ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা: মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাস
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র বিরোধিতা উপেক্ষা করে এই প্রথম মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। গত বুধবার ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা যোগ দিলে প্রস্তাবটি পাস হয়। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটে প্রস্তাবটি ২১৫-২০৮ ভোটে পাস হয়। চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন। ফলাফল ঘোষণার পর প্রতিনিধি পরিষদে উল্লাস দেখা যায়।
প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এই প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দেন। তিনি বলেন, অনেক হয়েছে, আর নয়। এবার প্রেসিডেন্টের সঠিক কাজটি করার সময় এসেছে। তার চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধের কারণে মানুষ চরম ভুগছে। জ্বালানি তেলের পাম্প থেকে শুরু করে সুপারমার্কেট, সবখানেই মানুষ আজ ক্লান্ত।
এর আগে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন প্রস্তাবটি পাস হওয়া ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। দুই সপ্তাহ আগে ভোটাভুটি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে তিনি হঠাৎ করেই প্রতিনিধি পরিষদের কার্যক্রম স্থগিত করেন। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রগতি না হওয়ায় বিরোধিতা আরও বেড়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ সীমিত করার জন্য প্রতিনিধি পরিষদে এটি ছিল চতুর্থ উদ্যোগ। গত মাসে সিনেটেও একই ধরনের একটি প্রস্তাব এগিয়ে যায়, যখন কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর নিজেদের দলের প্রেসিডেন্টের অবস্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। প্রতিবারই ডেমোক্র্যাটদের উত্থাপিত প্রস্তাবে সমর্থনের সংখ্যা বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে প্রেসিডেন্ট সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখেন। ফলে যুদ্ধ ও শান্তির বিষয়ে কার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, তা নিয়ে একটি আইনি বিতর্ক রয়েছে।
যুদ্ধক্ষমতা আইন অনুযায়ী, সামরিক অভিযানের জন্য হোয়াইট হাউসকে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে যে, যেহেতু যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে, তাই বর্তমান সংঘাতের অবসান ঘটেছে।









