সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ধান ডুবলে কৃষকও ডুবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ
ধান ডুবলে কৃষকও ডুবে

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলাদেশের গ্রামবাংলার চিরচেনা এক সকাল। মাঠে সোনালি ধান, কাস্তে হাতে কৃষক, আর নতুন ফসলের আশায় বুকভরা স্বপ্ন-এই দৃশ্যই আমাদের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির প্রাণ। কিন্তু সেই স্বপ্ন যখন এক নিমেষে পানির নিচে তলিয়ে যায়, তখন শুধু ফসলই নষ্ট হয় না; ভেঙে পড়ে মানুষের ভেতরের ভরসা, আশা, এমনকি জীবনের ইচ্ছাটুকুও। নাসিরনগরের গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের কৃষক আহাদ মিয়ার মৃত্যু সেই নির্মম বাস্তবতারই আরেকটি প্রতীক-যেখানে ধান ডোবে, মানুষও ডুবে যায়।

 

শনিবার সকালের ঘটনাটি নিছক একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; এটি বাংলাদেশের কৃষি, গ্রামীণ অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার বহুস্তরীয় সংকটের এক গভীর প্রতিফলন। ছয় বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে একজন কৃষকের মৃত্যুর ঘটনা আমাদের বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো যথেষ্ট। কিন্তু প্রশ্ন হলো-এমন মৃত্যু কি সত্যিই ‘অপ্রত্যাশিত’? নাকি এটি একটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং কৃষকদের প্রতি কাঠামোগত বৈষম্যের অনিবার্য পরিণতি?

 

আহাদ মিয়ার মৃত্যু নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও চিকিৎসকদের বক্তব্যে একটি সাধারণ ব্যাখ্যা উঠে এসেছে-তিনি শোক সহ্য করতে পারেননি, সম্ভবত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু এই ব্যাখ্যা কি যথেষ্ট? একজন কৃষক কেন এমন এক অবস্থায় পৌঁছান, যেখানে ফসল নষ্ট হওয়ার শোক তার জীবনের শেষ হয়ে ওঠে? এখানেই আমাদের বিশ্লেষণের শুরু। কারণ কৃষকের মৃত্যু কেবল শারীরিক কারণে হয় না; এর পেছনে থাকে অর্থনৈতিক চাপ, ঋণের বোঝা, সামাজিক দায়িত্ব, ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার অভাব।

 

আহাদ মিয়া প্রায় ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ব্রি-২৯ ধান আবাদ করেছিলেন। এই ঋণ কেবল একটি আর্থিক দায় নয়-এটি ছিল তার পরিবারের ভবিষ্যতের উপর নির্ভরশীল একটি বিনিয়োগ। সেই বিনিয়োগ একদিনে ধ্বংস হয়ে গেলে, তার সামনে যে অন্ধকার নেমে আসে, তা কেবল অর্থনৈতিক নয়-মানসিকও। বাংলাদেশের হাওরাঞ্চল বরাবরই কৃষির জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং এলাকা। একদিকে প্রাকৃতিক উর্বরতা, অন্যদিকে অকাল বন্যা, অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা-সব মিলিয়ে এখানে কৃষি একটি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ পেশা।

 

প্রতি বছরই আমরা দেখি-ধান কাটার আগ মুহূর্তে হাওরে পানি ঢুকে পড়ে। কৃষকেরা বছরের পর বছর একই দুর্ভোগের শিকার হন। তবুও তারা চাষাবাদ চালিয়ে যান, কারণ বিকল্প জীবিকা নেই। এখানে প্রশ্ন হলো-এই ঝুঁকি কি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক? নাকি এর সঙ্গে মানবসৃষ্ট কারণও জড়িত? বিভিন্ন গবেষণা বলছে, হাওর অঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং দুর্নীতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, বাঁধ নির্মাণ করা হলেও তা টেকসই হয় না।

 

আবার কোথাও কোথাও সময়মতো সংস্কার করা হয় না। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই পানি ঢুকে পড়ে। আহাদ মিয়ার মতো অসংখ্য কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেন। কৃষি ঋণকে সাধারণত উন্নয়নের একটি হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি অনেক সময় কৃষকদের জন্য একটি ফাঁদে পরিণত হয়। ফসল নষ্ট হলে ঋণ পরিশোধের কোনো নিরাপদ ব্যবস্থা নেই।

সুদের চাপ বাড়তে থাকে, নতুন করে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হয়, একসময় ঋণের চক্র থেকে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে, এই পরিস্থিতিতে কৃষক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। আহাদ মিয়ার মৃত্যু সেই চাপেরই এক চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। গ্রামীণ বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা এখনও খুবই কম। একজন কৃষক যখন তার সব ফসল হারান, তখন তার মানসিক অবস্থা কেমন হয়-তা আমরা খুব কমই বিবেচনায় আনি। তিনি পরিবারকে কীভাবে চালাবেন? ঋণ কীভাবে শোধ করবেন?

