রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রসঙ্গ: খোলপেটুয়া নদী রক্ষায় প্রয়োজন কঠোর ও টেকসই পদক্ষেপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
প্রসঙ্গ: খোলপেটুয়া নদী রক্ষায় প্রয়োজন কঠোর ও টেকসই পদক্ষেপ

সম্পাদকীয়

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলে খোলপেটুয়া নদী কেবল একটি জলাধার নয়, এটি এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা ও অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করা এই জনপদের জন্য নদীভাঙন এক চিরস্থায়ী অভিশাপ। আর এই ক্ষতকে আরও গভীর করে তুলছে এক শ্রেণির অসাধু চক্রের অবৈধ বালু উত্তোলন। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে রাতের আঁধারে পরিচালিত অভিযান এই দস্যুতা রোধে একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

দৈনিক পত্রদূতে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, শ্যামনগরে বর্তমানে কোনো বৈধ বালুমহাল নেই। তবুও জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোলপেটুয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়েছেন। বিশেষ করে রাতের আঁধারে বালু দস্যুদের ধরতে এই তৎপরতা প্রমাণ করে যে, প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে সচেতন। তবে প্রশ্ন থেকে যায়Ñ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইজারা বিহীন নদী থেকে বালু তোলার সাহস এই চক্রটি পায় কোথায়?

খোলপেটুয়া নদীটি অত্যন্ত ভাঙনপ্রবণ। এই নদীর পাড় রক্ষা করতে প্রতি বছর সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়। অথচ একদল স্বার্থান্বেষী মানুষ সামান্য ব্যক্তিগত মুনাফার জন্য নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলে পাড়ের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। এতে কেবল বাঁধের ঝুঁকি বাড়ছে না, বরং উপকূলীয় বাস্তুসংস্থান এবং মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিও হুমকির মুখে পড়ছে। বালু উত্তোলনকারীরা মূলত সাধারণ মানুষের জীবনের বিনিময়ে নিজেদের পকেট ভারী করছে।

প্রশাসনের এই অভিযানকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে কেবল মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিচালনা বা কয়েকজনকে জরিমানা করাই যথেষ্ট নয়। বালু দস্যুতার এই শিকড় অনেক গভীরে। এদের পেছনে থাকা রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাবশালী শক্তির উৎসগুলো চিহ্নিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নদী এলাকায় নিয়মিত টহল ব্যবস্থা জোরদার এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে একটি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

নদী বাঁচলে উপকূল বাঁচবে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান যেন লোক দেখানো বা সাময়িক কোনো তৎপরতা না হয়। বরং খোলপেটুয়া নদীকে দস্যুমুক্ত করতে এই অভিযান নিয়মিত ও স্থায়ী হোকÑএটাই উপকূলবাসীর প্রত্যাশা। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কোনো আপস নয়, বরং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Ads small one

আশাশুনির রেস্টুরেন্টগুলোতে লাগাম টানবে কে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনির রেস্টুরেন্টগুলোতে লাগাম টানবে কে?

সম্পাদকীয়

আশাশুনিসহ সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড দোকান। আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষের বাইরে খাওয়ার প্রবণতা যেমন বেড়েছে, তেমনি একে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক বিশাল বাণিজ্যিক পরিম-ল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আশাশুনির বুধহাটা, সদর বাজার, প্রতাপনগর কিংবা গুনাকরকাটির মতো জনবহুল এলাকার অধিকাংশ রেস্টুরেন্টেই এখন চলছে ভোক্তার পকেট কাটা এবং স্বাস্থ্য ধসের এক নীরব উৎসব। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির অভাব এবং একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীর অতিমুনাফার লোভের কারণে এখানকার সাধারণ ভোক্তারা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

 

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উপজেলার অধিকাংশ রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড শপের রান্নাঘর চরম নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। ফ্রিজে দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা ও রান্না করা মাছ-মাংস একসাথে ফেলে রাখা হচ্ছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, পোড়া তেল বারবার ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে হরেক পদের ভাজাপোড়া ও ফাস্টফুড। মেন্যুর আকর্ষণীয় নামের আড়ালে নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহার এবং আকাশচুম্বী দাম আদায় এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এমনকি বহু প্রতিষ্ঠানের বৈধ ট্রেড লাইসেন্স কিংবা ফুড গ্রেড সনদ পর্যন্ত নেই।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরনের বাসি, পচা এবং পোড়া তেলে ভাজা খাবার শরীরে এক প্রকার বিষের মতো কাজ করে। এটি শুধু তাৎক্ষণিক খাদ্যে বিষক্রিয়া বা গ্যাস্ট্রিকের ব্যবস্থাপনাই নষ্ট করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে লিভার নষ্ট হওয়া, হৃদরোগ এবং ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি ডেকে আনে। অর্থাৎ, টাকার বিনিময়ে আশাশুনির মানুষ আসলে রোগ কিনে বাড়ি ফিরছেন।

নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য পাওয়া নাগরিকের কোনো বিলাসিতা নয়, এটি সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলে কোনো ব্যবসাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে দেওয়া যায় না।

অধিকাংশ ব্যবসায়ী সততার সাথে ব্যবসা করতে চাইলেও, এই গুটি কয়েক অসাধু চক্রের কারণে পুরো খাদ্য খাতের ওপর মানুষের আস্থা চিরতরে উঠে যাচ্ছে। এই অচলাবস্থা ভাঙতে হলে উপজেলা প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে কেবল কাগজের দাপ্তরিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। আশাশুনির প্রতিটি ছোট-বড় বাজারে আকস্মিক ও নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।

 

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের প্রমাণ পেলেই শুধু জরিমানা নয়, প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠান সিলগালা ও কারাদ-ের মতো কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি, ভোক্তাদেরও নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন দেখলেই তা বর্জন করা এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানানো নাগরিক দায়িত্ব। আশাশুনির মানুষের সুস্বাস্থ্য রক্ষা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের রুখে দিতে একটি সমন্বিত ও কার্যকর অভিযান এখন সময়ের দাবি।

শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর বালুর হত্যাবার্ষিকী পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর বালুর হত্যাবার্ষিকী পালিত

পত্রদূত রিপোর্ট: শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় খুলনা অঞ্চলের সাহসী সাংবাদিকতার বাতিঘর এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর বালুর ২২তম হত্যাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রোববার বিকেলে দৈনিক জন্মভূমি ভবনে এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা শহীদ হুমায়ূন কবীর বালুকে দল-মতের ঊর্ধ্বে থাকা এক কিংবদন্তি সাংবাদিক ও সাংবাদিকদের আসল আশ্রয়স্থল হিসেবে অভিহিত করেন।

দৈনিক জন্মভূমির যুগ্ম সম্পাদক মুহাম্মদ আবু তৈয়বের সভাপতিত্বে এবং উপ-সম্পাদক সোহরাব হোসেনের পরিচালনায় এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, শহীদ হুমায়ূন কবীর বালু ছিলেন একজন সদালাপী, বন্ধুবৎসল ও মহানুভব মানুষ। পেশাগত জায়গায় তিনি সাংবাদিকদের নিজের পরিবারের সদস্যের মতো আগলে রাখতেন। যেকোনো বিপদে সবার আগে ছুটে যেতেন। শাসন করার পর আবার পরম মমতায় বুকে টেনে নিতেন।

কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করে বক্তারা আরও বলেন, তৎকালীন সময়ে এই অঞ্চলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনসমূহ এবং কুখ্যাত অপরাধী এরশাদ শিকদারের নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকা-ের বিরুদ্ধে তাঁর সম্পাদিত ‘দৈনিক জন্মভূমি’ ও ‘দৈনিক রাজপথের দাবী’ পত্রিকায় সাংবাদিকেরা নির্ভীকভাবে লিখতেন। এই সাহসী সাংবাদিকতার পেছনে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য।

পেশাগত পরিচয়ের বাইরে হুমায়ূন কবীর বালু ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। এ ছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে খুলনা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে যে নাগরিক কমিটি গঠিত হয়েছিল, তিনি ছিলেন তার আহ্বায়ক। বক্তারা তাঁর এই বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও সাহসিকতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার জন্য নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন খুলনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম, মকবুল হোসেন মিন্টু, এস এম জাহিদ হোসেন, মোতাহার রহমান বাবু, খুলনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন সজল, ‘আমার একুশে’ পত্রিকার সম্পাদক আতিয়ার পারভেজ, মাহমুদুল হাসান সোহেল, নাগরিক নেতা বাবুল হাওলাদার এবং নাজমুল করিম তুষার।

অনুষ্ঠানে দৈনিক জন্মভূমির নির্বাহী সম্পাদক সরদার আবু তাহের, মহেন্দ্রনাথ সেন, রকিবউদ্দীন পান্নু, ‘খুলনা প্রতিদিন’-এর সম্পাদক সোহাগ দেওয়ান, এইচ এম শামীমুজ্জামান, সুনীল দাস, বিমল সাহা, নুরুল আমিন, রাজু আহম্মেদ, রামিম, আবুল বাশার, বিধান রায়, এস এম মারুফ হোসেন এবং ওমর ফারুক কচিসহ জন্মভূমি পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সাতক্ষীরায় চরমোনাইয়ের ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় চরমোনাইয়ের ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকির

বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা শহরে ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকির অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার স্থানীয় একটি ময়দানে এই মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

মাহফিলে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত থেকে বয়ান পেশ করেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।

 

বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মুফতি রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে মাহফিলে বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল। দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে মাহফিল শেষ হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি