শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

দেবহাটায় চোর সন্দেহে গ্রামবাসীর ধাওয়া, মালামাল ফেলে পালাল দুর্বৃত্তরা, দুই রাউন্ড গুলি!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় চোর সন্দেহে গ্রামবাসীর ধাওয়া, মালামাল ফেলে পালাল দুর্বৃত্তরা, দুই রাউন্ড গুলি!

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের তিলকুড়া গ্রামে চোর সন্দেহে একদল লোককে ধাওয়া করেছে স্থানীয় গ্রামবাসী। ধাওয়ার মুখে রড, চাল, কীটনাশকসহ বিভিন্ন মালামাল ফেলে পালিয়ে যায় তারা। এ সময় দেশীয় অস্ত্র ও কাঠের তৈরি বন্দুক প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানাযায়, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ইঞ্জিনচালিত একটি ভ্যানে রড, চাল, কীটনাশকসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে তিলকুড়া সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। গভীর রাতে তাদের সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। বিষয়টি সন্দেহ হলে চিৎকার করে তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। পরে তিলকুড়া ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে ভ্যানটির পিছু নেন।

স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান জানান, গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে ওই ব্যক্তিরা ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে কাঠের তৈরি বন্দুক দিয়ে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। তবে এতে গ্রামবাসী পিছিয়ে না গিয়ে তাদের ধাওয়া অব্যাহত রাখেন।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, স্থানীয়দের জোরালো ধাওয়ার মুখে একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ফেলে যাওয়া মালামাল উদ্ধার করে বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়।

বিষয়টি নিয়ে সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফেলে যাওয়া মালামাল জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম শাহিন বলেন, ফেলে যাওয়া মালামাল জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

Ads small one

আশাশুনির কাদাকাটি ও ঝাউবুনিয়া বিলে রাতের আঁধারে মাছ চুরি, ঘের মালিকদের উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনির কাদাকাটি ও ঝাউবুনিয়া বিলে রাতের আঁধারে মাছ চুরি, ঘের মালিকদের উদ্বেগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ও ঝাউবুনিয়া বিলের বিভিন্ন চিংড়ি ঘের থেকে রাতের আঁধারে বিপুল পরিমাণ মাছ চুরির অভিযোগ উঠেছে।

১৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা একাধিক ঘেরে প্রবেশ করে মাছ চুরি করে নিয়ে যায়। ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে ঘের মালিক আব্দুল মান্নান ও মাসুদ রেজাসহ অন্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা রাখেদুল ইসলাম ও মাহমুদ আলী খান জানান, প্রতি বছরই এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং এলাকায় রাতের পুলিশি টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

গুড়পুকুরপাড়ে মনসা পূজা, মেলার অপেক্ষায় সাতক্ষীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
গুড়পুকুরপাড়ে মনসা পূজা, মেলার অপেক্ষায় সাতক্ষীরা

oplus_0

মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরপাড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনসা পূজা। ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) শহরের পলাশপোল এলাকার মনসাতলায় এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই পূজাস্থলে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভক্তরা ফুল, ফল ও বিভিন্ন উপাচার নিবেদন করে প্রার্থনা করেন।

মনসা পূজাকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরায় বসে আসছে ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা। একসময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা এ মেলায় আসতেন। নানা পণ্যের দোকানের পাশাপাশি মেলাটি পরিণত হতো মানুষের মিলনমেলায়। তবে ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বোমা হামলার পর দীর্ঘ সময় মেলার আয়োজন বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে আবার শুরু হলেও আগের সেই জৌলুস আর ফিরে আসেনি। গত বছরও মনসা পূজা অনুষ্ঠিত হলেও মেলা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করে হলেও সাতক্ষীরার এই ঐতিহ্যবাহী মেলার আয়োজন আবারও চালু করা হোক। তাঁদের মতে, গুড়পুকুর মেলা শুধু একটি আয়োজন নয়, এটি সাতক্ষীরার ইতিহাস ও লোকজ সংস্কৃতির অংশ।