সমাজে তার অবস্থান কী হবে? এই প্রশ্নগুলো তাকে ভিতর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কিন্তু এই মানসিক চাপ মোকাবিলার জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নেই। বাংলাদেশে কৃষকদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা কার্যত অনুপস্থিত। অথচ উন্নত দেশগুলোতে কৃষকদের জন্য বিশেষ কাউন্সেলিং, হেল্পলাইন এবং সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং তিন মাসের ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হবে। প্রশ্ন হলো-এই সহায়তা কি যথেষ্ট? যখন একজন কৃষক তার পুরো ফসল হারান, তখন তার ক্ষতি শুধু ওই মৌসুমের নয়; এর প্রভাব পড়ে পুরো বছরের উপর।

 

তিন মাসের ভর্তুকি কি সেই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারে? এছাড়া সহায়তা পেতে যে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তা অনেক সময় কৃষকদের জন্য একটি বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। অতিবৃষ্টি, অকাল বন্যা, অনিয়মিত আবহাওয়া-এসবই কৃষিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। হাওরাঞ্চলে এই প্রভাব আরও বেশি। ফলে প্রতি বছরই কৃষকের ঝুঁকি বাড়ছে। কিন্তু এই ঝুঁকি মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি কতটা? ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কৃষকদের জন্য ফসল বীমা চালু রয়েছে। ফসল নষ্ট হলে কৃষকরা ক্ষতিপূরণ পান। এতে তাদের ঝুঁকি কমে।

বাংলাদেশেও ফসল বীমা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, কিছু পাইলট প্রকল্পও চালু হয়েছে। কিন্তু তা এখনও সার্বজনীন হয়নি। এছাড়া উন্নত দেশগুলোতে কৃষকদের জন্য:জরুরি তহবিল, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, প্রযুক্তিনির্ভর পূর্বাভাস ব্যবস্থা,বাজার সহায়তা এসব ব্যবস্থা রয়েছে। আহাদ মিয়ার মৃত্যু আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। যদি আমরা এখনই ব্যবস্থা না নিই, তাহলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়বে। সবচেয়ে জরুরি হলো কৃষকদের জন্য কার্যকর ফসল বীমা ব্যবস্থা চালু করা। হাওর অঞ্চলে বৈজ্ঞানিক ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে।

 

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য দ্রুত নগদ সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। গ্রামীণ পর্যায়ে কাউন্সেলিং ও সহায়তা কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ মওকুফ বা পুনর্গঠনের ব্যবস্থা করতে হবে। আহাদ মিয়ার মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের ক্ষতি নয়; এটি আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি কঠিন প্রশ্ন। আমরা কি আমাদের কৃষকদের যথেষ্ট সুরক্ষা দিতে পেরেছি? যে মানুষটি আমাদের খাবার জোগান দেন, তার জীবন যদি এতটা অনিশ্চিত হয়, তাহলে আমাদের উন্নয়ন কতটা অর্থবহ? ধান তলিয়ে গেলে শুধু ফসলই হারায় না-হারায় মানুষের স্বপ্ন, আত্মসম্মান, কখনও জীবনও। এই বাস্তবতা পরিবর্তন করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। এখন সময়-কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর, শুধু সহানুভূতি দিয়ে নয়, কার্যকর নীতি ও পদক্ষেপের মাধ্যমে।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

Ads small one

বুড়িগোয়ালিনী বিএনপির মধ্যস্থতায় দুই পরিবারের ছেলে-মেয়ের বিয়ে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
বুড়িগোয়ালিনী বিএনপির মধ্যস্থতায় দুই পরিবারের ছেলে-মেয়ের বিয়ে

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুটি পরিবারের ছেলে-মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ। সোমবার (২৫ মে) দুপুরে বুড়িগোয়ালিনী বিএনপি কার্যালয়ে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে এ বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক জটিলতা ও ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিয়েটি নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের নজরে এলে তারা উভয় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আলোচনা করেন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সমাধানের মাধ্যমে ছেলে-মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করান।

এসময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাবেক সেনা সদস্য জিএম রুস্তম আলী, কুদরতে খোদা, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের মহিলার সদস্যা নিপা চক্রবর্তী, ফজলুল করিম, মহিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম।

 

এসময় কুদরতে খোদা বলেন, সমাজে বিরোধ মীমাংসা, মানবিক সহায়তা এবং পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের এ উদ্যোগে দুই পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয়রা বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

