বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

পানি বাণিজ্য ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
পানি বাণিজ্য ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলাদেশে পানির গল্প এখন আর কেবল নদী, খাল বা বৃষ্টির নয়; এটি ক্রমেই হয়ে উঠছে এক জটিল জনস্বাস্থ্য ও নীতিগত সংকটের প্রতিচ্ছবি। একদিকে নিরাপদ পানির তীব্র চাহিদা, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণহীন বাণিজ্যÑএই দুইয়ের সংঘাতে সারা দেশে তৈরি হয়েছে এক নীরব বিপদ, যা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু শরীরে বহন করতে হয় বছরের পর বছর। শহর থেকে গ্রামÑসবখানেই এখন “বিশুদ্ধ পানি” নামের একটি বাজার গড়ে উঠেছে। প্লাস্টিকের জার, বোতল বা পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা এই পানি অনেকের কাছে জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু এই পানির গুণগত মান কতটা নিশ্চিতÑসে প্রশ্নের জবাব আজও অস্পষ্ট।

 

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা, উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, এবং বিভিন্ন এলাকায় আর্সেনিক দূষণÑসব মিলিয়ে নিরাপদ পানির সংকট একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। এই প্রেক্ষাপটে মানুষ বিকল্প খুঁজতে গিয়ে ঝুঁকছে বাণিজ্যিক পানির দিকে। ফলে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত গড়ে উঠেছে হাজার হাজার পানি পরিশোধন প্লান্ট। কিন্তু এগুলোর একটি বড় অংশই নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর বাইরে পরিচালিত হচ্ছে।

 

বাংলাদেশে পানি পরিশোধন ও বাজারজাতকরণের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এই খাতের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অধিকাংশ ছোট ও মাঝারি পানির প্লান্ট কোনো অনুমোদন ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত পরিদর্শন, নমুনা পরীক্ষা বা লাইসেন্সিং কার্যক্রমÑসবই সীমিত এবং অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। ফলে বাজারে “বিশুদ্ধ পানি” নামে যা বিক্রি হচ্ছে, তার একটি বড় অংশই অজানা মানের।

 

রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্রযুক্তি এখন বাংলাদেশের পানি পরিশোধন খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত। এটি পানির ক্ষতিকর উপাদান দূর করতে সক্ষম হলেও এর একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলোÑএটি প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানও সরিয়ে দেয়।ফলে আরও প্রযুক্তিতে পরিশোধিত পানি অনেক সময় “ডেড ওয়াটার”-এ পরিণত হয়, যেখানে শরীরের জন্য দরকারি ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম বা পটাশিয়ামের অভাব থাকে। দীর্ঘদিন এই পানি পান করলে শরীরে খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এছাড়া, ফিল্টার বা মেমব্রেন সময়মতো পরিবর্তন না করলে তা জীবাণুর উৎসে পরিণত হয়। ফলে বিশুদ্ধ করার বদলে পানি আরও দূষিত হয়ে পড়তে পারে।

 

এই নিয়ন্ত্রণহীন পানির বাজার সরাসরি কোনো তাৎক্ষণিক বিপর্যয় তৈরি না করলেও এর প্রভাব ধীরে ধীরে শরীরে জমা হয়। খনিজের ঘাটতি, ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি সমস্যা, শিশুদের শারীরিক বিকাশে প্রভাব এসব ঝুঁকি এখনো অনেকাংশে অদৃশ্য, কারণ এগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ধরা পড়ে না। কিন্তু জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো পানির মান যাচাইয়ের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত নন। তাদের কাছে স্বচ্ছ ও স্বাদে মিষ্টি পানি মানেই ভালো পানি।

 

এই ধারণা ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ বাজার তৈরি করেছে। অন্যদিকে, বিকল্পের অভাবও একটি বড় কারণ। অনেক এলাকায় নিরাপদ নলকূপ বা পাইপলাইনের পানি না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে বাজারজাত পানির ওপর নির্ভর করছে। প্রথমত, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত জনবল, প্রযুক্তি ও লজিস্টিক সুবিধা না থাকায় তারা কার্যকর তদারকি করতে পারছে না। দ্বিতীয়ত, লাইসেন্সিং ব্যবস্থা দুর্বল। অনেক প্রতিষ্ঠান কোনো নিবন্ধন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। তৃতীয়ত, সমন্বয়ের অভাব।

 

বিভিন্ন সংস্থা আলাদাভাবে কাজ করলেও একটি সমন্বিত কাঠামো নেই। চতুর্থত, জনসচেতনতা কার্যক্রম অপর্যাপ্ত। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা: শেখার সুযোগ বিশ্বের অনেক দেশে বোতলজাত ও প্রক্রিয়াজাত পানির ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। নিয়মিত পরীক্ষার পাশাপাশি উৎপাদন প্রক্রিয়া, সংরক্ষণ এবং বিতরণÑসবকিছুই নজরদারির আওতায় থাকে। বাংলাদেশেও এই ধরনের কাঠামো আংশিকভাবে থাকলেও তার কার্যকর বাস্তবায়ন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের সব পানির প্লান্টকে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের আওতায় আনতে হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর পানির নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

