সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

তরুণদের ক্রীড়ামুখী করতে মণিরামপুরে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
তরুণদের ক্রীড়ামুখী করতে মণিরামপুরে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

মামুনুর রশিদ খান, মণিরামপুর (যশোর): যশোরের মণিরামপুরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নিবন্ধিত ক্রীড়া ক্লাবের মধ্যে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। যুবসমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াপ্রেমীদের ক্রীড়াচর্চায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

সম্প্রতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এনামুল হক নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নিবন্ধিত ক্রীড়া ক্লাবের প্রতিনিধিদের হাতে ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেন।

বিতরণ করা সামগ্রীর মধ্যে ছিল ফুটবল, ভলিবল, ভলিবল নেট, ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট, কক ও নেটসহ বিভিন্ন ক্রীড়া উপকরণ।

সামগ্রী পাওয়া প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের মধ্যে রয়েছে মণিরামপুর প্রেস ক্লাব, মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাব, মণিরামপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ, মণিরামপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, পাতন-জুরানপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জুরানপুর মাঝেরপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা, কামালপুর দাখিল মাদ্রাসা, মহাদেবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিজয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তাহেরপুর কলাবাগান মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কারিমিয়া ক্যাডেট স্কীম কওমী মাদ্রাসা, এলাহি বক্স কওমী মাদ্রাসা, হাকোবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রভাতি বিদ্যাপীঠ, কোদলাপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, বাগডোব দাখিল মাদ্রাসা ও বাসুদেবপুর দাখিল মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন।

আয়োজকরা বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থী ও তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি নিয়মিত ক্রীড়াচর্চা তরুণদের মাদকাসক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া সংগঠনগুলোতে প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সামগ্রী সরবরাহের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

ক্রীড়া সামগ্রী পেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ক্লাবের প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা বলেন, এসব সামগ্রী শিক্ষার্থী ও স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিয়মিত খেলাধুলায় উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসার পথও সুগম হবে।

Ads small one

প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষায় ওজোন স্তরের ভূমিকা অনস্বীকার্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষায় ওজোন স্তরের ভূমিকা অনস্বীকার্য

প্রকাশ ঘোষ বিধান

ওজোন স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত এমন একটি প্রাকৃতিক গ্যাসের আবরণ যা সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীর প্রকৃতি, মানবজাতি ও জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা করে। সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে জীববৈচিত্র্যকে সুরক্ষা দিতে বায়ুমন্ডলের ওজোন স্তরের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ওজোন স্তর পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের একটি প্রাকৃতিক বর্ম। বায়ুমন্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে থাকা এই ওজোন গ্যাস সূর্যের প্রায় ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশ ক্ষতিকর রশ্মি আটকে দেয়, যার ফলে পৃথিবীতে জীবন ধারণ সম্ভব হয়েছে। ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীর প্রাণিকুল ও প্রকৃতিকে রক্ষা করে। ওজোন স্তরে ওজোনের ঘনত্ব খুবই কম হলেও জীবনের জন্যে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ওজোন স্তর হচ্ছে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের একটি স্তর যেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি মাত্রায় ওজোন গ্যাস থাকে। এই স্তর থাকে প্রধানত স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের নিচের অংশে, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে কমবেশি ২০-৩০ কিমি উপরে অবস্থিত। সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি এটি শোষণ করে নেয়। ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর মধ্যম মাত্রার শতকরা ৯৭-৯৯ অংশই শোষণ করে নেয়, যা কিনা ভূ-পৃষ্ঠে অবস্থানরত উদ্ভাসিত জীবনসমূহের সমূহ ক্ষতিসাধন করতে সক্ষম। এই ক্ষতিকর রশ্মি পৃথিবীর জীবজগতের সকল প্রাণের প্রতি তীব্র হুমকি স্বরূপ। বায়ুমন্ডলের ওজোন স্তর প্রতিনিয়তই এই মারাতœক ক্ষতিকর অতিবেগুণী রশ্নিগুলোকে প্রতিহত করে পৃথিবীর প্রাণিকুলকে রক্ষা করছে।

ফরাসী পদার্থবিদ চার্লস ফ্যব্রি এবং হেনরি বুইসন ১৯১৩ সালে ওজোন স্তর আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে ব্রিটিশ আবহাওয়াবিদ জি এম বি ডবসন ওজোনস্তর নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেন। ১৯২৮ সাল থেকে ১৯৫৮ সালের মধ্যে তিনি ওজোন পর্যবেক্ষণ স্টেশনসমূহের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেন।

