বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

তারুণ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চাই বাস্তব পরিকল্পনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
তারুণ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চাই বাস্তব পরিকল্পনা

আব্দুর রহমান
একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তরুণ জনগোষ্ঠীকে কতটা দক্ষ ও কর্মক্ষম করে গড়ে তোলা হচ্ছে তার ওপর। তরুণেরা শুধু জনসংখ্যার অংশ নন, তাঁরা পরিবর্তনের চালিকাশক্তি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতাসংগ্রাম, গণতন্ত্রের আন্দোলন এবং বৈষম্যবিরোধী সংগ্রামে তরুণদের সাহসী ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু তাঁদের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর উপযুক্ত পরিবেশ কতটা তৈরি হয়েছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
আজ ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস ২০২৬। এবারের প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’। দিবসটি উপলক্ষে পুরস্কার প্রদান, চাকরি মেলা, প্রশিক্ষণ ও যুব ঋণ বিতরণের মতো কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ উৎসাহব্যঞ্জক হলেও যুব উন্নয়নকে দিবসকেন্দ্রিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। প্রয়োজন ধারাবাহিক ও কার্যকর পরিকল্পনা।
তরুণদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কর্মসংস্থান। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা শেষ করলেও সবার জন্য উপযুক্ত কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। ফলে শিক্ষিত বেকারত্ব ও হতাশা বাড়ছে। এর অন্যতম কারণ শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে কর্মবাজারের চাহিদার অসামঞ্জস্য। তাই সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি, প্রযুক্তিগত ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার জরুরি। তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ফ্রিল্যান্সিং, কৃষি প্রযুক্তি ও আধুনিক শিল্পে তরুণদের দক্ষ করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে চাকরির পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।
গ্রামীণ ও উপকূলীয় অঞ্চলের তরুণদের জন্য এলাকাভিত্তিক কর্মসংস্থান পরিকল্পনা প্রয়োজন। সাতক্ষীরার মতো উপকূলীয় জেলায় লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ু পরিবর্তনে জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও সহজ অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে মৎস্য চাষ, কাঁকড়া-চিংড়ি উৎপাদন, লবণসহিষ্ণু কৃষি, পশুপালন, পর্যটন ও ক্ষুদ্র শিল্পে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব। স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় যুব উন্নয়ন কর্মসূচি সাজালে আঞ্চলিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
উদ্যোক্তা তৈরিতে শুধু ঋণ বিতরণ যথেষ্ট নয়। ব্যবসা পরিচালনা, হিসাব সংরক্ষণ, উৎপাদন, বিপণন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণও দিতে হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে নতুন উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। কতজন ঋণ পেলেন, তার চেয়ে কতজন উদ্যোক্তা টিকে থাকলেন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করলেনÑসেই বিবেচনায় কর্মসূচির সাফল্য মূল্যায়ন করা উচিত।
যুবসমাজের উন্নয়নে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের বিকাশও জরুরি। মাদক, সহিংসতা, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও অপরাধপ্রবণতা থেকে তরুণদের দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে দায়িত্ব নিতে হবে। খেলাধুলা, সংস্কৃতি, স্বেচ্ছাসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দুর্যোগ মোকাবিলায় তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন।
রাষ্ট্র ও সমাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহার করা কিংবা নির্বাচনের সময় সমর্থন চাওয়াই যথেষ্ট নয়। স্থানীয় উন্নয়ন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। মেধা, যোগ্যতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হলেই তরুণদের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্ব বিকশিত হবে।
যুব উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পোদ্যোক্তা, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষানবিশির সুযোগ বাড়াতে হবে। শিক্ষার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের যোগসূত্র তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগ্য তরুণেরা যেন সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
জাতীয় যুব দিবসের প্রকৃত সার্থকতা কেবল আনুষ্ঠানিক আয়োজনে নয়, তরুণদের জন্য বাস্তব সুযোগ তৈরিতে। তাঁদের দক্ষতা অর্জন, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একজন শিক্ষিত তরুণ যেন বছরের পর বছর চাকরির অপেক্ষায় না থাকেন, একজন গ্রামীণ তরুণ যেন পুঁজি ও প্রশিক্ষণের অভাবে উদ্যোগ হারিয়ে না ফেলেন এবং মেধাবীরা যেন যোগ্যতার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে পারেনÑএমন পরিবেশ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের লক্ষ্য।
তরুণদের বোঝা নয়, জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে তাঁদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। তারুণ্যের শক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলেই বাংলাদেশ উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যেতে পারবে। তাই যুব দিবসের অঙ্গীকার হোকÑদক্ষতা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোগ বিকাশে ধারাবাহিক বাস্তব পদক্ষেপ। লেখক: সম্পাদক, সাহিত্যপাতা