১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পূজা অর্চনার মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল গুড়পুকুর মনসাতলায় বটবৃক্ষের নিচে মনসা ও বিশ্বকর্মা পূজা শুরু হয়। একই সাথে দুটি পূজাকে কেন্দ্র করে এলাকাটি মহা মিলনমেলায় পরিণত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পলাশপোল গুড়পুকুর পূজা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক গৌর দত্ত, সদস্যসচিব তপন হালদার, পলাশপোল মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার বসু, পুরোহিত পরিতোষ চক্রবর্তী, সহকারী পুরোহিত তাপস চক্রবর্তীসহ পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ ও দর্শনার্থীরা।

সাধারণত প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর কন্যা সংক্রান্তি বা ভাদ্র মাসের শেষ দিনে বিশ্বকর্মা পূজা পালিত হয়। হিন্দু ধর্মের অন্যান্য পূজা চাঁদের গতির ওপর নির্ভর করে হলেও, বিশ্বকর্মা পূজা নির্ধারিত হয় সূর্যের গতির ওপর। কন্যা সংক্রান্তির দিন সূর্য সিংহ রাশি থেকে কন্যা রাশিতে প্রবেশ করে। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী এটি ভাদ্র সংক্রান্তি বা ভাদ্র মাসের শেষ দিন। সাধারণত বাংলা পঞ্জিকার প্রথম পাঁচ মাস মিলিয়ে ১৫৬ দিন হয়, যা ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৭ সেপ্টেম্বর পড়ে। তাই প্রায় প্রতি বছরই এই দিনে দেবশিল্পীর আরাধনা করা হয়। তবে কোনো বছর মাসের দিনের তারতম্য হলে এটি ১৮ সেপ্টেম্বরও হতে পারে।

হিন্দু ধর্মালম্বীদের মতে, দেবশিল্পী ভগবান বিশ্বকর্মা হলেন মহাবিশ্বের প্রথম স্থপতি বা প্রকৌশলী। তিনি দেবতাদের নানা অস্ত্র, প্রাসাদ ও পুরীর জগন্নাথ মূর্তি নির্মাণ করেছিলেন। কারিগর, শিল্পী, শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা তাঁদের কাজের যন্ত্রাংশ, গাড়ি ও যন্ত্রপাতি পূজা করে জ্ঞান, দক্ষতা ও সমৃদ্ধি প্রার্থনা করেন।

সুন্দরবনে ফের বনদস্যু আতঙ্ক, জেলেদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
সুন্দরবনে ফের বনদস্যু আতঙ্ক, জেলেদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায়

এমএ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সুন্দরবনের দুয়ার খোলার পর আবারও বনদস্যুদের তৎপরতা নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে জেলে ও বনজীবীদের মধ্যে।

একদিকে দস্যুদের কয়েকটি বাহিনীর সদস্য অস্ত্রসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করছে, অন্যদিকে নতুন করে বিভিন্ন দস্যু দলের তৎপরতা এবং জেলেদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। গত ১ সেপ্টেম্বর তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবনে জেলে ও বনজীবীদের প্রবেশ শুরু হয়। কিন্তু বনে যাওয়ার আগেই বিভিন্ন দস্যু বাহিনীকে নৌকাপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা, ক্ষেত্রবিশেষে আরও বেশি চাঁদা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ জেলেদের। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা দেরি হলে গহিন বনের নদী-খালে হামলা, মারধর, জিম্মি ও মুক্তিপণ দাবির শিকার হতে হচ্ছে তাঁদের।

সম্প্রতি ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী কাজল-মুন্না বাহিনীর হাতে এক জেলে অপহৃত হন। এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর শ্যামনগর থানা-পুলিশ একই বাহিনীর তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং দুই জিম্মি জেলে ও ৭৪ হাজার টাকা উদ্ধার করে। অপরদিকে, ১০ সেপ্টেম্বর ‘নানা ভাই বাহিনী’র প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন দস্যু কোস্ট গার্ডের কাছে বিপুল অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেন।

ধারদেনা করে বনে আসা জেলেরা জানান, মাছ পাওয়ার আগেই দস্যুদের টাকা দিতে হচ্ছে। এ বিষয়ে কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দস্যু দমন ও অপহৃতদের উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান চলছে। স্থানীয়রা দস্যুদের পাশাপাশি তাঁদের পেছন থাকা অর্থদাতা ও মদদদাতাদের চিহ্নিত করে আইনি আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।