানতাবশত লামিনে ইয়ামালকে ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় স্পেন। সেই পেনাল্টি থেকে গোল করেন ওইয়ারসাবাল।

এর কিছুক্ষণ পরই ফ্রান্সের দুশ্চিন্তা আরও বাড়ে। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা।

এই বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে এতটা অস্থির আগে দেখা যায়নি। এত দিন তারা ছিল প্রায় অপ্রতিরোধ্য। কিন্তু দিনিয়ের বিপক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত, দেম্বেলের ওপর ফাউলের জন্য পাওয়া ফ্রি-কিক ভিএআরের মাধ্যমে বাতিল হওয়া এবং জুলস কুন্দের বিপক্ষে আরেকটি সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে ফরাসি খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্ষোভ জমতে দেখা যাচ্ছে। এখন দ্বিতীয়ার্ধে দিদিয়ের দেশমের দল ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা সেটাই দেখার অপেক্ষা।

স্পেন পেনাল্টির আশীর্বাদে শুরুতেই এগিয়ে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ২:২৮ পূর্বাহ্ণ
স্পেন পেনাল্টির আশীর্বাদে শুরুতেই এগিয়ে

চলমান ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্সের মধ্যকার মহারণে শুরুতেই এগিয়ে গেছে স্পেন।

ম্যাচের ১৯তম মিনিটে ফ্রান্সের পেনাল্টি বক্সের ভেতরে স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে ফাউল করেন ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস ডিগনে। এতে স্পেনের পক্ষে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

স্পট কিক থেকে কোনো ভুল করেননি মিকেল ওয়ারজাবাল। তার নেওয়া নিখুঁত শটে বল জড়িয়ে যায় ফ্রান্সের জালে। ফলে ম্যাচের ১৯ মিনিটেই ১-০ গোলে এগিয়ে যায় স্পেন।