ওজোন স্তর ক্ষয় ও এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী গণসচেতনতা তৈরিতে প্রতি বছর ১৬ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক ওজোন দিবস পালন করা হয়। ওজোন স্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ভূমিকার জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ওজোন লেয়ার সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনীত করেছে। ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বায়ুমন্ডলের ওজোন স্তর ক্ষয়ের জন্য দায়া দ্রব্যগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ বা সামিত করার লক্ষ্যে ভিয়েনা কনভেশনের আওতায় ওজোন স্তর ধ্বংসকারী পদার্থের ওপর মন্ট্রিল প্রটোকল গৃহীত হয়।

প্রকৃতি ও মানবজাতি সুরক্ষায় ওজোন স্তরের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি ত্বকে লাগলে ত্বকের ক্যানসার এবং হাড়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। ওজোন স্তর এই রশ্মি আটকে আমাদের সুরক্ষিত রাখে। অতিরিক্ত মাত্রায় ইউভি রশ্মি পৃথিবীতে প্রবেশ করলে মানুষের চোখে ছানি পড়াসহ নানাবিধ চোখের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এটি মানুষের ডিএনএ ক্ষতি হওয়া থেকে বাঁচায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট রাখে।

জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাবাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় ওজোন স্তরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ওজোন স্তর ক্ষয় হলে তীব্র তাপের কারণে স্থল ও জলভাগের সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হয়। অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, ফলে ফসলের উৎপাদন কমে যায় এবং বনায়ন হুমকির মুখে পড়ে। সমুদ্রের ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন অতিবেগুনি রশ্মির কারণে ধ্বংস হতে পারে, যা সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলকে সম্পূর্ণ বিপন্ন করে তোলে।

মানুষের তৈরি বিভিন্ন রাসায়নিক গ্যাস, ক্লোরোফ্লুরোকার্বন, হ্যালন, কার্বন টেট্রাক্লোরাইড এবং মিথাইল ব্রোমাইড ওজোন স্তর ধ্বংসের জন্য প্রধানত দায়ী। এগুলো মূলত রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার এবং অ্যারোসল স্প্রে থেকে নির্গত হয়। যা ওজোন স্তর ক্ষয়ের কারণ ও ওজোন স্তরকে ধ্বংস করছে। ওজোন স্তর রক্ষায় আমাদের করণীয়।

 

ওজোন স্তর রক্ষার্থে ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ওজোন স্তর রক্ষা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি বা মন্ট্রিয়ল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ক্ষতিকর গ্যাস নিষিদ্ধকরণে সফল ভূমিকা রাখছে। এটি সুরক্ষায় বিশ্বজুড়ে মন্ট্রিল প্রটোকল বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমাদের উচিত পরিবেশবান্ধব ও সিএফসি-মুক্ত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ওজোন স্তর রক্ষায় সচেতনতা বজায় রাখা জরুরি।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

গণতন্ত্রের শক্তি জনগণের কণ্ঠে : ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
গণতন্ত্রের শক্তি জনগণের কণ্ঠে : ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

গণতন্ত্র শুধু ভোট দেওয়ার নাম নয়; এটি মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা, মর্যাদা, সমতা, মতপ্রকাশ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণের অধিকার। যেখানে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা, আইনের শাসন ও সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত থাকে, সেখানেই গণতন্ত্র অর্থবহ হয়। তাই গণতন্ত্র কোনো এক দিনের বিষয় নয়; এটি প্রতিদিন চর্চা ও শক্তিশালী করার একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর পালিত হয় আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস। গণতন্ত্রের নীতি ও মূল্যবোধ তুলে ধরা এবং বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের অবস্থা পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি করতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালে এ/আরইএস/৬২/৭ প্রস্তাবের মাধ্যমে দিনটি ঘোষণা করে।

২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে আলোচনাভিত্তিক গণতন্ত্র ও নাগরিক অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেসের ভাষায়-বিভেদ ও সংঘাতের বদলে সংলাপ ও সহযোগিতাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার মূল ভিত্তি। যদিও জাতিসংঘ সনদে সরাসরি ‘গণতন্ত্র’ শব্দটি নেই, তবু মানবাধিকার, উন্নয়ন এবং শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে এর সম্পর্ক গভীর। ফলে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনগণের কার্যকর কণ্ঠস্বর এবং বিশ্বজুড়ে ‘নাগরিক পরিষদ’-এর সফল অভিজ্ঞতা যুক্ত করাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়।

