সুন্দরবনে ফের বনদস্যু আতঙ্ক, জেলেদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায়
এমএ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সুন্দরবনের দুয়ার খোলার পর আবারও বনদস্যুদের তৎপরতা নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে জেলে ও বনজীবীদের মধ্যে।
একদিকে দস্যুদের কয়েকটি বাহিনীর সদস্য অস্ত্রসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করছে, অন্যদিকে নতুন করে বিভিন্ন দস্যু দলের তৎপরতা এবং জেলেদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। গত ১ সেপ্টেম্বর তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবনে জেলে ও বনজীবীদের প্রবেশ শুরু হয়। কিন্তু বনে যাওয়ার আগেই বিভিন্ন দস্যু বাহিনীকে নৌকাপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা, ক্ষেত্রবিশেষে আরও বেশি চাঁদা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ জেলেদের। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা দেরি হলে গহিন বনের নদী-খালে হামলা, মারধর, জিম্মি ও মুক্তিপণ দাবির শিকার হতে হচ্ছে তাঁদের।
সম্প্রতি ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী কাজল-মুন্না বাহিনীর হাতে এক জেলে অপহৃত হন। এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর শ্যামনগর থানা-পুলিশ একই বাহিনীর তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং দুই জিম্মি জেলে ও ৭৪ হাজার টাকা উদ্ধার করে। অপরদিকে, ১০ সেপ্টেম্বর ‘নানা ভাই বাহিনী’র প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন দস্যু কোস্ট গার্ডের কাছে বিপুল অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেন।
ধারদেনা করে বনে আসা জেলেরা জানান, মাছ পাওয়ার আগেই দস্যুদের টাকা দিতে হচ্ছে। এ বিষয়ে কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দস্যু দমন ও অপহৃতদের উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান চলছে। স্থানীয়রা দস্যুদের পাশাপাশি তাঁদের পেছন থাকা অর্থদাতা ও মদদদাতাদের চিহ্নিত করে আইনি আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।