 

আরও প্রযুক্তিতে পরিশোধিত পানিতে প্রয়োজনীয় খনিজ যোগ করা নিশ্চিত করতে হবে গণমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, উন্নত নলকূপ এবং পাইপলাইন পানি সরবরাহ বাড়াতে হবে। বাংলাদেশে পানি এখন এক অদ্ভুত দ্বৈত বাস্তবতার মুখোমুখিÑএকদিকে এটি মৌলিক অধিকার, অন্যদিকে এটি লাভজনক পণ্য। এই দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।নিয়ন্ত্রণহীন বাজারের ওপর নির্ভর করে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন শক্তিশালী নীতিমালা, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক সদিচ্ছা। নইলে “বিশুদ্ধ পানি” নামের এই নীরব ব্যবসা একদিন বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নেবেÑযার মূল্য দিতে হবে পুরো জাতিকেই।

লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

দেশে হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরো ৭ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
দেশে হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরো ৭ জনের মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিম হামে মারা গেছে ২ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫ জন।
একইসময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৬৫৪ জন।

বুধবার (৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৮ জনে।

১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ছয় হাজার ৯৯ জন। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ২৬৮ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ হাজার ২৬০ জন।

এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০ হাজার ৮৮৫ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২৭ হাজার ২২৩ জন।

তালায় নবাগত ইউএনও’র সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
তালায় নবাগত ইউএনও’র সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

সংবাদদাতা: তালার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার (ইউএনও) সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা। বুধবার (০৬ মে) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আকবর হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি শামীম খান, সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিঠু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস কুদ্দুস পাড়, দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রহমান, সহ-দপ্তর সম্পাদক আবু সাঈদ, প্রচার সম্পাদক মোখলেছুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ মুফতি এনামুল হক, আরিফুল ইসলামসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এসময় নেতৃবৃন্দ তালা উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

শ্যামনগরে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও উপকারভোগীদের সংলাপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও উপকারভোগীদের সংলাপ

শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে উপকারভোগীদের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক রণজিৎ কুমার বর্মণ। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী সুব্রত অধিকারী।

লিডার্সের আয়োজনে মানুষের জন্য ফাউনডেশন (এমজেএফ) ও এ্যাম্বাসি অফ সুইডেন এর সহযোগিতায় কমিউনিটি ভিত্তিক জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচী (সিআরইএ) প্রকল্পের আওতায় বুধবার (০৬ মে) উক্ত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল প্রোগ্রাম অফিসার, ওসি তদন্ত শ্যামনগর থানা, শিক্ষা কর্মকর্তা, শ্যামনগর প্রেসক্লাব, শ্যামনগর উপজেলা রিপোর্টাস ইউনিট, সুন্দরবন প্রেস ক্লাব, উপকূলীয় প্রেস ক্লাব এর সাংবাদিকবৃন্দ, জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু জোট সভাপতি ও সিডিও নির্বাহী পরিচালক, ফ্রেন্ডশিপ এর প্রতিনিধি, বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা ইউনিয়নের উপকারভোগী সদস্যরা।

উপকারভোগী সুদিপ্তা মন্ডল বলেন, নারী শ্রমিকরা লবণাক্ত পানিতে কাজ করার ফলে যে সকল শারীরিক সমস্যা হয় তার চিকিৎসা কমিউনিটি ক্লিনিকে দেওয়া হয় না এবং চিকিৎসা সেবার কোন প্রচারণা হয় না। তিনি কমিউনিটি ক্লিনিকে একজন ডাক্তার এর দাবী করেন।

উপকারভোগী খোকন চন্দ্র হালদার বলেন, নারী শ্রমিকদের শ্রমের স্থানে কোন স্যানিটেশন এর সুব্যবস্থা না থাকায় নারীরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। এছাড়া তিনি আরও বলেন বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে ইউনিয়ন পর্যায় নারী ও শিশু কমিটির প্রয়োজন।

গাবুরা থেকে আগত জেবুন্নেছা বলেন, দুর্যোগের সময় আশ্রয় কেন্দ্র গুলিতে নারী বান্ধব না হওয়ায় নারীরা অনেক সমস্যার সম্মুখীন হন। তিনি আশ্রয় কেন্দ্রগুলিতে নারী বান্ধব করার দাবী করেন। তারা এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল প্রোগ্রাম অফিসার প্রণব কুমার বিশ্বাস ইউনিয়ন পর্যায় নারী ও শিশু কমিটি গঠন করার প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বিশ্বাস নারীর ক্ষমতায়ন এর ক্ষেত্রে পারিবারিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ এর কথা বলেন।

প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, উপকূলীয় এলাকার মানুষের সমস্যার সমাধানে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহকে একযোগে কাজ করতে হবে। উক্ত সংলাপ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রজেক্ট অফিসার সুলতা সাহা। প্রেসবিজ্ঞপ্তি