প্রসঙ্গ: ১৫ মাস ধরে অন্ধকারে প্রাথমিক বিদ্যালয়, দায় কার?
সম্পাদকীয়
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চেড়াঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে বন্ধ রয়েছেÑএই খবরটি শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং সরকারি একটি সেবা খাতের সমন্বয়হীনতা ও উদাসীনতার এক চরম বহিঃপ্রকাশ। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে বিদ্যালয়ের ট্রান্সফরমারটি চুরি হওয়ার পর থেকে পুরো প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যুৎহীন। এর ফলে চলমান তীব্র গরমে শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে ফ্যান ছাড়া, প্রচ- হাঁসফাঁস করা পরিস্থিতিতে পাঠগ্রহণ করতে হচ্ছে। একটি স্বাধীন ও উন্নয়নশীল দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা কেন এমন অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে, সেই প্রশ্ন এড়ানো অসম্ভব।
বিদ্যালয় সূত্র এবং সংবাদে প্রকাশ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের জন্য প্রায় ৬৭ হাজার টাকা দাবি করেছে। কিন্তু একটি প্রান্তিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন দেখা দেয়Ñসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও চুরির ক্ষতিপূরণের দায় কেন একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় কিংবা ওই এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ওপর বর্তাবে? ট্রান্সফরমারটি ছিল রাষ্ট্রীয় সম্পদ, সেটি চুরি যাওয়ার পর সরকারি তহবিল বা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের বিশেষ কোটা থেকে কেন তা প্রতিস্থাপন করা হলো না, তা বোধগম্য নয়।
গ্রীষ্মের প্রচ- দাবদাহে যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরাই ঘরে-বাইরে টিকতে পারছেন না, সেখানে ছোট্ট শিশুরা বিদ্যুৎহীন বদ্ধ শ্রেণিকক্ষে দিনের পর দিন কীভাবে ক্লাস করছে, তা ভাবলেই শিউরে উঠতে হয়। গরমে শিশুরা ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না, অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের একাংশ বিদ্যালয়বিমুখ হয়ে পড়তে পারে, যা আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক বড় ধাক্কা।
ইতিমধ্যেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকেও দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর জন্য জেলা প্রশাসকের (ডিসি) হস্তক্ষেপ কামনা করে পত্র পাঠানো হয়েছে। আমলাতান্ত্রিক এই চিঠ চালাচালির মাঝেই পেরিয়ে গেছে ১৫টি মাস। আমরা মনে করি, শিক্ষা ও জনস্বার্থের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এমন দীর্ঘসূত্রতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, বরাদ্দ বা প্রশাসনিক নির্দেশনা পেলে তারা ব্যবস্থা নেবে। আমরা জেলা প্রশাসক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানাই, এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অতি দ্রুত বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে চেড়াঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের ব্যবস্থা করুন। সরকারি নিয়মকানুন বা অর্থের টানাটানির অজুহাতে শিশুদের শিক্ষা জীবন ও স্বাস্থ্যকে এভাবে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া যায় না। অনতিবিলম্বে চেড়াঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুতের আলো ফিরুকÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।