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জাতিসংঘ প্রতি বছর প্রায় ৬০টি দেশকে অবাধ নির্বাচন পরিচালনা, নির্বাচনী আইন সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে সহায়তা প্রদান করে। পাশাপাশি সংকট-পরবর্তী সংবিধান প্রণয়ন ও সুশাসন পুনর্গঠনে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘জাতিসংঘ গণতন্ত্র তহবিল’ নাগরিক সংগঠনগুলোর গণতান্ত্রিক উদ্যোগে অর্থায়ন করছে এবং ‘জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি’ বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশে আইনের শাসন, জবাবদিহি ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

গণতন্ত্রের ইতিহাসের শিকড় প্রাচীন গ্রিসে। এথেন্সের রাজনীতিবিদ ও আইনপ্রণেতা ক্লেইস্থিনিসকে প্রাচীন বা প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের অন্যতম জনক বলা হয়। খ্রিস্টপূর্ব ৫০৮-৫০৭ অব্দে তাঁর সংস্কারের মাধ্যমে এথেন্সে জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের নতুন ভিত্তি তৈরি হয়। তিনি বংশ ও গোত্রভিত্তিক পুরোনো ক্ষমতার কাঠামো দুর্বল করে এথেন্সকে ১০টি ভৌগোলিক উপজাতিতে ভাগ করেন। পাঁচশ সদস্যের পরিষদ (বুলে)-এর মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকদের রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। কোনো নেতা অতিরিক্ত শক্তিশালী হয়ে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারেন, সে জন্য নির্বাসন প্রথা চালু করা হয়। তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার সঙ্গে যুক্ত ‘আইসোনোমিয়া’ ধারণায় আইনের চোখে সমতার গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়।

আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের দার্শনিক ভিত্তি নির্মাণে জন লক-এর অবদানও অসামান্য। তাঁর সামাজিক চুক্তি মতবাদে মানুষের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির প্রাকৃতিক অধিকার, জনগণের সম্মতি এবং সীমিত ও জবাবদিহিমূলক সরকারের ধারণা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। অর্থাৎ, ক্লেইস্থিনিস জনগণের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পথকে শক্তিশালী করেছিলেন, আর জন লক আধুনিক গণতন্ত্রের দার্শনিক কাঠামোকে আরও সুসংহত করেছিলেন।

ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ডেমোক্রেসি ইনডেক্স বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের স্থিতি মূল্যায়নে দেশগুলোকে পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র, ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র, মিশ্র শাসনব্যবস্থা এবং স্বৈরতান্ত্রিক-এই চারটি শ্রেণিতে ভাগ করে। নাগরিক অংশগ্রহণ, স্বাধীন গণমাধ্যম, আইনি কাঠামো, দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার সুবাদে এই সূচকে নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড ও ডেনমার্ক শীর্ষ স্থানে রয়েছে; বিপরীতে ২০২১ সালের নির্বাচিত সরকারের পতন, সামরিক অভ্যুত্থান ও দীর্ঘমেয়াদি একনায়কতন্ত্রের কারণে আফগানিস্তান, মিয়ানমার ও উত্তর কোরিয়া সর্বনিম্ন সারিতে অবস্থান করছে।

ঞ্জতবে গণতন্ত্র পরিমাপের ক্ষেত্রে কেবল ইআইইউ-ই একমাত্র মানদন্ড নয়; উদাহরণস্বরূপ, ‘ভি-ডেম ডেমোক্রেসি রিপোর্ট’-এর পরিমাপ অনুযায়ী ডেনমার্ক শীর্ষে থাকলেও তলানিতে রয়েছে ইরিত্রিয়া। তাই কোনো রাষ্ট্রের প্রকৃত গণতান্ত্রিক বাস্তবতা ও গতিপ্রকৃতি মূল্যায়নে একটি একক সূচকের ওপর নির্ভর না করে একাধিক বৈশ্বিক সূচক, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতিকে সার্বিকভাবে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস বাংলাদেশের জন্য আত্মপর্যালোচনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
ইআইইউ-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান ১০০তম, স্কোর ১০-এর মধ্যে ৪.৪৪ এবং দেশটি মিশ্র শাসনব্যবস্থা শ্রেণিতে রয়েছে। আগের ৭৫তম অবস্থান থেকে ২৫ ধাপ পতনের কথাও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। যা নির্বাচন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। এই পরিসংখ্যান হতাশার নয়; বরং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও অংশগ্রহণমূলক করার পথ খুঁজে বের করার একটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান।