প্রাথমিক শিক্ষা পদকে শ্যামনগরে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক বাবু লাল ও শ্রেষ্ঠ স্কুল খ্যাগড়াদানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক শিক্ষা পদকে শ্যামনগরে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক বাবু লাল ও শ্রেষ্ঠ স্কুল খ্যাগড়াদানা

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: চলতি বছরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার তালিকায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক (পুরুষ) ১৪ নং চিংড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু লাল মিস্ত্রী ও শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯১ খ্যাগড়াদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্রে প্রকাশ, ২০২৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষা পদকের তালিকায় অন্যান্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক (পুরুষ) ১৩ নং হায়বাতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আমিনুর রহমান, শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক(মহিলা) ৯১ খ্যাগড়াদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাছরিন আক্তার।

 

শ্রেষ্ঠ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহীন হোসেন, শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (পুরুষ) ৯১ খ্যাগড়াদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ সুমন আহমেদ, শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (মহিলা) ১৭৫ নং দক্ষিণ পাখিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সেলিনা খাতুন ও শ্রেষ্ঠ কর্মচারী মোঃ খায়রুল আলম।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার এনামুল হক বলেন সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রাপ্তদের নির্ধারিত কমিটি কর্তৃক যাচাই বাছাই করে নির্বাচন করা হয়েছে এবং পদক প্রাপ্ত সকলকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করা হয়েছে।

 

শ্যামনগরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কম আয়ের মানুষরা পেল ১৪৮ মেট্রিক টন চাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কম আয়ের মানুষরা পেল ১৪৮ মেট্রিক টন চাল

রনজিৎ বর্মন, সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর): পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় সরকারিভাবে একটি পৌরসভা ও এগারটি ইউনিয়নের দরিদ্র ব্যক্তি বা কম আয়ের মানুষ ১৪ হাজার ৮৮৬ টি ভিজিএফ কার্ডধারীরা পরিবার পিছু ১০ কেজি হারে পাবে ১৪৮.৮৬০ মেট্রিকটন চাউল।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে প্রকাশ, উপজেলায় ১১ টি ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ডধারীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৩৭ জন। এই কার্ডের বিনিময়ে বরাদ্দকৃত চাউলের পরিমান ১৩৩.৩৭০ মেট্রিকটন। শ্যামনগর পৌরসভায় কার্ডধারীর সংখ্যা হল ১৫৪৯ জন এবং এই কার্ডের বিনিময়ে চাউল বরাদ্ধ ১৫.৪৯ মেট্রিকটন।

ইউনিয়ন অনুযায়ী কার্ড ধারীর সংখ্যা ও বরাদ্ধকৃত চাউল ভূরুলিয়া ইউনিয়নে কার্ড সংখ্যা ৮৭৯ টি ও বরাদ্ধকৃত চাউল ৮.৭৯ মেট্রিকটন, কাশিমাড়ী ইউপির কার্ড সংখ্যা ১২৫২ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১২.৫২০ মেট্রিকটন, নুরনগর ইউপির কার্ড সংখ্যা ৮৯৯টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ৮.৯৯০ মেট্রিকটন, কৈখালী ইউপির কার্ড সংখ্যা ১৩৫২ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১৩.৫২০ মে.টন, রমজাননগর ইউপির কার্ডধারী ১১১২ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১১.১২০ মে.টন, মুন্সিগঞ্জ ইউপির কার্ড সংখ্যা ১৪৬৫ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১৪.৬৫০ মে.টন, ঈশ^রীপুর ইউপির কার্ড সংখ্যা ১১৮৫ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১১.৮৫০ মে.টন, বুড়িগোয়ালিনী ইউপির কার্ড সংখ্যা ১২৭২টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১২.৭২০ মে.টন, আটুলিয়া কার্ড সংখ্যা ১৩৭৩টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১৩.৭৩০ মে.টন, পদ্মপুকুর ইউপির কার্ড সংখ্যা হল ১২১৯ টি, বরাদ্ধকৃত চাউল ১২.১৯০ মে.টন ও গাবুরা ইউপির কার্ড সংখ্যা হল ১৩২৯টি, বরাদ্ধকৃত চউাল ১৩.২৯০ মে.টন।

 

সব মিলিয়ে ১১টি ইউপিতে কার্ড সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৩৭টি এবং বরাদ্ধকৃত চাউল ১৩৩ মেট্রিক টন ৩৭০ কেজি।

জানা যায় ঈদের পূর্বেই সকল ইউনিয়নে চাউল বিতরণ সমাপ্ত করা হবে। চাউল বিতরণের সময় প্রত্যেকটি ইউপির ভিজিএফ কমিটি ও নির্ধারিত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে মাস্টার রোলের মাধ্যমে চাউল বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।