দেবহাটার গোপাখালী খালে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ জাল, জলাবদ্ধতা সৃষ্টির অভিযোগ
Oplus_131072
কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা: দেবহাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের আওতাধীন গোপাখালী খালে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে জাল ফেলে মাছ ধরার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্রের নেতৃত্বে খালের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ জাল পেতে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপাখালী খালটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ইজারা দেওয়া হয়। খালটি গোপাখালী রহিমপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ১৪৩২ বাংলা সনের জন্য ইজারা ছিল। চলতি ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্যও সমিতির পক্ষ থেকে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে ইজারার আবেদন করা হয়েছে এবং নির্ধারিত অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, সাতক্ষীরার সাবেক জেলা প্রশাসক গত ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে খালটি উন্মুক্ত করার জন্য প্রস্তাবনা দেন। ওই প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে গোপাখালী রহিমপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আনজার আলী হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট গত ৬ মে ২০২৬ তারিখে খালটি উন্মুক্ত করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং দ্রুত খালটি ইজারা দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ্ কাওসার আজিজের সভাপতিত্বে জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় গত ১২ মে ২০২৬ তারিখে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী খালটি পুনরায় ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, খালটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই গোপাখালী জামায়াতে ইসলামীর ইউনিট সেক্রেটারি শাহ আলমের নেতৃত্বে গোপাখালী মাঠসংলগ্ন এলাকায় অবৈধ জাল ফেলা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ এবং গোপাখালী ও আজিজপুর এলাকার কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খালে জাল ফেলে মাছ ধরার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, এসব অবৈধ জালের কারণে খালের পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে না পারায় বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে কৃষিজমি ও স্থানীয় জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী সদর ইউনিয়নের তহশিলদার গত সপ্তাহে ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকটি অবৈধ জাল উচ্ছেদ করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই আবারও ওই চক্রের সদস্যরা খালের বিভিন্ন স্থানে জাল ফেলছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সরকারি খাল দখল কিংবা পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে অবৈধভাবে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ জাল অপসারণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে গোপাখালী খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত ও সরকারি বিধি-বিধান বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।












