বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্লাস্টিকের দাপটে বিলীন হতে বসেছে পাটকেলঘাটার ঐতিহ্যবাহী মাদুরশিল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ
প্লাস্টিকের দাপটে বিলীন হতে বসেছে পাটকেলঘাটার ঐতিহ্যবাহী মাদুরশিল্প

এম এম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাণিজ্য কেন্দ্রের অর্থনীতিতে একসময় বড় ভূমিকা রাখত স্থানীয় মাদুরশিল্প। এই শিল্প থেকে মাদুর কেনাবেচা ও সরবরাহের মাধ্যমে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় হতো। ‘মেলে’ নামক বিশেষ ঘাস দিয়ে তৈরি এসব মাদুরের বেশ সুনাম ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তবে কাঁচামালের সংকট, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, প্লাস্টিক পণ্যের দাপট ও সরকারি সহায়তার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প।

একসময় পাটকেলঘাটা হাটের মাদুরশিল্পের খ্যাতি ছিল অনেক। তালা উপজেলার খলিষখালী বাজার, দলুয়া বাজার, গাছা বাজার, মাগুরা বাজার, গোয়ালপোতা বাজার ও খেসরা ইউনিয়নের বহু পরিবার মাদুর বুনে জীবিকা নির্বাহ করত। গৃহস্থদের আঙিনায় নারী-পুরুষ মিলে শুকাতেন মেলে ঘাস। নিজেদের জমিতে কিংবা বর্গা নিয়ে অনেকেই এ ঘাসের চাষ করতেন।

স্থানীয় কারিগরদের অভিযোগ, কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত মেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। আগে প্রতিদিন তিন থেকে চারটি মাদুর তৈরি করে প্রতিটি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করা যেত। বর্তমানে সেই মাদুর বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। খরচ বাদ দিলে খুব সামান্য টাকাই হাতে থাকে। ফলে বাধ্য হয়ে কারিগরেরা এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।
মাদরা গ্রামের তারাজান বিবি জানান, জমি থেকে মেলে এনে চিরে রোদে শুকানো হয়। এরপর তা প্রক্রিয়াজাত করে মাদুর তৈরির জন্য সংরক্ষণ করা হয়।

গাচা গ্রামের পরিতোষ সরকার, বাগডাঙা গ্রামের নারায়ণ ম-ল, মাগুরা ইউনিয়নের মাদ্রা গ্রামের শ্যামল সরকার ও কলাগাছি গ্রামের স্বপন সরকার জানান, আগে ঘরে ঘরে মাদুর তৈরির প্রচলন ছিল। অধিকাংশ মানুষ এ কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ব্যাংকিং ঋণের অপ্রতুলতা ও অনুকূল পরিবেশ না থাকায় এখন ব্যাংক থেকে ঋণ মিলছে না। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

পাটকেলঘাটা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শেখ জহুরুল হক জানান, দক্ষ মাদুরশিল্পীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাঁদের জন্য প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন। এতে দেশীয় এই হস্তশিল্প পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
একটি স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধি মনে করেন, সরকারি উদ্যোগে ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ে মাদুর মেলার আয়োজন করা উচিত। এটি হস্তশিল্প ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

এ বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, তিনি সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

Ads small one

সাতক্ষীরায় এনজিও ‘আনন্দ’র সঞ্চয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় এনজিও ‘আনন্দ’র সঞ্চয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় এনজিও সংস্থা ‘আনন্দ’-এর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের সঞ্চয়ের অর্থ আত্মসাৎ করে অফিস বন্ধের পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে। জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্পের পাশাপাশি প্রধান কার্যালয়ের কন্ট্রিবিউশন পলিসির কথা বলে অন্তত পাঁচ হাজার সদস্যের কাছ থেকে সংগৃহীত আনুমানিক ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত প্রকল্পগুলোর মোট বরাদ্দের ২০ শতাংশ সদস্যদের কল্যাণে ব্যয়ের কথা থাকলেও সংস্থাটি তা করেনি। ওই টাকা সংগৃহীত হয়ে নির্বাহী পরিচালক মনিরুজ্জামান মিয়ার একক স্বাক্ষরে পরিচালিত প্রধান কার্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়।

সম্প্রতি সাতক্ষীরা কার্যালয়ের কর্মী ছাঁটাই ও কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চম্পট দেওয়ার তথ্যে সদস্যদের মাঝে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে আনন্দ এনজিওর সাতক্ষীরা জেলা প্রকল্প পরিচালক আমিরুল ইসলাম জানান, জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্পটি স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং দাতা সংস্থার অডিট টিম ও স্বাধীন অডিটরদের তদারকিতে কোনো অনিয়ম ধরা পড়েনি। তহবিল আত্মসাৎ সম্পর্কিত বিষয়টি প্রকল্পভুক্ত নয়; এটি প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে পৃথকভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মনিরুজ্জামান মিয়া ও উপপরিচালক শিপন কুমার দেবনাথ বিস্তারিত জানাতে পারবেন।

আশাশুনিতে মৎস্যজীবী দলের শোভাযাত্রা ও সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে মৎস্যজীবী দলের শোভাযাত্রা ও সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: নবগঠিত আশাশুনি উপজেলা মৎস্যজীবী দলের আনন্দ শোভাযাত্রা ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সদর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
পরে নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট গোলাম গনি দুদু।

মৎস্যজীবী দলের নবগঠিত কমিটির সদস্যসচিব এস এম আশিকুজ্জামান আশিকের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব জাকির হোসেন বাবু, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আ. মজিদ ও সাজিনুর রহমান সাজু, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সবুজ হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাফফর হোসেন রিপন, ছাত্রদল নেতা আতিকুল ইসলাম, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদর ইউনিয়ন সম্পাদক জয়দেব কুমার বিশ্বাস, মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম, আ. লতিফ, হাফিজুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মোক্তার হোসেন, নেওয়াজ ও সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ফরিদুল।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর খুলনা সফরসূচি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর খুলনা সফরসূচি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এক দিনের সফরে আজ ৮ অক্টোবর খুলনা আসছেন। সফরসূচি অনুযায়ী প্রতিমন্ত্রী আজ ৮ অক্টোবর দুপুর ১২.০০ টায় খুলনা দৌলতপুর সরকারি আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার পরিদর্শন এবং বেলা দেড়টায় খালিশপুর ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক সংলগ্ন জিলপুকুর (লেক)-এ মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন।

তিনি বিকাল চারটায় বয়রা মৎস্য পরিদর্শন ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাব পরিদর্শন এবং সন্ধ্যা ছয়টায় হোটেল সিটি ইনে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে খুলনা জেলার চাষী, ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন প্রতিনিধি, গবাদিপশু খামারি, ফিডমিল ও প্রিমিক্স মালিক, জেলা মৎস্য অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং অন্যান্য অংশীজনের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে যোগদান করবেন। পরে প্রতিমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশ্যে খুলনা ত্যাগ করবেন। তথ্যবিবরণী