সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

নীতিমালা ভেঙে ইজারা নেওয়া জলমহল সাবলিজ, বাতিল চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ণ
নীতিমালা ভেঙে ইজারা নেওয়া জলমহল সাবলিজ, বাতিল চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন

সংবাদদাতা: আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের চেউটিয়া নদী (বন্ধ) জলমহলের ইজারা আবেদন বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। খালিয়া পূর্বপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার ম-ল ফটিকখালি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি গোলাম রব্বানির বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে এ লিখিত আবেদন জমা দেন।

আশাশুনি উপজেলার খালিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুকুমার ম-ল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন, পশ্চিম খোলপেটুয়া নদী থেকে চেউটিয়া নদীর শেষ পর্যন্ত প্রায় ৮৩ একরের বন্ধ জলমহলটি বাংলা ১৪৩০ থেকে ১৪৩২ সন পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ইজারা নেন ফটিকখালি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি গোলাম রব্বানী। ইজারা নেওয়ার পর নিয়ম ভেঙে তিনি ওই জমি সাত্তার গাজী, কুদ্দুস মোড়ল, শ্যামল ম-ল, অসিত ম-ল, ইমাদুল গাজী, নেছার আলী সরদার ও রামপদ সানার কাছে সাবলিজ (পুনরায় ইজারা) দেন।
ইজারা নীতিমালা অনুযায়ী, ইজারাকৃত জমি সাবলিজ দিলে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারের লাইসেন্স বাতিল হবে এবং মেয়াদ শেষে তিনি নতুন করে আবেদনের সুযোগ পাবেন না বলে ২০১৯ ও ২০২৬ সালের নীতিমালার ১৮ নম্বর কলামে উল্লেখ রয়েছে। গোলাম রব্বানী নীতি লঙ্ঘন করে যা সাবলিজ দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে খাজরা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল হাই গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর আশাশুনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর প্রতিবেদনও দাখিল করেন। অভিযোগ উঠেছে, তা সত্ত্বেও নিয়মবহির্ভূতভাবে ফটিকখালি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর ওই বন্ধ জলমহল ইজারা নেওয়ার জন্য পুনরায় আবেদন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অসিত ম-ল ও রামপদ সানা গোলাম রব্বানির কাছ থেকে চেউটিয়া নদীর অংশ বিশেষ ইজারা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোনে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি অভিযুক্ত গোলাম রব্বানির।

Ads small one

দেবহাটায় সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে মন্দিরের জমি দখলের হুমকি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে মন্দিরের জমি দখলের হুমকি