Ads small one

প্রধানমন্ত্রী খুলনায় আসছেন আজ, উদ্বোধন করবেন ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী খুলনায় আসছেন আজ, উদ্বোধন করবেন ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প 

পত্রদূত ডেস্ক: দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আবারও মোংলা বন্দরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে তিনি বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় নতুন দুটি কনটেইনার জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানান, প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণের পাশাপাশি পণ্য ওঠানামায় ৪৯টি আধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকার ৪৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। বাকি অর্থ দেবে সংশ্লিষ্ট চীনা প্রতিষ্ঠান।

প্রকল্প বাস্তবায়নে গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক ও ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে এ-সংক্রান্ত উন্নয়ন চুক্তি করেন।

মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকার আলী বন্দরের চ্যানেলের নাব্যতা বাড়াতে পরিকল্পিত ড্রেজিং, সড়ক ও রেল যোগাযোগের উন্নয়ন, ফয়লা বিমানবন্দর চালু এবং আকরাম পয়েন্টে এলএনজি স্টেশন নির্মাণের দাবি জানান।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী নতুন দুটি কনটেইনার জেটির নির্মাণকাজ উদ্বোধনের পাশাপাশি ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে রেলপথ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করবেন। এর ফলে মোংলা বন্দরে কনটেইনার পরিবহনে রেল যোগাযোগ চালুর সুযোগ তৈরি হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেড. এইচ. সিকদার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান মেলা, প্রদর্শিত ৪০ প্রকল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩০ পূর্বাহ্ণ
জেড. এইচ. সিকদার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান মেলা, প্রদর্শিত ৪০ প্রকল্প

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশে জেড. এইচ. সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) আয়োজিত এ মেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৪০টি বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শন করেন।

‘উদ্ভাবন, অনুসন্ধান ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত মেলায় শরীয়তপুরের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তাঁদের প্রকল্পে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৃজনশীল প্রয়োগ এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানের নানা ধারণা তুলে ধরা হয়।

মেলা পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল খালেক, রেজিস্ট্রার খন্দকার তাহমিনা নিষাদ এলিনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রকল্পের ধারণা, কার্যপদ্ধতি ও সম্ভাব্য ব্যবহার তুলে ধরেন। অতিথিরা তাঁদের উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং গবেষণায় উৎসাহ দেন।

আয়োজকেরা জানান, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণায় আগ্রহ তৈরি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরিতে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে। এতে নির্বাচিত সেরা প্রকল্পের শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হবে।

মেলার আয়োজনে সহযোগিতা করেছে বেসিক পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, অ্যালবাট্রস এডুকেশন ও ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

বল্লীতে মসজিদের রাস্তা সংস্কারে পরিমাপ ও পরিদর্শন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২২ পূর্বাহ্ণ
বল্লীতে মসজিদের রাস্তা সংস্কারে পরিমাপ ও পরিদর্শন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের বরাদ্দে সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোচড়া জামে মসজিদে যাওয়ার রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে রাস্তার মাপজোখ ও কারিগরি পরিদর্শন সম্পন্ন করে।

এ সময় বল্লী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ মিজানুর রহমান (পিকলু) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। তিনি কাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। এতে মসজিদের মুসল্লি ও সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তি পোহাতে হতো। রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। পরিদর্শনকালে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য, মুসল্লি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।