গণতন্ত্রের ইতিহাসে কোনো একজন নেতাকে এককভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ বলা কঠিন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নেতা গণতন্ত্রের সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। নেলসন ম্যান্ডেলা ২৭ বছর কারাবাসের পরও প্রতিশোধের বদলে ক্ষমা ও পুনর্মিলনের পথে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী অ্যাপারথাইড-এর অবসান ও বহুবর্ণের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন। আব্রাহাম লিংকন গৃহযুদ্ধের সংকটে ইউনিয়ন রক্ষা ও দাসপ্রথা বিলোপের মাধ্যমে সমঅধিকারকে গণতন্ত্রের কেন্দ্রে আনেন। মহাত্মা গান্ধী অহিংসা ও সত্যাগ্রহের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের শক্তি দেখান। আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় উইনস্টন চার্চিল নাৎসি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের নেতৃত্ব দিয়ে ইউরোপের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

গণতন্ত্রের অবক্ষয়ের জন্য কোনো একক নেতাকে সর্বত্র দায়ী করা যায় না। তবে বৈশ্বিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণে ভøাদিমির পুতিন, ভিক্টর অরবান, রেজেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও নিকোলাস মাদুরোর নাম প্রায়ই উঠে আসে। রাশিয়ায় বিরোধী রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করার অভিযোগে পুতিন, হাঙ্গেরিতে গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অরবান এবং তুরস্কে ২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার অভিযোগে এরদোয়ান সমালোচিত। অন্যদিকে, নির্বাচন, বিরোধী রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে দীর্ঘ সংকটের কারণে মাদুরোর সরকারও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে।

তবে গণতন্ত্রের অবক্ষয় কেবল কোনো ব্যক্তির কারণে হয় না। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, অপতথ্য, সামাজিক বিভাজন এবং ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থও গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। অন্যদিকে, গণতন্ত্রের মূল চালিকাশক্তি জনগণ। তাই গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকার, রাজনৈতিক দল বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নয়-প্রত্যেক নাগরিকের।

সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, আইন ও সংবিধান মেনে চলা, সরকারের কর্মকান্ড সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজন হলে শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলকভাবে জবাবদিহি দাবি করা নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পাশাপাশি মানবাধিকার, সুশাসন ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সমর্থন, সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা এবং গুজব ও অপতথ্য থেকে দূরে থাকাও জরুরি। কারণ গণতন্ত্র শুধু ব্যালট বাক্সে জন্ম নেয় না। পরিবার, বিদ্যালয়, সমাজ, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে এর চর্চা করতে হয়।

১৫ সেপ্টেম্বর তাই শুধু একটি আন্তর্জাতিক দিবস নয়; এটি নিজেদের কাছে ফিরে তাকানোর দিন। আমরা কি ভিন্নমতের মানুষের কথা শুনি? আমরা কি সত্য তথ্য যাচাই করি? আমরা কি অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে কথা বলি? আমরা কি রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের কাছে জবাবদিহি চাই? মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্র কোনো ব্যক্তি, দল বা সরকারের সম্পত্তি নয়-গণতন্ত্র জনগণের। বিভেদের পরিবর্তে সংলাপ, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা এবং নীরবতার পরিবর্তে দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে।

আজকের বিশ্বে যখন অপতথ্য, সামাজিক বিভাজন, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও কর্তৃত্ববাদ গণতন্ত্রের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, তখন প্রয়োজন আরও বেশি সংলাপ, আরও বেশি অংশগ্রহণ, আরও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং আরও সচেতন নাগরিক। শেষ পর্যন্ত জনগণের সচেতন কণ্ঠস্বরই গণতন্ত্রের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রহরী।

যৌন হয়রানির অভিযোগে মনিরামপুরে শিক্ষক আটক, ছাত্রীদের গণ-অনশন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
যৌন হয়রানির অভিযোগে মনিরামপুরে শিক্ষক আটক, ছাত্রীদের গণ-অনশন
মামুনুর রশিদ খান, মনিরামপুর (যশোর):  যশোরের মনিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের প্রতিবাদে সোমবার সকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে গণ-অনশন শুরু করে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে পুলিশ ওই শিক্ষককে আটক করে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তার প্রস্তাবে রাজি না হলে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিষয়টি প্রকাশ করতে ভয় পেত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বিষয়টি একাধিকবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
সোমবার সকালে ইকরামুল ইসলাম বিদ্যালয়ে গেলে শিক্ষার্থীরা তাকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। এরপর তারা ক্লাস বর্জন করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গণ-অনশন শুরু করে। খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে যান মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন, মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাইদ এবং ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অনশন প্রত্যাহার করে। পরে পুলিশ ইকরামুল ইসলামকে আটক করে।
এ ঘটনায় মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমানের ছোট ছেলে এনজেল পারভেজ রিফাত বাদী হয়ে ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে মনিরামপুর থানায় মামলা করেন।
মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের অবরুদ্ধ করে রাখা ও অনশনের খবর পেয়ে তাঁরা বিদ্যালয়ে যান। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্য শুনে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাইদ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন।