রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩

জাতীয় রোলার কোস্টার দিবস: রোমাঞ্চ, বিজ্ঞানের খেলা ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
জাতীয় রোলার কোস্টার দিবস: রোমাঞ্চ, বিজ্ঞানের খেলা ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতিবছর ১৬ আগস্ট বিশ্বজুড়ে রোমাঞ্চপ্রেমী মানুষ, থিম পার্ক এবং বিনোদন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা উদযাপন করেন জাতীয় রোলার কোস্টার দিবস। এটি কেবল একটি বিনোদনমূলক দিবস নয়; বরং মানুষের উদ্ভাবনী শক্তি, প্রকৌশল দক্ষতা এবং বিজ্ঞানের চমৎকার প্রয়োগের প্রতি এক বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি। ১৮৯৮ সালের এই দিনে উদ্ভাবক এডউইন প্রেসকট বিশ্বের প্রথম উল্লম্ব লুপযুক্ত রোলার কোস্টারের পেটেন্ট লাভ করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেই দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

রোলার কোস্টারের ইতিহাস মানবসভ্যতার বিনোদন সংস্কৃতির এক অনন্য অধ্যায়। ইতিহাসবিদদের মতে, এর সূচনা হয় ১৭শ শতকের রাশিয়ায়। তুষারে ঢাকা উঁচু ঢাল বেয়ে কাঠের স্লেজে চড়ে নামার যে রোমাঞ্চকর খেলা তখন জনপ্রিয় ছিল, তা “রাশিয়ান মাউন্টেনস” নামে পরিচিত। পরবর্তীতে ১৮১৭ সালে ফ্রান্সে চাকার সাহায্যে ট্র্যাকে চলাচলকারী আধুনিক রোলার কোস্টারের বিকাশ ঘটে। এরপর ১৮৮৫ সালে আমেরিকার কনি আইল্যান্ডে লামার্কাস আদনা থম্পসন প্রথম সফল বাণিজ্যিক রোলার কোস্টার চালু করে বিনোদন জগতে এক নতুন যুগের সূচনা করেন।

আজকের রোলার কোস্টার শুধু একটি রাইড নয়, বরং আধুনিক প্রকৌশল ও প্রযুক্তির এক অসাধারণ নিদর্শন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নির্মিত বিশালাকৃতির কোস্টারগুলো মানবসৃষ্টির সাহসী উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অবস্থিত ‘ফরমুলা রোসা’ ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে বিশ্বের দ্রুততম রোলার কোস্টারের মর্যাদা অর্জন করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কিংডা কা’ বিশ্বের সর্বোচ্চ রোলার কোস্টার হিসেবে পরিচিত, যার উচ্চতা ৪৫৬ ফুট। জাপানের ‘স্টিল ড্রাগন ২০০০’, কানাডার ‘ইউকন স্ট্রাইকার’ এবং জাপানের ‘তাকাবিসা’ রোমাঞ্চের নতুন নতুন সীমা নির্ধারণ করেছে।

বাংলাদেশে রোলার কোস্টারের রোমাঞ্চ উপভোগের জন্য বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় থিম ও বিনোদন পার্ক রয়েছে। ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কের ফিউচার ওয়ার্ল্ড ও কার্নিভাল জোনে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইস্পাত নির্মিত রোলার কোস্টার দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এছাড়া আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডম এবং সাভারের নন্দন পার্কে বিভিন্ন রোমাঞ্চকর রোলার কোস্টার ও বিনোদনমূলক রাইডের ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের ফয়েজ লেক কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ডে পরিবারসহ উপভোগের উপযোগী পারিবারিক রোলার কোস্টার দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত।

রোলার কোস্টারের জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে বিজ্ঞানের অত্যন্ত আকর্ষণীয় ব্যবহার। অনেকেই মনে করেন শক্তিশালী ইঞ্জিনের সাহায্যে এটি চলে, কিন্তু বাস্তবে এর প্রধান চালিকাশক্তি হলো পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্র। রাইডের শুরুতে কোস্টারটিকে একটি উঁচু স্থানে তুলে নিয়ে স্থিতিশক্তি সঞ্চয় করা হয়। পরে নিচে নামার সময় সেই স্থিতিশক্তি গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে পুরো যাত্রাপথে গতি বজায় রাখে। অভিকর্ষ বল, জড়তা এবং কেন্দ্রমুখী বলের সমন্বয়ে রাইডাররা লুপ, বাঁক এবং খাড়া ঢাল অতিক্রম করেও নিরাপদে সিটে অবস্থান করতে পারেন। ফলে রোলার কোস্টার বিজ্ঞান শিক্ষারও একটি জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

জাতীয় রোলার কোস্টার দিবস উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন থিম পার্কে নানা আয়োজন করা হয়। বিশেষ টিকিট ছাড়, সদস্যদের জন্য রাতব্যাপী রাইড, রোলার কোস্টারের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তি দেখার সুযোগ এবং স্মারক উপহার বিতরণ এই দিনের আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলে। এসব আয়োজন শুধু বিনোদনই নয়, বরং প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার প্রতি মানুষের আগ্রহও বৃদ্ধি করে। ভবিষ্যতে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং উন্নত চৌম্বক প্রযুক্তির ব্যবহার রোলার কোস্টার অভিজ্ঞতাকে আরও আধুনিক ও নিরাপদ করে তুলতে পারে।

বর্তমান বিশ্বে রোলার কোস্টার পর্যটন শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে থিম পার্কগুলো প্রতি বছর কোটি কোটি দর্শনার্থী আকর্ষণ করে, যা অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে এসব স্থাপনা নিরাপত্তা প্রযুক্তি, প্রকৌশল গবেষণা এবং নতুন উদ্ভাবনের ক্ষেত্র হিসেবেও কাজ করছে। একই সঙ্গে রোলার কোস্টারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন ভবিষ্যতের বিনোদন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

জাতীয় রোলার কোস্টার দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানুষের কল্পনা, সাহস এবং বিজ্ঞান একত্রিত হলে অসাধারণ কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব। এটি শুধু দ্রুতগতির এক রাইডের গল্প নয়; বরং ইতিহাস, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও মানবসৃজনশীলতার এক অনবদ্য সমন্বয়। রোমাঞ্চের প্রতিটি বাঁক, প্রতিটি উত্থান-পতন যেন আমাদের জীবনেরই প্রতিচ্ছবি—ভয়কে জয় করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক অনুপ্রেরণাময় বার্তা।

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় প্রতি ১০ জনে ৭ কিশোরী বাল্যবিবাহের শিকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রতি ১০ জনে ৭ কিশোরী বাল্যবিবাহের শিকার

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় মা কাজের তাগিদে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। সাতক্ষীরা শহরের বাড়িতে একা হয়ে পড়া মেয়েটির ওপর তখন পরিবারের কার্যকর কোনো নজরদারি ছিল না। সেই সুযোগে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় তাকে। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস পার হতেই সে জানতে পারে তার স্বামী একজন পেশাদার জুয়াড়ি। পাওনাদারদের চাপ, পারিবারিক কলহ আর স্বামীর শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের মুখে বাপের বাড়িতে ফিরে আসতে বাধ্য হয় সে। পরবর্তীতে পুনরায় পড়াশোনা শুরু করে সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় ‘এ-মাইনাস’ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। জীবনে বাল্যবিবাহের তিক্ত অভিজ্ঞতাকে পেছনে ফেলে এই তরুণী এখন বিবাহ বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ওই কিশোরী উল্লেখ করেন, অবুঝ বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর সংসারে অশান্তি শুরু হয় এবং জানতে পারেন স্বামী নিয়মিত জুয়া খেলত ও ঋণের মধ্যে ছিল। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরিবারের কাছে ফিরে এসে আবার পড়াশোনা শুরু করেছেন এবং ভবিষ্যতে নিজের মতো করে জীবন গড়ে তুলতে চান।
সাতক্ষীরা শহরজুড়ে আইনি ফাঁকফোকর, সামাজিক অবক্ষয় ও প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে শতশত কিশোরীর জীবন এভাবে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শ্যামনগর উপজেলার দাতিনাখালী গ্রামের কলবাড়ি নেকজানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রী ও পার্শ্ববর্তী ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয়।
স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে এই কিশোর-কিশোরী এক সাথে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজনের মধ্যস্থতায় বৈঠকের মাধ্যমে উভয় পক্ষ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেওয়া হয়েছিল যে, বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া হবে না। কিন্তু সেই অঙ্গীকারনামা অমান্য করে ছেলের বাবা রফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরা জজ কোর্টের একজন আইনজীবীর মাধ্যমে এফিডেভিট করিয়ে ১৫ ও ১৬ বছরের দুই নাবালক-নাবালিকাকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করেন।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত থাকলেও আইনি ও দাপ্তরিক কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মহিলা বিষয়ক কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাহায্য না চাইলে পুলিশ সরাসরি গিয়ে অভিযান চালাতে পারে না।
শ্যামনগর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারিদ বিন শফিক জানান, খবর পাওয়ার পর অভিযুক্ত ছেলের বাবাকে কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য অফিশিয়াল নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং তিনি উপস্থিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে ছেলের বাবা রফিকুল ইসলামের দাবি, পরিস্থিতি বিবেচনা করে এফিডেভিটের মাধ্যমে সামাজিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, সাতক্ষীরায় বাল্যবিবাহের বর্তমান গড় হার দাঁড়িয়েছে ৭২ শতাংশে, যার মধ্যে শ্যামনগর উপজেলায় এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। উপকূলীয় এই অঞ্চলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট ও অতিরিক্ত লবণাক্ততায় নিয়মিত কাজ করার ফলে কম বয়সে মেয়েদের শরীরের ত্বক নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে সামাজিক ভীতি থেকে অভিভাবকেরা দ্রুত বিয়ে দিয়ে দেন।
গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি হেলেনা বিলকিস জানান, ক্লিনিকে আসা গর্ভবতী নারীদের একটি বড় অংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এই বয়সে সন্তান ধারণের কারণে এবং অতিরিক্ত লবণাক্ত পরিবেশের প্রভাবে তাদের উচ্চ রক্তচাপ, এপিলেপসি ও রক্তস্বল্পতার হার বেশি। নদী পার হয়ে জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে অনেক প্রসূতির মৃত্যু ঘটে।
সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন জানান, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে মেয়ে এবং ২১ বছরের নিচে ছেলের বিয়ে বেআইনি। অসাধু নোটারি পাবলিক ও জালিয়াতি চক্র টাকার বিনিময়ে এফিডেভিট করে দিচ্ছে, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
মানবাধিকার কর্মী মাধব দত্ত জানান, কার্যকর নজরদারির অভাবের কারণেই অঙ্গীকারনামা থাকার পরও বাল্যবিবাহ রোখা যাচ্ছে না। স্থানীয় সরকারের উদ্যোগ ও সঠিক সনদ যাচাই ছাড়া বিবাহ রেজিস্ট্রি বন্ধ করা প্রয়োজন।
সাতক্ষীরা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানান, গোপনে ও এফিডেভিটের অপব্যবহার করে বিয়ে সম্পাদন করার কারণে সব ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয় না, তবে স্থানীয় নজরদারি জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতাপনগরে প্রাথমিক চিকিৎসা ও দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
প্রতাপনগরে প্রাথমিক চিকিৎসা ও দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা

সংবাদদাতা: আশাশুনির প্রতাপনগরে প্রাথমিক চিকিৎসা, নিরাপদ অপসারণ ও আগাম সতর্কবার্তা বিষয়ক পরিবারভিত্তিক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আইডিয়াল’-এর বাস্তবায়নে, ‘সিডিডি’-এর কারিগরি সহায়তায় এবং ‘লিলিয়ান ফন্ডস’-এর অর্থায়নে ‘রেজিলেন্স বিগিনস এট হোম’ প্রকল্পের অধীনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় ২৫ জন প্রতিবন্ধী শিশুর কেয়ারগিভার অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিদর্শক মো. ইলিয়াস হোসেন। বক্তব্য দেন প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার মো. মামুন আলী ও প্রজেক্ট ফোকাল এস এম মিজানুর রহমান।

আজকের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
আজকের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের ৬টি হিন্দু পরিবারের ২৫ শতক জমি দখল করে বানানো খুপড়ি ঘর ও বেড়া আজ সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে অপসারনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় কালিগঞ্জ থানার গোলঘরে অনুষ্ঠিত এক সালিশি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গত ১৪ আগস্ট রাতে গ্রাম পুলিশ সাইফুল ও তার সহযোগীরা জয়দেব রজক ও বাসুদেব রজকসহ ছয়টি পরিবারের জমিতে খুপড়ি ঘর নির্মাণ করে জমি দখল করে নেয়। পরবর্তীতে বাসুদেব রজক ও রীনা রানী রজক থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করলে শালিসি সভা ডাকা হয়।
সাবেক ইউপি সদস্য আনারুল মীর জানান, সাইফুলের পক্ষ থেকে জমির সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় আজ সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে অবৈধ ঘর ও বেড়া সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শালিসি সভায় দক্ষিণ শ্রীপুর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহম্মদ শাহজী, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জুলফিকার সাঁফুই ও সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান পাড় উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্তনামায় স্বাক্ষর করেন। কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মল্লিক মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম হাওলাদারকে বদলী করে সাতক্ষীরা আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে মো. শাহীন যোগদান করেছেন।