সংবাদদাতা: জমি দখল করতে ৮৯ বছরের মন্দিরের সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে সংখ্যলঘুদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেল ৫টার দিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের পাইকাড়া সার্বজনীন কালীমাতা ও রাধা গোবিন্দ মন্দিরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পাইকাড়া সার্বজনীন কালীমাতা ও রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ কুমার রায় জানান, ব্রিটিশ শাসনামলে জমিদার কৃষ্ণকিশোর বন্দোপাধ্যায় সিএস ৩২ খতিয়ানের ২৭৮৫ দাগের এক একর জমিতে ১৯৩৭ সালে এ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। একতলা বিশিষ্ঠ মন্দিরের বারান্দার চারিধারে বাঁশের চটার রেলিং রয়েছে। মন্দিরের পূর্ব পাশে পাকা প্রাচীর দেওয়া ছিলো। মন্দিরের জায়গাটুকু বাদ দিয়ে বাকী জমিতে ক’টি মাছের ঘের রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই মন্দিরে পুজা অর্চনা ছাড়াও ঘেরে গলদা, বাগদা, রুই , কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছেন। ওই জমি ক্রয়সূত্রে দাবি করে বাবর আলী ফকির আদালতে দেঃ ১/৯৫ মামলা করলে ১৯৯৬ সালের ৩ এপ্রিল তা খারিজ হয়ে যায়।
অনিমেষ কুমার রায় আরো জানান, সম্প্রতি মন্দিরের ৯৯ শতক জমির মধ্যে ৮৫ শতক জমি মাটিকুমড়া গ্রামের কলিমউদ্দিনের ছেলে আজিবর রহমান ও মুজিবর রহমানের কাছ থেকে পাইকাড়া গ্রামের বাবুরালী গাজীর ছেলে মাহামুদুল হাসান, জামাল ফারুক ও জামাল ফারুকের স্ত্রী রওশানারা খাতুন কিনেছেন দাবি করে মন্দির কর্তৃপক্ষকে জমি ছেড়ে দিতে বলে। প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় ওই জমি দখলে নেওয়ার হুমকি দেয় বাবুরালী গাজী ও তার ছেলেরা। বাধ্য হয়ে তার (অনিমেষ) জ্যাঠাত ভাই তপন রায় বাদি হয়ে গতবছরের ৬ মার্চ সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে পিটিশন ৩৩৩/২৫ নং মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাবুরারী গাজীসহ তার ছেলে মাহামুদুল হাসান, জামাল ফারুক ও জামাল ফারুকের স্ত্রী রওশানারাসহ কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৫ মার্চ গভীর রাতে জনাব আলী গাজীর ছেলে বাবুরালী গাজীর নেতৃত্বে তার ছেলে জামাল ফারুক, মাহামুদুল হাসান, নজরুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ৩৫/৪০ জন সন্ত্রাসী হাতে দা, লাঠি, শাবল, লোহার রড, বাঁশের লাঠি নিয়ে মন্দিরের চারিপাশের বাঁশের বেড়া ও পূর্ব পাশের ইটের প্রাচীর ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। পরে তারা বেড় জাল দিয়ে গলদা ও বাগদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির লক্ষাধিক টাকার মাছ লুটপাট করে। ভাংচুর ও লুটপাটে বাধা দেওয়ায় তিনজন নারীসহ ছয়জনকে পিটিয়ে জখম করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে গতবছরের ১৫ জুলাই মন্দিরের পুকুর ও ঘের থেকে তাদের চাষকৃত মাছ ধরে নিলে জামাল ফকির বাদি হয়ে আদালতে সিআরপি-১৪৬/ ২৬ নং মামলা করা হয়। মামলায় হীরুলাল,প্রভাস রায়সহ চারজনকে বিবাদী করা হয়।পিবিআই কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান দুটি দলিলের ফটোকপি মূলে জালাল ফারুক ৫৮০৩ দাগের ৩৫ শতক জমি দাবি করলেও ওই জমি ও পুকুরে বিবাদীগণ মাছ চাষ ও বিক্রি করে বলে উল্লেখ করেন। এরপরও তিনি ভূমি অপরাধ প্রতিকার ও প্রতিকার আইনের তিনটি ধারায় ও পেনাল কোর্ড এর ১৪৩ ও ৫০৬ ধারা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিলে সমন পেয়ে সোমবার আদালত থেকে জামিন নেন। এতে ক্ষুব্ধ জামাল ফারুক, মহিদ, বাবর আলী, মিন্টু, এলা ঢালীসহ ১০/১২ জন সোমবার বিকেলে মন্দিরের সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে জমি জবরদখলের হুমকি দিয়ে চলে যায়। ৯৯৯ এ ফোন দিলে দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক বিপ্লবের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাইকাড়া গ্রামের জামাল ফারুক বলেন, জমি কিনেছেন তাই দখল করতে সাইনবোর্ড তুলে ফেলেছেন।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীন আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনজীবীর স্ত্রী ও শালিকাসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
আইনজীবীর স্ত্রী ও শালিকাসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে এক আইনজীবীর স্ত্রী ও শালিকাসহ পাঁচজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। ৫ অক্টোবর বিকেলে পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত গৃহবধূ সোনিয়া আফরিন (৩০) ও তাঁর বোন সাফিও খাতুনকে (৩২) সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোনিয়া আফরিনের স্বামী আইনজীবী মো. সাইফুল্লাহ গণী বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও বাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল সকালে পুরাতন সাতক্ষীরা মাদ্রাসাপাড়া এলাকার ফারুক হোসেন, তাঁর স্ত্রী উম্মে কুলসুম, ছেলে ফাহিম ও রবিউল ইসলামসহ আসামিরা বাদীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। ওই ঘটনায় ৩ মে আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হলে আদালতের নির্দেশে পরদিন সদর থানা পুলিশ সেটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে। ওই মামলার জের ধরে আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করতে থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ৫ অক্টোবর বিকেল পাঁচটার দিকে সোনিয়া আফরিন ও তাঁর বড় বোন সাফিয়া খাতুন বাড়ির সামনের রাস্তায় বের হলে ওত পেতে থাকা আসামিরা ধারালো দা, লোহার রড ও শাবল নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। হামলায় সোনিয়া ও সাফিয়া গুরুতর জখম হন। এ সময় তাঁদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে মিজান ও মইনুল ইসলামকে পিটিয়ে জখম করা হয়। বাধা দিতে গেলে মিজানের স্ত্রী মমতাজকেও (৩০) লোহার রড দিয়ে পেটানো হয়। এ ছাড়া হামলাকারীরা সোনিয়া আফরিনের গলা থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা স্থান ত্যাগ করেন। গুরুতর আহত সোনিয়া আফরিন ও সাফিয়া খাতুনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে মমতাজ, মিজান ও মইনুল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটিতে থানায় মামলা করা হয়েছে এবং পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।

আশাশুনিতে নবাগত ওসি শাহিদুর রহমানের যোগদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে নবাগত ওসি শাহিদুর রহমানের যোগদান

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে যোগদান করেছেন শাহিদুর রহমান। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি আশাশুনি থানায় যোগদান করেন। আশাশুনিতে ওসি হিসেবে যোগদানের পূর্বে তিনি সাতক্ষীরা সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হিসাবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি’র দায়িত্বে ছিলেন। নবাগত অফিসার ইনচার্জ যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার কৃতি সন্তান। (ওসি) শাহিদুর রহমান ২০১২ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। নবাগত (ওসি) সোমবার বিকাল ৪টায় আশাশুনি থানায় পৌঁছে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই লক্ষণ চন্দ্র দাসের কাছ থেকে চার্জ বুঝিয়ে নেন। এসময় থানার এসআই ফিরোজ আলম, আনজির হোসেন, কামরুল ইসলাম কাছেদ মুন্সী, মিনহাজ উদ্দিনসহ পুলিশ সদস্যরা নবাগত ওসিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। যোগদানের পর ওসি শাহিদুর রহমানের বলেন, পুলিশ ও জনতার সম্পর্ক হবে বন্ধুর মতো। জনসাধারণের যে কোনো প্রয়োজনে পুলিশ সহায়তা দিতে বদ্ধপরিকর। আশাশুনি থানা এলাকায় সকল অপরাধমূলক কর্মকা-সহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যম কর্মীসহ সকল শ্রেণীপেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।